Updates from করট্যাডো Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • করট্যাডো 9:01 pm on April 8, 2013 Permalink | Reply
    Tags: নেদারল্যান্ডস   

    ইউরোপ ভ্রমণ – (১) 

    অনেকদিন পরে আবার এলাম তোমাদের সঙ্গে আড্ডা দিতে। কাজের চাপ আর ঘুরতে যাওয়ার তাড়ায় এখানে আসা হয়নি। এত গম্ভীর আলোচনার মধ্যে, আমার ঘুরতে যাওয়ার একটু গল্প শোনাই। আমি এই Easter এর ছুটিতে গিয়েছিলাম আমস্টারডাম, ব্রাসেলস, বার্লিন আর হামবুর্গ। এই সবকটি দেশের বিশেষত্ব হল জল। শহরের বেশ কিছুটা অংশ জলপথে ঘেরা আর সেটাই দেশগুলির সৌন্দর্য।
    আমস্টারডাম (অর্থাৎ হল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডস) খুব ভাল লেগেছে। একটা বিশেষ গতি রয়েছে সেখানে। সকাল হোক বা রাত্তির সবাই জেগে – আনন্দে উন্মত্ত, কোন এক মনোরম উৎসবে যেন তাল বেতালে নেচে চলেছে। আমরাও তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছুক্ষণ মত্ত হয়ে উঠলাম। বেশ লাগল। প্রথমেই চলে গেলাম Kekonhoff Garden। সেখানে লক্ষ লক্ষ টিউলিপ ফুলের মেলা। এই ফুলের বাগানটি খোলা থাকে বছরের দুটি মাস। ২১শে মার্চ থেকে মে’র মাঝামাঝি। সারা বাগান প্রচুর ফুলে ভর্তি থাকে। এবারে শীতটাও খুব পড়েছিল আর অনেকদিন ছিল বলে বাগানটা পুরোপুরি আমাদের জন্যে সেজে উঠতে পারেনি। কিন্তু তাও যেটুকু দেখেছি অসাধারণ। বাকিটা ছবিতে ও কল্পনার তুলি দিয়ে আঁকা। এত রঙ, এত সৌন্দর্য যে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠেছে ভাবলেই কিরকম একটা লাগে। শুধু কিছুটা যত্নে তারা ফুটে উঠেছে, সাজিয়ে চলেছে আমাদের পৃথিবীটাকে। অপূর্ব রঙের মেলায় গিয়ে পৌঁছলাম। বিশাল এই প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখে ছবি তুলতে প্রায় চার ঘণ্টা লাগল। তারপর ফিরে এসেই আমরা চলে গেলাম একটি ক্যানাল ক্রুজ – মানে জলপথে শহর পরিক্রমা। বেশ লাগল সেটাও। পরপর কয়েকখানি সেতুর নিচে দিয়ে জলপথে শহরের বিশেষ বিশেষ জিনিস গুলো দেখতে দারুণ লাগছিল। তার মধ্যে সব থেকে বিখ্যাত অ্যানি ফ্রাঙ্কের বাড়ি।
    এই করেই কেটে গেলো বিকেলটা। তারপরেই রাতের আলোয় আর এক নতুন অভিজ্ঞতা। হাটতে হাটতে পৌঁছে গেলাম এক বাণিজ্য নগরে। সেখানে প্রচুর বড় বড় ব্যবসায়ী, Entrepreneur বললে চলে। তারা নিজেরাই সম্পূর্ণভাবে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বেচাকেনার মূল সম্পদটা হল শরীর। এখানে না কোন দালাল, না কোন মালিক এর প্রশ্ন রয়েছে। এখানে এক একটি মহিলা, সরকারের থেকে একটা ছোট ঘর ভাড়া করে তাদের দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রদর্শন করে ব্যবসার প্রচার করে এবং সারাক্ষণ পুলিশ তাদের সুরক্ষার জন্যে ঘুরে বেড়ায়। এই জায়গাটির নাম Red Light District – এই ব্যবসা নগরী হয়ে উঠেছে টুরিস্টদের এক অন্যতম দর্শন স্থান।
    পরের দিন সকালে আমরা চলে গেলাম নেদারল্যান্ডস এর গ্রাম আর উইন্ড-মিল দেখতে। ওদের গ্রাম আমাদের সল্টলেকের থেকে বেশি উন্নত। সারি সারি উইন্ড-মিল, নদী ও মাঠ পেরিয়ে দেখতে গেলাম অতি বিখ্যাত ডাচ চিজস কিভাবে তৈরি হয়। তাদের প্রাচীন এবং আধুনিক মেশিন দিয়ে গোটা সিস্টেমটা বোঝালেন সেই কারখানার কিছু কর্মী। বিভিন্ন চিজের স্বাদও নিলাম আমরা। তারপরে দেখলাম আরও এক বিশেষ জিনিস। আর এক বিখ্যাত বস্তু হল কাঠের জুতো। গেলাম সেই কারখানায়। দেখলাম কি সহজে তিনটি মেশিনের দ্বারা কাঠের জুতো তৈরি করা হয়। বিভিন্ন ধরনের কাঠের জুতোর মধ্যে আমার সব থেকে ভাল লাগল Smuggler Shoes। এই জুতোর বিশেষত্ব এই যে জুতোর নীচের আকার এমন করে বানান যে যেই দিকে ব্যক্তি হাঁটবে তার অন্য দিকে পায়ের ছাপ পড়বে। বেশ ভালো লাগল অন্যায় করে ধরা না পড়ার এই পদ্ধতি দেখে। এই সব সেরে আমরা ফিরে এলাম আবার শহরে।
    দেখে নিলাম ডাম স্কয়ার এর জমজমাট ভিড় আর আড্ডা। বিশাল এক উৎসব যেন। বিশাল বিশাল নাগরদোলা এবং সাংঘাতিক কয়েকটা দোলনা । সেই সব দেখে টুকটাক খেয়ে ঢুকে গেলাম মাদাম টুস্যাডস মিউজিয়ামে। বিখ্যাত ব্যক্তিদের মোমের পুতুল এ ভরতি এই মিউসিয়াম । কি নিখুঁত কাজ , না দেখলে ভাবা যায় না । দেখে বোঝাই যাবে না, সত্যি না মিথ্যে। সব থেকে মজার ব্যপার হল , এত মোমের পুতুল দেখে, যখন কোন মানুষ কে, একটু চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছি , তখন মনে হচ্ছে সেও যেন একটা পুতুল। সেইসব দেখে আর কিছু মিউজিয়াম দেখে শেষ করলাম হল্যান্ড ভ্রমণ। সারাদিন ঘুরে রাতে পৌঁছে গেলাম বেলজিয়ামে। কিন্তু সে গল্প আরেকদিনের জন্যে তোলা থাকল। আজ আসি। পরে আবার আমার ভ্রমণ কাহিনী শোনাব।

     
    • ক্যাপাচিনো 10:10 pm on April 8, 2013 Permalink | Reply

      যদিও আমস্টারডাম কখনো যাইনি, তবু তোমার ভ্রমণকাহিনী শুনে মনে মনে ঘুরে নিলাম। স্মাগলার শু র ব্যাপারটা আগে শুনিনি। বেশ অভিনব। আর আমস্টারডামের রেট লাইট এরিয়ার কথা শুনলেও তার এরকম বিবরন এই প্রথম পড়লাম।

      • kortado 12:21 am on April 11, 2013 Permalink | Reply

        ধন্যবাদ । আরও গল্প শোনাব বাকি যায়গা গুলোর। তাছারা রেড লাইট এরিয়া দেখে আমার যা মনে হয়েছিল তাই তোমাদের বললাম।

    • কর্কশ 10:21 am on April 9, 2013 Permalink | Reply

      ক্যানাল ক্রুজ হবে বোধ হয় । আর ক্লগ শ্যু পরে চিজ ফ্যাক্টরি ঘুরে এলে আরো ভালো লাগত । হয়ত বা গেছিলেন লেখক । কিন্তু হল্যান্ডের সারে সারে উইন্ড মিল আর সেই মিলে পরিচালিত অগণিত চিজ ওয়ার্কশপে কত রকমের চিজ দেখার, গন্ধ নেবার আর খাওয়ার সাধ হয়েছিল আমারো । ভুলতে পারিনা সেই কথা । আরেকটা কথা এই টিউলিপ গার্ডেনে আমাদের বিখ্যাত অমিতাভ-রেখা অভিনীত ছবি “সিলসিলা”র শ্যুটিং হয়েছিল । বড্ড ছোট ভ্রমণ বেত্তান্ত । ফুরায়ে গেল তাড়াতাড়ি ।

      • kortado 12:30 am on April 11, 2013 Permalink | Reply

        একদম ঠিক ওটা ক্যানাল ক্রুজ ই হবে। ক্লগ শ্যু পরিনি যদিও তবে বিশাল দুটো কাঠের জুতো পরে মজার একটা ছবি তুলেছি। 🙂 সিলসিলা”র সেই মাঠ টা একদম ফাঁকা ছিল। এবারে বেশি শীত থাকার জন্যে একটাও ফুল ফোটেনি তখন। তবাকি বাকি যায়গা গুলো দেখে মন ভরে গেছে। কিন্তু যদি আমার যেতে যেতে মাঠ তা ভরা থাকত তাহলে দারুন দুটো ব্যপার হত। প্রথম ওই মাঠ টির পাশ দিয়ে নৌকা ভ্রমণ করতে দারুন লাগত, যেটা প্লানে ছিল কিন্তু ফাঁকা মাঠ দেখে আর করিনি। দ্বিতিয়ত আমি রেখা সেজে একটা ছবি তুলতে পারতাম…… হি! হি! হি!

        • ক্যাফে লাতে 4:10 am on April 23, 2013 Permalink | Reply

          তোমার লেখা অবশেষে সময় নিয়ে পড়লাম করট্যাডো। বেশ ভাল লাগল পড়ে। নতুন দেশে সম্বন্ধে জানতে তো বেশ ভালই লাগে।পরের কিস্তির অপেক্ষায় রইলাম।

          পারলে সাথে এক দুটো ছবি দাও।

  • করট্যাডো 3:31 am on March 5, 2013 Permalink | Reply  

    আমি অনেকদিন সিনেমা হল এ গিয়ে সিনেমা দেখিনি………।।খুব মিস করছি………।।বেশ হলে বসে পপকরন খেতে খেতে হিন্দি সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করছে। কত গুলো সিনেমা বাকি রয়ে গেছে………।।কবে যে দেখব ভগবান জানে?

     
    • ক্যাপাচিনো 12:37 pm on March 5, 2013 Permalink | Reply

      ওরকম ভাবলে কি চলে? কত সিনেমা আছে – যা উইশলিস্টে পড়ে আছে, কিন্তু দেখব দেখব করে দেখা হচ্ছে না। :dp

    • ক্যাফে লাতে 2:54 pm on March 5, 2013 Permalink | Reply

      হ্যাঁম ওই উইশলিস্ট বানাতে বানাতে জীবন জুড়ে এখন শুধুই লিস্ট

  • করট্যাডো 3:32 am on March 4, 2013 Permalink | Reply  

    সকল চা কফি বন্ধুদের আমার নমষ্কার। আমি এই চা-কফির আড্ডায় নতুন এলাম। করট্যাডো হচ্ছে এক ধরনের স্প্যানিশ কফি – এক্সপ্রেসো আর একটু দুধ। আমি সবে সবে বাংলায় টাইপ করছি বলে কিছু ভুল থাকতে পারে। আশা করি আগামী দিনে আড্ডাটা জমে উঠবে।

     
    • ক্যাপাচিনো 3:54 am on March 4, 2013 Permalink | Reply

      নিশ্চয়ই জমবে। তোমার এই নামটা আমার কাছে অন্ততঃ একটু অপরিচিত বটে। তবে এক্সপ্রেসো কি জিনিস তা জানি। সেই নিয়ে একটা গল্পও আছে। বলব আরেকদিন।

    • ক্যাফে লাতে 8:43 am on March 4, 2013 Permalink | Reply

      বাহঃ আড্ডায় স্বাগত করট্যাডো। আড্ডা জমে যাবেইঃ) নিয়মিত পোস্ট দিতে থাক, আর কি চাই!

c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel