Tagged: ঋতুপর্ণ ঘোষ Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • ক্যাফে লাতে 6:57 pm on January 23, 2014 Permalink | Reply
    Tags: ঋতুপর্ণ ঘোষ,   

    সত্যান্বেষী- বিলেটেড রিভিউ 

    কিছুদিন আগে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করেছিল এই ছবিটা নিয়ে রিভিউ বেরিয়েছে কিনা। আমাদের কফিহাউজে বোধ হয় ছোট করে একটা লেখা বেরিয়েছিল, তা ভাবলাম আরেকটি বিশদে লিখি। খুব শিগগির টিভিতে আবার দেখাবে কোন একটা চ্যানেলে, তারপরে এদিকে আবার আমাদের চা-পাতা বলছে ফ্লিপকার্টে গিয়ে কিনবে – খবর্দার কিনিস না মা! কেন, সেটা ওই যেদিন টিভিতে দেবে, দেখেই বুঝবি!!

    যাকগে, কাজের কথায় আসি। প্রথমেই বলি, ঋতুপর্ণ ঘোষ বড়ই অকালে প্রয়াত হওয়াতে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। নানা কারণে ওনার গত কয়েক বছরে তৈরি বেশিরভাগ ছবিই আমার দেখা হয়নি। সত্যান্বেষীও টিভিতেই দেখেছি। কিন্তু আমি ওনার লেখার খুব ভক্ত। ঋতুপর্ণের বাংলা লেখা এতই সুন্দর, পড়লেও মন ভাল হয়ে যেত। ওনার ভাবনা চিন্তার প্রসার আমাকে বারে বারে মুগ্ধ করেছে। ওনার প্রথম দিকের বেশ কয়েকটি ছবি আমাকে অন্য রকম ভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। আর সেই সব কারণেই আমি এই ছবিটি দেখে হতাশ।

    ছবির শুরুতে দেখা যায় এক বয়স্ক পুরুষের সাথে দুটি যুবতী , নানা জিনিষ নিয়ে, সম্ভবত নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে চলেছে। তারা একটু বিশ্রাম নিতে থামে, ছোট মেয়েটি প্রাকৃতিক কাজের উদ্দেশ্যে একটু আড়ালে যায়, তার পরে কি যেন একটা ঘটে- তার শুধু আর্ত চিৎকার শোনা যায়।যেদিন ছবিটি দেখেছিলাম, সেদিন সেই বিপদের উৎস সম্পর্কে সমপূর্ণ অন্য ধারণা জন্মেছিল, আজকে আবার লেখার কথা ভাবতে ভাবে অন্য ধারনা জন্মাল।

    যাইহোক, তারপরেই বোধ হয় ফ্ল্যাশ ফরওয়ার্ড করে ব্যোমকেশ এবং অজিতের রাজবাড়ি, নাকি জমিদারবাড়িতে আবির্ভাব। এইখানে একটা কথা বলে রাখি, রজিত কাপুর আর কে কে রায়নার পরে, আমার আর কোন ব্যোমকেশ বা কোন অজিতকেই পোষায়নি। এরপরে পুরোটাই গোলমাল। এক অকারণ নারী চরিত্র, যাকে বিনাকারণে প্রচুর স্ক্রিন স্পেস দেওয়া হয়েছে। বরং অন্য নারী চরিত্র, যেটি আদতে গুরুত্বপূর্ণ, তাকে প্রায় দেখাই যায়না। প্রথম চরিত্রাভিনেত্রী হলে অর্পিতা চ্যাটার্জি। এই অবধি লিখেই মনে সন্দ জাগছে- উনিও কি নিজের কত্তার মত পরিচালকের সাথে জোর জবরদস্তি করে এই চরিত্র তৈরি করিয়েছিলেন? সারা ফিল্ম জুড়ে এঁর কাজ কি? – একটা সদ্য রিলিজ হওয়া হিন্দি ছবির গান গুনগুন করা, এক লাইব্রেরিয়ান এর সামনে মুগ্ধ হয়ে দামি শাড়ি গয়না পড়ে বসে কালিদাসের মেঘদূত শোনা, আর শেষ অবধি জানতে পারা যায় তিনি নাকি বিছানায় শীতল , তাই বরের সাথে মনোমালিন্য !! বোঝ কান্ড। ও, আরো একটা কাজ করেন- মাঝে মাঝে অজিতের সাথে বসে গল্প করেন, তাই নিয়ে আবার ব্যোমকেশ টিপ্পনী দেন। সেই জমিদারির নাম “বলবন্তপুর”- কেন, তাই নিয়ে ব্যোমকেশ আর অজিত গভীর আলোচনা করেন। শেষের দিকে বোঝা যায়, সেই যে বৃদ্ধের কথা প্রথমে বলা হয়েছিল, তার মেয়ে যে কিনা সেক্সুয়ালি ফ্রিজিড জমিদার গিন্নীর ঝি, সে জমিদারের সন্তানকে গর্ভে ধারণ করছে, তাই তার বাবা তার প্রেমিককে , যে কিনা সেই মেঘদূত পাঠ করা লাইব্রেরিয়ান, তাকে,বাঘের ডাক ডেকে চোরাবালিতে ডুবিয়ে মারলেন। বেশ , তা ভাল! কিন্তু তার জন্য সেই বাবার সিন্দুকে বিরাট বড় বাঘের পায়ের মাপের কাঠের থাবা, আর বাঘের মুখোশ থাকার কি দরকার তা বুঝলাম না। থাবাটা তাও বুঝলাম, মুখোশের প্রয়োজনীয়তা একেবারেই বুঝলাম না। সেই বিধবা মেয়ে আবার বনের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া প্রেমিককে ময়ূরের পালক দিয়ে আদর করে। সেটা সে হঠাত কোথায় পেল, সে নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন আছে। ছবির শেষে সেই ময়ূরের পালক বালির চরে পড়ে থাকে। পরিচালক তাঁর শেষের দিকের অভিনীত এবং নির্দেশিত কিছু ছবির মত, এখানেও রাধা-কৃষ্ণ-প্রণয়লীলা-দেহতত্ব-ইত্যাদি-প্রভৃতি-আরো গভীর অনেক কিছু বোঝাতে চেয়েছিলেন কিনা , বা আনার ইচ্ছা ছিল কিনা আমার জানা নাই। উৎসাহী কমেন্টদাতা কেউ আলোকপাত করলে খুশি হব।
    আরেকটা কথা- চোরাবালিতে মানুষ ডুবে যাচ্ছে, এই দেখাতে যে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে, তা একেবারেই যা তা।
    মোদ্দা কথা, পুরো ছবিটা জুড়ে অযত্নের ছাপ। হয়ত পরিচালক সেই সময়ে সত্যিই অসুস্থ ছিলেন। ঠিক ঠাক মন দিতে পারেন নি। কারণ আরো অনেক ছোট খাট বিষয়ে প্রশ্ন জেগেছিল দেখার সময়ে, সেগুলির সব কথা আলাদা করে আর বললাম না। সুজয় ঘোষ চেহারায় হয়ত তাও মানিয়ে গেছেন, কিন্তু গলার আওয়াজটা মোটেও যুতের নয়। অনিন্দ্যকে যে লুক দেওয়া হয়েছিল, তাতে তিনি অজিত কম, বরং রবিঠাকুরের গল্পের ব্রাক্ষ যুবক রূপে বেশি মানাবেন। যেটা সবথেকে চোখে লাগে, সেটা হচ্ছে ২২-২৩ এর তরুনীর ভূমিকায় অর্পিতাকে দেখে! ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি বলেই তখন মনে হয়েছিল, উনি কোন বেয়াক্কেলে আবদারে সাড়া দিতে বাধ্য হয়েছিলেন কি? যেমন হয়েছিলেন ‘নৌকাডুবি’ বানানোর সময়ে ?
    ছবিটা দেখার পরে মূল গল্পটা নতুন করে আবার পড়েছিলাম। সেখানে অবশ্যই নারী চরিত্র দুটি, এবং নাম-কে-ওয়াস্তে। তা তাতে ক্ষতি কি ছিল? ওই গল্পটা নিয়ে কাজ করলেই হত। আধুনিক ভাল গল্প বা ভাল ছবি মানেই কি তাতে চাট্টি শারিরীক চাহিদা এবং তার থেকে উঠে আসা জটিলতা বা হতাশা দেখাতে হবে? শরদিন্দু তো সেই কোন যুগেই সেইসব ছাড়াই প্রচুর ভাল গল্প লিখে গেছেন- শুধু ব্যোমকেশ নয়, আরো অনেক গল্প, এমন কি সিনেমার চিত্রনাট্যও। এখনো এদিক-সেদিক খুঁজলে সেই ধাঁচের অনেক ভাল ছবি দেখা যাবে। কিন্তু সে কথা থাক, সে আরেকদিন আলোচনা হবে।

     
    • রূপসা মন্ডল দাসগুপ্ত 9:22 pm on January 23, 2014 Permalink | Reply

      মুল গল্পটা অনেকদিন আগে পড়েছি, খুঁটিনাটি মনে নেই, প্রথম দৃশ্য নিয়ে একটা জব্বর খটকা আছে, ভিলেন তো বলবন্তপুর ঢোকার সময় জানতেন না যে তাঁকে পরে ভিলেনগিরি করতে হবে, তাহলে দুটি কন্যার মধ্যে একটিকে সকালে অমনভাবে হারিয়ে সেকথা বেমালুম চেপে গেলেন সকলের কাছে, আশ্রয় চাওয়ার সময় তিনি বা অন্য কন্যাটি একটু প্রকাশ করলে না অতবড় শোকটা, শরদিন্দু বাবু কী বলেছিলেন এ বিষয়ে?

      • ক্যাফে লাতে 10:24 am on January 24, 2014 Permalink | Reply

        আরে না না, মূল গল্পে ভিলেনের কোন মেয়ে-টেয়ে নেই, তিনি একেবারে একলা। একটি গর্ভবতী বিধবা মেয়েকে নিয়ে একটা ছোট সাবপ্লট আছে শুধু, যার সাথে মূল রহস্য বা ভিলেনের কোন সম্পর্ক নেই।

    • ভাঁড়ের চা 1:15 pm on January 24, 2014 Permalink | Reply

      গল্পটা আমি ঠিক ধরতে পারছিনা। এটা কি “চোরা বালি” ? সেটা হলে, তাতে এসব কান্ড ছিল ? কিছুতেই মনে পড়ছে না! হাতের কাছে বইটাও নেই ! প্রথমবার দেখে আমারও নানা প্রশ্ন জেগেছিল। সিনেমা নিয়ে সমালোচনা করার আমার কোন যোগ্যতাই নেই। তাই সেটা করছি না। তবে সাধারন দর্শক হিসেবে একেবারেই নিরাশ হয়েছি।

      • ক্যাফে লাতে 5:38 am on January 28, 2014 Permalink | Reply

        এটা হল, ওই যেমন নৌকাডুবি দেখে লিখেছিলাম, -এটা রবি ঠাকুরের নয়, ঋতুপর্ণ ঘোষের নৌকাডুবি, ওইরকমই আর কি- এটা শরদিন্দুর চোরাবালি নয়, ঋতুপর্ণের সত্যান্বেষী

    • ক্যাপাচিনো 1:24 pm on January 24, 2014 Permalink | Reply

      হ্যাঁ এটাই সেই গল্প – তবে সিনেমা দেখে সত্যিই বোঝা ভার আদতে সেই গল্প কি না।

  • চাফি 1:34 pm on May 31, 2013 Permalink | Reply
    Tags: ঋতুপর্ণ ঘোষ,   

    এবং ঋতুপর্ণ চলে গেলেন 

    কফিহাউজে ওনাকে নিয়ে দুটো পোস্ট ইতিমধ্যে পড়ে গেছে। আর একটা দেওয়ার কারন এটাই যে একটা ছোট্ট ঘটনা বলতেই হয়। কদিন ধরে দেখছি ফেসবুক শোক সংবাদে ভেসে যাচ্ছে।

    এর মধ্যে এরকম অনেকেই আছেন – যাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয়ও রয়েছে – যাঁরা একসময় ঋতুপর্ণকে সামনাসামনি একটা উপহাসের পাত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন গল্প, আড্ডা ও লেখায়। অথচ সেইরকম অনেকেই এখন যেন দুঃখে ভেসে যাচ্ছেন, মেনে নিতে পারছেন না বাংলা সিনেমার এত বড় ক্ষতির কথা। মনে পড়তে খারাপ লাগছে মীরের তুলে ধরা সস্তা নাটুকে মুহুর্তগুলোই তাঁরা খুব রসিয়ে রসিয়ে বলেছেন, তুলে ধরেছেন একাধিকবার। একজন সামান্য ভাঁড় হয়েছেন আমাদের রসদ, অথচ যিনি প্রকৃত মুক্তমণা পরিচালক, যিনি যৌনতার রাখঢাক ব্যাপারটা মুছে সত্যিটুকু সিনেমার পর্দায় এনে প্রশ্ন করেছেন আমাদের, তাঁকে করেছি ব্রাত্য।

    কেন জানি না এটা বড় বেশি ভড়ং বলে মনে হচ্ছে। আর কিছু হোক না হোক, এই একটা জায়গায় তো বাঙালি কম যায় না। আফশোস এটাই যে এরকম একজন প্রতিভার প্রকৃত মূল্যায়ন করার মত মানসিকতা আর যাই হোক আম আদমীর নেই। বিশ বছর ধরে সিনেমা বানিয়ে যে উপহার উনি আমাদের দিয়ে গেছেন, তা বুঝতে দর্শক হিসেবে আমরা অনেক অনেক পিছিয়ে।

    সেলাম ঋতুপর্ণ।

     
  • ক্যাফে লাতে 7:25 am on May 30, 2013 Permalink | Reply
    Tags: ঋতুপর্ণ ঘোষ,   

    জানিনা কি বলব… 

    আজ সকালে খবরটা প্রথম দেখি ফেসবুকে। দেখে টিভি চালাই ।দেখি খবরটা সত্যি। মনটা হঠাত করেই বেশ খারাপ হয়ে গেল। না, ঋতুপর্ণ ঘোষকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম না, তাঁর সাথে আমার পরিচয় তাঁর ছবির মাধ্যমে, তাঁর লেখার মাধ্যমে। তাঁকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার বা লেখার আমার নেই। সবাই সব কিছু জানে। আমি অন্যদের থেকে খুব বেশি কিছু জানিনা। তবে এটুকু জানি, আমার অনেক ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে তাঁর ছবি – যেগুলি তিনি নিজে পরিচালনা করেছেন, এবং যেগুলিতে তিনি অভিনয় করেছেন, দুই-ই। সব দেখা হয়ে ওঠেনি।এবার খুঁজে বার করে দেখব যেগুলি দেখা হয়নি।
    তবে ইদানীং মাঝে মাঝে রোববার পত্রিকায় ফার্স্ট পার্সন পড়ে এবং অন্যান্য দুই- একটা সাক্ষাৎকার পড়ে মনে হয়েছিল, বোধ হয় বড্ড একা উনি। বোধ হয় ভালবাসার বড় অভাব ছিল। ঠিক অভাব ছিল কিনা জানিনা। তবে আমার মনে হয়েছে ছিল। যদি অভাব না থাকত, তাহলে বঙ্গ মিডিয়া এতক্ষণে অনেক মেলোড্রামাপূর্ণ রগরগে ব্রেকিং নিউজ দেখিয়ে ফেলত। তাই মনে হয় আমার ধারণাটাই ঠিক।
    কেন জানিনা , মেমরিজ অফ মার্চ থেকে এই গানটাকেই মনে হল আজকের দিনের জন্য যথার্থ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

    ভাল থাকিস ঋতুপর্ণ।

     
    • ক্যাপাচিনো 7:53 am on May 30, 2013 Permalink | Reply

      তোমার পোস্ট পড়ার পর জানতে পারলাম। কাগজে দেখিনি। সত্যিই মন খারাপ হয়ে গেল। যদিও আমি সব সিনেমা দেখিনি – কিন্তু যেটুকু দেখেছি, তাতে মুক্তকন্ঠে স্বীকার করছি যে উনি কিন্তু সিনেমা নিয়ে দর্শককে ভাবিয়েছেন।

c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel