Tagged: সমস্যা Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • চাফি 7:54 pm on April 25, 2013 Permalink | Reply
    Tags: , , সমস্যা   

    এক মাসের বিয়ে 

    এই খবরটা কারও নজরে এসেছে কিনা জানি না। আমির খানের ‘সত্যমেব জয়তে’র প্রথম পর্বটা যদি কেউ দেখে থাকেন তাহলে হয়তো মনে আছে সেখানে বলা হয়েছিল বেশ কিছু রাজস্থান বা হরিয়ানার গ্রাম্য পরিবারে বিয়ে কেনা হচ্ছে – অর্থাৎ দেশের একেবারে অন্য প্রান্তের গরীব ঘরের মেয়েকে টাকা দিয়ে একরকম কিনা আনা হচ্ছে স্থানীয় সমাজে পাত্রীর অভাবে, যেখানে শুধু একজন নয় পরিবারের অন্যান্য পুরুষও সেই বধূটির কাছে তাদের লালসা চরিতার্থ করছে।
    নতুন ঘটনাটি ঘটছে হায়দ্রাবাদে – কিছু মুসলিম পরিবারে। সেখানে মেয়েদের এক মাসের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রবাসী বা বিদেশি পুরুষদের সাথে। কাজীর সঙ্গে যোগসাজসে প্রথমেই তৈরী করে নেওয়া হচ্ছে এক মাস পরের তালাকনামা। এরকম একটি ঘটনায় একজন কিশোরী পালিয়ে আসায় ঘটনা পুলিশের নজরে আসে এবং জানা যায় যে এই ঘটনা শুধু একবার নয় – অনেক ক্ষেত্রেই ঘটছে। এই মেয়েটির সাথে এক মাসের বিয়ে করতে চায় সুদানের এক তেল কোম্পানির লোক – যার জন্য সে দালালকে দেয় প্রায় ১২০০ পাউন্ড অর্থাৎ প্রায় লাখখানেক টাকা। তা কম কি – সব খুইয়ে যখন পুরুষ জাত মেয়ের সম্মানের সব রকম দরদাম ঠিক করে ফেলেছে, তখন এটাই বা কম কি?
    এই পোস্টে অল্প কটা লাইন লিখতে আমার লজ্জা হচ্ছে, কিন্তু যারা এই কান্ড ভরদুপুরে করে যাচ্ছে, তাদের কিছুই হচ্ছে না। মনে হচ্ছে ভারতীয়দের মধ্যে বোধহয় একটা বড়সড় জিনগত পরিবর্তন আসছে – কানটা কাটা গেছে কোন কালে, সেরকমই থেকে যাচ্ছে, আর জুড়ছে না। বিবেক শব্দটা তো অনেককাল আগেই ডিকশনারি থেকে উঠে গেছে বোধহয়।


    খবরটি যে আমার বানান নয় – তার প্রমাণ স্বরূপ দুটো লিঙ্ক নিচে দিলাম।
    টেলিগ্রাফ (UK)
    ফক্স নিউজ


     
    • ক্যাফে লাতে 2:47 am on April 26, 2013 Permalink | Reply

      না না, এই খবরটা একদমই বানানো নয়। দক্ষিণের দরিদ্র মুসলমান পরিবারের মেয়েদের এক থেকে তিন মাসের জন্য বিয়ে করে মধ্য প্রাচ্যের ধনী পুরুষেরা। সময় শেষ হলে, তালাক, এবং দালালের হাতে যায় মোটা টাকা। মেয়েটি পায় সামান্য কিছু টাকাই। এটাকে গোছানো ভাষায় বলা হয় ‘সেক্স ট্যুরিজম’ নিজের বউকে বাড়িতে বোরখার আড়ালে বন্দী করে রেখে আসব। নিজে ভারতে বেড়াতে আসব, আর একটা নতুন মেয়েকে নিয়ে মজা লুটে যাব। হিসেবটা খুব সোজা।
      কিছুদিন আগে দুটো খবর দেখেছিলাম যা চমকে দিয়েছিল। এক, সিরিয়াতে এখন খুব অশান্তি চলছে। তার মধ্যে সেখানকার ক্ষমতায় থাকা সুন্নী গোষ্ঠি ঘোষণা করেছে, সুন্নী নয়, এমন সমস্ত মহিলাদের যথা ইচ্ছা ধর্ষণ করা যেতে পারে ! লিঙ্ক এইখানেঃ
      http://www.humanevents.com/2013/04/02/islamic-cleric-rape-of-non-muslim-syrian-women-permitted/

      ওদিকে মালডাইভ্‌স্‌ এ এক পনেরো বছরের মেয়েকে জনগনের সামনে ১০০ বার চাবুক মারার নির্দেশ দিয়েছে সেখানকার সরকার। মেয়েটির দোষ? সে একজন ধর্ষিতা। তার বিরুদ্ধে অপরাধ হয়েছে, কিন্তু তাকেই পেতে হবে শাস্তি। লিঙ্ক এইখানেঃ
      http://www.avaaz.org/en/maldives_global/?fOONobb&pv=59

      • চাফি 7:46 am on April 26, 2013 Permalink | Reply

        আচ্ছা, তাহলে তোমারও চোখে পড়েছে খবরটা। হিসেবটা তো খুব সোজা বটেই – যেমন নিয়ম, তেমনি নিয়মের ফাঁক ফোকর।

        কিন্তু পরের খবর দুটো আরও ভয়াবহ। আমি আগে শুনিনি। মানুষের শুভবুদ্ধি কোন তলানিতে গিয় ঠেকেছে সেটা তো ভেবে দেখার মত বিষয়।

    • ক্যাফে লাতে 3:03 am on April 26, 2013 Permalink | Reply

      আর উত্তর ভারতের গল্পটা অন্য।
      সেখানে বেশিরভাগ গ্রামগুলিতে কন্যা ভ্রুণ হত্যা করা হয়ে থাকে, কারণ মেয়ে মানেই বিয়ে দিতে হবে, প্রচুর পণ দিতে হবে, ইত্যাদি। এই করতে করতে এক- একটা গ্রাম হয়েছে শুধু পুরুষে পূর্ণ, কোন বিবাহযোগ্য মেয়েই নেই। সেই গ্রামে ত নেই-ই, আশেপাশের গ্রামেও নেই। অগত্যা, এই ব্যবস্থা। এটা অবশ্য আমিও প্রথম জেনেছিলাম ‘সত্যমেব জয়তে’ থেকেই। এই সব মেয়েরা বেশিরভাগই অন্ধ্রপ্রদেশের খরা বিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে আসে। আর এরা বেশিরভাগই দলিত।
      অত্যন্ত হাস্যকর এবং একই সাথে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, উত্তরের ‘উচ্চবংশীয়’ ঠাকুর বা অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ, যারা সর্বক্ষণ জাতপাতের বিচার করে নিজেদের আশেপাশের মানুষগুলিকে তটস্থ করে রেখেছে, তাদের নিজেদের বংশ বিস্তার এবং শারিরীক ক্ষিদে মেটানোর জন্য তারা সেই ‘দলিত’ মেয়েদেরই নিয়ে আসছে।

      এক দিন থেকে ভালই। এই করতে করতে আর আলাদা রক্তের গর্ব করার মত তাদের কিছু থাকবে না। জাত পাত সমস্যাও সূদুর ভবিষ্যতে মিটবে কি? এই ব্যবস্থার ফল স্বরূপ?
      ঠিক কি হবে সত্যিই জানিনা। কিন্তু এইসব খবর পড়লে মাঝে মাঝেই মনে হয়, পৃথিবীটা মনে হয় সত্যিই ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে।

      • চাফি 7:25 am on April 26, 2013 Permalink | Reply

        কি করে সমস্যা মিটবে জানি না – বিয়ের পর যদি শ্বশুরবাড়িতে একটি মেয়ের অবস্থা কাজের লোকেরও অধম হয় – তাহলে পরবর্তীকালে কোন পারিবারিক সিদ্ধান্তে তার কোন মতামত আদৌ গৃহীত হয় কি? আমার তো মনে হয় এক্ষেত্রে অবস্থা আরো খারাপ হবে মেয়েদের জন্য।

    • ক্যাফে লাতে 4:31 am on April 27, 2013 Permalink | Reply

      তোমার কি ধারণা যে আমাদের দেশে মেয়েদেরকে পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশিদার করা বা ভাবা হয়? খুব কম ক্ষেত্রেই সেটা হয়। এবং সেটা যে সবসময়ে শহুরে, শিক্ষিত লোকেরা করে তা নয়। বেশিরভাগ তথাকথিত উদারমনা, শিক্ষিত লোক আসল সময়ে বাড়ির মহিলাদের বা স্ত্রীর বক্তব্য বা সিদ্ধান্তকে পাত্তা দেয় না। যে সব পুরুষরা দেয়, তাদের স্ত্রীরা হাতেগোনা ভাগ্যবতীদের মধ্যে পড়ে।

      মেয়ে যতই না কেন উচ্চশিক্ষিত হোক, লাখ টাকা রোজগার করুক, বাড়ি ফিরলে, ৯০% পুরুষ এবং শ্বশুর-শ্বাশুড়ির কাছে তার একমাত্র পরিচয়- সে ‘বাড়ির বৌ’ , যার প্রাথমিক দায়িত্ব হল মোটামুটি ভাবে বাড়ির ভেতরের , এবং পারলে, বাইরের ও সমস্ত কাজ করা, স্বামীকে শারিরীক সুখ দেওয়া এবং অবশ্যই সন্তানের জন্ম দেওয়া। আমার আশেপাশে এরকম ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। ‘সংসার’ এ ঢুকলে তুমি এম-বি-এ না পি-এইচ-ডি, তাতে কিছুই এসে যায়না।

      পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই, এবং বিশেষতঃ ভারতবর্ষে ( এবং আমার ধারণা ভারতীয় উপমহাদেশের সব দেশগুলিতেই ) বিয়েটা একটা লোক দেখানো সামাজিক চুক্তি ছাড়া কিছুই নয়। Marriage is nothing but a social contract for sexual relationship between a man and a woman, verified and approved by the civil society, which supposedly helps in retaining the so called value system , propagated once again, by the same civil society.

      এই কারণেই আজকাল বহু অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে একলা জীবন যাপন করার চেষ্টা করছে। এবং ভারতে সেই সংখ্যাটা হুহু করে বাড়ছে।আমি কিছুদিন আগে একটা খবরেও পড়েছি যে, আমেরিকাতে সিঙ্গল মাদার দের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, কারণ কাজ করে খাওয়া মহিলারা সন্তান পালন করতে অনিচ্ছুক নয়, কিন্তু এই বাজারে, সন্তানের বাবা এবং স্বামী হিসাবে খামোখা একটা লোককে পুষতে রাজি নয়, যে অনেক ক্ষেত্রেই বেকার। এটার সাথে অবশ্য সেখানকার অর্থবনৈতিক ব্যবস্থাও জড়িত, কিন্তু কেই বা আর অকারণে শুধুমাত্র ‘পবিত্র বিবাহ বন্ধন”- এর নামে মাঝরাতে বেকার মাতালের বমি পরিষ্কার করতে চায় বল?

      যদি সত্যি কথা বলি, তাহলে আমি মনে করি বিয়ে নামক এই অব্যবস্থাটা পুরোপুরিভাবে পৃথিবীর সমস্ত সমাজ থেকে মুছে ফেলা উচিত। পৃথিবীর প্রচুর সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ।

      • চাফি 5:09 am on April 27, 2013 Permalink | Reply

        আমি তোমার সাথে অরাজি নই – কিন্তু এই কথাগুলো আলোচনাটাকে অন্য দিকে নিয়ে যাবে। বিয়ে উচিত কি উচিত না আমি জানি না – তবে হ্যাঁ সমাজের এই রাখ ঢাক গুড় গুড় ব্যাপার গুলোর প্রতি আমার ঘোর আপত্তি। আর তাছাড়া এক্ষেত্রে দোষটা যে সব সময় পুরষদের তাও নয় – অনেক সময় মেয়েরাই মেয়েদের সমস্যার কারন। যাই হোক, সেটা আমার পোস্টের উদ্দেশ্য নয়। আমি যার বিপক্ষে তা হল মেয়েদের পক্ষে চূড়ান্ত রকমের অবমাননায় – যেমনটা এক্ষেত্রে ঘটছে। ঘটছে আরও অনেক ক্ষেত্রেই – যেমন তুমিও বলেছো। এই জায়গাগুলোয় আমার প্রতিবাদ – অবশ্য প্রতিবাদ করেই বা কি লাভ? এই প্রতিবাদ তো কারও কানেই পৌঁছবে না। যেটা পোস্টে লিখেছিলাম – আমাদের মধ্যেই দুটো পৃথিবী আছে।

  • এসপ্রেসো 8:33 pm on March 22, 2013 Permalink | Reply
    Tags: সমস্যা   

    দুই বাংলায় যে ভাবে সমস্যা বাড়ছে তাতে করে সাধারন জীবন-যাপন করে টিকে থাকাটাই শক্ত হয়ে যাচ্ছে । মনে লয় মইরা যাই….. :hammer

     
    • ক্যাপাচিনো 5:14 pm on March 24, 2013 Permalink | Reply

      সাধারন মানুষের টিকে থাকা তো অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে বটেই।

c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel