Updates from July, 2014 Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • ভাঁড়ের চা 1:21 pm on July 25, 2014 Permalink | Reply  

    রবিদা’র সাথে ইডেন! 

    রবিদা’র সাথে ইডেন দর্শন আর আমার কেরামতি না জানালে ঠিক হবে না।
    রবিদা যেমন বলেন, একদিন দুপুরে তেমনই বললেন, ‘চ, ইডেন দেখিয়ে আনি।’ নেচে উঠলাম। আবার সেই দু’আনা এবং তিন পয়সার ট্রামের গল্প! এবং গড়ের মাঠ। তবে এবার নতুন জায়গায়। আকাশবানী ভবন কি তখন হয়েছিল ? মনে নেই।
    ইডেনে কোন সময় একটা স্টেডিয়াম তৈরী করা শুরু হয়েছিল। কিন্তু কিছুটা হয়ে যাবার পর সেটা কোন কারনে বন্ধ হয়ে যায়, কারনটা ‘নেট’ ঘেঁটে পেলাম না। হয়ত তেমন করে খোঁজা হয় নি ধৈর্যে কুলোয় নি বলে ! এই সামান্য তৈরী হওয়া অংশটিকে বলা হত ‘রঞ্জি স্টেডিয়াম’। এখন ত তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া মুশকিল, গোটা মাঠ জুড়ে নতুন গ্যালারির মাঝে সেটা বোধ করি হারিয়েই গেছে! ১৯৬০-এর শুরুতে, ‘টেস্ট ম্যাচ’ দেখার জন্য সেখানে বসা দর্শকের টিকিটের আলাদা দাম ধার্য করা হত, মানে সাধারন দর্শকের জন্য কম দামের টিকিটই হত সে সব। এখনো হয় কিনা জানি না। অনেক দিন ইডেনে যাই নি!
    যা-ই হোক, রবিদার সাথে চললাম ইডেনে, রঞ্জি ট্রোফির কোন খেলা চলছিল সেখানে, কিন্তু পয়সা নেই। তা’তে কি ! আগেই খুঁজে গেছিলেন নিশ্চয়ই ঘেরা মাঠে ঢোকার উপায়। সেটা দেখলাম এখন।
    অনেকবার ইডেনের পাশ দিয়ে গেলেও, এখনও ভাল করে দেখা হয়নি আর জানিও না এখন কি দিয়ে মাঠটা ঘেরা আছে। সে সময় ছিল করগেটেড টিন দিয়ে।
    অনেক জায়গাতেই দেখলাম দু’টো টিনের জোড়ের জায়গায় নীচের দিকে অল্প ফাঁক রয়েছে। কিছু টানাটানি করলে সেই ফাঁক বড় করা সম্ভব। সেই কাজটাই করলেন রবিদা। দুর্বল একটা জায়গায় একদম নীচের দিকে কোন মতে গলে যাওয়া যায় এমন ফোকর তৈরী হল! আমরা কোন মতে গা, জামা-কাপড় বাঁচিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে পড়লাম!বাধা দেওয়ার কেউ ছিল না! এক দৌড়ে রঞ্জি স্টেডিয়ামের কংক্রিটের সিটগুলোকে সিঁড়ির মত করে নিয়ে ধাপে ধাপে অনেকটা ওপরে উঠে পড়লাম। দিনের খেলা শেষ হলে ফিরতে ফিরতে সেই সন্ধ্যা! ফিরে কি হয়েছিল তা জানি না, মনে নেই। তবে আপ্যায়ন যে ভাল হয় নি, সেটা মনে আছে। মা-এর আঁচলের আড়ালে দু’জনকে আশ্রয় নিতে হয়েছিল!
    লোভ জিনিষটা মারাত্মক ! সেটাই হল ! পরদিন খবরের কাগজ দেখে জানা গেল, ইডেনে যে খেলা হচ্ছে সেটা বাংলা বনাম সার্ভিসেসের রঞ্জি ট্রোফির খেলা, আর সার্ভিসেসের শেষের দিকের খেলোয়াড়েরা আউট হলে সেদিনই বাংলার ব্যাটিং শুরু এবং যথারীতি পংকজ রায় শুরু করবেন। সুতরাং এ সুযোগ ছাড়া যায় না। কিন্তু সঙ্গী চাই একজন,রোজ রোজ ত রবিদা যাবেন না!
    তখন বোধ হয় এইটে পড়ি আর জ্যাঠতুতো ভাই এক ক্লাস নীচে পড়ে। ওকে রাজী করালাম এই বলে যে পংকজ রায়ের খেলা দেখার এমন সুযোগ আর মিলবে না!
    রবিদা’র ফর্মূলা মেনে একই ভাবে ইডেনে পৌঁছে গেলাম আর যথারীতি সেই ফোঁকড়ও খুঁজে পেলাম। আর ঢুকেও গেলাম। কিন্তু ভেতরে যে গোলমাল অপেক্ষা করছিল সেটা জানতাম না। এ দিন ঢুকেই দেখি একটু দুরে দু’জন ‘লালপাগড়ি’ বসে বসে গল্প করছে! সে সময় পুলিশের কনষ্টেব্‌ল্‌রা মাথায় লাল পাগড়ি পড়ত। আর সবাই পুলিশ না বলে ‘লালপাগড়ি’ বলে সম্বোধন করত।
    “এ খোঁখা”, ডাক শুনে পিলে চমকে গেলেও যেতে হল। বিনা টিকিটে ঢুকে বে-আইনি কাজ যে হয়েছে সেটা জানা। চুপচাপ কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে নানা জিজ্ঞাসাবাদের উত্তর দিতে হল। এখন বুঝি সে সব ছিল ফালতু কথাবার্তা, কিন্তু তখন ত ছোট ছিলাম। বাড়িতে শাসন ছিল খুব! ভয় পেয়ে ত’ ত’ করে একসা হলাম একেবারে! ওরা অবশ্য শেষ পর্যন্ত ধমকে ছেড়ে দিল, আর শাসিয়ে দিল যাতে ভবিষ্যতে এমন না হয়!
    আমরা যখন ঢুকেছিলাম তখন পংকজ রায় ব্যাট করছিলেন। সেটা দেখলাম ঐ কংক্রিটের ষ্টেডিয়ামে বসে।
    খেলা শেষ হলে বাড়ির পথে যেতে গিয়ে আর এক বিপত্তি!
    রবিদা’র দেখানো জায়গা থেকেই ট্রাম ধরব। সেখানে দাঁড়াতেই দেখি একখানা ট্রাম আসছে। সেখানে যে নানা রুটের ট্রাম আসে তা ত রবিদা বলে দ্যায়নি। তাই সামনেরটাতেই উঠে পড়েছি। হঠাৎ বাজখাঁই চিৎকার, ‘কোথায় যাচ্ছিসরে তোরা ?’ চমকে উঠে দেখি সুধিরদা, পাড়ার দাদা, অফিস থেকে ফিরছেন বোধ হয়!! যেখানে বাঘের ভয় আর কি ! বাড়িতে সব জানাজানি হয়ে যাবে আজ! তারপর যা হবে, ভাবতেই গা হিম হয়ে যাচ্ছিল!
    ‘ও ট্রামটা কোথায় যাবে জানিস ? জীবনে বাড়ী পৌঁছতে পারবি ? আমি যেটাতে যাচ্ছি সেটায় ওঠ। বাঁদর কোথাকার, দেখাচ্ছি মজা,দাঁড়া।’ পরে অবশ্য কিছু হয়নি আর!
    সেদিন সুধিরদা বাধা না দিলে কি যে হত, অজানা জায়গায় আস্তানা খুঁজতে সারা রাত কাবার হত নিশ্চয়!
    আর একটা কথা। তখন বলা গেলেও, বর্তমানের নিরিখে পাড়ার সুধিরদা’রা অমনভাবে ধমকাতে পারতেন ? না কি, আগ বাড়িয়ে কিছু বলতেন ?

     
    • indira mukerjee 12:49 pm on August 4, 2014 Permalink | Reply

      আরো একটু উত্তরে চলে এলেই তো পারতি। রবিদার প্রাণের জোড়াসাঁকোর প্রবেশদ্বারটা কেমন ফাটাফাটি লুক হয়েচে, দেখিয়ে নিয়ে আসতি। পোড়ামাটির, লালচে, টেরাকোটা, আবার কংক্রীট সব মিলে মিশে একাকার ! তবে না গিয়ে ভালোই হয়েচে, সেন্ট্রাল এভিনিউর ঐ ভীড়ে রবিদা দাড়ি মাথায় তুলে ছুট দিত!!!

  • ভাঁড়ের চা 1:31 pm on July 19, 2014 Permalink | Reply  

    রবিদা– আমার কলকাতা দর্শন (২) 

    সে সময়ে ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের ফুটবল দলের পাঁচ ফরোয়ার্ড ছিলেন ভারত বিখ্যাত। আমেদ খান নামের খেলোয়াড় ছিলেন এঁদের অন্যতম। এখন বন্ধ হয়ে গেলেও সে সময়ে ক্রিকেট ও ফুটবল মরশুমের মাঝে দেড়-দু’মাসের বিরতিতে কলকাতার মাঠে হকি লীগ খেলা হত।
    এক মার্চের দুপুরে রবিদা’র সাথে চললাম গড়ের মাঠে। “হকি খেলা দেখবি ?”– বলে কোন ঘেরা মাঠে নিয়ে ঢূকলেন। ফুটবলের তুলনায় হকির দর্শক কম হত, তাই টিকিটের ব্যাপার ছিল না। সুতরাং মাঠে ঢোকার কোন অসুবিধা ছিল না।
    “আমেদ খানকে চিনিস ?ঐ দেখ।” রবিদা দেখালেন। খবরের কাগজে দেখা ছবির সাথে চেহারার মিল রয়েছে দেখলাম। উনি যে ফুটবলের সাথে হকিতেও পারদর্শী সেটা জানা ছিল না।
    এমনি করে একদিন রবিদা’র সাথে ইডেন গার্ডেনেও ঢুকেছিলাম এক চোরা পথে। সে অন্য কথা। পরে বলা যাবে।

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 11:30 pm on July 25, 2014 Permalink | Reply

      আচ্ছা, আপনি ইস্টবেঙ্গলের কথা তুললেন বলে জিজ্ঞেস করছি – তিনেদা / অশোকলাল ব্যানার্জিকে কি খেলতে দেখেছেন কখনও?

      • ভাঁড়ের চা 12:45 pm on August 3, 2014 Permalink | Reply

        না, না। ওনার খেলা দেখিনি। তবে বেতারে শুনে বা কাগজে পড়ে ওঁর গুনগ্রাহী ছিলাম।

  • এসপ্রেসো 2:12 pm on July 15, 2014 Permalink | Reply
    Tags: গাজা   

    গাজা 

    10378922_706050232765383_7013965835207716282_nনিচের লেখাটি কবীর সুমনের ফেসবুক থেকে নেয়া। আমি লিখলেও হয়তো তার মূলভাব এই লেখার মূলভাবের থেকে আলাদা কিছু হতো না। তবে এর থেকে ভালো আর সহজ করে বুঝানোটা কঠিন হতো, তাই কবীর সুমনের লেখাটাই তুলে দিলাম –

    শুনুন, আমি সোজা একটা কথা বলি – আজকে যদি আমি বা আপনি গাজা উপত্যকায় জন্মাতাম। আমরা যদি আমাদের বাল্যকাল এবং কৈশোর ঐরকম প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে কাটাতাম তাহলে আমি আপনাকে বলছি, আমি বসে বসে দুধ ভাত খেতাম না; আমি শান্তির বাণী বা ভালো ভালো কথা আওড়াতাম না।

    আমি আততায়ী যে আক্রমণকারী তাকে বধ করার কথা ভাবতাম। ধরুন আমার দেশে আমি যদি একটা লোককে আত্রুমণ করি বা কেউ যদি আমাকে আক্রমণ করে তাহলে আমরা আত্মরক্ষার জন্যে তো আমরা পরস্পর কে হত্যা করতে পারি। আর সেই হত্যার বিষয়টি ম্যানসস্লটার হবে তবে তার জন্যে শাস্তি হবে লঘু। বড় কোনো শাস্তি হবে না।

    কাজেই যারা গাজা স্ট্রিপের মানুষ, যে শিশুরা সেখানে জন্মনিয়েছে তাদের কে কিন্তু জিজ্ঞাসা করা হয়নি ওহে শিশু তোমরা গাজা উপত্যকায় জন্মাতে চাও নাকি তেলআবিবে জন্মাতে চাও? সেই সব শিশুতো গাজায় জন্মেছে তাদের বাল্যকাল কাটছে সেখানে। তারা দিনের পর দিন দেখেছে কি নিষ্ঠুর ভাবে তার চোখের সামনে মা, ভাই, বোন, বাবা বা আত্মীয় স্বজন বন্ধু বা প্রতিবেশীরা মারা যাচ্ছে।

    এবার সেই শিশুটি যখন যুবক হবে সে তখনকি করবে? সেই যুবকটি কি তখন গীত গাইবে! না, সে চুপকরে বসে থাকবে না বা গান গাইবে না; সে অস্ত্র হাতে তুলে নেবে। আর এই টুকু মানবতা এখনও আছে, আর মানবতা আছে বলেই গাজা উপত্যকার স্বজনহারা প্রতিটি মানুষ লড়াই করছে। মানবতা আছে বলেই ইসরাঈল ও মার্কিনীদের মোকাবেলায় গাজার স্থানীয় মানুষ লড়াই করছে বীরের মতো।

    আর আমার এই কথাগুলোকে কেউ যদি মনে করেন আবেগ তাড়িত, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। হ্যাঁ আমি আমার আবেগ ব্যক্ত করছি সত্যের পক্ষে। আমি একটা ষাট বছর বয়সী আধবুড়ো নই, আমি বৃদ্ধ; আমি দেখেশুনে ক্ষেপে গেছি আর তাই যা মুখে আসে তাইব লছি একথা সত্য নয়; যা ঐতিহাসিক সত্য আমি তাই স্বাধীনভাবে ব্যক্ত করছি।

    গাজার সাধারণ মানুষ ঘাসে মুখ দিয়ে চলেনা। আর সেটা ইসরাঈল খুব ভালো করে জানে। আর তাই তারা গাজায় আত্রুমণ করছে। তবে আমি প্রান্তিকে এসে স্পষ্ট করে বলবো, ইসরাঈল কোনোদিন পারবে না; পারবে না !

     
    • Md.Golam Kaw sar Mithu 6:39 pm on July 23, 2014 Permalink | Reply

      কোনদিন পারবে না।

  • ক্যাপাচিনো 10:53 pm on July 13, 2014 Permalink | Reply
    Tags: আর্জেন্টিনা, ফুটবল   

    মেসি মেসিই – মারাদোনা মারাদোনাই 

    messi

    খেলাটা দেখে মন খারাপ হয়েই গেল। সেই কবে থেকে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ হাতে দেখার ইচ্ছে।
    চব্বিশ বছর আগের খেলা দেখেছিলাম প্রায় বাবার কোলে বসে – সাদা কালো টিভিতে। আর আজকে দেখলাম মেয়েকে কোলে নিয়ে। আর্জেন্টিনার খেলার কোন ছন্দ খুঁজে পেলাম না। মেসির বাড়িয়ে দেওয়া কয়েকটা পাস দলের অন্য কেউ নিতেই পারল না? খেলাটা হঠাত করে ডিফেন্সিভ হয়ে গেল কি যুক্তিতে? আর যে ভুল গুলো হয়েছে, সেগুলো বিশ্বকাপ ফাইনালে কি মেনে নেওয়া যায়?

    জার্মানি প্রথম থেকে সমান গতিতে খেলে গেল। ইতালিতে যে বিশ্বকাপ জিতেছিল সেই দলটা বোধহয় ছিল পশ্চিম জার্মানি – সংযুক্ত জার্মানির বোধহয় এটাই প্রথম জয়। লাতিন আমেরিকান ফুটবলের প্রতি যে বিশ্বাস, যে শ্রদ্ধা ছিল – তা ভবিষ্যতে আর থাকবে কিনা জানি না। মেসি নামটা ফুটবল ইতিহাসে সোনার বলের সঙ্গে থাকবে, কিন্তু মারাদোনার সাথে এক সারিতে বোধহয় নয়।

     
    • ভাঁড়ের চা 12:51 pm on July 14, 2014 Permalink | Reply

      ঘুমে কাদা ছেলে কোলে বসিয়ে আমিও দেখেছিলা মারাদোনার সেই ফাইনাল! ভবিষ্যতে সে রকম খেলা দেখার কোন সম্ভাবনা দেখছি না। আজও ছিল না। সে কারনেই রাত জাগিনি। কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা দেখে একটু আশা জেগেছিল, তাই লিখেছিলাম আর্জেন্টিনার পক্ষে কফিহাউসের আড্ডায়।
      মারাদোনার খেলার কিছু কিছু ঝলক মাঝে মাঝে দেখিয়েছে এ ক’দিন। কি খেলা! এসবই দেখা, কিন্তু স্মৃতি সহায় ছিল না বলে সময়মত মনে পড়ছিল না। তাই আগে লিখি নি।
      গ্রুপ অফ ১৬-এ ব্রাজিলের খেলা দেখে ওদের ১৩/৭/১৪ রিওতে ঢোকার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলাম! জার্মানির কথা একবার মনে এলেও কাগজগুলির এত ‘মেসি মেসি’ শুনে ওদের কথা ভুলে গেছিলাম। এটাই হওয়ার ছিল, হয়েছে।

  • ভাঁড়ের চা 12:01 pm on July 8, 2014 Permalink | Reply  

    বাংলার রূপকার— 

    “শাঞ্জাবি” নামটা শোনা আছে ?
    শার্ট আর পাঞ্জাবি– পাঞ্চ করে কথাটার উৎপত্তি। আমাদের দ্বিতীয় মুখ্য মন্ত্রী, বাংলার রূপকার ডঃ বিধান চন্দ্র রায় পরতেন, মানে জামা আর কি! কিন্তু, পোষাকের এমত বিচিত্র নাম হওয়ার কারণ কি ?
    আমরা যে শার্ট পরতাম সেটা এখনকার মত বুককাটা হাওয়াই শার্টের মত হত না। প্রায় হাঁটু পর্যন্ত ঝুলের, বুক না কাটা জামা হত। তখন বলা হত ফুল শার্ট, এখন বলা হয় ‘লং শার্ট’ যা কেউ পড়ে না, কিন্তু নামটা জানে। প্রাক্তন মুখ্য মন্ত্রী ঐ রকম ঝুলের শার্ট আর ধুতি পরতেন, তবে জামার ঝুলের দু’প্রান্ত আমাদের জামার মত অর্ধগোলাকৃতি না হয়ে পাঞ্জাবির মত তেকোনা হত! মানে শার্ট আর পাঞ্জাবির মিশ্রণ! অর্থাৎ জামাটার ওপরের দিকটা দেখলে শার্ট মনে হবে আর নীচের দিকটা পাঞ্জাবি! প্রিয় মানুষের পরা উদ্ভট(?) পোষাককে আদুরে নাম দিয়ে ফেলেছিল মানুষ!
    এই শাঞ্জাবি পড়া মানুষটি আমার ভীষন প্রিয় ছিলেন, কাছাকাছি যাবার ইচ্ছে ছিল একদিন। কিন্তু সুযোগ হয়নি কখনও। এখনকার মত অত নিরাপত্তার বেড়াজাল না থাকলেও কি অজুহাতে যাব, আর বলবই বা কি ? তবে ৫০/৬০ মিটার দুর থেকে দেখেছি! (পাড়ার পুজো মন্ডপে বা অন্যত্রও দেখে থাকতে পারি, অত পুরোন কথা মনে নেই। যেটা মনে আছে সেটা বলি।)
    দেশের প্রথম বাঙ্গালী এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখার্জী জাপানে গিয়ে অপঘাতে ইহলোক ত্যাগ করলেন। তাঁর মরদেহ বিমানে দেশে পাঠানো হলে, কফিনবন্দী মরদেহ গ্রহন করতে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী ডঃ রায়ের। কলেজে একথা শুনে আমরা কয়েকজন সোজা দমদম বিমান বন্দরে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম। দীর্ঘদেহী, প্রায় ফুট ছয়েকের কাছাকাছি, সকলের মাথা ছাড়িয়ে দাঁড়ানো মানুষটাকে দেখে চমৎকৃত হয়েছিলাম! এটা ১৯৬০ এর নভেম্বরের কথা। বছর দেড়েক বাদে ১৯৬২-র ১ লা জুলাই তিনি পরলোকে প্রস্থান করেন (১ লা জুলাই তাঁর জন্মদিনও বটে!)।
    কাছাকাছি যাওয়ার উপায় ছিল না, ঐ ৫০/৬০ দুর থেকেই চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন!
    এরপর ১৯৬০এর গ্রীষ্মের ছুটির পর কলেজ খুলবার কথা ১লা তারিখ, প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম যাবার। কিন্তু বেতার কেন্দ্রের বিশেষ ঘোষনা শুনে, আর রাস্তাঘাটের তুমুল অবস্থা বিবেচনা করে আর বেরনোর সাহস হয় নি!
    * * *
    ফুটবলের তান্ডবে দিনটার কথা খেয়ালই হয় নি। কবে যে ১লা জুলাই হুস করে পেরিয়ে গেল !! খুব খারাপ লাগছে।

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 7:57 pm on July 9, 2014 Permalink | Reply

      সত্যিই এই মানুষটার কথা আমরা তো কেবল শুনেইছি। খুব ভালো লাগল ইতিহাসের এই অধ্যার।

    • ভাঁড়ের চা 12:20 pm on July 10, 2014 Permalink | Reply

      যে ক’জন মানুষকে শ্রদ্ধা করি তার মধ্যে ইনি প্রথম সারির একজন। ১লা জুলাই দিনটা মনে না থাকার যন্ত্রনা বড়ই দুঃখ দিচ্ছে !

  • ভাঁড়ের চা 1:25 pm on July 7, 2014 Permalink | Reply  

    বিশ্বকাপ! 

    মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনা এবার খোলস ছাড়ছে, অন্ততঃ কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা দেখে বলা যায় । “সর্বদাই মেসি-নির্ভর”– এই অপবাদটা এখন কিছুটা কাটাতে শুরু করেছে যেন! তবে না আঁচালে বিশ্বাস নেই!
    এটা না করলে, বিপদের দিনে দেখবে কে ? সে ক্ষেত্রে ত নিজেকে নিজেই দেখতে হয় কিনা! এসবের মধ্যে আবার একটা কিন্তু এসে গেছে ইতিমধ্যেই। দি মারিয়া নামক একমাত্র উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়টি জখম হয়েছেন, আর বোধ হয় খেলতে পারবেন না।
    অন্যদের কথা বলতে না পারলেও, যে খবরের কাগজ আমি পড়ি, তা পড়ে ভাল লাগছে না। ঠারে ঠোরে মারাদোনার সাথে তুলনা করে মেসিকে বড় দেখানোর চেষ্টা চলছে সেখানে। এমন তুলনা চলে নাকি ? আগে ছিল পেলে আর মারাদোনার মধ্যেকার তুলনা, এখন চলছে মেসি আর মারাদোনার মধ্যে! একটা উদাহরন দিয়ে দেখানো হচ্ছে যে মেসি এমন তুখোর খেলেছেন যে লাল-জার্সির ছ’জনকে আক্রমন সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয়েছে! কিন্তু মারাদোনার সময়েও যে একই দলের সাথে একই ঘটনা ঘটেছিল সেটা কেউ বলছেন না! এবারে গোল হয়নি, কিন্তু সেবারে মারাদোনা ঐ ছ’জনকে কাটিয়ে গোলও করেছিলেন! ভিডিওতে বেলজিয়ামের সাথে ১৯৮৬-র সেই খেলা দেখা যেতে পারে। সেদিন তিনি আরও একখানা গোল করেছিলেন, সেটাও দেখতে শুনতে খুব খারাপ ছিল না।
    আরও বলা হচ্ছে, মারাদোনার পাশে নাকি ভাল ভাল খেলোয়াড় ছিল, যা এখন নেই। বিশ্বকাপ খেলছেন, অথচ ভাল নন, ‘সোনার পাথরবাটি’ মার্কা হয়ে যাচ্ছে না!
    আর পেলে, মারাদোনা, মেসি বা নেইমার—প্রত্যেকে নিজেরা নিজেদের মতই ভাল খেলতেন বা ভাল খেলেন, কারও সাথে অন্য কারও তুলনা করা যায়না এভাবে!
    বেচারা নেইমারের কথা শুনে আর টিভিতে দেখে খুব খারাপ লাগছে। এমন চমৎকার খেলোয়াড়ের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া খুব একটা ভাল বিজ্ঞাপন নয় ফুটবলের পক্ষে!এ ত প্রকারান্তরে সবাই বলছে! এতদুর থেকে আর না দেখে কিছু বলা ঠিক নয়, তাহলেও ফাউলের ছবি দেখে ব্যাপারটা ‘ফিশি’ বলেই মনে হচ্ছে! ফিফা ত তদন্ত করবে বলেছে। দেখা যাক কি প্রকাশ পায়।

     
  • ভাঁড়ের চা 2:14 pm on July 4, 2014 Permalink | Reply  

    নাম করন ? 

    নত্নন নামকরন হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে। খবরের কাগজে বা ধারাভাষ্যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো হয়ে গেছেন ‘সি আর সেভেন’ (C R 7) মেসি হয়েছেন এল এন ১০ (L M 10) । কেন হয়েছেন বুঝলাম না। সহজে বা সংক্ষেপে লেখা বা বলার জন্য ? রোনাল্ডো’র ক্ষেত্রে সেটা চললেও মেসির ক্ষেত্রে একেবারেই অচল। ‘মেসি’ লেখা বা বলা সহজতম। তাছাড়া সাত নং রোনাল্ডো বাদে আরও ছ’জন। ১-৬ নং জার্সিধারী আরও অন্তত ৬ জন রোনাল্ডো আছেন ধরে নেওয়া যেতে পারে। তাঁরা কোথায় বা কোন দলে আছেন ? আছেন কি ? বা আরও ন’জন ( ১-৯ নং জার্সিধারী) মেসি ? নিজের দলে বা অন্য কোন দলে ? বোঝা দায় !
    কি বলা যায় একে ?

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 4:14 pm on July 6, 2014 Permalink | Reply

      বিশ্বকাপের ফ্যাশন। আচ্ছা, এই যে দশ নম্বর জার্সিতে এক কালে যেরকম প্রবাদ প্রতিম লোকজন খেলে গেছেন, আজকাল আর সেরকম দেখা যাচ্ছে কি?

    • ভাঁড়ের চা 1:01 pm on July 7, 2014 Permalink | Reply

      আমার নজরে ঠিক পড়ে নি ! পেলে মারাদোনার সমকক্ষ খেলোয়াড় কই ? যাঁদেরকে শিরোপা দেওয়া হচ্ছে তাঁরা তাঁদের মত ভাল কিন্তু প্রবাদ প্রতিম ১০ নং এর মত কিনা এটা আমারও জিজ্ঞাস্য।

  • ক্যাপাচিনো 8:12 am on July 3, 2014 Permalink | Reply
    Tags: তাপস পাল   

    এটা সোজা ফেসবুক থেকে কপি পেস্ট। না দিয়ে পারলাম না। “তাপস পাল কে নিয়ে বাঙালির নতুন কিছু গালাগালির নমুনা : ১। ছেলেটা হাতে কাঁচা টাকা পেয়ে পুরো তাপসপাল হয়ে গেল ! ২। মেয়েদের দিকে তাপসপালের মত তাকাতে লজ্জা করে না ! ৩। আপনি মানুষ না তাপসপাল ! ৪। স্যর বাইরে কিছু তাপসপাল এসেছে পার্টির চাঁদা চাইতে।”

    Citation
     
  • ক্যাপাচিনো 11:33 pm on July 1, 2014 Permalink | Reply
    Tags: খেলাধুলো, জার্মানি, ফিফা,   

    বিশ্বকাপে 

    ছোটবেলা থেকে মারাদোনার ফ্যান। আমার দেখা প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ ইতালি ১৯৯০ – জার্মানির কাছে সেই হারের দুঃখ বোধহয় কোনদিনও ভুলব না। আর তার পর থেকে প্রত্যেকবারই আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে বসলে কোন না কোন রকম ভাবে স্বপ্নভঙ্গ হবে – এবারেও মেসি বাদে কোম্পানির যা দৌড় দেখলাম, তাতে দলটাকে নিয়ে খুব একটা ভরসা করা যাচ্ছে কি?

    কি হবে এবারের বিশ্বকাপে? সব পছন্দের খেলা দেখে উঠতে পারছি টিভির অভাবে, তবে যেটুকু দেখেছি তাতে অনামী অনেক দেশের খেলাই দারুন লাগছে। যেদিন উরুগুয়ের সাথে কোস্টারিকার প্রথম ম্যাচটা দেখেছিলাম, সেদিনই মনে হচ্ছিল এই দলটা এগোবেই। তাদের কোয়ার্টারফাইনালে যেতে দেখে ভালো লাগছে। যে নেদারল্যান্ডস স্পেনকে ভরাডুবি করাল, মেক্সিকোর সামনে তো তাদের বেশ ফিকেই মনে হচ্ছিল। নেহাত কপালজোর না থাকলে ঐ ম্যাচ – ওভাবে? আর ব্রাজিল – যাই হোক।

    আলজিরিয়াকে জার্মানির কাছে হারতে দেখে কষ্টই হল – রবিবার খেলার কমেন্ট্রিতে শুনলাম ১৯৮২ সালে যখন আলজিরিয়া প্রথম খেলতে আসে বিশ্বকাপে, তখন তারা জার্মানিকে হারিয়ে দেয় প্রথম ম্যাচে। জার্মানি খেলার আগে প্রচন্ড আত্মতুষ্টিতে ভুগছিল। নাকি এমন কথাও বলেছিল যে হারলে পরে তাদের কোচ পরের দিন সকালের ট্রেনে ফিরে যাবে (বিশ্বকাপ সেবার বসে ছিল স্পেনে) – তা তিনি জাননি বটে, কিন্তু গ্রুপ লিগের শেষ খেলা জার্মানি গড়াপেটা ম্যাচ খেলে অস্ট্রিয়ার সাথে – যাতে তারা দুজনেই সেকেন্ড রাউন্ডে যায়, আর আলজিরিয়াকে ফিরতে হয়। বিশ্বকাপের একটা কালো অধ্যায় বললেও কম। এই ঘটনার পর থেকে প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচগুলি আরম্ভ হয় এক সময়ে। আপনারা কেউ চাইলে সেই ইতিহাস পড়ে দেখতে পারেন এখানে

    বত্রিশ বছর পর দুই দেশ খেলতে নামল। আর একটু হলে ইতিহাস বদলেই যাচ্ছিল। কিন্তু আমার কাছে এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকো, চিলি, আলজিরিয়া বা কোস্টারিকা – সবাই একটা আলাদা জায়গা করে নিল।

     
    • ভাঁড়ের চা 1:22 pm on July 2, 2014 Permalink | Reply

      আমি সব বিষয়ে একেবারে সহমত। শুধু একটা কথা বলব মারাদোনা সম্পর্কে। ১৯৯০ তে ফাইনাল দেখে আমারও খুব খারাপ লেগেছিল, ফাইনাল খেলার নিষ্পত্তি পেনাল্টিতে, এই ব্যাপারটা মানা যায় নি। ঐ বছর মারাদোনা তার আসল ফর্মে ছিলেন না। সেটা দেখতে হলে কয়েকটা ভিডিও, বিশেষ করে ইংল্যান্ড ম্যাচ আর ফাইনাল দেখতে হবে। এই দুটো দেখলে মারাদোনার ফর্ম কি ছিল সেটা বোঝা যাবে! ইংল্যান্ডের সাথে একটা গোল ছিল ‘হ্যান্ড অফ গড’ আর পরেরটা ছিল ‘গোল অফ দি সেঞ্চুরি’। এখনকার খেলোয়াড়েরা তেমন গোল ভাবতেই পারবেন না।
      ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬ তে যে উত্তেজক এবং স্কিলের খেলা হয়েছিল , মেসি-নেইমারদের কথা মনে রেখেও বলা যায় তেমনটি আর হয়ও নি আর হবে বলেও মনে হয় না! বড় এবং নামী খেলোয়াড়ের বদলে, দেশীয় অনামি এবং ফ্রেশ খেলোয়াড়েরা বোধ করি ভাল খেলবেন । ছোট দলের খেলায় সেটাই প্রমানিত হল এবার।
      নামী আর প্রিয় দলের খেলা এত খারাপ লেগেছিল গতকাল(১/৭/১৪) যে অতিরিক্ত সময়ের খেলা দেখার উৎসাহ হয় নি, ঘুমটা বরবাদ করতে চাই নি। রেজাল্ট সকালে টিভিতে জেনেছি।
      দুবছর আগে কনফেডারেশন কাপে স্পেন ব্রাজিলের কাছে যে ভাবে নাস্তানাবুদ হয়েছিল, তখনই কিন্তু এবারের ফলাফল সম্পর্কে আন্দাজ করা যাচ্ছিল। কোচ কেন বুঝলেন না বলতে পারব না!

      • ক্যাফে ক্যাপচিনো 8:18 am on July 3, 2014 Permalink | Reply

        এক্কেবারে ঠিক কথা – ৯০ তে মারাদোনা মোটেও সেরকম ফর্মে ছিলেন না। আর সেই চোখ জুড়নো ফুটবল বুঝি আর দেখতেও পাওয়া যাবে না। এবারের বিশ্বকাপে দু একটা শট, কিছু দারুন গোলকিপিং আর মেসির ঐ ফ্রিকিক ছাড়া সেরকম কিছু চোখে পড়ল না।

c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel