Tagged: সিনেমা Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • ক্যাপাচিনো 10:18 pm on May 10, 2014 Permalink | Reply
    Tags: , সিনেমা   

    রয়েল বেঙ্গল টাইগার – রিভিউ 

    নতুন বাংলা সিনেমা দেখলাম – রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। আসলে পরপর কিছুদিন বাংলা সিনেমাই দেখছি। মানে ধুম / ক্রিশ এই জাতীয় কয়েকটা সিনেমা দেখার পর আর হিন্দি সিনেমার সামনে যেন বসা যাচ্ছে না। তাই ভাবলাম লারে লাপ্পা, ঝারে ঝাপ্পা সিনেমা যদি দেখতেই হয়, তাহলে বাংলাই দেখি বরং। বেচারারা সিনেমা গুলো তো করছে দেখার জন্যই। তবে মানতে বাধ্য হচ্ছি, প্রচন্ড বাজে কিছু লিরিক্স আর বেসামাল কিছু সংলাপের সঙ্গে মানিয়ে নিলে অসুবিধের জায়গা বড় একটা নেই। এই নিয়ে একটা পোস্ট আগেই দেব ভেবেছিলাম, কিছুটা কুঁড়েমি এবং কিছুটা সময়ে অভাবে আর দেওয়া হয়নি। আমার বন্ধুমহলে অনেক দক্ষিন ভারতীয় – তারা তো দিব্যি নিজেদের মশালা ফিল্ম তারিয়ে তারিয়ে দেখে – আর আমাদেরই বা দোষ কোথায়।

    যাইহোক, সিনেমার কথায় ফিরে আসি। বেশ টানটান ঝকঝকে সিনেমা, কোথাও ঝুল নেই। অভিনয়েও সেরকম ফাঁক ফোকর নেই। একজন গলাধাক্কা খাওয়া, ভীতু, লাজুক মানুষের ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে গল্প। একজন মধ্যবিত্ত বাঙালি যুবক সমস্ত সমস্যা থেকে বাঁচতে তার এক বন্ধুর সাহাজ্য চায়। বন্ধুর কথায় লাভ হয়ও, এক এক করে সমস্যার জাল কাটতে থাকে। এরকম থিমে হয়তো একশো সিনেমা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে, কিন্তু এখানে যেটা নতুনত্ত, তা হল স্প্লিট পার্সোনালিটি বা মাল্টিপল সাইকোলকজি ডিসঅর্ডার। এক সময়ে তৈরি ফাইট ক্লাবের মত কাল্ট সিনেমার ছোঁয়া কিছুটা আছে বলতে হবে। হিন্দিতে লাগে রহো মুন্নাভাই বা কার্তিক কলিং কার্তিক হালফিলে তৈরি হলেও – বাংলায় কিন্তু এই বিষয় নিয়ে সিনেমা আগে হয়েছে বলে দেখিনি। শেষে দেখা যায় বন্ধুটি আদপেই কাল্পনিক চরিত্র। সমস্যাটা সেখানেই।

    আবীর অনেক সিনেমাতেই ভালো অভিনয় করেছেন, নতুন করে কিছু বলার নেই। কিন্তু জিতের মত স্টার বাঙালি নায়ক পার্শ্বচরিত্রে এত সুন্দর মানিয়ে যাবেন ভাবিনি। সিনেমাটি না দেখে থাকলে দেখতেই পারেন। যদিও আমি গল্প বলে দিলাম অনেকটাই, তবুও। আমারও তো ফাইট ক্লাব গুলে খাওয়া ছিল, তার ওপর মিশির আলির ভক্ত, তাও –

     
    • shadman 6:37 pm on May 15, 2014 Permalink | Reply

      ধন্যবাদ আপনার রিভিউয়ের জন্য 🙂

    • yournewsbd 10:59 am on June 4, 2014 Permalink | Reply

      সব কিছু মিলিয়ে কলকাতা বাংলা সিনেমাগুলো খারাপ না। একটু একটু করে পরিবর্তন হচ্ছে।

  • ক্যাপাচিনো 1:31 am on February 17, 2014 Permalink | Reply
    Tags: ধুম-৩, সিনেমা, হিন্দি সিনেমা   

    ব্লক বাস্টার – ২০১৩ 

    এই পোস্টটা না লিখলেও হত। মানে কিচ্ছু এসে যে তো না। দুটো সিনেমার গপ্পো – যা কিনা অনেকদিন হল বেরিয়েছে। এদ্দিনে যাদের দেখার তারা দেখে ফেলেছে। যাদের টাকা-পয়সার প্রশ্ন ছিল তাদের কাজ মিটে গেছে। আমার ধারনা আজকাল কোন সিনেমা দিনের পর দিন চলার প্রয়োজন হয় না – প্রথম দু-তিন সপ্তাহেই কাজ মিটে যায়, আর এর জন্য দায়ী মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের দাম, যা মনে হয় না কোন নিয়মের তোয়াক্কা করে। তোমার পয়সা থাকলে তুমি দেখ, না হোলে দেখো না। হুজুগে সব্বাই সামিল। আর বাকিটা তো ইতিহাস।

    দেশে থাকলে হয়তো আমিও এর ব্যতিক্রম ছিলাম না – কিন্তু দেশের বাইরে থাকায় এই দুটি সিনেমা অনলাইন দেখেছি অনেক দিন বাদে। ক্রিশ-৩, ধুম-৩। ধুমের সাথে আমার একটা আত্মিক যোগাযোগ আছে। আমি চাকরি পাওয়ার পর প্রথম নিজের টাকায় টিকিট কেটে যে সিনেমাটি দেখি তা হল ধুম। সেই থেকে দশ বছর কেটে গেল। এসিপি এখনও এসিপিই আছেন। সিনেমায় চুরি হয়ে যাওয়ার পরে ডাকসাইটে ডিটেকটিভ এসে বলেন আমার মনে হচ্ছে এর পেছনে আছে চোর। অনেকটা সেই সোনি টিভিতে সিআইডি সিরিয়ালে যেরকম এসিপি একটি মোবাইল হাতে তুলে নিয়ে বলেন – আরে দয়া, ইয়ে তো ফোন হ্যায়, অনেকটা সেই রকম। যাই হোক, দশতলা বাড়ির ছাত থেকে বার বার দেখা যায় টাকা উড়ছে। চুরি কি করে হল, তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই। তাও ঠিক ছিল – এক কালে ডনে যেরকম টাইট রোপ ওয়াক দেখা গেছিল, এখন সেরকম টাইট রোপ বাইকিং দেখা যায়। প্রথম সারির হিরোয়িনকে স্ট্রিপটিজ করতে দেখা যায় – এগুলোই তো ২০১৩ র পাওনা। নিন্দুকে নাকি বলে ঐ যে ক্রিস্টোফার নোলানের প্রেস্টিজ নামের কি একটা সিনেমা ছিল, যার থেকে আইডিয়াটা ঝাপা – আরে দুর মশাই, প্রেস্টিজ নকল করলে চলে? চৌখশ দর্শকদেরও প্রেস্টিজ পকেটে পুরে সিনেমাটা দুবার দেখতে হয়। না না – ধুম এক্কেবারে আদ্যোপান্ত ভারতীয়।

    কৃশ – ৩ কি করে ৩ নম্বর হল সেটা আমরা অনেকেই বুঝিনি – আগের সিনেমাটির নামই তো কৃশ ছিল? যাই হোক, সব দেখে শুনে বুঝেছি, জটায়ুর মত মুখে আঙুল দিয়ে – না না কোন প্রশ্ন নয় বলাটাই শ্রেয়। কল্পবিজ্ঞানের হাত ধরে ভারতীয় সিনেমার শুরুটা ভালোই হয়েছিল। বিজ্ঞানের মধ্যে যাচ্ছি না – আমার প্রশ্নটা অন্য যায়গায় – কল্পবিজ্ঞান ভাবতে গেলে কি এক্স মেন সিরিজটার খুব দরকার ছিল? হিন্দি সিনেমা কোনদিনই মৌলিকতার দাবি রাখেনি। যে সিনেমার শুরু ইটির হাত ধরে, তার কাছে বেশি আশা করার দরকারটাই মনে হয় ছিল না। এই সিনেমার গল্প লিখতে নাকি পাঁচ বছর ধরে রাকেশ রোশন চিন্তা করেছেন। আমি বুঝেছি কেন – টাকে চুল নেই তো? ছিঁড়বেন কি? তাই গল্পটা লিখতে এত দেরী।

     
    • ভাঁড়ের চা 1:36 pm on February 19, 2014 Permalink | Reply

      ছবিগুলো আমার দেখা হয় নি। টিভিতে না দিলে দেখা হয় না (আজকাল অবশ্য এভাবেও দেখা হয়ে ওঠে না নানা কারনে), তাই ছবি সম্পর্কে কোন কথা বলতেই পারব না, তবে কৃশ কি করে ৩ নং হল এটা আমিও অনেক সময় ধরে ভেবেছিলাম তখন। তাহলে আগে কি আমার অজান্তে আর দুটো হয়ে গেছে ? ভেবেছিলাম হবেওবা, আমাকে যে সবই জানতে হবে এমন দিব্যি কে দিয়েছে ?

      • ক্যাফে ক্যাপাচিনো 6:32 pm on February 24, 2014 Permalink | Reply

        কেশব নাগের অঙ্ক বইটা এই জন্যেই খুব দরকার – মানে যারা এইসব সংখ্যাতত্ত নিয়ে চর্চা করেন আর কি।

  • ক্যাফে লাতে 1:38 pm on January 31, 2014 Permalink | Reply
    Tags: চাঁদের পাহাড়, দেব, বিভূতিভূষণ, সিনেমা   

    বিভূতিভূষণ মিট্‌স্‌ স্লো-মো ইন্ডিয়ানা জোন্‌স্‌ মিটস্‌ ন্যাটজিও বাংলা 

    Chander_Pahar_Official_Poster
    এই পোস্টের শিরোনাম দেখেই মোটামুটি বুঝে গেছ সবাই, কি নিয়ে লিখতে চলেছি। হ্যাঁ, চাঁদের পাহাড় ছবিটা দেখে এসেছি গত সপ্তাহে।দেখে এসে আমার ঐটাই মনে হয়েছে- এ হল বিভূতিভূষণের আদত গল্পের সাথে স্লো-মো ইণ্ডিয়ানা জোন্‌স্‌ এবং ন্যাটজিও /ডিসকভারি বাংলার এক মৃদুমন্দ ককটেল।
    যেহেতু মোটামুটি অনেক জায়গাতেই এতদিনে চাঁদের পাহাড়ের রিভিউ, সমালোচনা ইত্যাদি সবই বেরিয়ে গেছে,এবং তাদের অনেকের সাথেই আমি একমত,তাই নতুন করে আমার আবার লেখার প্রয়োজন পড়ে না। তাও লিখছি।

    আগে ভাল গুলো বলিঃ
    ১। আফ্রিকা দারুণ। বিশেষ করে শুরুর মিনিট কয়েক তো দেখতে দারুণ লাগে। ক্যামেরার কাজ বেশ ভাল।
    ২। সঙ্গীত ভাবনা বেশ ভাল।
    ৩। বুনিপ এর ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশন বেশ ভাল। অন্তত সত্যান্বেষীর চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার থেকে ভাল।
    ৪। মরুভূমির বুক চিরে আসা রেলগাড়ি, ব্ল্যাক মাম্বার সামনে শঙ্কর, তার দক্ষিণী বন্ধুর মাথার ওপরে সিংহের ওত পেতে থাকা – এইসব বেশ ভাল। শঙ্করের সিংহ শিকারের ভাবনাটা মন্দ ছিল না, কিন্তু সেটাকে সঠিকভাবে ক্যামেরাবন্দী করা উচিত ছিল।
    ৫। হলে ছবিতে সাবটাইটেল ছিল ইংরেজিতে, সেটা বেশ ভাল ব্যাপার। অবাঙালিরাও যদি দেখতে যেতে চান, বোঝার অসুবিধা নেই।
    ৬। এই বাজারে, পরিচালক এবং প্রযোজক যে লাস্যময়ী নায়িকা এবং বাংলা-ভাষার-পিন্ডি-চমকানো গান ছাড়া একটা ছবি বানানোর কথা ভেবেছেন, এবং বানিয়েছেন, এটাই যথেষ্ট ভাল ব্যাপার।
    এবার বাজে দিক গুলো বলিঃ
    ১। পরিচালক বড্ড বেশি মূল কাহিনীকে অটুট রাখতে চেয়েছেন। ঋতুপর্ণের মত গল্পের আমূল খোল নলচে বদলে না দিয়েও কিছু কাট-ছাঁট করা যেত। এই কারণে ছবিটি অত্যন্ত ধীর গতির হয়ে গেছে। এতই ধীর গতির যে মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছা করছিল। বিশেষ করে শেষের দিকে। চাঁদের পাহাড়ের চারিপাশের অঞ্চল ছেড়ে, কালাহারি পেরিয়ে শঙ্করের লোকালয়ে ফেরা- সেটা এক দীর্ঘ যাত্রা। কিন্তু যাত্রার দৈর্ঘ , ক্লান্তি এবং হতাশা বোঝানোর জন্য নানা ধরনের সিনেম্যাটিক কারিকুরি সম্ভব ছিল, যেগুলি আকছার অন্যান্য বাণিজ্যিক ছবিতে হয়ে থাকে। তাই, সেগুলি ব্যবহার না করে পরিচালক কেন নিজে এক ধীরগতির ব্যাকগ্রাউন্ড ন্যারেশন ব্যবহার করলেন, বুঝলাম না। (ওই জন্যেই বললাম স্লো-মো আর ন্যাট জিও বাংলা)।
    ২। শঙ্কর (তার অভিযানের পোষাক আসাক এক্কেরে ইন্ডিয়ানা জোন্‌স্‌-এর মত), এবং তার সঙ্গী দিয়েগো আল্ভারেজ চাঁদের পাহাড়ের সন্ধানে বেরোয়। তারা দুজনে যখনি ক্যাম্প করে, তখনি দেখা যায় শুধু তাঁবু নয়, তার সাথে রয়েছে ফোল্ডিং খাট, টেবিল, চেয়ার ইত্যাদি। দুইজন মানুষ মিলে অতকিছু বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা, সেটা আমার জানা নেই। স্বাভাবিক বুদ্ধি, এইধরণের অন্যান্য ছবি এবং নানা ধরনের অ্যাডভেঞ্চার গল্প পড়ে যা জানি, তাতে এইসব ধরনের জিনিষ খচ্চরের পিঠে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়, সাথে লোক থাকে সেইসবের নজরদারি করার জন্য। মূল গল্পে কি ছিল জানিনা, আবার পড়ে দেখতে হবে। মোট কথা , অবিশ্বাস্য।
    ৩। অভিযান শুরু হওয়ার অনেকদিন পর অবধি শঙ্কর এবং আল্ভারেজ এর জামাকাপড় বেশ পরিষ্কার থাকে। দাড়ি-গোঁফ ও কামানো থাকে। শেষেরটা না হয় সিনেমার খাতিরে থাকতে পারে ( সে তো রামায়ণে রামের ও ১৪ বছর বনবাস সত্বেও দাড়ি গোঁফ ছিল না) , কিন্তু পরিষ্কার জামা-জুতো বড্ড চোখে লাগে। একদম শেষের দিকে এসে শঙ্করের হঠাত করে দাড়ি গজায়, চুল বাড়ে ইত্যাদি।
    ৪। ছবিতে নানারকমের ভাষার ব্যবহার আছে। স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, সোয়াহিলি, জুলু, মাসাই, ইংরেজি, বাংলা ইত্যাদি। এবং অনেক সময়েই ডাবিং এর গন্ডগোল আছে। মাঝে মাঝে আবার সাবটাইটেল আছে, কিন্তু কোন কথা শোনা যাচ্ছে না। মাঝে এক আধ জায়গায় হটাৎ করে সম্পূর্ন অন্য ভাষায় কোন ডায়ালগ, সেটার একটা জোর করে চাপানো ডাবিং । কোথাও আবার শঙ্কর জুলু বা মাসাই বুঝতে পারছে…এইসব গন্ডগোল আর কি! এই ধরণের ছবি করলে এইরকম সমস্যা হবে, জানাই কথা। তাই এক্ষেত্রে পরিচালকের উচিত ছিল পুরোটাই পরিষ্কার বাংলায় ডাব করে করা। এক্ষেত্রে কিছুদিন আগে শ্রী শ্যাম বেনেগালের একটা অনেক পুরনো ছবি দেখছিলাম টিভিতে- ত্রিকাল, সেখানে পরিচালক খুব সুন্দর ভাবে ব্যাপারটা মিটিয়েছেন। উনি ছবি শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই, কথক চরিত্রের মাধ্যমে বলিয়ে দিলেন যে এই গল্পের যা পটভূমি, তাতে সমস্ত চরিত্রের পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলা উচিত, কিন্তু তাহলে দর্শকদের বুঝতে অসুবিধা হবে, তাই এই ছবিতে সবাই হিন্দিতেই কথা বলবে। কমলেশ্বরের উচিত ছিল এই ধরণের কিছু একটা করা। তাহলে ওই ডাবিং এর অপরিচ্ছন্নতাটা থাকত না।
    ৫। এটা আরো বেশি করে মনে হয়েছে ডিয়েগো আল্ভারেজ এর চরিত্রে জেরার্ড রুডল্‌ফ্‌ এর ডায়লগ নিক্ষেপণ দেখে। ভদ্রলোক ভাল অভিনেতা, বাংলাটাও মোটামুটি শিখে নিয়েছিলেন, কিন্তু আদতে কি বলছেন সেটা বুঝতে পারছিলেন না যেহেতু, ফলে বাক্যের কোথায় কতটুকু যতি বসা উচিত, সেই নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে ছিলেন বলে আমার মনে হয়েছে। ফলে অনেক সময়েই, যে বাক্যের নিক্ষেপণ যেরকম হওয়া উচিত সেরকম হয়নি, ধীরে টেনে কষ্ট করে বলতে হয়েছে ওনাকে। এর থেকে অনেক ভাল হল সঠিক বাংলা ডাবিং থাকলে।
    ৬। ছবির শেষ দিকে বুনিপকে হত্যার ছক, এবং তার পরিকল্পনা এবং কার্যোদ্ধার – একেবারেই নেওয়া যায় না। যে লোক প্রায় মরতে বসেছিল, সে হটাত চাগিয়ে উঠে (খাবার -জল কোথা থেকে জুটছে জানা নেই) শুধু একটা কুঠার দিয়ে ডাল কেটে কেটে একটা দৈত্যকে ধরার জন্য একটা দৈত্যাকার ফাঁদ বানাল, (এবং বুনিপ ততদিন দেখা দিল না, যতদিন না ফাঁদ বানানো শেষ হল), এবং তারপরে তাকে মারল- এটা একটু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে।

    এইবারে শেষ কথা। শঙ্করের চরিত্রে দেবকে কেমন মানিয়েছে? কেউ বলছে মানায়নি, কেউ বলছে মানিয়েছে। আমি বলছি, মানিয়েছে। একেবারে ঠিকঠাক মানিয়েছে। গল্পে শঙ্কর এফ-এ পাশ করা, কিন্তু আদতে খেলাধুলো ভালবাসা ছেলে- কুস্তি, সাঁতার, অ্যাডভেঞ্চারের শখ। গল্পে কোথাও লেখা নেই, সে বড় দিগগজ পন্ডিত। তাই দেবের মুখে যে নিজস্ব একটা না-আঁতেল ভাব আছে, সেটা ঠিকই আছে এখানে। তার ইংরেজি উচ্চারণ ও সাদামাটা, সেটাও মানিয়ে গেছে। অন্য এক দাড়িওয়ালা “জন্মজ্যাঠা” পরিচালক-অভিনেতাকে ওই চরিত্রে মোটেও মানাত না, সে তিনি যতই সেটা দাবি করুন না কেন। অভিনয়ের জায়গায়, দেবের থেকে খুব বেশি আশা হয়ত কারোরই ছিলনা, কিন্তু এই ছবিতে তো নয়টি রসের সবগুলি দেখানোর জায়গাও নেই। তাই কোথায় যেন পড়েছিলাম, সিংহ মারার সময়ে দেবের মুখভঙ্গী “চ্যালেঞ্জ নিবি না শালা” গোছের- সেটাই হওয়া উচিত ছিল নয় কি? যে ছেলে ভেবেছে সে সিংহের মুখোমুখি হবে, তাকে তো আর ভয় পেলে চলবে না, তাকি ওই চ্যালেঞ্জ নিবি না…গোছের হাবভাবই দেখাতে হবে। বাঙালি দর্শক যদি লালন ফকির হিসাবে পোসেনজিত কে হজম করতে পারে, তাহলে শঙ্কর হিসাবে দেবকে দশে অন্তত সাত দেওয়া উচিত। আমি দিলাম।

     
    • ক্যাপাচিনো 12:11 pm on February 4, 2014 Permalink | Reply

      আমার তো এখনও দেখা হয় নি তবে দেবকে কেন নেওয়া হয়েছে এইটে বুঝে ভারি মজা পেয়েছি। আসলে আজকের জনগন যে দেবের কল্যানে বিভূতিবাবুর নাম শুনল অনেকে – এ সত্যিটাও তো মেনে নিতে হবে।

  • ক্যাফে লাতে 6:57 pm on January 23, 2014 Permalink | Reply
    Tags: , সিনেমা   

    সত্যান্বেষী- বিলেটেড রিভিউ 

    কিছুদিন আগে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করেছিল এই ছবিটা নিয়ে রিভিউ বেরিয়েছে কিনা। আমাদের কফিহাউজে বোধ হয় ছোট করে একটা লেখা বেরিয়েছিল, তা ভাবলাম আরেকটি বিশদে লিখি। খুব শিগগির টিভিতে আবার দেখাবে কোন একটা চ্যানেলে, তারপরে এদিকে আবার আমাদের চা-পাতা বলছে ফ্লিপকার্টে গিয়ে কিনবে – খবর্দার কিনিস না মা! কেন, সেটা ওই যেদিন টিভিতে দেবে, দেখেই বুঝবি!!

    যাকগে, কাজের কথায় আসি। প্রথমেই বলি, ঋতুপর্ণ ঘোষ বড়ই অকালে প্রয়াত হওয়াতে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। নানা কারণে ওনার গত কয়েক বছরে তৈরি বেশিরভাগ ছবিই আমার দেখা হয়নি। সত্যান্বেষীও টিভিতেই দেখেছি। কিন্তু আমি ওনার লেখার খুব ভক্ত। ঋতুপর্ণের বাংলা লেখা এতই সুন্দর, পড়লেও মন ভাল হয়ে যেত। ওনার ভাবনা চিন্তার প্রসার আমাকে বারে বারে মুগ্ধ করেছে। ওনার প্রথম দিকের বেশ কয়েকটি ছবি আমাকে অন্য রকম ভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। আর সেই সব কারণেই আমি এই ছবিটি দেখে হতাশ।

    ছবির শুরুতে দেখা যায় এক বয়স্ক পুরুষের সাথে দুটি যুবতী , নানা জিনিষ নিয়ে, সম্ভবত নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে চলেছে। তারা একটু বিশ্রাম নিতে থামে, ছোট মেয়েটি প্রাকৃতিক কাজের উদ্দেশ্যে একটু আড়ালে যায়, তার পরে কি যেন একটা ঘটে- তার শুধু আর্ত চিৎকার শোনা যায়।যেদিন ছবিটি দেখেছিলাম, সেদিন সেই বিপদের উৎস সম্পর্কে সমপূর্ণ অন্য ধারণা জন্মেছিল, আজকে আবার লেখার কথা ভাবতে ভাবে অন্য ধারনা জন্মাল।

    যাইহোক, তারপরেই বোধ হয় ফ্ল্যাশ ফরওয়ার্ড করে ব্যোমকেশ এবং অজিতের রাজবাড়ি, নাকি জমিদারবাড়িতে আবির্ভাব। এইখানে একটা কথা বলে রাখি, রজিত কাপুর আর কে কে রায়নার পরে, আমার আর কোন ব্যোমকেশ বা কোন অজিতকেই পোষায়নি। এরপরে পুরোটাই গোলমাল। এক অকারণ নারী চরিত্র, যাকে বিনাকারণে প্রচুর স্ক্রিন স্পেস দেওয়া হয়েছে। বরং অন্য নারী চরিত্র, যেটি আদতে গুরুত্বপূর্ণ, তাকে প্রায় দেখাই যায়না। প্রথম চরিত্রাভিনেত্রী হলে অর্পিতা চ্যাটার্জি। এই অবধি লিখেই মনে সন্দ জাগছে- উনিও কি নিজের কত্তার মত পরিচালকের সাথে জোর জবরদস্তি করে এই চরিত্র তৈরি করিয়েছিলেন? সারা ফিল্ম জুড়ে এঁর কাজ কি? – একটা সদ্য রিলিজ হওয়া হিন্দি ছবির গান গুনগুন করা, এক লাইব্রেরিয়ান এর সামনে মুগ্ধ হয়ে দামি শাড়ি গয়না পড়ে বসে কালিদাসের মেঘদূত শোনা, আর শেষ অবধি জানতে পারা যায় তিনি নাকি বিছানায় শীতল , তাই বরের সাথে মনোমালিন্য !! বোঝ কান্ড। ও, আরো একটা কাজ করেন- মাঝে মাঝে অজিতের সাথে বসে গল্প করেন, তাই নিয়ে আবার ব্যোমকেশ টিপ্পনী দেন। সেই জমিদারির নাম “বলবন্তপুর”- কেন, তাই নিয়ে ব্যোমকেশ আর অজিত গভীর আলোচনা করেন। শেষের দিকে বোঝা যায়, সেই যে বৃদ্ধের কথা প্রথমে বলা হয়েছিল, তার মেয়ে যে কিনা সেক্সুয়ালি ফ্রিজিড জমিদার গিন্নীর ঝি, সে জমিদারের সন্তানকে গর্ভে ধারণ করছে, তাই তার বাবা তার প্রেমিককে , যে কিনা সেই মেঘদূত পাঠ করা লাইব্রেরিয়ান, তাকে,বাঘের ডাক ডেকে চোরাবালিতে ডুবিয়ে মারলেন। বেশ , তা ভাল! কিন্তু তার জন্য সেই বাবার সিন্দুকে বিরাট বড় বাঘের পায়ের মাপের কাঠের থাবা, আর বাঘের মুখোশ থাকার কি দরকার তা বুঝলাম না। থাবাটা তাও বুঝলাম, মুখোশের প্রয়োজনীয়তা একেবারেই বুঝলাম না। সেই বিধবা মেয়ে আবার বনের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া প্রেমিককে ময়ূরের পালক দিয়ে আদর করে। সেটা সে হঠাত কোথায় পেল, সে নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন আছে। ছবির শেষে সেই ময়ূরের পালক বালির চরে পড়ে থাকে। পরিচালক তাঁর শেষের দিকের অভিনীত এবং নির্দেশিত কিছু ছবির মত, এখানেও রাধা-কৃষ্ণ-প্রণয়লীলা-দেহতত্ব-ইত্যাদি-প্রভৃতি-আরো গভীর অনেক কিছু বোঝাতে চেয়েছিলেন কিনা , বা আনার ইচ্ছা ছিল কিনা আমার জানা নাই। উৎসাহী কমেন্টদাতা কেউ আলোকপাত করলে খুশি হব।
    আরেকটা কথা- চোরাবালিতে মানুষ ডুবে যাচ্ছে, এই দেখাতে যে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে, তা একেবারেই যা তা।
    মোদ্দা কথা, পুরো ছবিটা জুড়ে অযত্নের ছাপ। হয়ত পরিচালক সেই সময়ে সত্যিই অসুস্থ ছিলেন। ঠিক ঠাক মন দিতে পারেন নি। কারণ আরো অনেক ছোট খাট বিষয়ে প্রশ্ন জেগেছিল দেখার সময়ে, সেগুলির সব কথা আলাদা করে আর বললাম না। সুজয় ঘোষ চেহারায় হয়ত তাও মানিয়ে গেছেন, কিন্তু গলার আওয়াজটা মোটেও যুতের নয়। অনিন্দ্যকে যে লুক দেওয়া হয়েছিল, তাতে তিনি অজিত কম, বরং রবিঠাকুরের গল্পের ব্রাক্ষ যুবক রূপে বেশি মানাবেন। যেটা সবথেকে চোখে লাগে, সেটা হচ্ছে ২২-২৩ এর তরুনীর ভূমিকায় অর্পিতাকে দেখে! ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি বলেই তখন মনে হয়েছিল, উনি কোন বেয়াক্কেলে আবদারে সাড়া দিতে বাধ্য হয়েছিলেন কি? যেমন হয়েছিলেন ‘নৌকাডুবি’ বানানোর সময়ে ?
    ছবিটা দেখার পরে মূল গল্পটা নতুন করে আবার পড়েছিলাম। সেখানে অবশ্যই নারী চরিত্র দুটি, এবং নাম-কে-ওয়াস্তে। তা তাতে ক্ষতি কি ছিল? ওই গল্পটা নিয়ে কাজ করলেই হত। আধুনিক ভাল গল্প বা ভাল ছবি মানেই কি তাতে চাট্টি শারিরীক চাহিদা এবং তার থেকে উঠে আসা জটিলতা বা হতাশা দেখাতে হবে? শরদিন্দু তো সেই কোন যুগেই সেইসব ছাড়াই প্রচুর ভাল গল্প লিখে গেছেন- শুধু ব্যোমকেশ নয়, আরো অনেক গল্প, এমন কি সিনেমার চিত্রনাট্যও। এখনো এদিক-সেদিক খুঁজলে সেই ধাঁচের অনেক ভাল ছবি দেখা যাবে। কিন্তু সে কথা থাক, সে আরেকদিন আলোচনা হবে।

     
    • রূপসা মন্ডল দাসগুপ্ত 9:22 pm on January 23, 2014 Permalink | Reply

      মুল গল্পটা অনেকদিন আগে পড়েছি, খুঁটিনাটি মনে নেই, প্রথম দৃশ্য নিয়ে একটা জব্বর খটকা আছে, ভিলেন তো বলবন্তপুর ঢোকার সময় জানতেন না যে তাঁকে পরে ভিলেনগিরি করতে হবে, তাহলে দুটি কন্যার মধ্যে একটিকে সকালে অমনভাবে হারিয়ে সেকথা বেমালুম চেপে গেলেন সকলের কাছে, আশ্রয় চাওয়ার সময় তিনি বা অন্য কন্যাটি একটু প্রকাশ করলে না অতবড় শোকটা, শরদিন্দু বাবু কী বলেছিলেন এ বিষয়ে?

      • ক্যাফে লাতে 10:24 am on January 24, 2014 Permalink | Reply

        আরে না না, মূল গল্পে ভিলেনের কোন মেয়ে-টেয়ে নেই, তিনি একেবারে একলা। একটি গর্ভবতী বিধবা মেয়েকে নিয়ে একটা ছোট সাবপ্লট আছে শুধু, যার সাথে মূল রহস্য বা ভিলেনের কোন সম্পর্ক নেই।

    • ভাঁড়ের চা 1:15 pm on January 24, 2014 Permalink | Reply

      গল্পটা আমি ঠিক ধরতে পারছিনা। এটা কি “চোরা বালি” ? সেটা হলে, তাতে এসব কান্ড ছিল ? কিছুতেই মনে পড়ছে না! হাতের কাছে বইটাও নেই ! প্রথমবার দেখে আমারও নানা প্রশ্ন জেগেছিল। সিনেমা নিয়ে সমালোচনা করার আমার কোন যোগ্যতাই নেই। তাই সেটা করছি না। তবে সাধারন দর্শক হিসেবে একেবারেই নিরাশ হয়েছি।

      • ক্যাফে লাতে 5:38 am on January 28, 2014 Permalink | Reply

        এটা হল, ওই যেমন নৌকাডুবি দেখে লিখেছিলাম, -এটা রবি ঠাকুরের নয়, ঋতুপর্ণ ঘোষের নৌকাডুবি, ওইরকমই আর কি- এটা শরদিন্দুর চোরাবালি নয়, ঋতুপর্ণের সত্যান্বেষী

    • ক্যাপাচিনো 1:24 pm on January 24, 2014 Permalink | Reply

      হ্যাঁ এটাই সেই গল্প – তবে সিনেমা দেখে সত্যিই বোঝা ভার আদতে সেই গল্প কি না।

  • ক্যাপাচিনো 10:12 pm on January 19, 2014 Permalink | Reply
    Tags: , সিনেমা   

    মিশর রহস্য রিভিউ 

    কাকাবাবু দেখলাম। দেখে একটা কথাই বার বার মনে হচ্ছে – সৃজিত, আপনি ধন্য। কাকাবাবুর গল্পগুলো বোধহয় কোনদিনই ঠিক করে পড়েন নি। সিনেমার খাতিরে গল্প এদিক ওদিক করলেন, সে কথা আলাদা। কিন্তু তাই বলে লোকটাকে আমূল বদলে দিলেন? চুলে হেয়ার ডাই, হাতে আইফোন, টুইট করা অবধি তাও ঠিক ছিল। কিন্তু পা খোঁড়া বলে আক্ষেপ? যতদুর জানি – সেটা কোনদিনই কাকাবাবুর ছিল না। আর সেই নিয়ে লোককে খোঁচা দিয়েও তিনি কোনদিন বলেন নি। মেক-আপ নেওয়া মানুষটাকে যতটা প্রসেনজিত মনে হয়, কাকাবাবু একেবারেও মনে হয় না – আর এটা প্রথম আবির্ভাবে কাকাবাবুকে দিয়ে বাসের সিট ছেড়ে দেওয়া অল্পবয়সী যুবক কে প্রতিবন্ধী বলান’র পরেই কেমন যেন হারিয়ে যায়। গোটা সিনেমা দেখতে দেখতেও সেই আক্ষেপ যায় না।

    কাকাবাবু কৈশোরের একটা বড় জায়গা জুড়ে ছিলেন। সৃজিত আরেকটা বাজে সিনেমা বানান তাতে কিছু যায় আসে না – কিন্তু ঐ জায়গাটায় যেন হাত পড়ল। কাকাবাবু একদিনের জন্যেও অহঙ্কারী ছিলেন না। সবাইকে স্নেহ করতেন। কোনদিন ঠিক করে অপরাধীদের শাস্তিও দিলেন না ঐ মমতার কারনেই। সেটা যদি পরিচালক না বুঝে থাকেন – তাহলে কিছু করার নেই।

    সিনেমার সবটুকু ঝকঝকে। সন্তু ফটফটে স্মার্ট – সে বাইক চালায়, এক ডাকসাইটে সুন্দরীর সাথে প্রেম করে। ব্লুটুথে তাকে কথা বলতে দেখা যায়। সার্কোফেগাস কথাটা নাকি হিস্ট্রি চ্যানেল না দেখলে শেখা যায় না। বাংলা সিনেমা মিশরে দৌড়য় -উটের পিঠে চড়ে। কিন্তু এত করেও শেষরক্ষা হল না কেন? সিনেমাটা দেখার পরেও একটা বড় শূন্যতা থেকে যায়। তবে সিনেমা হিট – তাই বেশি ইট – পাটকেল খাওয়ার ভয়ে আর লিখলাম না। সোনার কেল্লা চলতে থাকলে এখনও যেন টিভি ছেড়ে ওঠা যায় না। তবে কিনা যুগোপযোগী হয়ে হাততালি দেওয়াই ভালো।

     
    • স্মৃতিলেখা চক্রবর্ত্তী 2:14 am on January 20, 2014 Permalink | Reply

      ধ্যুশ! ওটা কোন সিনেমা হয়েছে? ১টা সিন থেকে আরেকটা সিনে যেন যেতে হয় বলেই যাচ্ছে। গল্পে কোন গতি নেই, অত্যাবশ্যকীয় নাটকীয়তা নেই; টানটান উত্তেজনা তো নেইই, এটা কোন থ্রিলার হয়েছে?
      আর বাংলা? কেউ বাংলা বলছে, কেউ ইংরেজি, কেউ হিন্দি! কেন? ভয়েস ওভার দিয়ে গোটা-টা বাংলায় করলে কি খুব ক্ষতি হত! সুনীল গাঙ্গুলি-কে তো গল্পটা লেখার সময়ে ৩টে ভাষাকে টেনে আনতে হয়নি! তাহলে ওগুলো কি “আমি জানি”, এটা বোঝাতে?
      আর মিশর? ওটা তো পুরো ভিখিরিপনা! পয়সা খচ্চা করে মিশর গ্যাছে মানে টেনেটুনে সব দ্যাখাতে হবে? বালির ঝড়, উটের দৌড়, পিরামিড, আদিবাসী নাচ! পরিচালক-দের কি বাদ দেওয়া উচিত; সেইটা এই সিনেমা দেখে ভালই শেখা যায়।

    • ক্যাফে লাতে 4:39 pm on January 20, 2014 Permalink | Reply

      ভাগ্যিস পয়সা খচ্চা করে হলে দেখতে যাইনি।
      আমার এক ভাই পুজোর সময়ে দেখতে গেছল। এসে নানা রিভিউ দিল। সেগুলির মধ্যে সবথেকে হাস্যকর(এবং বিরক্তিকর) ছিল, কাকাবাবু নাকি সন্তুকে নির্দেশ দিয়ে কোন একটা চিরকুট পাঠিয়েছেন। তার শেষে পুনশচ দিয়ে লেখা – বৌমা কেম আছে? বা ওই গোছের কিছু…কথাটা কি ঠিক? যদি ঠিক হয়, তাহলে কি সাঙ্ঘাতিক !!

      • ক্যাপাচিনো 7:02 pm on January 20, 2014 Permalink | Reply

        আরে ঠিক মানে এক্কেবারে ঠিক। তাও আবার কিডন্যাপড হওয়ার পর। মানে ব্যাপারটা যাস্ট নেওয়া যাচ্ছিল না আর কি – এদিকে তার একটু আগেই কন্যে ছিলেন কলকাতায় (সন্তু তার জন্য সকালে উঠত, বিকেলে বাইক নিয়ে রন্দেভুতে যেত)। কন্যেটি তো সন্তুকে বাড়ির ছাতে প্রায় একটা চুমুই খেয়ে ফেলছিলেন যদি না ঠিক মুহুর্তে কাকাবাবুর ফোনটা আসত। এদিকে কাকাবাবুরা যখন মিশরে এলেন (দু-তিন দিনের ব্যবধান) জানা গেল কন্যে তার দিদি-জামাইবাবুর মিশরে পড়াশুনো করেন। স্থান কাল পাত্র নিয়ে অনেক সংশয়।

        আর শুনেছি আই এ এস পাশ করতে এলেম লাগে। তার ওপরে প্রথম দিকের র‍্যাঙ্ক থাকলে তবে ফরেন সার্ভিসে পাওয়া যায়। তা সেরকম লোক কি করে এত হ্যাবলা গোবলা হয় কে জানে। এই চরিত্রটি বইতে ছিল? ঠিক মনে নেই – অনেক দিন আগে পড়েছি মিশর রহস্য।

        স্বস্তিকা কাকাবাবুর জন্য গুছিয়ে রান্না করল – ওদিকে কাকাবাবুকে কিডন্যাপ করা হয়েছে শুনে (সেই একই দিনের ঘটনা), সে বলল, বাড়িতে নাকি রান্নাবান্না হয়নি – হোটেলে বসে ক্যাভিয়ার খেতে হবে।

        শেষ দৃশ্যে কাকাবাবু যখন বোরখা পরিহিত হানি আলকাদিকে কোলাকুলি করে গুপ্তধনের হদিশ দিচ্ছেন – তখন দূর থেকে সন্তুরা ভাবল কাকাবাবু বোধহয় কোন মহিলাকে – আর কাকাবাবুও একটু আগেই বলেছেন যে তিনি খোঁড়া পায়ের জন্য বিয়ে করতে পারেন নি। সেই সম্ভাবনাকে প্রশ্রয় দিয়ে তিনি কোলাকুলি সেরে এসে সন্তুদের কাছে ফিরে ইঙ্গিতপূর্ন হেসে বললেন – এরকম তো হতেই পারে। ভাবো একবার –

        তবে ভাগ্যিস কাকাবাবু মিশরে গেছিলেন। তাই না কায়রোতে বিপ্লবটা সফল হল। নাহলে তো ইতিহাসই ওলোট পালোট হয়ে যেত। এইটাই মনে হয় মিশর রহস্যের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

    • Rajrupa Gupta 2:14 pm on January 22, 2014 Permalink | Reply

      Ami dekhini! Tobe ja sunchi, dekhar iccheo khub ekta nei…. Kaka Babu khub priyo ekjon manush! Chhoto belar chena sei manush ta ke r notun kore nai ba chinlam.

    • Jobayer Hasan 3:40 pm on May 15, 2014 Permalink | Reply

      হুম, দেখতে হবে।

  • ক্যাপাচিনো 2:13 pm on November 24, 2013 Permalink | Reply
    Tags: , , সত্যান্বেষী, , সিনেমা   

    সত্যের অন্বেষন ও ঋতুপর্ণ 

    এই পোস্টটা না লিখলেও চলত – বিশেষ করে মানুষটি যখন আর নেই। তবে আমি কখনও অকারনে ঋতুপর্ণকে নিয়ে কিছু লিখিনি বা বলিনি, তাই এটুকু লিখতেই পারি। গতকাল দেখলাম সত্যান্বেষী। গল্পটি অনেক কাল আগে অনেকবার পড়া থাকলেও বিশেষ কৌতুহল ছিল স্রষ্টার শেষ সৃষ্টি নিয়ে। বলতে বাধ্য হচ্ছি প্রচন্ড হতাশ হলাম।

    পরিচালক তো তাঁর স্বকীয়তা অবশ্যই রাখবেন – গল্পটা আমূল বদলে দিয়েছেন। তাও ঠিক ছিল। কিন্তু কতগুলো ব্যাপার মিলল না একেবারেই – সবার আগে যেটা বলব তা হল ব্যোমকেশের স্বভাবসিদ্ধ বুদ্ধির ঝলক যেন একেবারেই নেই। শরদিন্দু কেন – যে কোন গোয়েন্দা গল্পেই পাঠক যেটা সবচেয়ে উপভোগ করেন তা হল কাহিনীকার বা গোয়েন্দার সহকারীর সঙ্গে একটা দূরত্ত। এখানে ব্যোমকেশের চরিত্রে সেই ছোঁয়া যেন একেবারেই পেলাম না। কেন কে জানে? ব্যোমকেশকে ছাপিয়ে অজিতের কেমন একটা ওপরচালাক হওয়ার চেষ্টা। সেখানেই কেমন যেন হারিয়ে গেলাম গোয়েন্দা গল্পের মূল স্রোত থেকে। যে ব্যোমকেশের ছবি ভাসে শরদিন্দুর গল্প পড়লে, তার সাথে এর কোন মিলই নেই। সুজয় ও অনিন্দ দুজনেই প্রচন্ড বেমানান।

    ঋতুপর্ণ কয়েকটি রদবদল করেছেন, যা একরকম তাঁর ট্রেডমার্ক ছিল। এর মধ্যে বলবন্তপুর নামকরন ও রাজবংশের যোগাযোগটা মন্দ লাগে না। যেটুকু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শুনতে পাই, তা মন্দ লাগে না। বাদবাকী চরিত্রেরা কেউই খারাপ অভিনয় করেন নি। লোকেশন দুর্দান্ত। সবই ঠিক ছিল – যদি প্লট মেলাতে গিয়ে অহেতুক যৌনতার প্রসঙ্গটুকু টেনে নিয়ে আসা না হত। কারন সেটুকু বাদে গল্পটি বরং বেশি উপভোগ্য ছিল। শরদিন্দুর ভক্ত মাত্রেই সেটা জানবেন।

     
    • ক্যাপাচিনো 1:14 am on December 11, 2013 Permalink | Reply

      ভাগ্যিস লেখাটা কেউ পড়েনি – সিনেমাটা একেবারেই দেখার মত না।

    • ক্যাফে লাতে 2:46 pm on January 3, 2014 Permalink | Reply

      লেখাটা পড়েওছিলাম, তারপরে ফিল্মটাও দেখার সৌভাগ্য (নাকি দুর্ভাগ্য) হল দুয়েক সপ্তাহ আগে কোন একটা টিভি চ্যানেলে। দেখে বড়ই দুঃখ হল। গল্পটা পরিচালক বদলিয়েছেন নিজের মত করে বলে শুধু নয়। এত অজন্ত ছবিতে ভরা…এত অপ্রয়োজনীয় তথ্য…সেগুলি কি, কেন, কি প্রয়োজন , কিছুই বোঝা গেল না। ঋতুপর্ণ ঘোষ যে ছবিটাকে একেবারেই মন দিয়ে করেন নি, সেটা প্রথম থেকে শেষ অবধি বোঝা যাচ্ছিল।

    • Smritilekha Chakraborty 2:16 am on January 5, 2014 Permalink | Reply

      ইস! আমি তো ফ্লিপকার্টে দেখতেই পাচ্ছি না; নইলে ফস করে কিনে দেখে ফেলতুম।

  • ক্যাপাচিনো 4:54 pm on September 15, 2013 Permalink | Reply
    Tags: , সিনেমা   

    ভাগ মিলখা ভাগ 

    অবশেষে দেখলাম সিনেমাটি। কিছু কিছু অংশ দীর্ঘায়ত না হলে এক কথায় বলে দেওয়া যেত দুর্দান্ত। একটা গান দিয়ে লেখা শুরু করছি।

    অবশ্যই আপনারা জানেন এবং নতুন করে বলার নেই যে মিলখা সিং-এর আত্মজীবনীর ওপর তৈরি হয়েছে এই সিনেমাটি। যেটা বলার আছে তা হল অভিনেতা হিসেবে ফারহান আখতার অনবদ্য – অদম্য লড়াই, মানসিক টানাপোড়েন আর নিজেকে বারবার ভেঙে নতুন করে গড়ে তোলার চ্যালঞ্জ প্রমান করতে তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন বললে কম বলা হয় – অনেকটা রেস ট্র্যাকের শেষে ক্লান্ত অবসন্ন মিলখার মতই। অন্যান্য ভূমিকায় মিলখার দিদি (দিভ্যা দত্তা), ট্রেনার (প্রকাশ রাজ) এবং কোচকে (ওনার নামটা জানা নেই) – দারুন লাগে। ঘটনার প্রায় সবটুকুই ছোট ছোট ফ্ল্যাশব্যাকে। দেশভাগের তিক্ত স্মৃতি ও রিফিউজি ক্যাম্প, মিলিটারি ট্রেনিং অ্যাকাডেমি থেকে খেলোয়াড় মিলখার উত্থান আর সবশেষে ট্রেনিং-এর পর্বগুলি অসাধারন। পরিচালক হিসেবে রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরাকে শুধু ‘রং দে বসন্তি’ নয়, এই সিনেমার জন্যও মনে রাখা উচিত। ভাবতে ভালো লাগে যে চেন্নাই এক্সপ্রেসের পাশাপাশি এই ধরনের সিনেমাও এখন হচ্ছে।

     
    • এসপ্রেসো 4:38 pm on September 16, 2013 Permalink | Reply

      :hn দেখবো দেখবো করেও দেখা হয়নি, এবার ভাবছি দেখেই ফেলবো।

    • শনিবারের কফি 12:31 pm on September 24, 2013 Permalink | Reply

      রঙ দে বাসন্তী সেইরাম লেগেছিলো, এইটা দেখতে হবে…

  • ক্যাপাচিনো 7:56 pm on August 16, 2013 Permalink | Reply
    Tags: সিনেমা   

    রাঁঞ্ঝনা – রিভিউ 

    কে যেন বলেছিল কফিহাউজের আড্ডায় যে রান-ঝা-না-আ দেখবে? (উচ্চারনটা ভুল – আমার মনে হয় ওটা হবে রাঁঞ্ঝনা) – তা সে মনে হয় দেখেনি। তাই ভাবলাম, আমি যখন দেখলাম, কিছু তো বলাই উচিত।

    যাইহোক, মোদ্দা কথা হচ্ছে – আরেকটি প্রেমের গল্প, এবং তাতে বড়ই ভজঘট্ট। দুজোড়া প্রেমিক প্রেমিকা আছে – যদিও শেষমেষ কেউই তার অভিপ্রেত সঙ্গীকে খুঁজে পেল না। হ্যাঁ, আশা করছি এতদিনে বোধহয় জেনেই গেছেন যে মিলনান্তক গল্প না – পরিচালক গল্পটা ঠিক পোক্ত হাতে টানতে পারেন নি। তাই সে পথে না গিয়ে বলি যে একে বারে ফেলে দিতে গিয়েও ফেলে দেওয়া যাচ্ছে না একটাই কারনে, তার কারনগুলো এইরকম

    • ফটোগ্রাফি অসাধারন বললেও কম বলা হয়। সেই সঙ্গে রঙের ব্যবহার, বেনারসের পটভূমি চোখে পড়ার মত।
    • সবকটা গান খুব সুন্দর মানিয়ে গেছে। একটা তো দিয়েই দিলাম পোস্টের সঙ্গে।
    • চরিত্রগুলো সাদামাটা এবং ভীষন বাস্তব মনে হচ্ছিল কিছু মুহুর্তে।

    ভারতীয় সিনেমায় অনেক এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে কমার্শিয়াল সিনেমাতেও। সেটাই একমাত্র আশার আলো। ভিজিল ইডিয়ট প্রচন্ড কষে রিভিউ লিখেছিল, অত খারাপ নয় কারন নেগেটিভ হলেও সিনেমার শেষে কেন জানি না মন ভালো হয়ে যায়।

     
    • ক্যাপাচিনো 9:16 pm on August 23, 2013 Permalink | Reply

      দেখছি কেউ এইডা পড়ে নাই।

  • ক্যাপাচিনো 4:19 pm on July 13, 2013 Permalink | Reply
    Tags: সিনেমা   

    চলে গেলেন প্রাণ – যার নাম শুনলে এই গানটাই মনে পড়ে 

     
    • ক্যাফে লাতে 10:27 am on July 16, 2013 Permalink | Reply

      হ্যাঁ, একদম ঠিক।
      সেদিন পেপারে পড়ছিলাম। এমন এক একটা সময় ছিল যখন প্রাণ জি নায়কের সমান টাকা পেতেন। এবং ফিল্ম এর টাইটেল সিকোয়েন্সে, সবার নামের পরে আলাদা করে নাম আসত …’ অ্যাণ্ড প্রাণ’ …প্রাণের জীবনীর নামও এই একই। তবে জীবন পুরোপুরি উপভোগ করে গেলেন।

  • ক্যাপাচিনো 6:31 pm on June 29, 2013 Permalink | Reply
    Tags: , লা মিসার্ব, সিনেমা   

    লা মিসার্ব 

    এটি ছবির ট্রেলার নয় – এক ধরনের ম্যাশ-আপ। মনে হয় ভালো লাগবে সকলেরই।

     
    • ক্যাফে লাতে 5:03 am on June 30, 2013 Permalink | Reply

      আমার খুব পছন্দের গল্পগুলির একটি। কিন্তু এই ফিল্মটা কি মিউজিক্যাল ছিল?আমার এটা জানা ছিল না। দেখতে দেখতে সাউন্ড অফ মিউজিকের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল।

      • ক্যাপাচিনো 3:17 pm on June 30, 2013 Permalink | Reply

        এক্কেবারে মিউজিকাল। তবে কিনা আমারও দেখার সৌভাগ্য হয় নি।

c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel