Updates from July, 2013 Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • ক্যাফে লাতে 7:37 am on July 11, 2013 Permalink | Reply
    Tags: রথের মেলা, , স্মৃতি   

    রথের মেলা, পাঁপড়ভাজা 

    গতকাল রথযাত্রা ছিল। ছোটবেলায় রথের দিনে বিকেল বেলা মেলায় যাওয়া প্রায় বাধ্যতামূলক ছিল। বাবা অবশ্য কোন দিন নিয়ে যেতেন না, মা নিয়ে যেতেন। গিয়ে কেনা হত ছোট ছোট প্লাস্টিকের খেলনা – ছোট্ট সেলাই মেশিন, ছোট্ট ব্যাগ, ছোট্ট বালতি – পুতুলের সংসারের এইসব টুকিটাকি।আর অবশ্যই কেনা হত সাঁওতালদের হাতে গড়া কাঁচামাটির হাঁড়ি, কড়াই ইত্যাদি। তার মধ্যে সবথেকে আকর্ষণীয় ছিল মাটির জাঁতা। আমাদের ছোটবেলায় আমরা এমনিতেই যাঁতা দেখিনি, তাই ওই ব্যাপারটার সম্পর্কে খুব কৌতূহল ছিল। ১২-১৪টা বিভিন্ন বাসনকোসন, বেগুনি রঙ করা, সেই রঙ আবার চিকচিক করে, হাতে ঘষলেই উঠে হাতে লাগে, আর সেই বাসনে রান্না করার জন্য জল দিলে খানিক গলেও যেতে পারে। বাসন গুলি বিক্রি হত হাতে বোনা বেতের টুকরিতে করে। প্রতিবছরই সেইরকম একটা করে টুকরি কেনা হত।
    কয়েক বছর আগে দুর্গাপুজোর সময়ে আবিষ্কার করলাম ছোট বেলার সেই মাটির খেলনা আবার বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু বেতের ঝুড়িটা নেই। প্লাস্টিকের ছোট ক্যারিব্যাগে বিক্রি হচ্ছে। পুরনো স্মৃতি তাজা করতে কিনে ফেলেছিলাম এক ব্যাগ।
    রথের মেলায় নিয়ে গেলেও, মা কোন দিন মেলার মাঠ থেকে পাঁপড়ভাজা কিনে খাওয়ান নি। গতকাল গড়িয়াহাটে গিয়ে দেখলাম, বেশ কয়েকজন পাঁপড়ভাজা বিক্রি করছেন। কিনে খেলাম না অবশ্য, কিন্তু ভাল লাগল দেখে। এইসব ছোট ছোট জিনিষ গুলি দেখলে অন্তত মনে হয়, আমাদের পুরোপুরো বিশ্বায়িত হয়ে যেতে হয়ত এখনো খানিক দেরি আছে…
    আমি প্রায় রোজই সেঁকা পাঁপড় খাই, গতকাল যে কারণেই হোক, সেটাও খাইনি। ব্যাপারটা ঠিক হয় নি 🙂

     
    • চাফি 9:04 am on July 11, 2013 Permalink | Reply

      তা ঠিক, কিছু তো এখনও নিজস্বতা আছে। আমিও খুব ছোটবেলায় এক আধবার রথ নিয়ে বেরিয়েছি মনে পড়ে।

    • ভাঁড়ের চা 7:11 am on July 12, 2013 Permalink | Reply

      ক্যাফে লাতের ঐ ‘বাবা’র সম্পর্কে বলা কথাটা কি একটু জল মেশানো মনে হচ্ছে ? নাকি ?

      • ক্যাফে লাতে 1:05 pm on July 12, 2013 Permalink | Reply

        ভাঁড়ের চা, আমি আমার বাবার সম্পর্কে বলছি, আপনার তাতে কেন মনে হচ্ছে জল মেশানো?

        • ভাঁড়ের চা 7:09 am on July 13, 2013 Permalink | Reply

          তাবৎ ‘বাবা’দের আড়ালে রেখে এমন মন্তব্য করাটা সমীচীন নয়। আড়ালে করা বলেই মনে হচ্ছে জল মেশানো নেই ত!

      • ক্যাপাচিনো 4:22 pm on July 13, 2013 Permalink | Reply

        হুঁ হুঁ, খুব জল মেশান মনে হচ্ছে।

        • ক্যাফে লাতে 10:23 am on July 16, 2013 Permalink | Reply

          কি আর করা যাবে, চা-কফি-চাফি – সব বানাতেই প্রথমে যেটা লাগে সেটা তো জলই বটে :ultah

  • চাফি 1:13 pm on July 8, 2013 Permalink | Reply  

    ৪ ঠা জুলাই 

    “সবাইকে ৪ঠা জুলাইয়ের শুভেচ্ছা। সেই ৪ঠা জুলাই যা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং অভিনবত্ত অর্জনকারী দেশের জন্মদিন। প্রতিটি সংবিধানে সাধারনতঃ সাম্য, মর্যাদা এবং সকলের সমান সুবিধার মত গুরুত্তপূর্ণ বিষয়গুলি কেবল নিয়মের বেড়াজালেই আটকে থাকে – আমেরিকা এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে সংবিধান অনুসরণ করতে বাধ্য করা হয় এবং কেবলমাত্র নিয়মাবলী হিসেবে ফেলে রাখা হয় না। তাই এই দিনে আমাদের রাষ্ট্রপিতাদের – জন অ্যাডামস, বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, আলেক্সাণ্ডার হ্যামিলটন, জন জে, থমাস জেফারসন, জেমস ম্যাডিসন এবং জর্জ ওয়াশিংটন – সম্মান জানান একান্ত জরুরি।”

    ভাববেন না এগুলো আমার কথা – আমি তো কেবল অনুবাদ করেছি মাত্র। আদপে লিখেছেন একজন মার্কিন ভদ্রলোক, ৪ঠা জুলাইয়ের আবেগে ভেসে গিয়ে। তবে কিনা শুনেছি কয়েক বছর আগে তিনি বাঙালি ছিলেন। আমার সাথে বাংলায় কথাও বলেছেন। এখন মনে হয় ভুলে গেছেন। আমেরিকার নাগরিকত্ত নেওয়ার সময় অনেক কিছু ভুলতে হয় মনে হয়। যে দেশ এঁকে শিখিয়ে পড়িয়ে এই পর্যায়ে নিয়ে গেল (নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন এবং তারপর খড়গপুর), যে উনি সাহেবি সুরে ইংরেজি বলতে শুরু করলেন, সেই কৃতজ্ঞতার কথা মনে করে একটুও গলা ভিজল না? গায়ের রং কি ঠান্ডার দেশে থেকে একটু বেশি ফরসা হয়ে গেল? নাগরিকত্তের শপথ গ্রহনের পরেই কি ৪ঠা জুলাইয়ের সকালটা অন্যরকম হল? কে জানে। জয় আমেরিকা। আমরা তোমাকে সিনেমার পর্দায় ভালোবাসি, তোমার পরিষ্কার ছবির মত রাস্তাঘাট ভালোবাসি, ভালোবাসি ডলারের ভার। শালা একটা নোংরা, পচা, দুনম্বরি (সরি, তিন-নম্বরি) দেশে জন্ম হয়েছিল বলে লজ্জা হয়। আমি এখন এক অন্য পৃথিবীতে থাকি।

     
    • ভাঁড়ের চা 3:12 pm on July 8, 2013 Permalink | Reply

      আজকেই ভাবছিলাম বাঙ্গালীদের ইংরেজী প্রীতি নিয়ে একটা পোষ্ট দেব! আগেই এসে গেল। তাহলেও দেব। ক’দিন পর। সত্যজিৎ রায়ের একটা লেখা মনে পড়ছে,তবে হুবহু বলতে পারছি না, দেখে বলব। লেখাটা এরকম– ভুলতে চাইলে বাংলা তিন মাসেই ভোলা যায় ইত্যাদি। এমন সময়ে খড়্গপুর, নরেন্দ্রপুরের কথা মনে পড়ে নাকি !

      • চাফি 10:20 am on July 9, 2013 Permalink | Reply

        আপনি কি সোনার কেল্লার কথা বলছেন? আমার তো কামু মুখার্জির সেই ডায়লগ মনে পড়ে গেল।

    • ভাঁড়ের চা 3:22 pm on July 9, 2013 Permalink | Reply

      বোধ হয় সেটাই। তাহলেও একবার নিশ্চিত হতে চাই। রসদ মজুদই আছে। তাহলেও একটু দেরী হবে, পড়তে হবে।

    • ক্যাফে লাতে 7:40 am on July 11, 2013 Permalink | Reply

      হেহেহেহে…আমার ভাই একবার বলেছিল, ওদের এক বন্ধুর কথা। সেই বন্ধুটি জনৈক সহপাঠীর সপর্কে বলেছিল –
      পতা হ্যায় ইসকা লাইফ কা এইম ক্যা হ্যায়?
      —-ম্যায় বড়া হোকে ফরেনার বননা চাহতা হুঁ !!!! :ngakak

      • চাফি 8:36 am on July 11, 2013 Permalink | Reply

        বাহ – এই তো চাই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেশ। ডলার। তারপর আর কি সে দেশের মাঠি কামড়ে পড়ে থাকা। এই ভিসা নিয়ে পাবলিক যে কত রকমের দুনম্বরি করে যে ভাবলেও মাথা হেঁট হয়ে যায়।

    • ক্যাফে লাতে 7:44 am on July 11, 2013 Permalink | Reply

      এই বিষয়ে আমার এক আত্মীয়ার কথাও মনে পড়ে গেল। তিনি যেকোন জিনিষের বিষয়ে আলোচনা করতে গেলেই বলেন- ‘আমেরিকাতে এটা এইরকম পাওয়া যায়, ওটা বেশি ভাল, সেটা বেশি সুন্দর। তাঁর আমেরিকা প্রীতির জন্য আরেক আত্মীয় তাঁর সম্পর্কে বলেছেন- ওর দেহটা ভারতে, মনটা আমেরিকায়। 🙂

      তা কিছুদিন আগে, কিছু রান্না বান্না নিয়ে আলোচনার সময়ে এক রান্নার বিশেষ এর উপাদানের কথা শুনে তিনি আমাকে বললেন- কোথা থেকে পেলি? এটা তো আমেরিকা ছাড়া পাওয়া যায় না। আমি বললাম, কে বলেছেন যায়না? আমি নিউ মার্কেট থেকে কিনেছি। কোন বিদেশী ব্র্যান্ড ও নয়। লোকাল প্রোডাক্ট। তাতে তিনি যারপরনাই অবাক হয়েছেন

      • চাফি 8:37 am on July 11, 2013 Permalink | Reply

        সেটা আসলে কি প্রোডাক্ট ছিল?

        • ক্যাফে লাতে 6:42 pm on July 11, 2013 Permalink | Reply

          রসুনের গুঁড়ো 🙂

  • ভাঁড়ের চা 4:22 pm on July 2, 2013 Permalink | Reply  

    টেলিগ্রামের সাথেই আর একটা যোগাযোগের মাধ্যমের কথা বলা দরকার মনে হয়। এটা হল কলকাতার ‘লোকাল’ বা স্থানিয় পোষ্টকার্ড। এতে লেখা চিঠি কলকাতার মধ্যেই আদান প্রদান হত, তাই ‘লোকাল’। দাম ছিল দু’পয়সা(তিন নয়া পয়সা) করে! এর প্রস্থান একেবারে চুপিসারে ঘটে গেছে। টেলিগ্রামের বিদায় ঘটা করে প্রচার করা হলেও এর জন্য কাগজ পত্রে একটা লাইনও খরচ করা হয়েছিল কিনা জানা নেই।

    এখন পোষ্টবক্স দেখা যায় না, যাতে চিঠি ফেলা হত ডাক বিভাগের জন্য। লাল রং-এর চোঙ্গাকৃতি লোহার ৪/৫ ফুট দীর্ঘ বাক্স ছিল এগুলো, যার পায়াগুলো মাটিতে শক্তভাবে পোঁতা থাকত। ওপরে চিঠি ফেলার জানালা আর নীচে সে সব বার করে নেওয়ার দরজা,আর তাতে লেখা থাকত পরবর্তী নেওয়ার সময়। একেবারে সময় মেনে, পোষ্ট অফিসের কর্মিরা বাক্সের দরজার তালা খুলে দিনে সম্ভবত তিন বার করে সে চিঠিগুলো বার করে নিয়ে যেতেন, তার পর যথাস্থানে পাঠাবার ব্যবস্থা করতেন। যেখানে বাক্স পোঁতা যেত না সেখানে কোন বিশেষ জায়গা ( কোনও গাছ, আলোক স্তম্ভ, বা পেরেক ঠুকে কোন বাড়ির দেওয়াল ) থেকে ছোট বাক্স ঝুলিয়ে দেওয়া হত।

    কেমন ছিল পরিষেবা ? একটা ঘটনা বলি। ১৯৫৫ সালে দাদুর মৃত্যু সংবাদ দিয়ে সকাল আটটা নাগাদ মামাকে একখানা চিঠি পোষ্ট করি উত্তর কলকাতার হরিঘোষ স্ট্রীটে। আমরা বেলা ১১টা নাগাদ নিমতলাঘাটে পৌঁছে দেখি মামা সেখানে ইতিমধ্যেই হাজির! টেলিগ্রামের সাথে পাঙ্গা নেওয়া আর কি!

    আজ হলে হত এমন ?

     
    • ক্যাপাচিনো 6:56 am on July 8, 2013 Permalink | Reply

      আমি লেখাটা কদিন আগেই পড়েছি। কিন্তু মন্তব্য করা হয়নি। সত্যিই তখনকার দিনের হিসেবে ভাবাই যায় না। আমার এরকম না হলেও একটা কাছাকাছি মজার অভিজ্ঞতা আছে। সেটা একটা গল্পের মত করে পোস্ট করছি।

c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel