Updates from January, 2014 Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • ক্যাফে লাতে 1:38 pm on January 31, 2014 Permalink | Reply
    Tags: চাঁদের পাহাড়, দেব, বিভূতিভূষণ,   

    বিভূতিভূষণ মিট্‌স্‌ স্লো-মো ইন্ডিয়ানা জোন্‌স্‌ মিটস্‌ ন্যাটজিও বাংলা 

    Chander_Pahar_Official_Poster
    এই পোস্টের শিরোনাম দেখেই মোটামুটি বুঝে গেছ সবাই, কি নিয়ে লিখতে চলেছি। হ্যাঁ, চাঁদের পাহাড় ছবিটা দেখে এসেছি গত সপ্তাহে।দেখে এসে আমার ঐটাই মনে হয়েছে- এ হল বিভূতিভূষণের আদত গল্পের সাথে স্লো-মো ইণ্ডিয়ানা জোন্‌স্‌ এবং ন্যাটজিও /ডিসকভারি বাংলার এক মৃদুমন্দ ককটেল।
    যেহেতু মোটামুটি অনেক জায়গাতেই এতদিনে চাঁদের পাহাড়ের রিভিউ, সমালোচনা ইত্যাদি সবই বেরিয়ে গেছে,এবং তাদের অনেকের সাথেই আমি একমত,তাই নতুন করে আমার আবার লেখার প্রয়োজন পড়ে না। তাও লিখছি।

    আগে ভাল গুলো বলিঃ
    ১। আফ্রিকা দারুণ। বিশেষ করে শুরুর মিনিট কয়েক তো দেখতে দারুণ লাগে। ক্যামেরার কাজ বেশ ভাল।
    ২। সঙ্গীত ভাবনা বেশ ভাল।
    ৩। বুনিপ এর ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশন বেশ ভাল। অন্তত সত্যান্বেষীর চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার থেকে ভাল।
    ৪। মরুভূমির বুক চিরে আসা রেলগাড়ি, ব্ল্যাক মাম্বার সামনে শঙ্কর, তার দক্ষিণী বন্ধুর মাথার ওপরে সিংহের ওত পেতে থাকা – এইসব বেশ ভাল। শঙ্করের সিংহ শিকারের ভাবনাটা মন্দ ছিল না, কিন্তু সেটাকে সঠিকভাবে ক্যামেরাবন্দী করা উচিত ছিল।
    ৫। হলে ছবিতে সাবটাইটেল ছিল ইংরেজিতে, সেটা বেশ ভাল ব্যাপার। অবাঙালিরাও যদি দেখতে যেতে চান, বোঝার অসুবিধা নেই।
    ৬। এই বাজারে, পরিচালক এবং প্রযোজক যে লাস্যময়ী নায়িকা এবং বাংলা-ভাষার-পিন্ডি-চমকানো গান ছাড়া একটা ছবি বানানোর কথা ভেবেছেন, এবং বানিয়েছেন, এটাই যথেষ্ট ভাল ব্যাপার।
    এবার বাজে দিক গুলো বলিঃ
    ১। পরিচালক বড্ড বেশি মূল কাহিনীকে অটুট রাখতে চেয়েছেন। ঋতুপর্ণের মত গল্পের আমূল খোল নলচে বদলে না দিয়েও কিছু কাট-ছাঁট করা যেত। এই কারণে ছবিটি অত্যন্ত ধীর গতির হয়ে গেছে। এতই ধীর গতির যে মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছা করছিল। বিশেষ করে শেষের দিকে। চাঁদের পাহাড়ের চারিপাশের অঞ্চল ছেড়ে, কালাহারি পেরিয়ে শঙ্করের লোকালয়ে ফেরা- সেটা এক দীর্ঘ যাত্রা। কিন্তু যাত্রার দৈর্ঘ , ক্লান্তি এবং হতাশা বোঝানোর জন্য নানা ধরনের সিনেম্যাটিক কারিকুরি সম্ভব ছিল, যেগুলি আকছার অন্যান্য বাণিজ্যিক ছবিতে হয়ে থাকে। তাই, সেগুলি ব্যবহার না করে পরিচালক কেন নিজে এক ধীরগতির ব্যাকগ্রাউন্ড ন্যারেশন ব্যবহার করলেন, বুঝলাম না। (ওই জন্যেই বললাম স্লো-মো আর ন্যাট জিও বাংলা)।
    ২। শঙ্কর (তার অভিযানের পোষাক আসাক এক্কেরে ইন্ডিয়ানা জোন্‌স্‌-এর মত), এবং তার সঙ্গী দিয়েগো আল্ভারেজ চাঁদের পাহাড়ের সন্ধানে বেরোয়। তারা দুজনে যখনি ক্যাম্প করে, তখনি দেখা যায় শুধু তাঁবু নয়, তার সাথে রয়েছে ফোল্ডিং খাট, টেবিল, চেয়ার ইত্যাদি। দুইজন মানুষ মিলে অতকিছু বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা, সেটা আমার জানা নেই। স্বাভাবিক বুদ্ধি, এইধরণের অন্যান্য ছবি এবং নানা ধরনের অ্যাডভেঞ্চার গল্প পড়ে যা জানি, তাতে এইসব ধরনের জিনিষ খচ্চরের পিঠে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়, সাথে লোক থাকে সেইসবের নজরদারি করার জন্য। মূল গল্পে কি ছিল জানিনা, আবার পড়ে দেখতে হবে। মোট কথা , অবিশ্বাস্য।
    ৩। অভিযান শুরু হওয়ার অনেকদিন পর অবধি শঙ্কর এবং আল্ভারেজ এর জামাকাপড় বেশ পরিষ্কার থাকে। দাড়ি-গোঁফ ও কামানো থাকে। শেষেরটা না হয় সিনেমার খাতিরে থাকতে পারে ( সে তো রামায়ণে রামের ও ১৪ বছর বনবাস সত্বেও দাড়ি গোঁফ ছিল না) , কিন্তু পরিষ্কার জামা-জুতো বড্ড চোখে লাগে। একদম শেষের দিকে এসে শঙ্করের হঠাত করে দাড়ি গজায়, চুল বাড়ে ইত্যাদি।
    ৪। ছবিতে নানারকমের ভাষার ব্যবহার আছে। স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, সোয়াহিলি, জুলু, মাসাই, ইংরেজি, বাংলা ইত্যাদি। এবং অনেক সময়েই ডাবিং এর গন্ডগোল আছে। মাঝে মাঝে আবার সাবটাইটেল আছে, কিন্তু কোন কথা শোনা যাচ্ছে না। মাঝে এক আধ জায়গায় হটাৎ করে সম্পূর্ন অন্য ভাষায় কোন ডায়ালগ, সেটার একটা জোর করে চাপানো ডাবিং । কোথাও আবার শঙ্কর জুলু বা মাসাই বুঝতে পারছে…এইসব গন্ডগোল আর কি! এই ধরণের ছবি করলে এইরকম সমস্যা হবে, জানাই কথা। তাই এক্ষেত্রে পরিচালকের উচিত ছিল পুরোটাই পরিষ্কার বাংলায় ডাব করে করা। এক্ষেত্রে কিছুদিন আগে শ্রী শ্যাম বেনেগালের একটা অনেক পুরনো ছবি দেখছিলাম টিভিতে- ত্রিকাল, সেখানে পরিচালক খুব সুন্দর ভাবে ব্যাপারটা মিটিয়েছেন। উনি ছবি শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই, কথক চরিত্রের মাধ্যমে বলিয়ে দিলেন যে এই গল্পের যা পটভূমি, তাতে সমস্ত চরিত্রের পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলা উচিত, কিন্তু তাহলে দর্শকদের বুঝতে অসুবিধা হবে, তাই এই ছবিতে সবাই হিন্দিতেই কথা বলবে। কমলেশ্বরের উচিত ছিল এই ধরণের কিছু একটা করা। তাহলে ওই ডাবিং এর অপরিচ্ছন্নতাটা থাকত না।
    ৫। এটা আরো বেশি করে মনে হয়েছে ডিয়েগো আল্ভারেজ এর চরিত্রে জেরার্ড রুডল্‌ফ্‌ এর ডায়লগ নিক্ষেপণ দেখে। ভদ্রলোক ভাল অভিনেতা, বাংলাটাও মোটামুটি শিখে নিয়েছিলেন, কিন্তু আদতে কি বলছেন সেটা বুঝতে পারছিলেন না যেহেতু, ফলে বাক্যের কোথায় কতটুকু যতি বসা উচিত, সেই নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে ছিলেন বলে আমার মনে হয়েছে। ফলে অনেক সময়েই, যে বাক্যের নিক্ষেপণ যেরকম হওয়া উচিত সেরকম হয়নি, ধীরে টেনে কষ্ট করে বলতে হয়েছে ওনাকে। এর থেকে অনেক ভাল হল সঠিক বাংলা ডাবিং থাকলে।
    ৬। ছবির শেষ দিকে বুনিপকে হত্যার ছক, এবং তার পরিকল্পনা এবং কার্যোদ্ধার – একেবারেই নেওয়া যায় না। যে লোক প্রায় মরতে বসেছিল, সে হটাত চাগিয়ে উঠে (খাবার -জল কোথা থেকে জুটছে জানা নেই) শুধু একটা কুঠার দিয়ে ডাল কেটে কেটে একটা দৈত্যকে ধরার জন্য একটা দৈত্যাকার ফাঁদ বানাল, (এবং বুনিপ ততদিন দেখা দিল না, যতদিন না ফাঁদ বানানো শেষ হল), এবং তারপরে তাকে মারল- এটা একটু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে।

    এইবারে শেষ কথা। শঙ্করের চরিত্রে দেবকে কেমন মানিয়েছে? কেউ বলছে মানায়নি, কেউ বলছে মানিয়েছে। আমি বলছি, মানিয়েছে। একেবারে ঠিকঠাক মানিয়েছে। গল্পে শঙ্কর এফ-এ পাশ করা, কিন্তু আদতে খেলাধুলো ভালবাসা ছেলে- কুস্তি, সাঁতার, অ্যাডভেঞ্চারের শখ। গল্পে কোথাও লেখা নেই, সে বড় দিগগজ পন্ডিত। তাই দেবের মুখে যে নিজস্ব একটা না-আঁতেল ভাব আছে, সেটা ঠিকই আছে এখানে। তার ইংরেজি উচ্চারণ ও সাদামাটা, সেটাও মানিয়ে গেছে। অন্য এক দাড়িওয়ালা “জন্মজ্যাঠা” পরিচালক-অভিনেতাকে ওই চরিত্রে মোটেও মানাত না, সে তিনি যতই সেটা দাবি করুন না কেন। অভিনয়ের জায়গায়, দেবের থেকে খুব বেশি আশা হয়ত কারোরই ছিলনা, কিন্তু এই ছবিতে তো নয়টি রসের সবগুলি দেখানোর জায়গাও নেই। তাই কোথায় যেন পড়েছিলাম, সিংহ মারার সময়ে দেবের মুখভঙ্গী “চ্যালেঞ্জ নিবি না শালা” গোছের- সেটাই হওয়া উচিত ছিল নয় কি? যে ছেলে ভেবেছে সে সিংহের মুখোমুখি হবে, তাকে তো আর ভয় পেলে চলবে না, তাকি ওই চ্যালেঞ্জ নিবি না…গোছের হাবভাবই দেখাতে হবে। বাঙালি দর্শক যদি লালন ফকির হিসাবে পোসেনজিত কে হজম করতে পারে, তাহলে শঙ্কর হিসাবে দেবকে দশে অন্তত সাত দেওয়া উচিত। আমি দিলাম।

     
    • ক্যাপাচিনো 12:11 pm on February 4, 2014 Permalink | Reply

      আমার তো এখনও দেখা হয় নি তবে দেবকে কেন নেওয়া হয়েছে এইটে বুঝে ভারি মজা পেয়েছি। আসলে আজকের জনগন যে দেবের কল্যানে বিভূতিবাবুর নাম শুনল অনেকে – এ সত্যিটাও তো মেনে নিতে হবে।

  • ভাঁড়ের চা 1:19 pm on January 31, 2014 Permalink | Reply  

    —— লঘুক্রিয়া! 

    অবশেষে অশ্ব ডিম্ব প্রসব করল, নিউজিল্যান্ডের কাছে ধোনি’র দল হারল ৪-০ ম্যাচে!
    অনেকদিন ধরেই সবাই দেখছে এটা, ধোনি’র দাদাগিরি শুধু ঘরেই! বাইরে গেলেই বেলুন বেমালুম ফুস, সে পাঁচ দিনের বড় হোক, বা এক দিনের ছোট ম্যাচই হোক! এখন ত মনে হচ্ছে ভাগ্যিস দাদার টিমটা পেয়েছিল শুরুতে! নাহলে হয়ত প্রথম থেকে ঘরেই ফুসফাস দেখতে হত!
    নাঃ, দাদা ছাড়া আর কাউকে ফুলমার্কস দেওয়া যাচ্ছে না!

     
    • ক্যাফে লাতে 1:34 pm on January 31, 2014 Permalink | Reply

      হুমমমম…আপনি কি প্রাদেশিক? :angel

    • ভাঁড়ের চা 2:07 pm on January 31, 2014 Permalink | Reply

      যা সত্যি, তাই ত লিখলাম। দেশশুদ্ধ সবাই ত দেখছে! ভবিষ্যতে বলবে আরও অনেকে !

    • ভাঁড়ের চা 2:17 pm on January 31, 2014 Permalink | Reply

      প্রাদেশিকতার গন্ধ আছে নাকি এতে ? থাকলে আমি নাচার !

    • ক্যাপাচিনো 12:08 pm on February 4, 2014 Permalink | Reply

      একটা পুরনো জোকস মনে পড়ল – শ্রীসন্তের মা টুইট করছেন, “বেচারা ধোনি ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি করতে পারত, যদি ও আমার খোকাকে আর একটা ওভার বল করতে দিত।” :dp

  • ক্যাপাচিনো 1:59 am on January 30, 2014 Permalink | Reply
    Tags:   

    পিট সিগার চলে গেলেন 

    কিংবদন্তী আমেরিকান গায়ক পিট সিগার চলে গেলেন – ৯৪ বছর বয়সে, নিউইয়র্ক শহরে। ওনার সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ কিছু জানতাম না – কিছু গানে প্রতিবাদের ভাষাকে সেলাম না জানিয়ে পারিনি। সাধারনভাবে উই শ্যাল ওভারকামের জন্যই হয়তো আমরা চিনি পিট সিগারকে। তাই আজ জনপ্রিয় গানগুলির মধ্যে আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দের গানটি আজ শেয়ার করলাম।

     
  • ভাঁড়ের চা 1:12 pm on January 25, 2014 Permalink | Reply  

    কফি হাউসে ‘like-unlike’ 

    আজ দেখছি ৩৮১ টা লাইক পড়েছে!! মানে জনপ্রিয় হচ্ছে ক্রমশঃ, তাই ত ? এই লাইক ব্যাপারটা কি পড়ে দেখার পর দিচ্ছেন সকলে, নাকি উপরোধে ঢেঁকি গিলছেন ? এটা স্বতঃস্ফুর্ত হলে অবশ্য আনন্দের সীমা নেই। আর তাই বুক ঠুকে বলার মতই।

     
    • ক্যাফে লাতে 3:38 am on January 27, 2014 Permalink | Reply

      একদম ঠিক !! :ultah

    • ক্যাপাচিনো 12:30 pm on January 27, 2014 Permalink | Reply

      হ্যাঁ, এক্কেবারে খাঁটি কথা। :2thumbup আমার তো মনে হয় সকলেরই ভালো লাগছে।

  • ক্যাফে লাতে 6:57 pm on January 23, 2014 Permalink | Reply
    Tags: ,   

    সত্যান্বেষী- বিলেটেড রিভিউ 

    কিছুদিন আগে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করেছিল এই ছবিটা নিয়ে রিভিউ বেরিয়েছে কিনা। আমাদের কফিহাউজে বোধ হয় ছোট করে একটা লেখা বেরিয়েছিল, তা ভাবলাম আরেকটি বিশদে লিখি। খুব শিগগির টিভিতে আবার দেখাবে কোন একটা চ্যানেলে, তারপরে এদিকে আবার আমাদের চা-পাতা বলছে ফ্লিপকার্টে গিয়ে কিনবে – খবর্দার কিনিস না মা! কেন, সেটা ওই যেদিন টিভিতে দেবে, দেখেই বুঝবি!!

    যাকগে, কাজের কথায় আসি। প্রথমেই বলি, ঋতুপর্ণ ঘোষ বড়ই অকালে প্রয়াত হওয়াতে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। নানা কারণে ওনার গত কয়েক বছরে তৈরি বেশিরভাগ ছবিই আমার দেখা হয়নি। সত্যান্বেষীও টিভিতেই দেখেছি। কিন্তু আমি ওনার লেখার খুব ভক্ত। ঋতুপর্ণের বাংলা লেখা এতই সুন্দর, পড়লেও মন ভাল হয়ে যেত। ওনার ভাবনা চিন্তার প্রসার আমাকে বারে বারে মুগ্ধ করেছে। ওনার প্রথম দিকের বেশ কয়েকটি ছবি আমাকে অন্য রকম ভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। আর সেই সব কারণেই আমি এই ছবিটি দেখে হতাশ।

    ছবির শুরুতে দেখা যায় এক বয়স্ক পুরুষের সাথে দুটি যুবতী , নানা জিনিষ নিয়ে, সম্ভবত নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে চলেছে। তারা একটু বিশ্রাম নিতে থামে, ছোট মেয়েটি প্রাকৃতিক কাজের উদ্দেশ্যে একটু আড়ালে যায়, তার পরে কি যেন একটা ঘটে- তার শুধু আর্ত চিৎকার শোনা যায়।যেদিন ছবিটি দেখেছিলাম, সেদিন সেই বিপদের উৎস সম্পর্কে সমপূর্ণ অন্য ধারণা জন্মেছিল, আজকে আবার লেখার কথা ভাবতে ভাবে অন্য ধারনা জন্মাল।

    যাইহোক, তারপরেই বোধ হয় ফ্ল্যাশ ফরওয়ার্ড করে ব্যোমকেশ এবং অজিতের রাজবাড়ি, নাকি জমিদারবাড়িতে আবির্ভাব। এইখানে একটা কথা বলে রাখি, রজিত কাপুর আর কে কে রায়নার পরে, আমার আর কোন ব্যোমকেশ বা কোন অজিতকেই পোষায়নি। এরপরে পুরোটাই গোলমাল। এক অকারণ নারী চরিত্র, যাকে বিনাকারণে প্রচুর স্ক্রিন স্পেস দেওয়া হয়েছে। বরং অন্য নারী চরিত্র, যেটি আদতে গুরুত্বপূর্ণ, তাকে প্রায় দেখাই যায়না। প্রথম চরিত্রাভিনেত্রী হলে অর্পিতা চ্যাটার্জি। এই অবধি লিখেই মনে সন্দ জাগছে- উনিও কি নিজের কত্তার মত পরিচালকের সাথে জোর জবরদস্তি করে এই চরিত্র তৈরি করিয়েছিলেন? সারা ফিল্ম জুড়ে এঁর কাজ কি? – একটা সদ্য রিলিজ হওয়া হিন্দি ছবির গান গুনগুন করা, এক লাইব্রেরিয়ান এর সামনে মুগ্ধ হয়ে দামি শাড়ি গয়না পড়ে বসে কালিদাসের মেঘদূত শোনা, আর শেষ অবধি জানতে পারা যায় তিনি নাকি বিছানায় শীতল , তাই বরের সাথে মনোমালিন্য !! বোঝ কান্ড। ও, আরো একটা কাজ করেন- মাঝে মাঝে অজিতের সাথে বসে গল্প করেন, তাই নিয়ে আবার ব্যোমকেশ টিপ্পনী দেন। সেই জমিদারির নাম “বলবন্তপুর”- কেন, তাই নিয়ে ব্যোমকেশ আর অজিত গভীর আলোচনা করেন। শেষের দিকে বোঝা যায়, সেই যে বৃদ্ধের কথা প্রথমে বলা হয়েছিল, তার মেয়ে যে কিনা সেক্সুয়ালি ফ্রিজিড জমিদার গিন্নীর ঝি, সে জমিদারের সন্তানকে গর্ভে ধারণ করছে, তাই তার বাবা তার প্রেমিককে , যে কিনা সেই মেঘদূত পাঠ করা লাইব্রেরিয়ান, তাকে,বাঘের ডাক ডেকে চোরাবালিতে ডুবিয়ে মারলেন। বেশ , তা ভাল! কিন্তু তার জন্য সেই বাবার সিন্দুকে বিরাট বড় বাঘের পায়ের মাপের কাঠের থাবা, আর বাঘের মুখোশ থাকার কি দরকার তা বুঝলাম না। থাবাটা তাও বুঝলাম, মুখোশের প্রয়োজনীয়তা একেবারেই বুঝলাম না। সেই বিধবা মেয়ে আবার বনের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া প্রেমিককে ময়ূরের পালক দিয়ে আদর করে। সেটা সে হঠাত কোথায় পেল, সে নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন আছে। ছবির শেষে সেই ময়ূরের পালক বালির চরে পড়ে থাকে। পরিচালক তাঁর শেষের দিকের অভিনীত এবং নির্দেশিত কিছু ছবির মত, এখানেও রাধা-কৃষ্ণ-প্রণয়লীলা-দেহতত্ব-ইত্যাদি-প্রভৃতি-আরো গভীর অনেক কিছু বোঝাতে চেয়েছিলেন কিনা , বা আনার ইচ্ছা ছিল কিনা আমার জানা নাই। উৎসাহী কমেন্টদাতা কেউ আলোকপাত করলে খুশি হব।
    আরেকটা কথা- চোরাবালিতে মানুষ ডুবে যাচ্ছে, এই দেখাতে যে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে, তা একেবারেই যা তা।
    মোদ্দা কথা, পুরো ছবিটা জুড়ে অযত্নের ছাপ। হয়ত পরিচালক সেই সময়ে সত্যিই অসুস্থ ছিলেন। ঠিক ঠাক মন দিতে পারেন নি। কারণ আরো অনেক ছোট খাট বিষয়ে প্রশ্ন জেগেছিল দেখার সময়ে, সেগুলির সব কথা আলাদা করে আর বললাম না। সুজয় ঘোষ চেহারায় হয়ত তাও মানিয়ে গেছেন, কিন্তু গলার আওয়াজটা মোটেও যুতের নয়। অনিন্দ্যকে যে লুক দেওয়া হয়েছিল, তাতে তিনি অজিত কম, বরং রবিঠাকুরের গল্পের ব্রাক্ষ যুবক রূপে বেশি মানাবেন। যেটা সবথেকে চোখে লাগে, সেটা হচ্ছে ২২-২৩ এর তরুনীর ভূমিকায় অর্পিতাকে দেখে! ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি বলেই তখন মনে হয়েছিল, উনি কোন বেয়াক্কেলে আবদারে সাড়া দিতে বাধ্য হয়েছিলেন কি? যেমন হয়েছিলেন ‘নৌকাডুবি’ বানানোর সময়ে ?
    ছবিটা দেখার পরে মূল গল্পটা নতুন করে আবার পড়েছিলাম। সেখানে অবশ্যই নারী চরিত্র দুটি, এবং নাম-কে-ওয়াস্তে। তা তাতে ক্ষতি কি ছিল? ওই গল্পটা নিয়ে কাজ করলেই হত। আধুনিক ভাল গল্প বা ভাল ছবি মানেই কি তাতে চাট্টি শারিরীক চাহিদা এবং তার থেকে উঠে আসা জটিলতা বা হতাশা দেখাতে হবে? শরদিন্দু তো সেই কোন যুগেই সেইসব ছাড়াই প্রচুর ভাল গল্প লিখে গেছেন- শুধু ব্যোমকেশ নয়, আরো অনেক গল্প, এমন কি সিনেমার চিত্রনাট্যও। এখনো এদিক-সেদিক খুঁজলে সেই ধাঁচের অনেক ভাল ছবি দেখা যাবে। কিন্তু সে কথা থাক, সে আরেকদিন আলোচনা হবে।

     
    • রূপসা মন্ডল দাসগুপ্ত 9:22 pm on January 23, 2014 Permalink | Reply

      মুল গল্পটা অনেকদিন আগে পড়েছি, খুঁটিনাটি মনে নেই, প্রথম দৃশ্য নিয়ে একটা জব্বর খটকা আছে, ভিলেন তো বলবন্তপুর ঢোকার সময় জানতেন না যে তাঁকে পরে ভিলেনগিরি করতে হবে, তাহলে দুটি কন্যার মধ্যে একটিকে সকালে অমনভাবে হারিয়ে সেকথা বেমালুম চেপে গেলেন সকলের কাছে, আশ্রয় চাওয়ার সময় তিনি বা অন্য কন্যাটি একটু প্রকাশ করলে না অতবড় শোকটা, শরদিন্দু বাবু কী বলেছিলেন এ বিষয়ে?

      • ক্যাফে লাতে 10:24 am on January 24, 2014 Permalink | Reply

        আরে না না, মূল গল্পে ভিলেনের কোন মেয়ে-টেয়ে নেই, তিনি একেবারে একলা। একটি গর্ভবতী বিধবা মেয়েকে নিয়ে একটা ছোট সাবপ্লট আছে শুধু, যার সাথে মূল রহস্য বা ভিলেনের কোন সম্পর্ক নেই।

    • ভাঁড়ের চা 1:15 pm on January 24, 2014 Permalink | Reply

      গল্পটা আমি ঠিক ধরতে পারছিনা। এটা কি “চোরা বালি” ? সেটা হলে, তাতে এসব কান্ড ছিল ? কিছুতেই মনে পড়ছে না! হাতের কাছে বইটাও নেই ! প্রথমবার দেখে আমারও নানা প্রশ্ন জেগেছিল। সিনেমা নিয়ে সমালোচনা করার আমার কোন যোগ্যতাই নেই। তাই সেটা করছি না। তবে সাধারন দর্শক হিসেবে একেবারেই নিরাশ হয়েছি।

      • ক্যাফে লাতে 5:38 am on January 28, 2014 Permalink | Reply

        এটা হল, ওই যেমন নৌকাডুবি দেখে লিখেছিলাম, -এটা রবি ঠাকুরের নয়, ঋতুপর্ণ ঘোষের নৌকাডুবি, ওইরকমই আর কি- এটা শরদিন্দুর চোরাবালি নয়, ঋতুপর্ণের সত্যান্বেষী

    • ক্যাপাচিনো 1:24 pm on January 24, 2014 Permalink | Reply

      হ্যাঁ এটাই সেই গল্প – তবে সিনেমা দেখে সত্যিই বোঝা ভার আদতে সেই গল্প কি না।

  • ক্যাপাচিনো 12:34 am on January 23, 2014 Permalink | Reply
    Tags: ,   

    বিলেতের গপ্প – ১ 

    কদিন প্রচন্ড ঠান্ডার প্রকোপ কাটিয়ে এই সবে একটু চাঙ্গা হয়েছি। মনে হচ্ছে এবার আস্তে আস্তে আড্ডায় ফেরা যাবে।

    আজকে একটা মজার ঘটনা বলি। কদিন আগে একটু গাজরের হালুয়া করে অফিসে নিয়ে গেছে আমার এক জুনিয়ার। তা আমি একটু চেখে বললুম, নেহাত মন্দ হয় নি – যা সায়েব’দেরও এক চামচ করে খাইয়ে আয়। প্রথমে সন্দেহের চোখে দেখলেও এক চামচ খাওয়ার পরে সব্বাই দেখি ঠোঁট চাটছে। তা কি আর করা যাবে, স্টক ততক্ষনে শেষ।

    এরপর একজন আমাকে এসে বলেই বসলে – ব্যাপারটা কি বাড়িতে ম্যানেজ করা যায়? মানে রান্না করে? আমি অবাক হয়ে বললাম কেন করা যাবে না – কিন্তু তোমার কি সেই ধৈর্য আছে? তাতে সে খুব আগ্রহ নিয়ে আমার কাছে গাজরের হালুয়া রান্না করা শিখলে। গত শনি-রবি তার রান্না করার কথা।

    এই অবধি সব ঠিক ছিল, কিন্তু অবাক হলাম এই সপ্তাহে একদিনও তাকে অফিসে না দেখে। কেউ জিজ্ঞেস করলেই বলে, বাড়ি থেকে কাজ করছি – এই কালকেই আসব। আমি আর ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করতে পারছি না – ঠিক কি রেঁধেছিলে আর কি খেয়েছিলে।

     
  • ভাঁড়ের চা 1:06 pm on January 20, 2014 Permalink | Reply  

    শ্রীমতী সেনের প্রস্থান 

    সুচিত্রা সেন চলে গেলেন। সবাই শোকস্তব্ধ। শোক পাবারই কথা। গোটা বাঙ্গালী জাতটা টিভি চ্যানেলে চ্যানেলে সমস্ত দিন হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
    সন্ধ্যার দিকে কাজ থাকায় আমি টিভির সামনে বসতে পারিনি। কিন্তু কিছুই দেখব না বা জানব না তা হতে পারে না। তাই পৌনে নটা নাগাদ গিয়ে বসলাম বোকা বাক্সের সামনে। প্রবীন অভিনেতা- অভিনেত্রীরা শ্রীমতি সেন প্রসঙ্গে তাঁদের বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু সে সব শুনব কি, তাঁদের ছবির পাশ দিয়ে অনবরত একই ভিডিওর আনাগোনা চলছে। চমকে উঠে দেখি এক বয়স্কা মহিলা, গায়ে হলুদ (বা গেরুয়া) চাদর, দিব্যি নড়াচড়া করছেন। মুখের গড়নটা দেখে আঁতকে উঠতেই হল! সুচিত্রা সেন নন ত ?
    কিছুক্ষন দেখা এবং ভাবনা চিন্তার পর এটাই মনে হল যে হতেও পারে, কেননা কথা হচ্ছে শ্রীমতী সেনকে নিয়ে আর ছবি দেখানো হচ্ছে হরিদাস পালের আত্মীয়ার– এটাই বা কি করে হয়।
    হতে পারে ছবিটা বেশ কিছু দিন আগের তোলা, কিন্তু বেশ বেশী বয়সের(এবং খুব বেশী দিন আগেকারও নয়) মনে হয়। কারও ছবি ছাপাতে আইনত কোন বাধা নেই হয়ত, তাহলেও কেউ আপত্তি করলে (মৌখিক আপত্তি করেন নি বলেই জানি, কিন্তু এড়িয়ে চলেছেন গত পঁয়ত্রিশ বছর) না ছাপানই উচিৎ বলে আমার মনে হয়, যদিও কেউ কখনও বলেন নি যে কবে থেকে বা কবেকার ছবি প্রকাশ করা যাবে না,তাহলেও! অন্যথায় শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করা হল বলে ধরে নেওয়াটা কোন অন্যায় নয়।
    ভদ্র মহিলা স্বেচ্ছায় নির্বাসন নিয়ে আছেন ৩৫ বছর, তাঁর ইচ্ছেকে সম্মান দিয়ে তাঁর পরিবারও সেটা মেনে চলছেন, সুযোগ থাকা সত্বেও তাঁর ইচ্ছেকে সম্মান দিয়ে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সুচিত্রা দেবীর সাথে দেখা না করে ফিরে এলেন, আশপাশের সমস্ত মানুষও একই ভাবে চললেন কোন বেচাল না করেই, মৃতদেহ যাতে কেউ দেখতে না পায় তার জন্য কফিন বন্দী করে কালো কাচের গাড়িতে করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হল– এত কিছুর পরও কি করে একটা চ্যানেল বৃদ্ধা অভিনেত্রীর চলমান ছবি দেখাতে পারেন সেটা আমার মাথায় এল না এই ক’দিন ধরে ভেবেও।
    বাহাদুরি দেখাবার স্থান-কাল-পাত্র নির্বাচন করার যোগ্যতা থাকা উচিৎ!

     
    • ক্যাপাচিনো 7:11 pm on January 20, 2014 Permalink | Reply

      দেশের বাইরে বসে ঠিক সেই উত্তেজনার আঁচ পেলাম না। তবে এরকম গ্ল্যামার নিয়ে কেন যে আর একজন কাউকেও পাওয়া গেল না সেটাই ভাবি। আজকাল তো আরশোলাও পাখি, পাওলি দামও নায়িকা।

      • ক্যাফে লাতে 5:10 am on January 21, 2014 Permalink | Reply

        এটা বড় অন্যায় ক্যাপাচিনো। কথা হচ্ছে সুচিত্রা সেন কে নিয়ে, তুমি এর মধ্যে পাওলি দামকে টেনে আনছ কেন?…নাহয় বেচারি মাঝে মাঝে চেষ্টা করেই থাকে নিজেকে সুচিত্রা সেন লুক-এলাইক প্রমাণ করার

        • ক্যাপাচিনো 3:11 pm on January 21, 2014 Permalink | Reply

          আ হা হা – পাওলির কথা হচ্ছিল কোথায়?

          কথা হচ্ছিল আরশোলার – আর অমনি পাওলির কথা মনে পড়ে গেল।

  • ক্যাফে লাতে 10:18 am on January 20, 2014 Permalink | Reply
    Tags: ,   

    আর পারি না…! 

    hbd-coffeehouse

    ভাবা যাচ্ছে না, যে দেখতে দেখতে আমাদের এই ছোট্ট ফাজিল আড্ডাব্লগ এক বছর শেষ করার পথে। তার ওপরে আবার ফেসবুক দেখাচ্ছে ৩৭১টা লাইক। আর সেগুলি বেশিরভাগই এমন বন্ধুদের কাছ থেকে, যাঁদের সাথে আবার সরলরেখায় অথবা বক্ররেখায়- কোনভাবেই আলাপ বা যোগাযোগ নেই। এর থেকে একটা কথা পরিষ্কার – নির্ভেজাল কন্টেন্ট থাকলে পাঠক থাকবেই।
    যাইহোক, এই নতুন মডেলের সাইটে প্রথম পোস্ট পড়েছিল গত বছরের ৩০শে জানুয়ারি। এবছর এখনো ৩০ তারিখ আসতে দশ দিন বাকি, কিন্তু কফিমেকার মনে হচ্ছে হেব্বি উত্তেজিত, তাই এখন থেকেই জন্মদিনের গান গাইছেন! তাই আমি ভাবলাম, আমি-ই বা বাদ যাই কেন, আমিও নাহয় এখন থেকেই সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই-টানাই।
    এবছরে আরো ভাল করে, আরো সিরিয়াসলি (?) আড্ডা মারার ইচ্ছা রইল আপনাদের সাথে, এইটুকু বলতে পারে। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে, কফিমেকার কিরকম চা আর কফি সাপ্লাই দেন তার ওপরে…ঃ)

     
    • ক্যাপাচিনো 7:17 pm on January 20, 2014 Permalink | Reply

      আপনার দেখি অনেক পোস্ট – তিরানব্বুইটে। তা আরো কয়েকটা করে সেঞ্ছুরি করুন না?

      :2thumbup

  • কফি মেকার 11:29 pm on January 19, 2014 Permalink | Reply
    Tags: ,   

    কফিহাউজের জন্মদিন 

    কফিহাউজের আড্ডার এই নতুন সাইট শুরু হয়ে প্রায় এক বছর হয়ে গেল। বাংলায় এক রকম মাইক্রোব্লগ, অহেতুক কবিতা, পরনিন্দা পরচর্চা, রাজনীতি বাদ দিয়ে স্বচ্ছ নির্ভেজাল আড্ডা এরকম আরও আছে কি না জানি না, তবে খুব বেশি বোধহয় নেই। আমাদের ছিমছাম আয়োজনের মধ্যে গর্বের জায়গা বলতে এইটুকুই।

    প্রথম পোস্ট পড়েছিল ৩০শে জানুয়ারি, ২০১৩। দেখতে দেখতে প্রায় এক বছর পার। ফেসবুক বলছে প্রায় চারশ লাইক পড়েছে। পোস্ট দেখেছেন আরও অনেক পাঠক। অনুমান করতে পারছি কিছুটা হলেও জনপ্রিয়তা পেয়েছি আমরা।

    আপাততঃ এই পোস্টটিকে দু-সপ্তাহের জন্য স্টিকি পোস্ট করা হল। কফিহাউজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনাদের কিছু বলার থাকলে বা পাঠকরাও কেউ অভিনন্দন জানাতে চাইলে এই পোস্টের মন্তব্য হিসেবে আপনাদের মতামত রাখতে পারেন।

    সবাইকে অনেক শুভেচ্ছা রইল। নতুন বছরে মনের আনন্দে ব্লগিং করুন।

     

     

     
    • ক্যাফে লাতে 7:12 pm on January 23, 2014 Permalink | Reply

      আর হ্যাঁ, এখানে কোন অতি উৎসুক টিভি চ্যানেলের কথা বলা হচ্ছে সেটা আন্দাজ করতে পারছি। ওদের , এবং ওদের মত বেশিরভাগ চ্যানেলেরই ধারণা, ওরা যেকোন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন , পছন্দ -অপছন্দ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারে, শুধুমাত্র কিছু টি-আর-পি নামক ঘোড়ার ডিমের সংখ্যাতালিকার মুখ চেয়ে। সুচিত্রা সেনের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের দিন দেখলাম, পাশের বিল্ডিং এর ছাদ থেকে ক্যামেরা বাগিয়ে দেখানো হচ্ছে- মুনমুন সেন শ্রাদ্ধ করছেন। দেখে কার কার বাপের কোন শ্রাদ্ধে পিন্ডি পড়ল, সেটা অবশ্য সেই টিভি চ্যানেলের লোকেরাই জানেন !!! দাহ করার দিন মনে হচ্ছিল, সুচিত্রা সেনের বলিরেখাপূর্ণ জরাজীর্ন মুখ একবার টিভিতে দেখাতে পারলে সবাই লটারি জিতবে। বিশ্বাস করুন, নিউজ চ্যানেল- আমার জঘন্য লাগে। নিউজ চ্যানেল দেখা আমার কাছে বেশিরভাগ সময় মানসিক অত্যাচারের মত। তবে শেষ কথা হল- সুচিত্রা সেনই জিতে গেলেন। তাঁর কোন এক ছদ্মবেশি বন্ধু লুকিয়ে mms তুলে সেটা নিউজ চ্যানেলকে দেখিয়ে গর্ব করতেই পারে, কিন্তু ঐটুকুকে কেউ পাত্তাও দিচ্ছে না। পরের দিন এবং তার ও পরের কয়েকদিনের কাগজে ছবি দেখুন- কোথাও কোন পক্ক্বকেশ বৃদ্ধার ছবি দেখেছেন কি ? সব পাতা আলো করে ছিলেন সেই ব্ল্যাক- অ্যাণ্ড-হোয়াইট গ্ল্যামার কুইন।

      • ভাঁড়ের চা 1:25 pm on January 24, 2014 Permalink | Reply

        সুচিত্রা সেনের পারলৌকিক কাজকর্মের ছবি দেখানো হয়েছে নাকি ? আমি অবশ্য তা’ দেখিনি। ফেসবুকে কেউ পোষ্ট করেছেন বৃদ্ধা এবং নায়িকা শ্রীমতী সেন-এর ছবি, পাশাপাশি! কার তাতে কি লাভ হয়েছে কে জানে!

  • ক্যাপাচিনো 10:12 pm on January 19, 2014 Permalink | Reply
    Tags: ,   

    মিশর রহস্য রিভিউ 

    কাকাবাবু দেখলাম। দেখে একটা কথাই বার বার মনে হচ্ছে – সৃজিত, আপনি ধন্য। কাকাবাবুর গল্পগুলো বোধহয় কোনদিনই ঠিক করে পড়েন নি। সিনেমার খাতিরে গল্প এদিক ওদিক করলেন, সে কথা আলাদা। কিন্তু তাই বলে লোকটাকে আমূল বদলে দিলেন? চুলে হেয়ার ডাই, হাতে আইফোন, টুইট করা অবধি তাও ঠিক ছিল। কিন্তু পা খোঁড়া বলে আক্ষেপ? যতদুর জানি – সেটা কোনদিনই কাকাবাবুর ছিল না। আর সেই নিয়ে লোককে খোঁচা দিয়েও তিনি কোনদিন বলেন নি। মেক-আপ নেওয়া মানুষটাকে যতটা প্রসেনজিত মনে হয়, কাকাবাবু একেবারেও মনে হয় না – আর এটা প্রথম আবির্ভাবে কাকাবাবুকে দিয়ে বাসের সিট ছেড়ে দেওয়া অল্পবয়সী যুবক কে প্রতিবন্ধী বলান’র পরেই কেমন যেন হারিয়ে যায়। গোটা সিনেমা দেখতে দেখতেও সেই আক্ষেপ যায় না।

    কাকাবাবু কৈশোরের একটা বড় জায়গা জুড়ে ছিলেন। সৃজিত আরেকটা বাজে সিনেমা বানান তাতে কিছু যায় আসে না – কিন্তু ঐ জায়গাটায় যেন হাত পড়ল। কাকাবাবু একদিনের জন্যেও অহঙ্কারী ছিলেন না। সবাইকে স্নেহ করতেন। কোনদিন ঠিক করে অপরাধীদের শাস্তিও দিলেন না ঐ মমতার কারনেই। সেটা যদি পরিচালক না বুঝে থাকেন – তাহলে কিছু করার নেই।

    সিনেমার সবটুকু ঝকঝকে। সন্তু ফটফটে স্মার্ট – সে বাইক চালায়, এক ডাকসাইটে সুন্দরীর সাথে প্রেম করে। ব্লুটুথে তাকে কথা বলতে দেখা যায়। সার্কোফেগাস কথাটা নাকি হিস্ট্রি চ্যানেল না দেখলে শেখা যায় না। বাংলা সিনেমা মিশরে দৌড়য় -উটের পিঠে চড়ে। কিন্তু এত করেও শেষরক্ষা হল না কেন? সিনেমাটা দেখার পরেও একটা বড় শূন্যতা থেকে যায়। তবে সিনেমা হিট – তাই বেশি ইট – পাটকেল খাওয়ার ভয়ে আর লিখলাম না। সোনার কেল্লা চলতে থাকলে এখনও যেন টিভি ছেড়ে ওঠা যায় না। তবে কিনা যুগোপযোগী হয়ে হাততালি দেওয়াই ভালো।

     
    • স্মৃতিলেখা চক্রবর্ত্তী 2:14 am on January 20, 2014 Permalink | Reply

      ধ্যুশ! ওটা কোন সিনেমা হয়েছে? ১টা সিন থেকে আরেকটা সিনে যেন যেতে হয় বলেই যাচ্ছে। গল্পে কোন গতি নেই, অত্যাবশ্যকীয় নাটকীয়তা নেই; টানটান উত্তেজনা তো নেইই, এটা কোন থ্রিলার হয়েছে?
      আর বাংলা? কেউ বাংলা বলছে, কেউ ইংরেজি, কেউ হিন্দি! কেন? ভয়েস ওভার দিয়ে গোটা-টা বাংলায় করলে কি খুব ক্ষতি হত! সুনীল গাঙ্গুলি-কে তো গল্পটা লেখার সময়ে ৩টে ভাষাকে টেনে আনতে হয়নি! তাহলে ওগুলো কি “আমি জানি”, এটা বোঝাতে?
      আর মিশর? ওটা তো পুরো ভিখিরিপনা! পয়সা খচ্চা করে মিশর গ্যাছে মানে টেনেটুনে সব দ্যাখাতে হবে? বালির ঝড়, উটের দৌড়, পিরামিড, আদিবাসী নাচ! পরিচালক-দের কি বাদ দেওয়া উচিত; সেইটা এই সিনেমা দেখে ভালই শেখা যায়।

    • ক্যাফে লাতে 4:39 pm on January 20, 2014 Permalink | Reply

      ভাগ্যিস পয়সা খচ্চা করে হলে দেখতে যাইনি।
      আমার এক ভাই পুজোর সময়ে দেখতে গেছল। এসে নানা রিভিউ দিল। সেগুলির মধ্যে সবথেকে হাস্যকর(এবং বিরক্তিকর) ছিল, কাকাবাবু নাকি সন্তুকে নির্দেশ দিয়ে কোন একটা চিরকুট পাঠিয়েছেন। তার শেষে পুনশচ দিয়ে লেখা – বৌমা কেম আছে? বা ওই গোছের কিছু…কথাটা কি ঠিক? যদি ঠিক হয়, তাহলে কি সাঙ্ঘাতিক !!

      • ক্যাপাচিনো 7:02 pm on January 20, 2014 Permalink | Reply

        আরে ঠিক মানে এক্কেবারে ঠিক। তাও আবার কিডন্যাপড হওয়ার পর। মানে ব্যাপারটা যাস্ট নেওয়া যাচ্ছিল না আর কি – এদিকে তার একটু আগেই কন্যে ছিলেন কলকাতায় (সন্তু তার জন্য সকালে উঠত, বিকেলে বাইক নিয়ে রন্দেভুতে যেত)। কন্যেটি তো সন্তুকে বাড়ির ছাতে প্রায় একটা চুমুই খেয়ে ফেলছিলেন যদি না ঠিক মুহুর্তে কাকাবাবুর ফোনটা আসত। এদিকে কাকাবাবুরা যখন মিশরে এলেন (দু-তিন দিনের ব্যবধান) জানা গেল কন্যে তার দিদি-জামাইবাবুর মিশরে পড়াশুনো করেন। স্থান কাল পাত্র নিয়ে অনেক সংশয়।

        আর শুনেছি আই এ এস পাশ করতে এলেম লাগে। তার ওপরে প্রথম দিকের র‍্যাঙ্ক থাকলে তবে ফরেন সার্ভিসে পাওয়া যায়। তা সেরকম লোক কি করে এত হ্যাবলা গোবলা হয় কে জানে। এই চরিত্রটি বইতে ছিল? ঠিক মনে নেই – অনেক দিন আগে পড়েছি মিশর রহস্য।

        স্বস্তিকা কাকাবাবুর জন্য গুছিয়ে রান্না করল – ওদিকে কাকাবাবুকে কিডন্যাপ করা হয়েছে শুনে (সেই একই দিনের ঘটনা), সে বলল, বাড়িতে নাকি রান্নাবান্না হয়নি – হোটেলে বসে ক্যাভিয়ার খেতে হবে।

        শেষ দৃশ্যে কাকাবাবু যখন বোরখা পরিহিত হানি আলকাদিকে কোলাকুলি করে গুপ্তধনের হদিশ দিচ্ছেন – তখন দূর থেকে সন্তুরা ভাবল কাকাবাবু বোধহয় কোন মহিলাকে – আর কাকাবাবুও একটু আগেই বলেছেন যে তিনি খোঁড়া পায়ের জন্য বিয়ে করতে পারেন নি। সেই সম্ভাবনাকে প্রশ্রয় দিয়ে তিনি কোলাকুলি সেরে এসে সন্তুদের কাছে ফিরে ইঙ্গিতপূর্ন হেসে বললেন – এরকম তো হতেই পারে। ভাবো একবার –

        তবে ভাগ্যিস কাকাবাবু মিশরে গেছিলেন। তাই না কায়রোতে বিপ্লবটা সফল হল। নাহলে তো ইতিহাসই ওলোট পালোট হয়ে যেত। এইটাই মনে হয় মিশর রহস্যের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

    • Rajrupa Gupta 2:14 pm on January 22, 2014 Permalink | Reply

      Ami dekhini! Tobe ja sunchi, dekhar iccheo khub ekta nei…. Kaka Babu khub priyo ekjon manush! Chhoto belar chena sei manush ta ke r notun kore nai ba chinlam.

    • Jobayer Hasan 3:40 pm on May 15, 2014 Permalink | Reply

      হুম, দেখতে হবে।

c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel