Tagged: হোস্টেলের গপ্পো Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • ক্যাফে লাতে 2:02 am on May 9, 2013 Permalink | Reply
    Tags: অক্ষয়কুমার, , হোস্টেলের গপ্পো, ২৫শে বৈশাখ   

    হোস্টেল, রবিঠাকুর আর অক্ষয়কুমার 

    ক্যাপাচিনো কিছুদিন আগে বলছিল হোস্টেলের গল্প কেন লিখছি না আর। সময় হয়ে উঠছে না কফিহাউজে নিয়মিত আসার, লেখার। তার মধ্যে আজকে আবার ২৫শে বৈশাখ। নিজেকে বিদগ্ধ বাঙালি প্রমাণ করতে গেলে আবার আজকের দিনে কবিগুরুকে নিয়ে দু-চার কথা বলতেই হয়। তা সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই অনেক দিন আগের এক ২৫শে বৈশাখ মনে পড়ে গেল। সেই গল্পই আজকে। যা একাধারে হোস্টেলের গপ্পোও।

    সাল ১৯৯৪। কলেজে প্রথম বছর। থাকি হেদুয়াপাড়ার হোস্টেলে। কাছেই জোড়াসাঁকো। কাজে কাজে প্রবল উৎসাহে, যা এতদিন খালি টিভিতে দেখে এসেছি, সেই বিখ্যাত অনুষ্ঠান সশরীরে দেখার সুযোগ কে ছাড়ে। রুমমেট ছিল বেশ কয়েকজন রবীন্দ্রভারতীর ছাত্রী। তাদের সাথে দল বেঁধে সাতসকালে সাজুগুজু করে হেঁটে চলে গেলাম জোড়াসাঁকো।গিয়ে দেখি ভীড়,ভীড়। ম্যারাপ বাঁধা লম্বা সামিয়ানা, তার এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা, অন্য প্রান্তে স্টেজ। সেখানে পর পর বুড়ো বুড়ো শিল্পীরা উঠছেন, গান গাইছেন, আবৃত্তি করছেন, নেমে যাচ্ছেন। নাচ-টাচ কিছু হচ্ছে না। সামিয়ানার তলায় বৈশাখের গরমে ঘামছি। প্রথমে তো অনেক্ষণ দাঁড়িয়েই অনুষ্ঠান দেখলাম। ঘন্টা দুই-তিনেক পরে, বেলা বাড়লে, ভীড় একটু কমল, তখব চেয়ার পেলাম । (সে-ই-ই হারিয়ে যাওয়া কাঠের ফোল্ডিং চেয়ার)। গরমে বেশ কষ্ট হচ্ছে, খিদেও পেয়ে গেছে, কিন্তু ‘সংস্কৃতিপ্রেমী’ ট্যাগটা খুব জরুরী, তাই উঠেও আসতে পারছি না। অনুষ্ঠান বেশ এক ঘেয়ে লাগছে। তবে হ্যাঁ, এখনো একজন কে মনে আছে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বেলার দিকে এলেন, লাল টকটকে পাঞ্জাবী পরে, উদাত্ত গলায় আবৃত্তি করলেন, চলে গেলেন। অনেকটা ভিনি ভিডি ভিসি গোছের ব্যাপার। ওই লাল পাঞ্জাবীটাই মনে থাকার মূল কারণ।
    বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ হোস্টেলে ফিরে গপাগপ ভাত খেলাম। তার পরেই জানতে পারলাম, তিন চার জন সিনিয়র দিদি হাতিবাগানে সিনেমা দেখতে যাচ্ছে। সেই সময়ে হাতিবাগান ছিল এক সুখের স্বর্গ। সেই নিয়ে আরেকদিন লিখব।দেখলাম ছুটির দুপুর। সকালটাও ঠিক মনমত হয়নি। এবেলাটা অন্তত একটু ঠিকঠাক কাটুক। সকালের দলের মধ্যে আমি আর আরেক বন্ধু (এইমাত্র বুঝতে পারলাম, স্মৃতি ক্ষীণ হয়ে আসছে, আরেকজন যে কে, সেটা দুজন বন্ধুর মধ্যে গুলিয়ে ফেলছি ) —আমরা দুইজন আরো জনা তিনেকের সাথে চলে গেলাম হাতিবাগান। অক্ষয়কুমার-সইফ আলি খানের ‘ইয়ে দিল্লগী’ দেখতে। ছুটির দিনে সিনেমা হল গুলি সব জমজমাট। ব্ল্যাকে টিকিট কাটলাম । সিট পাওয়া গেল একদম প্রথম সারিতে। ঘাড় উঁচু করে দেখতে দেখতে ঘাড় ব্যথা। কিন্তু অক্ষয়কুমারের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে চশমা চোখে, রোমান্টিক বিজনেসম্যান লুক দেখে আমরা একেবারে বোল্ড আউট। ব্রেকের সময়ে বোঝা গেল আমরা পাঁচজনেই এক সাথে একই সময়ে এই অক্ষয়কুমারকে আমাদের প্রেমিক হিসাবে পেতে চাইছি। সব থেকে অবাক হয়ে গেলাম প্রেসিডেন্সিতে ফিজিক্স পড়া সাদা-মাটা-চশমা-আঁটা-মামার-কাছে-বাগদত্তা-গম্ভীর দক্ষিণী লক্ষ্মীদি কে দেখে ( আমরা ডাকতাম লক্‌ষ্‌মীদি)। সেও দেখছি আক্কির প্রেমে পাগল। যাইহোক ম্যাটিনি শো দেখে বেরিয়ে, হাতিবাগানের ট্রাম লাইনের ধারে দাঁড়িয়ে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করলাম, এইরকম লুক এবং চরিত্র বজায় রাখলে আমরা অক্ষয় কুমারকেও বিয়ে করতে রাজি।
    এইভাবে সেই বিগত বৈশাখে, একই দিনে, সকালে ‘বিশুদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতি’ আর বিকেলে ‘জনপ্রিয় সংস্কৃতি’ দুইইয়ের অভিজ্ঞতাই সঞ্চয় করেছিলাম। ভেবে দেখতে গেলে, জনপ্রিয় সংস্কৃতিই আমাকে বেশি আনন্দ দিয়েছিল। প্রোটোকলে মোড়া জোড়াসাঁকোর অনুষ্ঠানের সাথে সেদিন নিজেকে একাত্ম করতে পারিনি।

    রবীন্দ্রনাথ আজও বেশিরভাগের কাছেই পূজনীয়। তাঁর জনপ্রিয়তা কিন্তু এখনো সীমাবদ্ধ।

    —————————————-
    লেখাটা মনে হয় ৫০০ শব্দের সীমানা পেরিয়ে গেছে।আশাকরি অ্যাডমিন লেখাটা বাতিল করে দেবেন না। পুরো ব্যাপারটা এর কমে লেখা যাচ্ছিল না 🙂

     
    • ক্যাপাচিনো 7:17 am on May 9, 2013 Permalink | Reply

      দারুন লিখেছো। হ্যাঁ, সম্পূর্ণ একমত।

    • চা পাতা 4:37 am on June 9, 2013 Permalink | Reply

      রবি দাদু হলেন ঠাকুরের আসনে রাখা মূর্তি’র মতন। পায়ে হাত দিয়ে পেন্নাম করা যায়, হাবুডুবু খেয়ে বুকে জড়িয়ে নেওয়া যায় না!

  • ক্যাফে লাতে 5:58 pm on February 25, 2013 Permalink | Reply
    Tags: , হোস্টেলের গপ্পো   

    ইউনিভার্সিটি হস্টেলে মাসে টাকা নেওয়া হত ১৫০/- কমে মনে হয়।একবার বাজার দর বেড়ে যাওয়াতে দশ টাকা করে বাড়ানো নিয়ে রাম-রাবণের (নাকি সীতা-সূর্পনখা) যুদ্ধ হয়ে গেছিল। দশটাকা করে বাড়ালে সবাই রোজ রাতে একটা করে ডিম খেতে পারত। কিন্তু অনেক মেয়েই রাজি হল না। তখন থেকে ঠিক হল, যাদের রাতে ডিম খেতে ইচ্ছা করবে, তারা ডিম কিনে এনে দেবে। সবার ডিম এক সাথে সেদ্ধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু তারপরে সমস্যা হল- কোন ডিমটা কার? 😀 তখন সবাই ডিমের গায়ে ডটপেন দিয়ে রুম নাম্বার লিখে দিতে শুরু করল 😀

     
    • ক্যাপাচিনো 6:46 pm on February 25, 2013 Permalink | Reply

      হা হা, দারুন ব্যাপার – তোমাদের তো তাও রোজ একটা করে ডিমের ব্যবস্থা। আমাদের ছিল কুল্লে একবার – একটা মিল। তাও আবার ডিমের ভুর্জি। কিন্তু তখন তাও অমৃতের মত লাগত।

      আবার প্রথমবার যখন হোস্টেলে যাই, তখন মনে আছে সেদিন রাত্তিরে ছিল ডিম। ডিমটা খোসাসুদ্ধ হাতে দিয়ে দেওয়া হল আর সঙ্গে দু ডাবা ঝোল। ডিম আর ঝোল যে আন্তরিকভাবে দুটো আলাদা জিনিস, এটা সেদিন বুঝেছিলাম।

    • চাফি 7:28 pm on February 25, 2013 Permalink | Reply

      আমি না হেসে থাকতে পারছি না। ডিমের ওপর রুম নাম্বার? একটা ঘরে একজনের বেশি লোক থাকত না? হো হো, ডিমের ওপর কি করে লেখা ফুটত এটা ভাবতেই হাসি পাচ্ছে। তবে কোথাও কোথাও অবশ্য ছাপ্পা মারা ডিম আমিও দেখেছি।

      • ক্যাফে লাতে 3:29 am on February 26, 2013 Permalink | Reply

        লেখা ফোটে রে! আমাদের রুমের মেয়েরা একটু শিল্পচেতনা সমৃদ্ধ ছিল। আমরা আবার ডিমের গায়ে ছবি এঁকে দিতামঃ)

        • ক্যাপাচিনো 6:22 am on February 26, 2013 Permalink | Reply

          হে হে, দিব্য একখান ছড়া হয় এই নিয়ে

          • ক্যাফে লাতে 11:23 pm on February 27, 2013 Permalink | Reply

            ছড়া শোনার অপেক্ষায় রইলাম, যদিও এই ব্লগে কাব্যচর্চা বাদ, কিন্তু দু-চার কলি ছড়া কাটলে কি অ্যাডমিন বেজায় ক্ষেপে যাবেন? সেদিন একটা গোটা পোস্ট আবার ডিলিট করে দিয়েছেন। হেভি কড়া কফি !! :cool

    • চা পাতা 4:27 am on June 9, 2013 Permalink | Reply

      হেঃ হেঃ হেঃ! ডিম আগে না “রুম” আগে?

  • ক্যাফে লাতে 6:09 pm on February 23, 2013 Permalink | Reply
    Tags: , কফি, হোস্টেলের গপ্পো   

    হোস্টেলের গপ্পো (২) 

    ইউনিভার্সিটি হোস্টেলে থাকার সময়ে আমাদের রাতের বেলা গরম জল ফ্লাস্কে রাখতে দিত। তাই দিয়ে রাত বারোটার পরে প্রচুর গুঁড়ো দুধ, চিনি আর বড়সড় এক চামচ নেসক্যাফে মিশিয়ে ঘন ফ্রথ কফি বানিয়ে চুমুক দিতে দিতে বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব করে পড়াশোনা করতাম। এখন আর সে দিন নাই রে। এখান মাঝরাতে কফি খেলে পরেরদিন গ্যাস-অম্বল এবং আরো অনেক কিছু অনিবার্য 🙁

     
    • ক্যাপাচিনো 6:22 pm on February 23, 2013 Permalink | Reply

      ওফ আমাদের ও কতকটা এইরকম ব্যাপার ছিল। আমি আমার হোস্টেলের গপ্প দিয়ে একটা থ্রেড শুরু করি। যাইহোক, তোমার নামটা ইংরাজী কেন?

      • Caffé Latte 6:25 pm on February 23, 2013 Permalink | Reply

        প্রথম থেকে ইংরেজি ছিল তাই। ওটাকে পালটে দিলেই হবে।দিচ্ছি পালটে।

    • ক্যাপাচিনো 8:33 am on April 25, 2013 Permalink | Reply

      হোস্টেলের গল্প কি ফুরিয়ে গেল?

    • ক্যাফে লাতে 6:14 pm on April 25, 2013 Permalink | Reply

      না না ফোরায় নি। আমিও ভাবছিলাম অনেকদিন লেখা হয়নি। দেব একটা কালকে

    • চা পাতা 4:32 am on June 9, 2013 Permalink | Reply

      বাঃ! গপ্পো জমেছে তো!

c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel