Updates from ভাঁড়ের চা Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • ভাঁড়ের চা 1:12 pm on May 28, 2014 Permalink | Reply  

    আমার কলকাতা চেনা– 

    আমার কলকাতা চেনানোর গুরু হলেন রবিদা। আমার চেয়ে কয়েক বছরের বড়, আমার পিশতুতো দাদা। আমাদের বাড়িতেই থাকতেন। পড়াশোনায় খুব একটা উৎসাহ ছিল না। ক্লাসে ওঠার পরীক্ষায় কদাচিৎ পাশ করতেন! এর জন্য কম গঞ্জনা সইতে হত না তাকে। তবে কলকাতার গড়ের মাঠের ফুটবল নিয়ে সমস্ত কিছু মুখস্থ, ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের পাঁড় সমর্থক।
    গত শতাব্দীর শেষ অর্দ্ধের প্রথম দিকের কথা। একদিন বিকেলের দিকে রবিদা আমাকে নারকেলডাঙ্গা থেকে শর্টকাটে কি করে শেয়ালদা’য় পৌঁছান যায় তা দেখাতে নিয়ে চললেন।
    এর অর্থ হল নারকেলডাঙ্গা মেন রোড থেকে রেললাইন ধরে শিয়ালদা’র দিকে হাঁটতে শুরু করলে প্ল্যাটফর্মে গিয়ে ওঠা হবে, যারা গাড়ি থেকে নেমে ষ্টেশন থেকে বাইরে বেরোতে চায় তাদের সাথে! অর্থাৎ টিকিট পরীক্ষক বিনা টিকিটের যাত্রি হিসেবে হাজতে পুরলে কিছু করার নেই। রবিদাকে সে কথা বলতে হেসে উড়িয়ে দিলেন।
    “ধুস, রোজ যাচ্ছি এদিক দিয়ে, চ চ।”। তারপর “ঐ ত’ রয়েছে, তাড়াতাড়ি চ, চলে গেলে আর দেখতে পাবি না। মেওয়ালালকে দেখেছিস ? ঐ দ্যাখ। দ্যাখত চিনতে পারিস কিনা।”
    মানুষ বেরোবার গেটের সামনে দুজন ভদ্রলোক কথা বলছেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।
    আরে, একজনের মাথার চুল আঁচড়ানোটা চেনা লাগছে যেন, এমন চুলওয়ালা এই মানুষটার ছবি দেখেছি খবরের কাগজে। প্রায়ই দেখতে পাই। হ্যাঁ, এই-ই ত সেই মেওয়ালাল, মাঠ কাঁপানো ইষ্টার্ন রেলের (তখন বোধ হয় নাম ছিল ‘ই আই আর’) খেলোয়াড়!
    সেই আমার প্রথম কলকাতা ময়দানের এক হিরো দর্শন।
    কতকাল আগের কথা সব! মাঝে মাঝে মনে হয় এ সব ঘটেছিল ত!
    আমার কলকাতা এবং ময়দান চেনা রবিদা মারফৎ। পরে সময়মত আরও বলব।

     
    • ভাঁড়ের চা 1:22 pm on May 28, 2014 Permalink | Reply

      যাব্বাবা!! লেখার মাঝে আবার ছবিটা এল কি করে ! ওটা আমি দিই নি। তাছাড়া বাক্যটাও এলোমেলো হয়ে গেছে। Edit করে Save করলাম, কিন্তু কিছু হল না।

    • এসপ্রেসো 11:33 pm on May 30, 2014 Permalink | Reply

      ভালো লাগলো। আর নিশ্চিন্তও হলাম, আকি কলকাতা এলে আপনার সাথে আগে যোগাযোগ করবো তাহলে আর হারানোর ভয় নেই।

  • ভাঁড়ের চা 1:58 pm on May 17, 2014 Permalink | Reply  

    রাস্তা ধোয়া। 

    আজকের কাগজে (১৫/২/১৪) দেখছিলাম কলকাতার কোন কোন রাস্তা নাকি আজকাল নানা ভাবে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা হচ্ছে, বিশেষ করে ধোয়া হচ্ছে। রাস্তা ধোয়ার এই ব্যাপারটা ছিল খুব কৌতুহলোদ্দীপক। যাঁদের ষাট-পঁয়ষট্টি বছর তাঁরা কেউ কেউ স্মৃতি ঘাঁটলে, সে দৃশ্য মনে করে উঠতেও পারেন। নেহাৎ না পারলে শিবরাম চক্রবর্তীর লেখা পড়ে নিতেও পারেন। সব মনে পড়ে যাবে।
    আমার অবশ্য নিজের দেখা এসব। বড় রাস্তার দু’পাশে কিছু দুর অন্তর অন্তর জলের উৎস থাকত। ঘোলা জল, ভক ভক করে উঠত সে জল। ভোরে উঠে দেখা হত না বটে ( অত সকালে কে উঠছে), তবে বিকেলে দেখতাম প্রায়ই। বেলা তিনটে/সাড়ে তিনটে নাগাদ ঘাড়ে একটা পাইপ নিয়ে ( এখনকার মত পলিথিন নয়, ক্যানভাসের তৈরী ল্যাতপেতে পাইপ গুটিয়ে আনতে হত) কর্পোরেশনের লোক এসে হাজির হত রাস্তা ধুতে। পাইপের মোটা দিকটা রাস্তার উৎসের ( হাইড্রান্ট) সঙ্গে যুক্ত করে দিলে সরু দিক দিয়ে তীরবেগে জল বেরোত। সেই জল অনেক দুর পর্যন্ত যেতে পারত। লোকটি সেই জল ছড়িয়ে দিত অনেক দুর অবধি, যা রাস্তা ধুয়ে দিত। সামনে লোকজন বা গাড়ী এসে গেলে পাইপের মুখটা নামিয়ে নিত।
    জলের উৎস এমন দুরত্বে থাকত যে কোন জায়গাই বিনা ধোয়া অবস্থায় থাকত না।
    উৎসের জল নাকি গঙ্গার জল (এটা আমি হলফ করে বলতে পারি না, কারন আমি জানি না জলের প্রকৃত উৎস কি, তবে জলটা গঙ্গাজলের মত ঘোলা ছিল )। সব সময় জল উঠত ঐ সব উৎস থেকে। গরম কালে পাড়ার বাচ্চারা যথেচ্ছ জল ছেটাছেটি করে স্নান করত।
    কবে যেন এই ব্যাপারটা, মানে রাস্তা ধোয়াটা, উঠে গেল! টেরও পেলাম না।
    নিয়মটা আবার চালু হবে ভাবতে ভাল লাগছে।

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 11:43 pm on May 18, 2014 Permalink | Reply

      কলকাতার ধুলো জগৎবিখ্যাত বটে। রাস্তা ধোওয়ার গল্প বেশ লাগল। রাস্তা ধোয়ার ব্যাপারটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কেন?

    • ভাঁড়ের চা 12:52 pm on May 20, 2014 Permalink | Reply

      কেন বন্ধ হয়েছিল সেটা বলা খুব মুশকিল। সেটা পৌরসভার নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে, তাদের আর্থিক সমস্যা হতে পারে বা অন্য কিছু, সঠিক জানা নেই। জানা খুব মুশকিল। এ সংক্রান্ত কোন বিজ্ঞপ্তি আমার চোখে পড়ে নি।

      • ক্যাফে ক্যাপচিনো 12:05 am on May 22, 2014 Permalink | Reply

        কলকাতা শহরটা এক কালে মানুষের কাছে উদাহরন ছিল, বড় শহর ছিল, বৈচিত্র ছিল। আজকাল যখন দেশের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে কলকাতার নাম সেভাবে নেওয়া হয় না তখন খারাপ লাগে।

  • ভাঁড়ের চা 2:02 pm on May 8, 2014 Permalink | Reply  

    ইউজ অ্যান্ড —। 

    কয়েকদিন আগে ব্যাংকের কাজে বের হয়ে রাস্তায় গিয়ে মনে পড়ল ডট পেনটার কথা। সেটা ত আনা হয়নি ! আবার বাড়ি গিয়ে সেটা আনব কিনা ভাবতেই মনে পড়ল কি দরকার কালক্ষেপ করে, একটা ‘ইউজ অ্যান্ড থ্রো’ কিনে নিলেই ত হয়, মাত্র’ত দু’তিন টাকা দাম ! কাজ হল। কলমটা ফেলিনি, নিয়ে এসেছি বাড়িতে!
    তিন টাকার কলমের কথায় চট করে মনে পড়াল ৫০/৬০ বছর আগের কথা!
    তখন ডট পেন ছিল না (থাকলেও একেবারে প্রাথমিক স্তরে, মানে ধ্যাবড়া লেখা পড়ত আর সেই কলম পকেটে রাখলে জামা নষ্ট হওয়া ছিল অবধারিত!) ছিল ঝর্না কলম। কলমে কালি ভরে লেখালেখি করতে হত। কিন্তু সেটাই ছিল সেই কলমের ত্রুটি। কালি ‘লিক’ করত অহরহ! তখনকার দিনে স্কুলে কলম নিয়ে গেলে শাস্তি পেতে হত (পেন্সিল ছিল ম্যান্ডেটরি)। লুকিয়ে নিয়ে গেলেও ‘হাতে কালি, মুখে কালি’ হয়ে ধরা পড়ে যেতে হত।
    কালিভরা সে সময়ের কলমের দামছিল একটাকা/দেড় টাকা। ‘রাইটার’ নামের একটা খুব চালু কলমের দাম ছিল ১ টাকা।
    কালি লিক করলে ছুটতে হত ‘পেন হসপিট্যাল’-এ। হ্যাঁ, এমনই নাম ছিল এক একটা দোকানের, যেখানে সেই লিক করা কলমের মেরামতি হত।
    এমন অনেক দোকান ছিল তৎকালীন কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীটে (বর্তমানে যার নাম বিধান সরনি)। হাতিবাগান থেকে শ্যামবাজারের মোড় পর্যন্ত যেতে রাস্তার বাম ফুটপাথে যত গাড়িবারান্দা ছিল, তার প্রায় সবগুলোতেই নানা ধরনের দোকানের পাশে পাশে থাকত ঐ কলম সারাইয়ের দোকান। দেওয়ালে একটা কাচে ঢাকা শোকেসের মত টাঙানো থাকত, যার প্রতি তাকে সাজানো থাকত নানা ধরনের সারাইয়ের সরঞ্জাম। দোকানদার বসতেন সামনে একখানা টুল নিয়ে, ফুটপাথের ওপর।
    ‘অসুস্থ’ কলম নিয়ে গেলেই পুরোদস্তুর ‘চিকিৎসা’ হয়ে স্বাভাবিক হয়ে যেত! খরচ সামান্যই, দু’চার পয়সার মত ছিল।
    এখনকার জমানা ত ইউজ এন্ড থ্রো-এর। কে আর এইসব দোকানে আসবে! আমার জানতে ইচ্ছে হয় সেই সব দোকান কি আছে ? না থাকাটাই স্বাভাবিক! না থাকলে সেখানে কি হয় এখন, মানে কিসের দোকান এখন সেখানে ? আর সে ধরনের মানুষজনই বা কি করেন (এখন নিশ্চয়ই অন্য জীবিকাতেই আছেন, তাহলেও জানতে দারুন ইচ্ছে হয় কবে থেকে, কিভাবে, অন্য ক্ষেত্রে উত্তরন হয়েছে )!
    আর এক ধরনের দোকান ছিল আগে। এখন শহরতলিতে দেখা গেলেও কলকাতা শহরের মধ্যে দেখা পাওয়া দুষ্কর। আস্তে আস্তে সেখানেও যে ডুমুরের ফুল হয়ে যাবে তা নিশ্চিতই বলা যায়।
    আমার বহু পুরোন ঘড়ির ষ্টীলের রিষ্টব্যান্ড খারাপ হয়ে সেটা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না দেখে, সারাইয়ের দোকান খুঁজতে গিয়ে হয়রান হয়ে যখন আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছি, ভাবছি একে এবার ‘আলবিদা’ জানাতে হবে কিনা, তখন একদিন দেখি গড়িয়ার (পুরোদস্তুর শহর) ফুটপাথে চাদর বিছিয়ে একটি ছেলে নানাধরনের ঘড়ির পার্টস নিয়ে বসে আছে! সৌভাগ্যবশত কাজটা হল। গড়িয়া ছাড়িয়ে বারুইপুরের দিকে গেলে ঘড়ি সারাইয়ের দোকান এখনও মেলে এক আধটা। কিন্তু কতদিন মিলবে বলা শক্ত ! সেই ইউজ এন থ্রো ! ঘড়িও তেমনই হয়ে গেছে কিনা ! কিন্তু চল্লিশ বছরের পুরোন,বহু স্মৃতি জড়ানো ঘড়ি কি করে ‘থ্রো’ করা যায় তা ভেবে পাওয়া যায় না!
    তেমনই রয়েছে জুতো সারাইয়ের দোকান, এদেরও শহুরে অঞ্চলে দেখা পাওয়া খুব মুশকিল। কারিগরেরা সব আসল শহর ছেড়ে শহরের সীমানার দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন দোকান একটা দেখতে পেয়েছিলাম পাটুলির এক গলিতে। অবশ্য জুতোও এখন “ইউজ এন থ্রো”! আগে হাওয়াই চপ্পলের ষ্ট্র্যাপ আলাদা কিনে লাগিয়ে নিয়ে আসা যেত এখন ব্যাপারটা বন্ধ হয়ে গেছে! খুঁজে পেতে পাওয়া যায় হয়ত কিন্তু নিজে লাগিয়ে নিতে হয়। না হলে পুরো সোলটাই “থ্রো”!
    বাড়িতে তেমন চপ্পল থাকলে, আর শহরতলিতে যাবার থাকলে, সঙ্গে নিয়ে যাবেন। সেখানে পেয়ে যাবেন, সেখানে এখনও তেমন দোকান আছে।

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 10:28 pm on May 10, 2014 Permalink | Reply

      আপনি যে কলমের কথা বলছেন, সেই ধরনের কিছু কলমে আমিও লিখেছি – বলা উচিত যখন কলমে লিখতে শুরু করেছি, তখন লিখেছি ওভাবেই।তখন সেরকম ভালো ডট পেন পাওয়া যেত না। কালির কলমে যেরকম তাড়াতাড়ি লেখা যেত সেরকম সুবিধেও হত না। ক্লাস সেভেন অবধিও কিছু কিছু পরীক্ষা কালির পেনে দিয়েছি মনে আছে। তারপর সব কোথায় হারিয়ে গেল। এখন তো কাগজ কলমে লেখা হয়ই কম।

      ঘড়ি সারাইয়ের দোকান এখনও কিছু কিছু দেখি,কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তাঁদের ব্যবসাও বদলাতে হয়েছে, শুধু ঘড়ি সারাই করে আর চলছে না, সেই সঙ্গে ব্যাটারি, ফোন রিচার্জ এই সব করতে দেখি অনেক কেই।

      সব কিছু ইউজ এন্ড থ্রো হয়ে গেলে আরও কত কি হারিয়ে যাবে, ভাবতেই মন খারাপ হয়ে গেল।

    • Mustafa Abier 4:27 pm on May 14, 2014 Permalink | Reply

      Seemed very entertaining

    • Nabil Uddin 5:54 pm on May 15, 2014 Permalink | Reply

      Valoi Moja pailam 🙂

    • shadman 6:35 pm on May 15, 2014 Permalink | Reply

      dhonnobad, onk interesting laglo blog ta.

  • ভাঁড়ের চা 1:24 pm on May 5, 2014 Permalink | Reply  

    বন্ধুরা আবার ডুব মেরেছে। এক-আধজন মাঝে মাঝে উঁকি দিলেও আড্ডাখানায় স্থায়িভাবে বসতে চাইছে না। কি হল সব ?

     
  • ভাঁড়ের চা 6:14 am on April 25, 2014 Permalink | Reply  

    বলিউড, টলিউড! 

    হাস্যকর ব্যাপার আর কাকে বলে ! হলিউডের অনুকরনে মুম্বই এবং কলকাতা সিনেমার কেন্দ্রকে “বলিউড, টলিউড” বলাটা যে কি হাস্যকর লাগে ! শুধু হাস্যকর না, আমি ব্যক্তিগতভাবে হিনম্মন্য হয়ে পড়ি এটা ভাবতে গিয়ে! কেন ভাই, নিজেদের সাতন্ত্র্য বলে কিছু নেই ? নাকি আমাদের এখানে সবাই হলিউডের করুনায় বেঁচে আছে ?

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 12:25 am on April 26, 2014 Permalink | Reply

      ঠিক কথা। এখন তো বলিউড শব্দটা ইংরাজী ভাষাতেও খুব প্রচলিত বলে মনে হয়।

      আবার এটাও দেখি যে দাক্ষিনাত্যের সিনেমাকেও অনেক সময় টলিউড বলা হয়।

    • ভাঁড়ের চা 12:54 pm on April 27, 2014 Permalink | Reply

      আমি ত জানি বাংলা সিনেমার আঁতুরঘর টালিগঞ্জ থেকেই ‘টলিউড’ এসেছে, এর মধ্যে দাক্ষিনাত্য আছে নাকি আবার ! দাক্ষিনাত্য কি ভাবে ? ব্যাপার-স্যাপার বোঝা ভারি মুশকিল !

      • ক্যাফে ক্যাপচিনো 7:43 pm on April 27, 2014 Permalink | Reply

        হ্যাঁ, আমারও তাই ধারনা ছিল। কিন্তু আমি বেশ কিছু জায়গায় শুনেছি দাক্ষিনাত্যের সিনেমাকে টলিউড বলতে। তাদের টলি পাড়ার জায়গায় কোন পাড়া আছে কে জানে।

    • Sujonbndu07 10:03 am on May 6, 2014 Permalink | Reply

      খুব পছন্দ হয়েছে

  • ভাঁড়ের চা 12:54 pm on April 12, 2014 Permalink | Reply  

    আমার প্রথম টিভি দেখা। 

    কলকাতায় কবে প্রথম টেলিভিশন দেখেছি জানেন ? যদিও সঠিক বলা যাচ্ছে না, তাহলেও বোধ হয় ১৯৫৪ বা ৫৫ সালে। ৫৬-ও হতে পারে।
    আগে, মানে ১৯৫০ এর দশকে, কংগ্রেস নামক রাজনৈতিক দলের অধিবেশন হত নানা জায়গায়। এ উপলক্ষে নানা জিনিষের প্রদর্শনী হত তখন। কল্যানীতে একবার দেখেছিলাম তেমন। সেখানে বিশাল বিশাল আকারের সব সব্জি দেখেছিলাম। এর পর হয়েছিল পুর্ব কলকাতায়। (এই সময়ের পরে মনে হয় আর দেখিনি)।
    পুর্ব কলকাতায় ফুলবাগান অঞ্চলে এখন যেখানে শ্যামাপ্রসাদ (নাকি গুরুদাস ?) কলেজ হয়েছে,বা যে রাস্তাটা সোজা কাঁকুর গাছি ভেদ করে মানিকতলার দিকে গিয়েছে, সেই জায়গাটা ছিল ধু ধু মাঠ। এই মাঠে হয়েছিল ঐ রাজনৈতিক দলের অধিবেশন।
    নেতারা সব আসতেন তদারকি করতে। সবাইকে ত আর চিনতাম না, তবে অতুল্য ঘোষ মহাশয় আর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায় কে চিনতাম। এঁদের সেখানে দেখেছি।
    সেখানে যে প্রদর্শনী হয়েছিল তাতেই প্রথম টেলিভিশন দেখি। সাদা-কালো টিভি।
    ত্রিপলে ঘেরা পাশাপাশি দুটো ঘর বানানো হয়েছিল, যার একটা ছিল স্টুডিও আর একটাতে রাখা ছিল টিভি। আমি যখন দেখি তখন পাড়ার একটি ছোট মেয়ে গান গাইছিল, আর পাশের ঘরে টিভিতে(সাদাকালো) সেটা দেখা যাচ্ছিল। আন্টেনার সাহায্য ছাড়া কেব্‌ল্‌ মারফৎ চিত্র সম্প্রচারিত হচ্ছিল। (এর প্রায় কুড়ি বছর পর কলকাতায় পাকাপাকি টিভি আসে,তখন আন্টেনা আসবে কোত্থেকে)।
    এই পাশাপাশি ঘর আর কেব্‌ল্‌ মাধ্যমে সম্প্রচার– এ ব্যাপারদুটো সাধারনের মনঃপুত হয়নি , কেননা তখন তার ছাড়া রেডিওতে গান শুনে অভ্যস্ত সবাই (প্রত্যেকের ছাদে এরিয়েল শোভা পেত)। তাই টিভি দেখে এসে সব কি নাক সিঁটকানি,”পাশাপাশি ঘর, আর তার দিয়ে জোড়া ত সব কিছু—“। যেন এটা করা কত্ত–ও–ও–ও সোজা !!

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 8:11 pm on April 20, 2014 Permalink | Reply

      টিভি দেখার এই গল্পটা পড়ে বেশ আনন্দ পেলাম। এমনিতেই পুরনো দিনের গল্প শুনতে খুবই ভালো লাগে।

      এই প্রসঙ্গে আমারও একটা গল্প মনে পড়ে গেল। ১৯৮৩ সালের কথা। আমার বয়স তখন দুবছর। মনে থাকার কথা নয়। কিন্তু এই গল্পটি আমাদের পরিবারে বহুল প্রচলিত। তখনকার দিনে আমাদের পাড়ায় বেশি টিভি ছিল না। পাড়া প্রতিবেশী অনেকেই টিভি দেখতে আমাদের বাড়ি আসতেন। এই টিভিটি আমি নিজেও ছোটবেলায় অনেকদিন দেখেছি। বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত জেতার পর শুনেছি আমাদের বাইরের ঘরের খাটটি (তখনও সোফা জিনিসটা খুব একটা আসেনি – আর এলেও এত লোকের স্থান সঙ্কুলান হত না) আর ভার সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়ে।

      পুরনো কথা উঠলেই বাবা – কাকার মুখে এই গল্পটা এখনও নতুন করে শুনি।

  • ভাঁড়ের চা 1:44 pm on April 2, 2014 Permalink | Reply  

    দুর্দিন। 

    দোকানের ঝাঁপ ফেলতে হবে বলে মনে হচ্ছে। কি আর করা, কারও তো হেলদোল নেই !

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 9:49 pm on April 6, 2014 Permalink | Reply

      খুবই দুঃখের ব্যাপার।

      • ক্যাফে ক্যাপচিনো 9:50 pm on April 6, 2014 Permalink | Reply

        :sorry

  • ভাঁড়ের চা 1:18 pm on April 1, 2014 Permalink | Reply  

    কফিহাউসের দুর্দিন ! 

    সত্যিই কি দুর্দিন এসে গেল কফিহাউসের ? কেউ আসছে না, কিছু বলছে না। হাপিত্যেস করে বসে থেকে থেকে পিঠ কোমরে ব্যথা ধরে গেছে! কি যে করা যায় বুঝতেই পারছি না।

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 10:00 pm on April 6, 2014 Permalink | Reply

      আমার না হয় ইন্টারনেট ছিল না। কিন্তু যাদের ছিল?

  • ভাঁড়ের চা 1:43 pm on March 5, 2014 Permalink | Reply  

    এখানে আয়নার ছবি দেখা যাবে http://www.mirror.co.uk/news/world-news/giant-mirrors-rjukan-norway-2506643

     
    • ক্যাফে লাতে 6:43 am on March 11, 2014 Permalink | Reply

      ওপরের লিঙ্কটা কোন কারণে কাজ করছে না।, তাই আরেকটা লিঙ্ক দিলামঃ
      http://www.theguardian.com/world/2013/oct/30/giant-mirrors-first-winter-sun-norway-rjukan

      • ভাঁড়ের চা 12:50 pm on March 12, 2014 Permalink | Reply

        এই লিঙ্কটা আগে দেখিনি। ভালই হল আরও খবরাখবর পেলাম। আর একটা এপিসোড করা যায় কিনা দেখি। তবে আগেরটা কাজ করল না কেন বুঝলাম না।

    • Mustafa Abier 4:27 pm on March 19, 2014 Permalink | Reply

      Bishoy ti thik bujhlam na

  • ভাঁড়ের চা 1:27 pm on March 5, 2014 Permalink | Reply
    Tags: আরজুকান,   

    আরজুকানের আয়না-২ 

    সেই যে নরওয়ের আরজুকান শহরে শীতকালে চিরছায়াচ্ছন্ন অঞ্চলে সূর্যালোক উপস্থিত করতে আয়না লাগাবার কথা বলেছিলাম এর আগে, তা নিয়ে আবার বলছি।
    সেপ্টেম্বর-২০১৩-এ সেই আয়না লেগে গেছে যথাস্থানে! ছবি দেখলাম কম্পিউটারে। পাশাপাশি তিনখানা আয়না, তিনখানা স্তম্ভের ওপর। স্তম্ভগুলো আবার একটা পাহাড়ের ওপর দাঁড় করানো। এদের উচ্চতা খুব একটা বেশী না হলেও, যেহেতু উঁচু পাহাড়ের ওপর রয়েছে তাই পাহাড় আর স্তম্ভ মিলিয়ে মাটি থেকে এদের উচ্চতা ৪৫০ মিটারের মতই ত’ হওয়ার কথা। উচ্চতার হিসেবটা তেমনই ত’ ছিল, নাকি!
    এখন উত্তর গোলার্ধে শীতকাল আর দক্ষিন গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল, তাই সূর্যের দক্ষিনায়ন চলছে অর্থাৎ দক্ষিনদিকে সে হেলে আছে। আমাদের এখানে যেমন দক্ষিনে হেলে থেকে পুবে উঠে পশ্চিমে অস্ত যায়, ওখানেও তাই-ই হয় বটে, তবে দক্ষিনে হেলাটা বড্ড বেশী! প্রায় দিগন্ত ঘেঁষে চলে যায়। মানে সূর্যের মাথার ওপর ওঠার উপায় একেবারেই নেই, চরাচর অন্ধকারে ডুবে যায়। গ্রীষ্মকালে, যখন সূর্য আমাদের এখানে মাথার ওপর ওঠে, তখন ওখানে ওপরে ওঠে সামান্যই, প্রায় পাহাড় ঘেঁষে চলে! এ সব দক্ষিন দিগন্তের ব্যাপার। তাহলে পাহাড়ের উত্তর দিকে, আড়ালে থাকা কোন কোন জায়গায় গ্রীষ্মে পেলেও সব জায়গাতে রোদ পাবে না, না গ্রীষ্মে, না শীতে। এটা সাধারন বুদ্ধিতেই বোঝা যায়।
    আগেই বলেছি আরজুকান শহরটি দু’টি পাহাড়ের মধ্যবর্তী মালভুমি অঞ্চলে, তাই শহরটা চিরকাল না হলেও শীতকালে সূর্যালোক থেকে বঞ্চিত। উত্তরের পাহাড়ের মাথা বা গোড়ার কোন কোন জায়গায় গ্রীষ্মে রোদ পেলেও, শীতে কিন্তু সূর্যের আলো দক্ষিন দিগন্তের কাছ থেকে এসে মাটি থেকে ৪৫০ মিটার বা তার কিছু কম উচ্চতা দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাই সেখানে আয়না রাখলে সূর্যালোক প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা। সেই উদ্দেশ্যেই আয়নাগুলো রাখা হয়েছে।
    আয়না আয়না করছি বলে মনে হচ্ছে যে হাতে ধরা আয়না বা আমাদের রোজ দেখতে পাওয়া ড্রেসিং টেবিলের বড় আয়নার মত যেমন হয়, তেমনি বুঝি ! তা কিন্তু মোটেই না। ছবি দেখলে বোঝা যাবে তা। আশেপাশে কর্মরত মানুষজন কেমন যেন পুতুল পুতুল মত। (এক এক খানা আয়নার সাইজ হল ৫৩৮ বর্গফুটের মত। মানে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ মনে হয় ৩৩ ফুট x১৬.৫ ফুট এর মত (প্রায়)। এমন মাপের হলেই মানায়!)।
    পাশাপাশি রাখা তিনখানা আয়না মিলে একখানা বিশাল আয়নার চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের মাথায়! ওপরের হিসেব মত তিনটে আয়না মিলে সাইজ হল প্রায় ৫০x৩৩ বর্গ ফুট । সেটাও দেখার মত।
    আয়নাগুলোকে কিন্তু সব সময় সূর্যের অবস্থান অনুসারে নির্দিষ্ট দিকে মুখ করে থাকতে হবে যাতে সূর্য অবস্থান পাল্টালেও প্রতিফলিত আলো টাউনহল চত্বরে এক জায়গাতেই পড়ে, মানে আয়নারও অবস্থান পাল্টাতে হবে। সূর্য’ ত কোন সময় স্থির নয়, সদাই চলমান। তাই সে যখন ক্রমাগত পশ্চিম দিকে এগোয়, প্রতিফলিত আলোও টাউনহল চত্বরে এক জায়গায় স্থির থাকবে না। সেই কারনে আয়নাগুলো ‘সূর্যমুখী’। কিন্তু অতবড় আয়নাকে সরাবে কে!
    কে আবার, বিদ্যুৎ-ই ত’ রয়েছে। ঐ আয়নার সাথেই রয়েছে বিশাল সোলার প্যানেল, যা তৈরী করবে সৌরবিদ্যুৎ। এই বিদ্যুৎ আয়নাগুলোকে প্রয়োজনমত ঘোরাবে ত’ বটেই, সেগুলোকে পরিষ্কারও করবে।
    নেট ঘাঁটা ঘাঁটি করতে গিয়ে দেখছি এর আগেও তৈরী হয়েছে এমন আয়না,ইতালিতে ২০০৬-এ। প্রায় একই কেস আর কি। জায়গাটার নাম হল Viganella ( বাংলা উচ্চারন করতে পারছি না)। সেই থেকে এখনও সাপ্লাই করে যাচ্ছে সুর্যের আলো। এখানে আয়নার সংখ্যা হল ১৪ আর সে গুলো ষ্টীলের তৈরী! না, উল্টোপাল্টা বলিনি, ওগুলো সত্যিই ধাতব আয়না। কিন্তু ধাতুর আয়না ত আবার অন্য গল্প, পরে না হয় কোন সময় বলা যাবে।
    কিন্তু এত কায়দা, এত খরচ করে আয়না তৈরী করা কেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না ? একটা ত শীতকালে রোদ উপভোগের ব্যাপার রয়েছেই, এর সাথে রয়েছে অন্য একটা কারন, আর সেটাই আসল।
    কয়েকমাস রোদ না পেলে ওখানকার মানুষজন SAD-Seasonal affective disorder নামের একটা বিটকেল অসুখে ভোগে। তাদের সুস্থ রাখার জন্য বিপুল খরচের এই সরকারি প্রচেষ্টা!
    বুঝুন ব্যাপারটা!

     
c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel