Updates from ভাঁড়ের চা Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • ভাঁড়ের চা 12:41 pm on August 22, 2014 Permalink | Reply  

    কি ব্যাপার বুঝতেই পারছি না, কারো মুখে কথা নেই ! TRP কম ? নিজেকে আদার ব্যাপারি মনে হচ্ছে ! তাই আমাকেও ‘কলমে কুলুপ’ আঁটতে হচ্ছে !

     
    • এসপ্রেসো 9:39 pm on October 3, 2014 Permalink | Reply

      :nohope

    • শুভেচ্ছা 3:49 pm on October 1, 2015 Permalink | Reply

      মুখে কথা নেই তো কি কলমের ডগায় জমেছে হাজার কথা!

  • ভাঁড়ের চা 7:01 am on August 11, 2014 Permalink | Reply  

    ঝর্ণা কলম 

    কিছুদিন আগে কলমের কথা লিখেছিলাম, যেটা কিনা ‘ঝর্নাকলম’, (ইংরাজিতে fountain pen) । কালি পেনের মধ্যে থাকত। পেনের খোলে কালি ভরতে ড্রপার নামে একটা জিনিষ পাওয়া যেত। সব বাড়িতেই থাকত, সবাই ব্যবহার করত, কিন্তু কাজের সময় সেটা খুঁজে পাওয়া যেত না। অথচ পেনে কালি না ভরলেই নয়। তখন বাধ্য হয়ে দোয়াত থেকে কলমের খোলে কালি ঢেলে নিতে হত! তখনই হত বিপত্তি! এসব ক্ষেত্রে হাত কাঁপবেই, কেননা এটা ত নিয়মের মধ্যেই পড়ে !! আর সেটা হলে—-?
    এ ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে পেনের ভেতরেই রবারের টিউব রেখে ড্রপারের মত করে কালি তোলার ব্যবস্থা করা হত। অনেক রকম ভাবে, যতটা সম্ভব সরল করে, পেনটা বানানো হত। অনেক ধরনের কেরামতি করা হত সেক্ষেত্রে। লিখে শেষ করা যাবে না।
    আমরা যখন পাঠশালায় পড়তাম (বা সপ্তম-অষ্টম শ্রেনীতেও ?) পরীক্ষার সময় দোয়াত-কলম নিয়ে যেতাম। ঠিক কবে থেকে যে ঝর্নাকলম নিয়ে পরীক্ষা দিতে গেছি সেটা অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারলাম না (একটা আন্দাজ করে পড়ে লিখেছি)। তবে এটা ঠিক যে ‘বাড়ির কাজ'(হোম ওয়ার্ক) দোয়াতের কালিতে কলমের সাহায্যেই করতে হত। অদ্ভুত এক রকমের দোয়াত পাওয়া যেত তখন, মুখের চার পাশটা ভেতর দিকে বাঁকানো থাকত, ছিপি বলে কিছুই থাকত না। ওল্টালেও কালি পড়ে যেত না। আমার খুব আশ্চর্য লাগত। এ সব কলম ( কাঠের কলম আগায় নিব আটকানো), নিব, কালি ( ট্যাবলেটের আকারে কালির বড়ি পাওয়া যেত, এক দোয়াত জলে একটা বড়ি দিলে সেটা আপনা থেকে গুলে গিয়ে কালি হয়ে যেত।) সরবরাহকারি ছিলেন আমার দাদু। সব সময় মজুদ থাকত এসব। চাইলেই হল আর কি ।
    কোন কোন দিন আমরা খুব জব্দ হতাম দাদুর কাছে। সে সময়ে পয়সা খুব মুল্যবান ছিল, এখনকার ছোটদের মত হাতে পেতামই না! কোন কোন দিন আমরা কয়েক ভাই বোনে মিলে যুক্তি করে দাদুর কাছে গিয়ে কলমের নিব ভেঙ্গে গেছে বলে দু’টো পয়সা চাইতাম। মুচকি হেসে তিনি হাতবাক্স হাতড়ে একখানা নিব বার করে দিতেন। মুখ চুন করে চলে আসা ছাড়া আর কিছু করার থাকত না!
    পরীক্ষা দেবার সময় দোয়াত কলম হাতে করে যাবার কথা বেশ মনে আছে। নবম শ্রেনীতে বোধ হয় প্রথম (আন্দাজ )ঝর্না কলম নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। আর ডট পেন ? সে’ত বলেইছি দশম শ্রেনীতে প্রথম দেখলাম, আর যার কাছে দেখেছি তার জামার পকেটটাই শুধু নয়, সর্বত্রই চ্যাটচেটে নীল রংএ ছোপানো!
    একদম ছোটবেলায়, তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেনীতে পরীক্ষা দেবার সময়, দেখতাম বন্ধুরা সব কচুর ডাঁটায় খচাখচ কলম বেঁধাচ্ছে। এমন কেন করছে জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছিলাম, ওতে নাকি খুব তাড়াতাড়ি হাত চলে, মানে দ্রুত লেখা এগোয়! ওদের দেখাদেখি আমিও করেছি! তখন কি আর জানতাম যে পেটে কিছু না থাকলে যতই কচুর ডাঁটা খোঁচানো হোক কলম দিয়ে দ্রুত কিচ্ছু বেরোয় না!

     
    • druntopothik 2:56 pm on August 12, 2014 Permalink | Reply

      ঝর্ণা কলম দিয়ে লিখলে নাকি হাতের লেখা সুন্দর হয়।অথচ আমরা তা ব্যবহার করতে পারিনি।

  • ভাঁড়ের চা 1:21 pm on July 25, 2014 Permalink | Reply  

    রবিদা’র সাথে ইডেন! 

    রবিদা’র সাথে ইডেন দর্শন আর আমার কেরামতি না জানালে ঠিক হবে না।
    রবিদা যেমন বলেন, একদিন দুপুরে তেমনই বললেন, ‘চ, ইডেন দেখিয়ে আনি।’ নেচে উঠলাম। আবার সেই দু’আনা এবং তিন পয়সার ট্রামের গল্প! এবং গড়ের মাঠ। তবে এবার নতুন জায়গায়। আকাশবানী ভবন কি তখন হয়েছিল ? মনে নেই।
    ইডেনে কোন সময় একটা স্টেডিয়াম তৈরী করা শুরু হয়েছিল। কিন্তু কিছুটা হয়ে যাবার পর সেটা কোন কারনে বন্ধ হয়ে যায়, কারনটা ‘নেট’ ঘেঁটে পেলাম না। হয়ত তেমন করে খোঁজা হয় নি ধৈর্যে কুলোয় নি বলে ! এই সামান্য তৈরী হওয়া অংশটিকে বলা হত ‘রঞ্জি স্টেডিয়াম’। এখন ত তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া মুশকিল, গোটা মাঠ জুড়ে নতুন গ্যালারির মাঝে সেটা বোধ করি হারিয়েই গেছে! ১৯৬০-এর শুরুতে, ‘টেস্ট ম্যাচ’ দেখার জন্য সেখানে বসা দর্শকের টিকিটের আলাদা দাম ধার্য করা হত, মানে সাধারন দর্শকের জন্য কম দামের টিকিটই হত সে সব। এখনো হয় কিনা জানি না। অনেক দিন ইডেনে যাই নি!
    যা-ই হোক, রবিদার সাথে চললাম ইডেনে, রঞ্জি ট্রোফির কোন খেলা চলছিল সেখানে, কিন্তু পয়সা নেই। তা’তে কি ! আগেই খুঁজে গেছিলেন নিশ্চয়ই ঘেরা মাঠে ঢোকার উপায়। সেটা দেখলাম এখন।
    অনেকবার ইডেনের পাশ দিয়ে গেলেও, এখনও ভাল করে দেখা হয়নি আর জানিও না এখন কি দিয়ে মাঠটা ঘেরা আছে। সে সময় ছিল করগেটেড টিন দিয়ে।
    অনেক জায়গাতেই দেখলাম দু’টো টিনের জোড়ের জায়গায় নীচের দিকে অল্প ফাঁক রয়েছে। কিছু টানাটানি করলে সেই ফাঁক বড় করা সম্ভব। সেই কাজটাই করলেন রবিদা। দুর্বল একটা জায়গায় একদম নীচের দিকে কোন মতে গলে যাওয়া যায় এমন ফোকর তৈরী হল! আমরা কোন মতে গা, জামা-কাপড় বাঁচিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে পড়লাম!বাধা দেওয়ার কেউ ছিল না! এক দৌড়ে রঞ্জি স্টেডিয়ামের কংক্রিটের সিটগুলোকে সিঁড়ির মত করে নিয়ে ধাপে ধাপে অনেকটা ওপরে উঠে পড়লাম। দিনের খেলা শেষ হলে ফিরতে ফিরতে সেই সন্ধ্যা! ফিরে কি হয়েছিল তা জানি না, মনে নেই। তবে আপ্যায়ন যে ভাল হয় নি, সেটা মনে আছে। মা-এর আঁচলের আড়ালে দু’জনকে আশ্রয় নিতে হয়েছিল!
    লোভ জিনিষটা মারাত্মক ! সেটাই হল ! পরদিন খবরের কাগজ দেখে জানা গেল, ইডেনে যে খেলা হচ্ছে সেটা বাংলা বনাম সার্ভিসেসের রঞ্জি ট্রোফির খেলা, আর সার্ভিসেসের শেষের দিকের খেলোয়াড়েরা আউট হলে সেদিনই বাংলার ব্যাটিং শুরু এবং যথারীতি পংকজ রায় শুরু করবেন। সুতরাং এ সুযোগ ছাড়া যায় না। কিন্তু সঙ্গী চাই একজন,রোজ রোজ ত রবিদা যাবেন না!
    তখন বোধ হয় এইটে পড়ি আর জ্যাঠতুতো ভাই এক ক্লাস নীচে পড়ে। ওকে রাজী করালাম এই বলে যে পংকজ রায়ের খেলা দেখার এমন সুযোগ আর মিলবে না!
    রবিদা’র ফর্মূলা মেনে একই ভাবে ইডেনে পৌঁছে গেলাম আর যথারীতি সেই ফোঁকড়ও খুঁজে পেলাম। আর ঢুকেও গেলাম। কিন্তু ভেতরে যে গোলমাল অপেক্ষা করছিল সেটা জানতাম না। এ দিন ঢুকেই দেখি একটু দুরে দু’জন ‘লালপাগড়ি’ বসে বসে গল্প করছে! সে সময় পুলিশের কনষ্টেব্‌ল্‌রা মাথায় লাল পাগড়ি পড়ত। আর সবাই পুলিশ না বলে ‘লালপাগড়ি’ বলে সম্বোধন করত।
    “এ খোঁখা”, ডাক শুনে পিলে চমকে গেলেও যেতে হল। বিনা টিকিটে ঢুকে বে-আইনি কাজ যে হয়েছে সেটা জানা। চুপচাপ কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে নানা জিজ্ঞাসাবাদের উত্তর দিতে হল। এখন বুঝি সে সব ছিল ফালতু কথাবার্তা, কিন্তু তখন ত ছোট ছিলাম। বাড়িতে শাসন ছিল খুব! ভয় পেয়ে ত’ ত’ করে একসা হলাম একেবারে! ওরা অবশ্য শেষ পর্যন্ত ধমকে ছেড়ে দিল, আর শাসিয়ে দিল যাতে ভবিষ্যতে এমন না হয়!
    আমরা যখন ঢুকেছিলাম তখন পংকজ রায় ব্যাট করছিলেন। সেটা দেখলাম ঐ কংক্রিটের ষ্টেডিয়ামে বসে।
    খেলা শেষ হলে বাড়ির পথে যেতে গিয়ে আর এক বিপত্তি!
    রবিদা’র দেখানো জায়গা থেকেই ট্রাম ধরব। সেখানে দাঁড়াতেই দেখি একখানা ট্রাম আসছে। সেখানে যে নানা রুটের ট্রাম আসে তা ত রবিদা বলে দ্যায়নি। তাই সামনেরটাতেই উঠে পড়েছি। হঠাৎ বাজখাঁই চিৎকার, ‘কোথায় যাচ্ছিসরে তোরা ?’ চমকে উঠে দেখি সুধিরদা, পাড়ার দাদা, অফিস থেকে ফিরছেন বোধ হয়!! যেখানে বাঘের ভয় আর কি ! বাড়িতে সব জানাজানি হয়ে যাবে আজ! তারপর যা হবে, ভাবতেই গা হিম হয়ে যাচ্ছিল!
    ‘ও ট্রামটা কোথায় যাবে জানিস ? জীবনে বাড়ী পৌঁছতে পারবি ? আমি যেটাতে যাচ্ছি সেটায় ওঠ। বাঁদর কোথাকার, দেখাচ্ছি মজা,দাঁড়া।’ পরে অবশ্য কিছু হয়নি আর!
    সেদিন সুধিরদা বাধা না দিলে কি যে হত, অজানা জায়গায় আস্তানা খুঁজতে সারা রাত কাবার হত নিশ্চয়!
    আর একটা কথা। তখন বলা গেলেও, বর্তমানের নিরিখে পাড়ার সুধিরদা’রা অমনভাবে ধমকাতে পারতেন ? না কি, আগ বাড়িয়ে কিছু বলতেন ?

     
    • indira mukerjee 12:49 pm on August 4, 2014 Permalink | Reply

      আরো একটু উত্তরে চলে এলেই তো পারতি। রবিদার প্রাণের জোড়াসাঁকোর প্রবেশদ্বারটা কেমন ফাটাফাটি লুক হয়েচে, দেখিয়ে নিয়ে আসতি। পোড়ামাটির, লালচে, টেরাকোটা, আবার কংক্রীট সব মিলে মিশে একাকার ! তবে না গিয়ে ভালোই হয়েচে, সেন্ট্রাল এভিনিউর ঐ ভীড়ে রবিদা দাড়ি মাথায় তুলে ছুট দিত!!!

  • ভাঁড়ের চা 1:31 pm on July 19, 2014 Permalink | Reply  

    রবিদা– আমার কলকাতা দর্শন (২) 

    সে সময়ে ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের ফুটবল দলের পাঁচ ফরোয়ার্ড ছিলেন ভারত বিখ্যাত। আমেদ খান নামের খেলোয়াড় ছিলেন এঁদের অন্যতম। এখন বন্ধ হয়ে গেলেও সে সময়ে ক্রিকেট ও ফুটবল মরশুমের মাঝে দেড়-দু’মাসের বিরতিতে কলকাতার মাঠে হকি লীগ খেলা হত।
    এক মার্চের দুপুরে রবিদা’র সাথে চললাম গড়ের মাঠে। “হকি খেলা দেখবি ?”– বলে কোন ঘেরা মাঠে নিয়ে ঢূকলেন। ফুটবলের তুলনায় হকির দর্শক কম হত, তাই টিকিটের ব্যাপার ছিল না। সুতরাং মাঠে ঢোকার কোন অসুবিধা ছিল না।
    “আমেদ খানকে চিনিস ?ঐ দেখ।” রবিদা দেখালেন। খবরের কাগজে দেখা ছবির সাথে চেহারার মিল রয়েছে দেখলাম। উনি যে ফুটবলের সাথে হকিতেও পারদর্শী সেটা জানা ছিল না।
    এমনি করে একদিন রবিদা’র সাথে ইডেন গার্ডেনেও ঢুকেছিলাম এক চোরা পথে। সে অন্য কথা। পরে বলা যাবে।

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 11:30 pm on July 25, 2014 Permalink | Reply

      আচ্ছা, আপনি ইস্টবেঙ্গলের কথা তুললেন বলে জিজ্ঞেস করছি – তিনেদা / অশোকলাল ব্যানার্জিকে কি খেলতে দেখেছেন কখনও?

      • ভাঁড়ের চা 12:45 pm on August 3, 2014 Permalink | Reply

        না, না। ওনার খেলা দেখিনি। তবে বেতারে শুনে বা কাগজে পড়ে ওঁর গুনগ্রাহী ছিলাম।

  • ভাঁড়ের চা 12:01 pm on July 8, 2014 Permalink | Reply  

    বাংলার রূপকার— 

    “শাঞ্জাবি” নামটা শোনা আছে ?
    শার্ট আর পাঞ্জাবি– পাঞ্চ করে কথাটার উৎপত্তি। আমাদের দ্বিতীয় মুখ্য মন্ত্রী, বাংলার রূপকার ডঃ বিধান চন্দ্র রায় পরতেন, মানে জামা আর কি! কিন্তু, পোষাকের এমত বিচিত্র নাম হওয়ার কারণ কি ?
    আমরা যে শার্ট পরতাম সেটা এখনকার মত বুককাটা হাওয়াই শার্টের মত হত না। প্রায় হাঁটু পর্যন্ত ঝুলের, বুক না কাটা জামা হত। তখন বলা হত ফুল শার্ট, এখন বলা হয় ‘লং শার্ট’ যা কেউ পড়ে না, কিন্তু নামটা জানে। প্রাক্তন মুখ্য মন্ত্রী ঐ রকম ঝুলের শার্ট আর ধুতি পরতেন, তবে জামার ঝুলের দু’প্রান্ত আমাদের জামার মত অর্ধগোলাকৃতি না হয়ে পাঞ্জাবির মত তেকোনা হত! মানে শার্ট আর পাঞ্জাবির মিশ্রণ! অর্থাৎ জামাটার ওপরের দিকটা দেখলে শার্ট মনে হবে আর নীচের দিকটা পাঞ্জাবি! প্রিয় মানুষের পরা উদ্ভট(?) পোষাককে আদুরে নাম দিয়ে ফেলেছিল মানুষ!
    এই শাঞ্জাবি পড়া মানুষটি আমার ভীষন প্রিয় ছিলেন, কাছাকাছি যাবার ইচ্ছে ছিল একদিন। কিন্তু সুযোগ হয়নি কখনও। এখনকার মত অত নিরাপত্তার বেড়াজাল না থাকলেও কি অজুহাতে যাব, আর বলবই বা কি ? তবে ৫০/৬০ মিটার দুর থেকে দেখেছি! (পাড়ার পুজো মন্ডপে বা অন্যত্রও দেখে থাকতে পারি, অত পুরোন কথা মনে নেই। যেটা মনে আছে সেটা বলি।)
    দেশের প্রথম বাঙ্গালী এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখার্জী জাপানে গিয়ে অপঘাতে ইহলোক ত্যাগ করলেন। তাঁর মরদেহ বিমানে দেশে পাঠানো হলে, কফিনবন্দী মরদেহ গ্রহন করতে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী ডঃ রায়ের। কলেজে একথা শুনে আমরা কয়েকজন সোজা দমদম বিমান বন্দরে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম। দীর্ঘদেহী, প্রায় ফুট ছয়েকের কাছাকাছি, সকলের মাথা ছাড়িয়ে দাঁড়ানো মানুষটাকে দেখে চমৎকৃত হয়েছিলাম! এটা ১৯৬০ এর নভেম্বরের কথা। বছর দেড়েক বাদে ১৯৬২-র ১ লা জুলাই তিনি পরলোকে প্রস্থান করেন (১ লা জুলাই তাঁর জন্মদিনও বটে!)।
    কাছাকাছি যাওয়ার উপায় ছিল না, ঐ ৫০/৬০ দুর থেকেই চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন!
    এরপর ১৯৬০এর গ্রীষ্মের ছুটির পর কলেজ খুলবার কথা ১লা তারিখ, প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম যাবার। কিন্তু বেতার কেন্দ্রের বিশেষ ঘোষনা শুনে, আর রাস্তাঘাটের তুমুল অবস্থা বিবেচনা করে আর বেরনোর সাহস হয় নি!
    * * *
    ফুটবলের তান্ডবে দিনটার কথা খেয়ালই হয় নি। কবে যে ১লা জুলাই হুস করে পেরিয়ে গেল !! খুব খারাপ লাগছে।

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 7:57 pm on July 9, 2014 Permalink | Reply

      সত্যিই এই মানুষটার কথা আমরা তো কেবল শুনেইছি। খুব ভালো লাগল ইতিহাসের এই অধ্যার।

    • ভাঁড়ের চা 12:20 pm on July 10, 2014 Permalink | Reply

      যে ক’জন মানুষকে শ্রদ্ধা করি তার মধ্যে ইনি প্রথম সারির একজন। ১লা জুলাই দিনটা মনে না থাকার যন্ত্রনা বড়ই দুঃখ দিচ্ছে !

  • ভাঁড়ের চা 1:25 pm on July 7, 2014 Permalink | Reply  

    বিশ্বকাপ! 

    মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনা এবার খোলস ছাড়ছে, অন্ততঃ কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা দেখে বলা যায় । “সর্বদাই মেসি-নির্ভর”– এই অপবাদটা এখন কিছুটা কাটাতে শুরু করেছে যেন! তবে না আঁচালে বিশ্বাস নেই!
    এটা না করলে, বিপদের দিনে দেখবে কে ? সে ক্ষেত্রে ত নিজেকে নিজেই দেখতে হয় কিনা! এসবের মধ্যে আবার একটা কিন্তু এসে গেছে ইতিমধ্যেই। দি মারিয়া নামক একমাত্র উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়টি জখম হয়েছেন, আর বোধ হয় খেলতে পারবেন না।
    অন্যদের কথা বলতে না পারলেও, যে খবরের কাগজ আমি পড়ি, তা পড়ে ভাল লাগছে না। ঠারে ঠোরে মারাদোনার সাথে তুলনা করে মেসিকে বড় দেখানোর চেষ্টা চলছে সেখানে। এমন তুলনা চলে নাকি ? আগে ছিল পেলে আর মারাদোনার মধ্যেকার তুলনা, এখন চলছে মেসি আর মারাদোনার মধ্যে! একটা উদাহরন দিয়ে দেখানো হচ্ছে যে মেসি এমন তুখোর খেলেছেন যে লাল-জার্সির ছ’জনকে আক্রমন সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয়েছে! কিন্তু মারাদোনার সময়েও যে একই দলের সাথে একই ঘটনা ঘটেছিল সেটা কেউ বলছেন না! এবারে গোল হয়নি, কিন্তু সেবারে মারাদোনা ঐ ছ’জনকে কাটিয়ে গোলও করেছিলেন! ভিডিওতে বেলজিয়ামের সাথে ১৯৮৬-র সেই খেলা দেখা যেতে পারে। সেদিন তিনি আরও একখানা গোল করেছিলেন, সেটাও দেখতে শুনতে খুব খারাপ ছিল না।
    আরও বলা হচ্ছে, মারাদোনার পাশে নাকি ভাল ভাল খেলোয়াড় ছিল, যা এখন নেই। বিশ্বকাপ খেলছেন, অথচ ভাল নন, ‘সোনার পাথরবাটি’ মার্কা হয়ে যাচ্ছে না!
    আর পেলে, মারাদোনা, মেসি বা নেইমার—প্রত্যেকে নিজেরা নিজেদের মতই ভাল খেলতেন বা ভাল খেলেন, কারও সাথে অন্য কারও তুলনা করা যায়না এভাবে!
    বেচারা নেইমারের কথা শুনে আর টিভিতে দেখে খুব খারাপ লাগছে। এমন চমৎকার খেলোয়াড়ের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া খুব একটা ভাল বিজ্ঞাপন নয় ফুটবলের পক্ষে!এ ত প্রকারান্তরে সবাই বলছে! এতদুর থেকে আর না দেখে কিছু বলা ঠিক নয়, তাহলেও ফাউলের ছবি দেখে ব্যাপারটা ‘ফিশি’ বলেই মনে হচ্ছে! ফিফা ত তদন্ত করবে বলেছে। দেখা যাক কি প্রকাশ পায়।

     
  • ভাঁড়ের চা 2:14 pm on July 4, 2014 Permalink | Reply  

    নাম করন ? 

    নত্নন নামকরন হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে। খবরের কাগজে বা ধারাভাষ্যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো হয়ে গেছেন ‘সি আর সেভেন’ (C R 7) মেসি হয়েছেন এল এন ১০ (L M 10) । কেন হয়েছেন বুঝলাম না। সহজে বা সংক্ষেপে লেখা বা বলার জন্য ? রোনাল্ডো’র ক্ষেত্রে সেটা চললেও মেসির ক্ষেত্রে একেবারেই অচল। ‘মেসি’ লেখা বা বলা সহজতম। তাছাড়া সাত নং রোনাল্ডো বাদে আরও ছ’জন। ১-৬ নং জার্সিধারী আরও অন্তত ৬ জন রোনাল্ডো আছেন ধরে নেওয়া যেতে পারে। তাঁরা কোথায় বা কোন দলে আছেন ? আছেন কি ? বা আরও ন’জন ( ১-৯ নং জার্সিধারী) মেসি ? নিজের দলে বা অন্য কোন দলে ? বোঝা দায় !
    কি বলা যায় একে ?

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 4:14 pm on July 6, 2014 Permalink | Reply

      বিশ্বকাপের ফ্যাশন। আচ্ছা, এই যে দশ নম্বর জার্সিতে এক কালে যেরকম প্রবাদ প্রতিম লোকজন খেলে গেছেন, আজকাল আর সেরকম দেখা যাচ্ছে কি?

    • ভাঁড়ের চা 1:01 pm on July 7, 2014 Permalink | Reply

      আমার নজরে ঠিক পড়ে নি ! পেলে মারাদোনার সমকক্ষ খেলোয়াড় কই ? যাঁদেরকে শিরোপা দেওয়া হচ্ছে তাঁরা তাঁদের মত ভাল কিন্তু প্রবাদ প্রতিম ১০ নং এর মত কিনা এটা আমারও জিজ্ঞাস্য।

  • ভাঁড়ের চা 1:28 pm on June 29, 2014 Permalink | Reply  

    ‘তোমার দেখা নাই—‘ 

    বড়নামধারী(‘কফি’-যুক্ত) সদস্যদের আড্ডাবাজিটা বোধ হয় অন্যত্র চলছে, তাই নামে ‘কফিহাউসের আড্ডা’ হলেও চা-সেবিদেরই নিয়মিত আনাগোনা চলছে সেখানে!
    চা-সেবিদের প্রতিভূ হিসেবে বলতেই হচ্ছে, আর বেশীদিন বোধ হয় আনাগোনার উৎসাহ থাকবে না। তবে পুরোন জিনিষের প্রতি মায়ার টানে সামান্য দীর্ঘায়িত হতে পারে সেই উৎসাহ! সেই পুরোন ”মুরারি’দার ক্যান্টিন”টা ত চট করে ভোলা যায় না। কালোকুষ্ঠি কাঠের টেবিলের চারপাশে রাখা কাঠের বেঞ্চি আর খানকতক লোহার প্রিয় চেয়ারসমৃদ্ধ (মোটা মোটা তারের মত লোহা জড়িয়ে জড়িয়ে তৈরী চারপেয়ে, পিঠের ঠেকনা সমেত) ক্যান্টিনটা ভোলা যায় না, আর ভোলা যায় না “মুরারিদা, দুটো চা, তিনটা ভাঁড়” হাঁকপাড়া। তাই এখনো আসা-যাওয়ার অভ্যাসটা ছাড়া যাচ্ছে না।
    দেখি কতদিন পারা যায়!

     
  • ভাঁড়ের চা 1:52 pm on June 22, 2014 Permalink | Reply  

    পুজো-২০১৪ । 

    উদবাহু হয়ে নৃত্য করার দিন এসে গেল। আর মাত্র ১০০ । আজ সকালেই টিভি চ্যানেলগুলো হিসেব সহযোগে যথারীতি গা গরম করা শুরু করল! আমি চাই বা না চাই আমাকেও এদের সঙ্গী হতে হবে!

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 8:15 pm on June 27, 2014 Permalink | Reply

      পুজোয় আনন্দ করার দিনগুলো কবেই হারিয়ে গেছে। এখন কেবল হুজুগের পুজো। তবে মেয়ের সাথে আমি প্রথম পুজো দেখব – সেই আনন্দে হয়তো দিন গুনব।

  • ভাঁড়ের চা 1:36 pm on June 17, 2014 Permalink | Reply  

    রবিদা- আমার কলকাতা দর্শন– 

    রবিদা’র কথা বলি। রবিদা, আমার পিশতুত দাদা, আমার খুব প্রিয় এবং কলকাতা চেনাবার গুরু। একদিন দুপুরে “দু’আনা পয়সা আছে ? চ’ তোকে গড়ের মাঠ দেখিয়ে আনি। দেখেছিস ? চ, চ।” বলে রওনা দিলেন।
    রবিদা আর অনেক শোনা গড়ের মাঠ, চুম্বকের মত এমন প্রবল আকর্ষন যে উপায় নেই! সঙ্গী হলাম রবিদা’র। নারকেলডাঙ্গা(ফুলবাগানের কাছাকাছি) থেকে হেঁটে রাজাবাজারে এসে ট্রামে তিন পয়সার টিকিটে ধর্মতলা। “বাদাম কেন দু’পয়সার”। ইতস্ততঃ করতে গিয়ে ধমক খেলাম, “ফেরার জন্য তিন পয়সা থাকছে ত, অত ভাবার কি আছে ?” হাঁটতে হাঁটতে প্রথমে মনুমেন্ট দেখে হাঁ করে দাঁড়িয়ে দেখলাম, তারপর রবিদা’র আজ্ঞা মেনে সোজা ফুটবল মাঠ আর ক্লাব টেন্টগুলোর দিকে রওনা। সোজা ইষ্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁবুর দিকে (ঐ ক্লাবের পাঁড় সমর্থক, এদিকে এলে একবার না ঢুকলে ভাত হজম হয় না।)
    এখনকার কথা বলতে পারব না, তখন ক্লাব তাঁবু সকলের জন্য অবারিত ছিল বলেই মনে হয়। রবিদাকে দেখেছিলাম নিম্নবর্গের কর্মিদের সাথে খুব দহরম-মহরম। তাদের কারও সাথে কথা বলতে বলতে তিনি ঢুকে গেলেন আমাকে সঙ্গে নিয়ে।
    কর্মকর্তাদের কারও কারও সাথেও দেখলাম তাঁর বেশ আলাপ। ওঁদের সাথে কথা বলতে বলতে আমাকে এটা সেটা দেখাচ্ছলেন আর বোঝাচ্ছিলেন।
    হঠাৎ বললেন, ‘চ, এবার যাই, খেলা দেখে আসি’। কোথায় , কার খেলা কে জানে। জানা গেল কোন ঘেরা মাঠে ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের খেলা আছে। প্রশ্ন করতে জানা গেল আমরা টিকিট কিনতে পারব না, তাই ‘র‌্যামপার্ট’-এ খেলা দেখব। র‌্যামপার্ট হল তাদের জন্য, যারা কোন কারনে টিকিট কিনতে পারে না, তাদের জন্য। খেলার মাঠের তিন দিক ঘিরে কাঠের গ্যালারিতে টিকিট কাটা দর্শকেরা বসে খেলা দেখত, আর এক দিক ঘেরা হত না, কাঁটা তারের বেড়া থাকত, মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে বিনা টিকিটের দর্শকেরা খেলা দেখত। এটা র‌্যামপার্ট।
    এই খানে কাজ চালানোর মত ‘পেরিস্কোপ’ দেখেছিলাম। দর্শকদের ভাড়া দেওয়া হত খেলা দেখবার জন্য। ভীড়ের সময় বা বেঁটে হলে ভাল করে কিছুই দেখা যেত না। তখন দরকার হত পেরিস্কোপের।

     
    • ক্যাফে ক্যাপচিনো 12:10 am on July 2, 2014 Permalink | Reply

      পেরিস্কোপের কথা কেবল ছোটবেলায় বিজ্ঞান বইতে পড়েইছি। এই প্রথম শুনলাম আসলে সেই জিনিসটা ব্যবহারও হত।

      দু-আনা পয়সায় গড়ের মাঠ দেখার এই যে নির্মল আনন্দ, এর কিন্তু তুলনাই হয় না আজকের দিনে। এত সহজে খুশি হওয়ার উপায়গুলোই যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

    • ভাঁড়ের চা 1:02 pm on July 10, 2014 Permalink | Reply

      এর পর ইডেন গার্ডেনের কথা বলব, সেটাও একটা দারুন অভিজ্ঞতা ছিল আমার কাছে। প্রকাশের সঠিক ভঙ্গির অভাবে এই গল্পগুলো জমিয়ে বলা যাচ্ছে না!

c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel