Updates from February, 2014 Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • ক্যাপাচিনো 6:23 pm on February 24, 2014 Permalink | Reply  

    একজন পছন্দের মানুষ চলে গেলেন। মন ভালো নেই। পরিবারের কেউ নন, আত্মীয় বন্ধু বান্ধব ও না – ছিলেন আমাদের এক বর্ষীয়ান ড্রাইভার। আমার সাথে অনেক কথা হত। খুব ভালো লাগত কাকুকে। মুসলিম ছিলেন – সেরকম শিক্ষাদীক্ষা না থাকলেও অনেক বিষয়ে কথা বলতে – আর আমার বেশ ভালো লাগত। সুস্থ সবল সেই মানুষটা – যিনি পান খেতে খেতে আমাদের বাড়ি আসতেন একটা ছোট্ট সাইকেল চড়ে – তাঁকে আর কোনদিন দেখব না। কেন এত খারাপ লাগছে জানি না।

     
    • ভাঁড়ের চা 12:57 pm on February 25, 2014 Permalink | Reply

      ভদ্রলোক কে ? আমার জানাচেনা ? পাটুলি না অন্য কোন জায়গার ?

      • ক্যাফে ক্যাপচিনো 10:29 pm on March 2, 2014 Permalink | Reply

        ওনার বাড়ি আসলে অযোধ্যায়। থাকতেন আমাদের বাড়ির কাছেই – শ্যামনগরে। বেলঘড়িয়ার দিকে একটি ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন ক্রেন চালান’র। সেই কোম্পানি এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমাদের বাড়িতে কাজ করতেন গাড়ি চালান’র – আমি স্কুলে পড়তাম। আমাকে অনেক কথা বলতেন। আমি খুব ভক্ত ছিলাম মুনশি কাকুর। উনি তো পড়াশুনো বিশেষ জানতেন না। কি করে কথাগুলো চিন্তা করেছিলেন – এটা আমি এখনও ভাবি।

        মানুষটা খুব শক্তপোক্ত ছিলেন – পরে ফ্যাক্টরিটা চালু হয়ে যাওয়ায় আবার সেই কাজে ঢোকেন – অনেক পরিশ্রম করে ছেলেদের দাঁড় করিয়েছেন। সুস্থ সবল মানুষটা হঠাত করে চলে যাবেন ভাবতে পারছি না। ওনাকে নিয়ে আমি কিছু কিছু লেখা লিখেছি।

    • ক্যাফে লাতে 7:19 am on February 26, 2014 Permalink | Reply

      গত নভেম্বর মাস থেকে পাঁচটি মৃত্যুসংবাদ পেয়েছি। তার মধ্যে চারজন আত্মীয়, একজন অনাত্মীয়। আত্মীয়দের মধ্যে তিনটি মৃত্যুসংবাদের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম- যেকোনদিনই খবর আসতে পারে। একটির জন্য একবিন্দুও প্রস্তুত ছিলাম না। শেষ যে খবরটি পেয়েছি দিন দশেক আগে, তিনি অনাত্মীয়। কিন্তু তাঁকে যেন খুব বেশি করে চিনতাম। কোনদিনও মুখোমুখি হইনি, কথা বলিনি ছবি দেখালে চিনতে পারব না। তিনি আমার ভাইয়ের প্রিয় শিক্ষকের শিক্ষক। তাঁর নাম ডঃ সোমনাথ জুৎশি। দেশের সমাজ-সংস্কৃতি-সাহিত্য-সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা করা বিশিষ্ট চিন্তাবিদদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। তাঁর বাড়িতে নাকি ১৪,০০০ বই আছে। এবং সম্ভবতঃ ততগুলিই ফিল্মের সিডি-ডিভিডি। কঠিণ দর্শন থেকে পাল্প ফিকশন- সব বই পড়তেন তিনি। আমার ভাই মাঝে মাঝেই যেত পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা করতে। আমি এক-দুইবার খাবার রান্না করে পাঠিয়েছি। শুনেছি, খুব তৃপ্তি করে খেয়েছিলেন। ভাইকে বলেছিলেন, এর পরে একদিন আমাদের বাড়ি আসবেন আবার খেতে। কিছুদিন আগে শুনলাম, উনি নাকি অমিশ প্যাটেলের “শিভা ট্রিলজি” পড়ছেন। তখন বললাম, তাহলে এবার একদিন সাহস করে দেখা করতে যাব- এই ট্রিলজি আমিও পড়েছি, উনি কি বলেন শুনে আসা যাক। তারপরে যা হয়…আজ যাব, কাল যাচ্ছি, পরশু অনেক কাজ…করতে করতে যাওয়া আর হয়ে ওঠেনি। তারপরে এক বৃষ্টিঝরা রবিবারে সকালে খবর পেলাম, আগের দিন রাতে, কোন এক সময়ে, একা একাই সবকিছু ছেড়ে অমৃতলোকের পথে পাড়ি দিয়েছেন তিনি। ঠিক যেমন ভাবে দুই মাস আগে আমার বড়মামা একদিন বিকেলে একা একা চলে গেছিলেন কাউকে না জানিয়ে।

      তোমার খারাপ লাগাটা ঠিক কেমন, সেটা আমি জানি।

      • ক্যাফে ক্যাপচিনো 10:35 pm on March 2, 2014 Permalink | Reply

        আমার মন খারাপের কারনটা হচ্ছে এটাই যে হঠাতই শুনলাম মানুষটাকে আর দেখতে পাব না – ছোটবেলায় কারও প্রতি একটা জায়গা তৈরি হলে সেটা অন্যরকমভাবে থেকে যায়। এই নিয়ে কিছু লিখব কফিহাউজে।

  • ক্যাপাচিনো 12:34 am on January 23, 2014 Permalink | Reply
    Tags: ,   

    বিলেতের গপ্প – ১ 

    কদিন প্রচন্ড ঠান্ডার প্রকোপ কাটিয়ে এই সবে একটু চাঙ্গা হয়েছি। মনে হচ্ছে এবার আস্তে আস্তে আড্ডায় ফেরা যাবে।

    আজকে একটা মজার ঘটনা বলি। কদিন আগে একটু গাজরের হালুয়া করে অফিসে নিয়ে গেছে আমার এক জুনিয়ার। তা আমি একটু চেখে বললুম, নেহাত মন্দ হয় নি – যা সায়েব’দেরও এক চামচ করে খাইয়ে আয়। প্রথমে সন্দেহের চোখে দেখলেও এক চামচ খাওয়ার পরে সব্বাই দেখি ঠোঁট চাটছে। তা কি আর করা যাবে, স্টক ততক্ষনে শেষ।

    এরপর একজন আমাকে এসে বলেই বসলে – ব্যাপারটা কি বাড়িতে ম্যানেজ করা যায়? মানে রান্না করে? আমি অবাক হয়ে বললাম কেন করা যাবে না – কিন্তু তোমার কি সেই ধৈর্য আছে? তাতে সে খুব আগ্রহ নিয়ে আমার কাছে গাজরের হালুয়া রান্না করা শিখলে। গত শনি-রবি তার রান্না করার কথা।

    এই অবধি সব ঠিক ছিল, কিন্তু অবাক হলাম এই সপ্তাহে একদিনও তাকে অফিসে না দেখে। কেউ জিজ্ঞেস করলেই বলে, বাড়ি থেকে কাজ করছি – এই কালকেই আসব। আমি আর ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করতে পারছি না – ঠিক কি রেঁধেছিলে আর কি খেয়েছিলে।

     
  • ক্যাফে লাতে 5:33 am on June 14, 2013 Permalink | Reply
    Tags: অভিজ্ঞতা, কেরালা ডায়েরি, ছবি, , মাছ   

    হাঙর ইত্যাদি… 

    fish-at-varkala

    এই ছবিটা দিলাম ক্যাপাচিনোর হাঙর খাওয়ার গল্প পড়ে। এটা ২০০৭ সালে কেরালার ভারকালায় তোলা। সেখানে সমুদ্রের ধারে সারি সারি শ্যাক , সেইসব দোকানের ছেলেরা সবাই সাহেব, বা বলা ভাল গোয়ান স্টাইলে সেজেগুজে থাকে , মানে ঢিলা প্যান্ট, চুলের ঝুঁটি, কাউবয় হ্যাট, ব্যাকগ্রাউন্ডে ইংরেজি গান…তো সেও সব শ্যাকের সামনে বিকেল হলেই এইরকম ভাবে মাছ সাজিয়ে রাখা থাকে – পছন্দ হলে কিনে নাও, তারা ভেজে দেবে…এইরকমই এক টেবিলে বাচ্চা হাঙর দেখেছিলাম, আমার সঙ্গীরা রাঁধিয়ে খেয়েওছিল। আমি চেষ্টা করিনি অবশ্য, চিংড়িতেই সন্তুষ্ট ছিলাম। খুব বেশি দাম চায় মওকা বুঝে।

    আর হ্যাঁ, এট বেশ মজার , না বললেই নয়, …সন্ধ্যে হলেই এই সব শ্যাকের ছেলেরা সমুদ্রের ধারের বাঁধানো পথে একটু দূরে দূরে দাঁড়িয়ে থাকে, আর একলা মহিলা দেখলেই নীচু স্বরে কানের কাছে প্রশ্ন করে – লেডি, আর ইউ অ্যালোন? আর ইউ ফিলিং লোনলি? আর ইউ স্যাড?… 🙂 🙂

     
    • ক্যাপাচিনো 8:24 am on June 14, 2013 Permalink | Reply

      বাহ, দারুন ব্যাপার তো। আমি কখনো কেরালা যাইনি। কিন্তু পড়ে আন্দাজ করতে পারছি।

    • এসপ্রেসো 4:21 pm on June 14, 2013 Permalink | Reply

      :lapar দারুন অভিজ্ঞতা…..

      • ক্যাপাচিনো 7:21 pm on June 14, 2013 Permalink | Reply

        ওরে পেটুক কোথাকার!!! :cd

        • এসপ্রেসো 7:48 pm on June 14, 2013 Permalink | Reply

          :iloveindonesia কে আমি নাকি ক্যাফে লাতে….!

          • ক্যাপাচিনো 9:54 pm on June 14, 2013 Permalink | Reply

            হ্যাংলা চুড়ামণি – তুমি ছাড়া আবার কে?

    • চাফি 8:14 pm on June 14, 2013 Permalink | Reply

      হে হে, আপনাকেও বুঝি বলেছিল।

    • ক্যাফে লাতে 5:30 am on June 15, 2013 Permalink | Reply

      বলেছিলই তো, নাহলে আর জানলাম কি করে ? :angel
      আসলে দলের সবাই আগে পিছে হাঁটছিল। আমি মাঝামাঝি হাঁটছিলাম, কিন্তু একা। তাই আমাকে দেখেই ওদের মনে হয় খুব লোনলি আর স্যাড মনে হয়েছিল।

      • ক্যাপাচিনো 9:47 am on June 19, 2013 Permalink | Reply

        আমার মনে হয় তোমাকে দিয়ে কিছু হাঙর চালানোর চেষ্টা করেছিল। কে বলতে হাঙরভাজা খেলে হয়তো মনের অবসাদ কেটে যায়? :lapar

    • চা পাতা 5:38 am on June 19, 2013 Permalink | Reply

      সে কি? কেরালা-তেও একা মহিলা-দের এত হয়রানি?

  • ব্ল্যাক কফি 6:56 pm on June 1, 2013 Permalink | Reply  

    ছেলে টাকে স্কুলথেকে আনতে যেতে পারি না আমাকে স্কুলে যেতে হয় বলে। এখন গরমের বন্ধ চলছে একরকম জোর করেই । সামনেই পঞ্চায়েত ভোট তাই গরমের ছুটি দিতে হলো এখনি, না হলে আমরা ঘোর বর্ষায় বন্ধ দেই। ১৫ তারিখের মধ্যে স্কুল খোলা রাখতে হবে ডি.এম.এর ওর্ডার ভোটের ট্রেনিং চলবে, ভোটের ডিউটি করতে হবে তাই।

    ছেলে প্রাইভেট স্কুলে পড়ে। পরিবারের চাপে পরে ভর্তি করতে হয়েছিলো, তা নাহলে আমি চেয়ে ছিলাম আমার স্কুলেই পড়ুক। পয়সা বাঁচবে , মিড ডে মিলের জন্য বাড়ির খাবারও বাঁচবে। উহু, তোমাদের স্কুলে তো লেখাপড়াই হয় না। আমাদের স্কুলে যেনো মাধ্যমিকে কেউ পাশই করে না। বাড়ির সবার এক মত তাই অগত্তা।

    যাই হোক সেদিন ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে ছিলাম দুজনেই, ভেন কাকুর ভুল বোঝাবুঝিতে। ছুটি হতে দেরি দেখে দুজনে হাঁটতে হাঁটতে তিস্তার পাড়ে গিয়ে উঠলাম । ওনেকদিন দুজনে পাশাপাশি হাঁটা হয়না। তিস্তার পাড়ে গিয়ে সেই উগ্র ঠান্ডা হাওয়ায় ওনেক দিনের জমে থাকা দুজনার গরম একে বারে ঠান্ডা বাতাসের মাঝে উবে গেলো। দশ টাকার বাদামে বরফ গলে জল। পড়ে ছেলেকে তিস্তার কথা না বলে একটা আইসক্রিম খাইয়ে বাড়ি এলাম।

     
    • ক্যাপাচিনো 4:20 am on June 3, 2013 Permalink | Reply

      ইস্কুল সম্পর্কে এই মতামতটা তো বহুল প্রচলিত। মুশকিল হচ্ছে এই ব্যাপারটা বেশিরভাগ সময়েই অনেকটা গড়পরতা করে দেখা হয়। অনেক ভালো স্কুল খারাপ বলে গন্য হয়। প্রাইভেট স্কুল মানেই সব সময় ভালো না। তবে আমার মনে হয় অনুশাসনের প্রয়োজন। খুব প্রয়োজন।

    • ব্ল্যাক কফি 6:11 pm on June 3, 2013 Permalink | Reply

      ঠিক তাই

  • ব্ল্যাক কফি 3:36 pm on May 30, 2013 Permalink | Reply  

    ঋতুপর্ণ ঘোষের অকালে চলে যাওয়ায় আমি মর্মাহত,আজ ভীষণ কষ্ট হচ্ছে ।

    আরও বেশি করে মনে পড়ছে আমার প্রথম দেখা সেই দিনের ঋতুপর্ণ ঘোষকে। তবে আমার দেখা ঋতুপর্ণ ঘোষ আর এখন কার ঋতুপর্ণ ঘোষের চেহারার অনেক তফাৎ । এই তফাৎ মন থেকে মেনে নিতে আমার কষ্ট হয়েছে। তবে তাঁর কাজের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল আমার আগাগোড়াই সে নিয়ে আমার মনে কোন দ্বিমত নেই।

    অনেক দিনের কথা তাই সাল তারিখ মনে নেই, কলকাতায় মামা বাড়ি বেড়াতে গিয়ে সদ্য কেনা ভিভিটার ক্যামেরা হাতে প্রিন্সেপ ঘাটে হাঁটছি ছবির খোঁজে। হঠাৎ দেখি সামনেই শুটিং চলছে, এগিয়ে গেলাম ছবিও তুললাম বেশ কয়েকটা। কিছুক্ষণ বাদেই চেয়ারে বসা সুন্দর দেখতে একটা লোক প্যাকাপ বলে উঠে পড়লেন। প্যাকাপ কথাটার মানে তখনও বুঝতাম বলে লোকটার উপর ভীষণ রাগ হলো। রাগ পড়ল তখন যখন পাশের লোকের মুখে শুনলাম উনিই পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ। উনি চলে যাচ্ছে দেখে মনে সাহস নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বললাম একটা ছবি নিতে পারি? হে হে বেশতো বলে উনি একটা ট্যাক্সির কাছে এসে দাঁড়ালেন। আমিও আর একমুহুর্ত দেরি করিনি,এই ছবিটা তুলে ফেললাম।

    শ্রদ্ধার সাথে আমার প্রণাম রইল, তুমি ভালো থেকো।

    Rituparna - 3

     
    • ক্যাফে লাতে 5:59 pm on May 30, 2013 Permalink | Reply

      আপনার এই ছবিটা তাহলে তো এক বিশেষ সম্পদ। যত্নে রাখবেন।
      মানুষটা হুট করে চলে গেলেন। যদি শুনতাম, সাতদিন ধরে হাসপাতালে আছেন, ডাক্তারেরা ঘন ঘন মেডিকাল বুলেটিন দিচ্ছেন, নিউজ চ্যানেল অষ্টপ্রহর আপডেট দিচ্ছে…তাহলে একটা মানসিক প্রস্তুতি থাকে। কিন্তু আজ সকাল থেকে ঘটনা সব এমন তাড়াতাড়ি ঘটে গেল,যে স্থির মনে ভাবতে গেলে হতভম্ব হয়ে যেতে হচ্ছে। খানিকটা অবিশ্বাস্যও।

      • ব্ল্যাক কফি 6:15 pm on May 30, 2013 Permalink | Reply

        ঠিক তাই

    • ক্যাপাচিনো 7:22 am on May 31, 2013 Permalink | Reply

      খুব ভালো লাগল ছবিটা দেখে। বিশ্বাস করতে মন চাইছে না যে উনি নেই। এই গত সপ্তাহেই কথা হচ্ছিল একজনের সাথে একদিন ওনার সিনেমার শুটিং দেখতে যাওয়ার। ব্যোমকেশের শুটিং শেষ হয়ে গেছে। সে সুযোগ আর কোনদিনই হবে না।

    • চাফি 1:16 pm on May 31, 2013 Permalink | Reply

      ব্যক্তিগত সংগ্রহে এরকম ছবি – এ তো দারুন ব্যাপার।

    • এসপ্রেসো 8:40 am on June 2, 2013 Permalink | Reply

      আমার আর ঋতুপর্ণকে সামনাসামনি দেখা হলো না, কপালটাই খারাপ । আপনি সৌভাগ্যবান ।

  • ক্যাফে লাতে 2:02 am on May 9, 2013 Permalink | Reply
    Tags: অক্ষয়কুমার, , , ২৫শে বৈশাখ   

    হোস্টেল, রবিঠাকুর আর অক্ষয়কুমার 

    ক্যাপাচিনো কিছুদিন আগে বলছিল হোস্টেলের গল্প কেন লিখছি না আর। সময় হয়ে উঠছে না কফিহাউজে নিয়মিত আসার, লেখার। তার মধ্যে আজকে আবার ২৫শে বৈশাখ। নিজেকে বিদগ্ধ বাঙালি প্রমাণ করতে গেলে আবার আজকের দিনে কবিগুরুকে নিয়ে দু-চার কথা বলতেই হয়। তা সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই অনেক দিন আগের এক ২৫শে বৈশাখ মনে পড়ে গেল। সেই গল্পই আজকে। যা একাধারে হোস্টেলের গপ্পোও।

    সাল ১৯৯৪। কলেজে প্রথম বছর। থাকি হেদুয়াপাড়ার হোস্টেলে। কাছেই জোড়াসাঁকো। কাজে কাজে প্রবল উৎসাহে, যা এতদিন খালি টিভিতে দেখে এসেছি, সেই বিখ্যাত অনুষ্ঠান সশরীরে দেখার সুযোগ কে ছাড়ে। রুমমেট ছিল বেশ কয়েকজন রবীন্দ্রভারতীর ছাত্রী। তাদের সাথে দল বেঁধে সাতসকালে সাজুগুজু করে হেঁটে চলে গেলাম জোড়াসাঁকো।গিয়ে দেখি ভীড়,ভীড়। ম্যারাপ বাঁধা লম্বা সামিয়ানা, তার এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা, অন্য প্রান্তে স্টেজ। সেখানে পর পর বুড়ো বুড়ো শিল্পীরা উঠছেন, গান গাইছেন, আবৃত্তি করছেন, নেমে যাচ্ছেন। নাচ-টাচ কিছু হচ্ছে না। সামিয়ানার তলায় বৈশাখের গরমে ঘামছি। প্রথমে তো অনেক্ষণ দাঁড়িয়েই অনুষ্ঠান দেখলাম। ঘন্টা দুই-তিনেক পরে, বেলা বাড়লে, ভীড় একটু কমল, তখব চেয়ার পেলাম । (সে-ই-ই হারিয়ে যাওয়া কাঠের ফোল্ডিং চেয়ার)। গরমে বেশ কষ্ট হচ্ছে, খিদেও পেয়ে গেছে, কিন্তু ‘সংস্কৃতিপ্রেমী’ ট্যাগটা খুব জরুরী, তাই উঠেও আসতে পারছি না। অনুষ্ঠান বেশ এক ঘেয়ে লাগছে। তবে হ্যাঁ, এখনো একজন কে মনে আছে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বেলার দিকে এলেন, লাল টকটকে পাঞ্জাবী পরে, উদাত্ত গলায় আবৃত্তি করলেন, চলে গেলেন। অনেকটা ভিনি ভিডি ভিসি গোছের ব্যাপার। ওই লাল পাঞ্জাবীটাই মনে থাকার মূল কারণ।
    বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ হোস্টেলে ফিরে গপাগপ ভাত খেলাম। তার পরেই জানতে পারলাম, তিন চার জন সিনিয়র দিদি হাতিবাগানে সিনেমা দেখতে যাচ্ছে। সেই সময়ে হাতিবাগান ছিল এক সুখের স্বর্গ। সেই নিয়ে আরেকদিন লিখব।দেখলাম ছুটির দুপুর। সকালটাও ঠিক মনমত হয়নি। এবেলাটা অন্তত একটু ঠিকঠাক কাটুক। সকালের দলের মধ্যে আমি আর আরেক বন্ধু (এইমাত্র বুঝতে পারলাম, স্মৃতি ক্ষীণ হয়ে আসছে, আরেকজন যে কে, সেটা দুজন বন্ধুর মধ্যে গুলিয়ে ফেলছি ) —আমরা দুইজন আরো জনা তিনেকের সাথে চলে গেলাম হাতিবাগান। অক্ষয়কুমার-সইফ আলি খানের ‘ইয়ে দিল্লগী’ দেখতে। ছুটির দিনে সিনেমা হল গুলি সব জমজমাট। ব্ল্যাকে টিকিট কাটলাম । সিট পাওয়া গেল একদম প্রথম সারিতে। ঘাড় উঁচু করে দেখতে দেখতে ঘাড় ব্যথা। কিন্তু অক্ষয়কুমারের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে চশমা চোখে, রোমান্টিক বিজনেসম্যান লুক দেখে আমরা একেবারে বোল্ড আউট। ব্রেকের সময়ে বোঝা গেল আমরা পাঁচজনেই এক সাথে একই সময়ে এই অক্ষয়কুমারকে আমাদের প্রেমিক হিসাবে পেতে চাইছি। সব থেকে অবাক হয়ে গেলাম প্রেসিডেন্সিতে ফিজিক্স পড়া সাদা-মাটা-চশমা-আঁটা-মামার-কাছে-বাগদত্তা-গম্ভীর দক্ষিণী লক্ষ্মীদি কে দেখে ( আমরা ডাকতাম লক্‌ষ্‌মীদি)। সেও দেখছি আক্কির প্রেমে পাগল। যাইহোক ম্যাটিনি শো দেখে বেরিয়ে, হাতিবাগানের ট্রাম লাইনের ধারে দাঁড়িয়ে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করলাম, এইরকম লুক এবং চরিত্র বজায় রাখলে আমরা অক্ষয় কুমারকেও বিয়ে করতে রাজি।
    এইভাবে সেই বিগত বৈশাখে, একই দিনে, সকালে ‘বিশুদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতি’ আর বিকেলে ‘জনপ্রিয় সংস্কৃতি’ দুইইয়ের অভিজ্ঞতাই সঞ্চয় করেছিলাম। ভেবে দেখতে গেলে, জনপ্রিয় সংস্কৃতিই আমাকে বেশি আনন্দ দিয়েছিল। প্রোটোকলে মোড়া জোড়াসাঁকোর অনুষ্ঠানের সাথে সেদিন নিজেকে একাত্ম করতে পারিনি।

    রবীন্দ্রনাথ আজও বেশিরভাগের কাছেই পূজনীয়। তাঁর জনপ্রিয়তা কিন্তু এখনো সীমাবদ্ধ।

    —————————————-
    লেখাটা মনে হয় ৫০০ শব্দের সীমানা পেরিয়ে গেছে।আশাকরি অ্যাডমিন লেখাটা বাতিল করে দেবেন না। পুরো ব্যাপারটা এর কমে লেখা যাচ্ছিল না 🙂

     
    • ক্যাপাচিনো 7:17 am on May 9, 2013 Permalink | Reply

      দারুন লিখেছো। হ্যাঁ, সম্পূর্ণ একমত।

    • চা পাতা 4:37 am on June 9, 2013 Permalink | Reply

      রবি দাদু হলেন ঠাকুরের আসনে রাখা মূর্তি’র মতন। পায়ে হাত দিয়ে পেন্নাম করা যায়, হাবুডুবু খেয়ে বুকে জড়িয়ে নেওয়া যায় না!

  • ক্যাপাচিনো 8:05 pm on April 19, 2013 Permalink | Reply
    Tags:   

    মজারু – ২ 

    আগের মজারু


    আমার জেঠুর মুখে শোনা গল্প। অনেক বছর আগের কথা। তখন জেঠু কাকারা কলকাতায় চাকরি করতেন – কাজেই লোকাল ট্রেনে ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করতে হত। এরকম যেতে আসতে প্রায়ই একটা দল তৈরি হয়ে যায়। সেখানে পাড়ার বা এক বয়সের লোকজন সাধারনতঃ একসাথে বসে, জায়গা রাখে – মুড়ি, বাদাম ইত্যাদি খায় আর গল্প আড্ডা দিতে দিতে ফিরে আসে। এদের মধ্যে একটু মুরুব্বি গোছেরও কেউ কেউ থাকে, ফলে আলোচনার সিংহভাগ তারাই দখল করে থাকে। এরকম একজনের ঘটনা।

    তিনি ট্রেনে উঠে রোজ কোন না কোন বিষয় নিয়ে গল্প ফাঁদেন। গল্পের বিষয়বস্তু প্রায়ই বদলায়। এমন অবস্থায় একদিন ফিজিক্সে পোস্টগ্রাজুয়েট এর এক ছাত্রকে পেয়ে শুরু করলেন বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা। ব্যাখ্যা করতে লাগলেন আলট্রাভায়োলেট রে এবং ইনফ্রারেড রে কি, কখন দেখা যায়। ছেলেটিও লাজুক বলে মাথা নেড়ে সব শুনতে লাগল – প্রতিবাদ করল না। জেঠু আর থাকতে না পেরে বললেন, ‘হ্যাঁ রে, তুই স্যাটাজিট রের নাম শুনেছিস?”
    পাছে এতক্ষন ধরে দেওয়া জ্ঞান যাতে হালকা না হয়ে যায়, তাই তিনি একটুও না দমে গিয়ে বললেন, “বাহ ঐটা শুনব না – ঐ তো সূর্য ডোবার সময় তো ঐ রে টা পৃথিবীতে এসে পৌঁছয়” – এদিকে যে ফাঁদে পা দিয়েছেন তা একেবারেই বুঝতে পারেন নি।
    ব্যস আর যায় কোথায় – প্রথমে চুপচাপ থাকলেও পরে সবাই ফ্যাক ফ্যাক করে হাসতে শুরু করে।

    শুনেছি তারপর ঐ ভদ্রলোকের জ্ঞান দেওয়ার অভ্যেসটা অনেকটা কমে যায়। এখনও পুরনো বন্ধুদের আড্ডায় অনেকেই স্যাটাজিট রে’র প্রসঙ্গ তুলে নিয়ে আসে।

     
    • কোল্ড কফি 2:46 am on April 20, 2013 Permalink | Reply

      স্যাটা বোসের কথা মনে পড়ল :cekpms

      • ক্যাপাচিনো 5:52 am on April 20, 2013 Permalink | Reply

        আমার মনে পড়ছে না ঠিক – যদিও শোনা শোনা লাগছে। স্যাটা বোসটা যেন কে ছিল?

    • ক্যাফে লাতে 6:31 pm on April 20, 2013 Permalink | Reply

      বাহঃ এই গল্পটা দারুণ তো!!

      স্যাটা বোস -যদি ভুল না বলি – শঙ্করের চৌরঙ্গী উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র।যিনি পাঁচতারা হোটেলে চাকরি করতেন। পুরো নাম সত্যসুন্দর অথবা সত্যসাধন বসু – সেইটে সাহেবি কায়দায় ছোট করে স্যাটা। ছবিতে উত্তমকুমার চরিত্রটা করেছিলেন।

      • ক্যাপাচিনো 12:56 pm on April 22, 2013 Permalink | Reply

        ওহহো, হ্যাঁ – এইবারে বুঝলুম

  • করট্যাডো 9:01 pm on April 8, 2013 Permalink | Reply
    Tags: নেদারল্যান্ডস   

    ইউরোপ ভ্রমণ – (১) 

    অনেকদিন পরে আবার এলাম তোমাদের সঙ্গে আড্ডা দিতে। কাজের চাপ আর ঘুরতে যাওয়ার তাড়ায় এখানে আসা হয়নি। এত গম্ভীর আলোচনার মধ্যে, আমার ঘুরতে যাওয়ার একটু গল্প শোনাই। আমি এই Easter এর ছুটিতে গিয়েছিলাম আমস্টারডাম, ব্রাসেলস, বার্লিন আর হামবুর্গ। এই সবকটি দেশের বিশেষত্ব হল জল। শহরের বেশ কিছুটা অংশ জলপথে ঘেরা আর সেটাই দেশগুলির সৌন্দর্য।
    আমস্টারডাম (অর্থাৎ হল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডস) খুব ভাল লেগেছে। একটা বিশেষ গতি রয়েছে সেখানে। সকাল হোক বা রাত্তির সবাই জেগে – আনন্দে উন্মত্ত, কোন এক মনোরম উৎসবে যেন তাল বেতালে নেচে চলেছে। আমরাও তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছুক্ষণ মত্ত হয়ে উঠলাম। বেশ লাগল। প্রথমেই চলে গেলাম Kekonhoff Garden। সেখানে লক্ষ লক্ষ টিউলিপ ফুলের মেলা। এই ফুলের বাগানটি খোলা থাকে বছরের দুটি মাস। ২১শে মার্চ থেকে মে’র মাঝামাঝি। সারা বাগান প্রচুর ফুলে ভর্তি থাকে। এবারে শীতটাও খুব পড়েছিল আর অনেকদিন ছিল বলে বাগানটা পুরোপুরি আমাদের জন্যে সেজে উঠতে পারেনি। কিন্তু তাও যেটুকু দেখেছি অসাধারণ। বাকিটা ছবিতে ও কল্পনার তুলি দিয়ে আঁকা। এত রঙ, এত সৌন্দর্য যে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠেছে ভাবলেই কিরকম একটা লাগে। শুধু কিছুটা যত্নে তারা ফুটে উঠেছে, সাজিয়ে চলেছে আমাদের পৃথিবীটাকে। অপূর্ব রঙের মেলায় গিয়ে পৌঁছলাম। বিশাল এই প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখে ছবি তুলতে প্রায় চার ঘণ্টা লাগল। তারপর ফিরে এসেই আমরা চলে গেলাম একটি ক্যানাল ক্রুজ – মানে জলপথে শহর পরিক্রমা। বেশ লাগল সেটাও। পরপর কয়েকখানি সেতুর নিচে দিয়ে জলপথে শহরের বিশেষ বিশেষ জিনিস গুলো দেখতে দারুণ লাগছিল। তার মধ্যে সব থেকে বিখ্যাত অ্যানি ফ্রাঙ্কের বাড়ি।
    এই করেই কেটে গেলো বিকেলটা। তারপরেই রাতের আলোয় আর এক নতুন অভিজ্ঞতা। হাটতে হাটতে পৌঁছে গেলাম এক বাণিজ্য নগরে। সেখানে প্রচুর বড় বড় ব্যবসায়ী, Entrepreneur বললে চলে। তারা নিজেরাই সম্পূর্ণভাবে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বেচাকেনার মূল সম্পদটা হল শরীর। এখানে না কোন দালাল, না কোন মালিক এর প্রশ্ন রয়েছে। এখানে এক একটি মহিলা, সরকারের থেকে একটা ছোট ঘর ভাড়া করে তাদের দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রদর্শন করে ব্যবসার প্রচার করে এবং সারাক্ষণ পুলিশ তাদের সুরক্ষার জন্যে ঘুরে বেড়ায়। এই জায়গাটির নাম Red Light District – এই ব্যবসা নগরী হয়ে উঠেছে টুরিস্টদের এক অন্যতম দর্শন স্থান।
    পরের দিন সকালে আমরা চলে গেলাম নেদারল্যান্ডস এর গ্রাম আর উইন্ড-মিল দেখতে। ওদের গ্রাম আমাদের সল্টলেকের থেকে বেশি উন্নত। সারি সারি উইন্ড-মিল, নদী ও মাঠ পেরিয়ে দেখতে গেলাম অতি বিখ্যাত ডাচ চিজস কিভাবে তৈরি হয়। তাদের প্রাচীন এবং আধুনিক মেশিন দিয়ে গোটা সিস্টেমটা বোঝালেন সেই কারখানার কিছু কর্মী। বিভিন্ন চিজের স্বাদও নিলাম আমরা। তারপরে দেখলাম আরও এক বিশেষ জিনিস। আর এক বিখ্যাত বস্তু হল কাঠের জুতো। গেলাম সেই কারখানায়। দেখলাম কি সহজে তিনটি মেশিনের দ্বারা কাঠের জুতো তৈরি করা হয়। বিভিন্ন ধরনের কাঠের জুতোর মধ্যে আমার সব থেকে ভাল লাগল Smuggler Shoes। এই জুতোর বিশেষত্ব এই যে জুতোর নীচের আকার এমন করে বানান যে যেই দিকে ব্যক্তি হাঁটবে তার অন্য দিকে পায়ের ছাপ পড়বে। বেশ ভালো লাগল অন্যায় করে ধরা না পড়ার এই পদ্ধতি দেখে। এই সব সেরে আমরা ফিরে এলাম আবার শহরে।
    দেখে নিলাম ডাম স্কয়ার এর জমজমাট ভিড় আর আড্ডা। বিশাল এক উৎসব যেন। বিশাল বিশাল নাগরদোলা এবং সাংঘাতিক কয়েকটা দোলনা । সেই সব দেখে টুকটাক খেয়ে ঢুকে গেলাম মাদাম টুস্যাডস মিউজিয়ামে। বিখ্যাত ব্যক্তিদের মোমের পুতুল এ ভরতি এই মিউসিয়াম । কি নিখুঁত কাজ , না দেখলে ভাবা যায় না । দেখে বোঝাই যাবে না, সত্যি না মিথ্যে। সব থেকে মজার ব্যপার হল , এত মোমের পুতুল দেখে, যখন কোন মানুষ কে, একটু চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছি , তখন মনে হচ্ছে সেও যেন একটা পুতুল। সেইসব দেখে আর কিছু মিউজিয়াম দেখে শেষ করলাম হল্যান্ড ভ্রমণ। সারাদিন ঘুরে রাতে পৌঁছে গেলাম বেলজিয়ামে। কিন্তু সে গল্প আরেকদিনের জন্যে তোলা থাকল। আজ আসি। পরে আবার আমার ভ্রমণ কাহিনী শোনাব।

     
    • ক্যাপাচিনো 10:10 pm on April 8, 2013 Permalink | Reply

      যদিও আমস্টারডাম কখনো যাইনি, তবু তোমার ভ্রমণকাহিনী শুনে মনে মনে ঘুরে নিলাম। স্মাগলার শু র ব্যাপারটা আগে শুনিনি। বেশ অভিনব। আর আমস্টারডামের রেট লাইট এরিয়ার কথা শুনলেও তার এরকম বিবরন এই প্রথম পড়লাম।

      • kortado 12:21 am on April 11, 2013 Permalink | Reply

        ধন্যবাদ । আরও গল্প শোনাব বাকি যায়গা গুলোর। তাছারা রেড লাইট এরিয়া দেখে আমার যা মনে হয়েছিল তাই তোমাদের বললাম।

    • কর্কশ 10:21 am on April 9, 2013 Permalink | Reply

      ক্যানাল ক্রুজ হবে বোধ হয় । আর ক্লগ শ্যু পরে চিজ ফ্যাক্টরি ঘুরে এলে আরো ভালো লাগত । হয়ত বা গেছিলেন লেখক । কিন্তু হল্যান্ডের সারে সারে উইন্ড মিল আর সেই মিলে পরিচালিত অগণিত চিজ ওয়ার্কশপে কত রকমের চিজ দেখার, গন্ধ নেবার আর খাওয়ার সাধ হয়েছিল আমারো । ভুলতে পারিনা সেই কথা । আরেকটা কথা এই টিউলিপ গার্ডেনে আমাদের বিখ্যাত অমিতাভ-রেখা অভিনীত ছবি “সিলসিলা”র শ্যুটিং হয়েছিল । বড্ড ছোট ভ্রমণ বেত্তান্ত । ফুরায়ে গেল তাড়াতাড়ি ।

      • kortado 12:30 am on April 11, 2013 Permalink | Reply

        একদম ঠিক ওটা ক্যানাল ক্রুজ ই হবে। ক্লগ শ্যু পরিনি যদিও তবে বিশাল দুটো কাঠের জুতো পরে মজার একটা ছবি তুলেছি। 🙂 সিলসিলা”র সেই মাঠ টা একদম ফাঁকা ছিল। এবারে বেশি শীত থাকার জন্যে একটাও ফুল ফোটেনি তখন। তবাকি বাকি যায়গা গুলো দেখে মন ভরে গেছে। কিন্তু যদি আমার যেতে যেতে মাঠ তা ভরা থাকত তাহলে দারুন দুটো ব্যপার হত। প্রথম ওই মাঠ টির পাশ দিয়ে নৌকা ভ্রমণ করতে দারুন লাগত, যেটা প্লানে ছিল কিন্তু ফাঁকা মাঠ দেখে আর করিনি। দ্বিতিয়ত আমি রেখা সেজে একটা ছবি তুলতে পারতাম…… হি! হি! হি!

        • ক্যাফে লাতে 4:10 am on April 23, 2013 Permalink | Reply

          তোমার লেখা অবশেষে সময় নিয়ে পড়লাম করট্যাডো। বেশ ভাল লাগল পড়ে। নতুন দেশে সম্বন্ধে জানতে তো বেশ ভালই লাগে।পরের কিস্তির অপেক্ষায় রইলাম।

          পারলে সাথে এক দুটো ছবি দাও।

  • ক্যাপাচিনো 11:10 am on March 27, 2013 Permalink | Reply
    Tags: , দোল   

    উৎসবের স্মৃতি 

    আজ দোল। বারান্দা থেকে দেখছি কচি কাঁচারা নানা ধরনের পিচকিরি নিয়ে পাড়া দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নতুন ধরনের বললাম এই কারনে যে আগেকার সাবেকি পেতলের পিচকিরি আজকাল খুব কম দেখি – এখন রঙ বয়ে বেড়ানোর জন্য পিঠে একটা ব্যাগের মত কিছু জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এবারে আর রঙ খেলছি না অনেক কারনে। শুধু দেখছি। দেখতে দেখতে বছর দশ বার আগেকার সেই দোল খেলার স্মৃতি মনে পড়ে গেল। সে এক অদ্ভূত অভিজ্ঞতা বটে।
    কলেজের সেই দিনগুলোতে দোল খেলায় নানা ধরনের নিয়ম কানুন ছিল। কে বানিয়েছিল জানি না – তবে বছরের পর বছর নিষ্ঠা ভরে তা পালন করা হত। প্রথম নিয়মটা হচ্ছে এক হোস্টেল থেকে আরেক হোস্টেল আক্রমন করা এবং কোন রকম রঙ মাখানর আগে জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফর্দাফাঁই করে দেওয়া। যার গায়ে একটুও জামাকাপড় থাকবে, তাকেই আক্রমন করা হবে। মনে আছে এক বন্ধু যে বছরে ৩৬৪ দিন আন্ডারওয়্যার পরত না, সেও শুধু দোলের দিনটার জন্য একসেট কিনে আনত দোকান থেকে। পরনে শুধু ঐটুকু আর তার ওপর ফালি ফালি কাপড়। একবার আমাদের ঐ হুলিয়া দেখে রাস্তার পুলিশেও প্রশ্ন করেছিল – তুম লোগকা রেপ হো গ্যায়া ক্যা?
    তারপর রঙ, বাঁদুরে রঙ, বালতি ভরা রঙ এইসব তো ছিলই। কিন্তু ছেলেদের কাছে যেটা মস্ত বড় আকর্ষণ ছিল তা হচ্ছে গার্লস হোস্টেলের অবারিত দ্বার। ঐ একটা দিন কোন নিয়ম নেই, বাছ বিচার নেই। আগে কখনও কোন মেয়ের সাথে কথা হোক বা না হোক, সেই দিনটায় তাকে জড়িয়ে ধরতেও কোন বাধা নেই। আমাকে এক বন্ধু নিয়ে গিয়েছিল একবার – আমি একটু তফাতে দাঁড়িয়ে থেকে দেখতে অবাক হয়ে গেছিলাম। এখন বুঝতে পারি – ছেলেদের হাতে রঙ মাখার জন্য মেয়েদের উৎসাহও কিছু কম ছিল না।
    সেখান থেকে প্রোফেসরদের বাড়ি গিয়ে মিষ্টি খাওয়া। রাস্তায় ঘোরা, ভাঙ – অবশেষে রঙ শেষ হয়ে গেলে কাদা ও বালি বালতি-তে গুলে মাখান আর সব শেষে বাগানে গিয়ে হোস পাইপ দিয়ে চান করা।
    ওফ! স্মৃতির আর শেষ নেই, তবু অনেক দিন পর কথাগুলো বলে ভালো লাগছে।

     
    • এসপ্রেসো 4:55 pm on March 27, 2013 Permalink | Reply

      :salahkamar কলকাতার দোলের একটা নতুন দিক জানলাম । ভাল লাগলো । বাংলদেশেও দোলের আমেজ টের পাওয়া যায় কিন্তু সব জায়গায় নয় ।
      আশা করি কলকাতার সব জায়গায় কাপড় ফার্দাফাঁই করে দোল পালন করা হয় না । তহলে কিন্তু দোলে আমি কখনোও কলকাতায় আসবো না !

      • ক্যাপাচিনো 5:51 pm on March 27, 2013 Permalink | Reply

        ভাই এসপ্রেসো – বলতেই ভুলে গেছি যে এটা আসলে কলকাতার ঘটনাই নয় – পশ্চিমের দোল অনেকটা এইরকম। দোলের জন্য কলকাতায় আসতে ভয় পেয় না কিন্তু।

      • ক্যাফে লাতে 7:32 pm on March 27, 2013 Permalink | Reply

        ওই কাপড় ফর্দাফাই টা কলকাতার নয়।অন্য জায়গার গল্প। তাই চিন্তা নাই।
        অনেক বছর পরে আমার এবার দোল খেলা হল না। আমার আবাসনের ছোটরা দিব্বি দোল খেলল, কিন্তু বড়রা কেন অন্যান্যবারের মত রঙ মাখতে এবং মাখাতে নামল না বুঝলাম না। বোধ হয় খুব বেশি গরম পড়ে গেছে বলে, অথবা কোন রহস্যজনক ‘রাজনৈতিক’ কারণে।

        এসপ্রেসো, দোলে ভারত আসতে চাইলে শান্তিনিকেতনে যেও।ভাল লাগবে নিশ্চই। আমি বলছি, কিন্তু আমারই কোনদিন যাওয়া হয়নি :babygirl

  • ক্যাপাচিনো 12:11 am on March 22, 2013 Permalink | Reply
    Tags: , , হাসিখুশি   

    মজারু – ১ 

    ক্যাফে লাতের পোস্টে কমেন্ট করতে গিয়ে মনে পড়ে গেল কিছু ঘটনা। সর্দারজিদের নিয়ে আমরা নানারকম জোক শুনে থাকি। হাসিও। কিন্তু এগুলো আমার বাস্তব জীবনের সঙ্কলন। মানে এক্কেবারে চোখে দেখা। এক ফোঁটাও বানানো নয়।
    তখন আমি দিল্লিতে থাকি। সাত – আট বছর আগের কথা। ন’তলা অফিস আর আমি বসি এক্কেবারে ন’তলা তেই। জনপথ রোডের ওপর পুরনো দিনের বিল্ডিং – কাজেই লিফট ওঠানামা করে অনেক আস্তে আস্তে। মাঝে মাঝে সেটাই বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়ায়। যাইহোক, এক পাঞ্জাবি ভদ্রলোক আমার সাথে প্রায়ই লিফটে উঠতেন। দেখে অবাক হতাম যে তিনি একতলায় লিফটে উঠেই সবকটা ফ্লোরের বোতাম টিপে দিতেন – অথচ নামতেন আটতলায়। প্রচন্ড রাগ হত – কিন্তু খুব একটা ঘাঁটাতে ইচ্ছে করত না, কারন ওনার কোমরে আবার একটা মিনিয়েচার কৃপাণ গোঁজা থাকত। তা একদিন আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম – ‘আপনি নামেন তো আট তলায় – বাকি ফ্লোরে খামোকা লিফটের বোতাম টেপেন কেন?’
    তাতে তিনি বললেন – ‘আমি না নামি তো কি হয়েছে, অন্য কেউ তো উঠতে পারে। লিফট চললে বোতাম টিপবে কি করে?’
    বছর দুয়েক ঐ অফিসে ছিলাম, কিন্তু ভুলেও আর কোনদিনও জিজ্ঞেস করিনি।

     
    • এসপ্রেসো 1:08 pm on March 22, 2013 Permalink | Reply

      :hammer

      • ক্যাপাচিনো 2:10 pm on March 22, 2013 Permalink | Reply

        আগেই বলেছি এক্কেবারে নিজের চোখে দেখা বা কানে শোনা :mewek

c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel