মহাভারত পড়া (১)

একটা বই অনেক দিন ধরে খুঁজছিলাম – রাজশেখর বসুর ‘মহাভারত’ সারানুবাদ। কিন্তু পাচ্ছিলাম না। বইমেলাতেও দেখিনি। কদিন আগে ‘কফি বিনস’ একটা বইয়ের দোকানে দেখতে পেয়ে আমাকে এনে দিয়েছে। বইটি অনামী কোন এক প্রকাশকের (এম সি সরকার অ্যাণ্ড সন্স)। প্রিন্টও ভালো নয়। পাতাগুলো দেখলে মনে হবে বোধহয় কোন এক সময় ভিজে টিজে গিয়েছিল। কিন্তুা পড়তে গিয়ে প্রতি পদক্ষেপে লেখকের তারিফ না করে পারছিলাম না। ভূমিকা থেকে একটা ছোট্ট উদ্ধৃতি না দিয়ে পারছি না।
“সকল দেশেই কুম্ভীলক বা plagiarist আছেন যাঁরা পরের রচনা চুরি করে নিজের নামে চালান। কিন্তু ভারতবর্ষে কুম্ভীলকের বিপরীতই বেশী দেখা যায়। এঁরা কবিযশঃপ্রার্থী নন, বিখ্যাত প্রেচীন গ্রন্থের মধ্যে নিজের রচনা গুঁজে দিয়েই কৃতার্থ হন। এইপ্রকার বহু রচয়িতা ব্যসের সহিত একাত্মা হবার ইচ্ছায় মহাভারতসমুদ্রে তাঁদের ভাল মন্দ অর্ঘ্য প্রক্ষেপ করেছেন।”
শুধু ভূমিকাটুকু পড়ে এত ভালো লাগল যে মনে হচ্ছে কিছু লেখা মহাভারত নিয়ে লেখাই যেতে পারে। এখানে যেটুকু বললাম সেটা সকলেরই জানা উচিত মহাভারত পড়া শুরু করতে গেলে। রাজশেখর বসু আমার খুবই প্রিয় লেখক। উনি ভূমিকাতেই অনেক জটিল প্রসঙ্গ খুব সহজে বলেছেন।
বইটা হাতে নিয়ে এটাই মনে হচ্ছে গদ্য আকারে মহাভারত এই আয়তনে খুব কমই আছে। আজকাল কত বই বেরোচ্ছে – কত ভালো ভালো বইয়ের কাগজ। কিন্তু আমাদের গর্ব করার মত বইগুলো সংরক্ষনের ব্যবস্থা কোথায়। আমার দাবী বাংলা ভাষার সমস্ত কপিরাইট মুক্ত লেখার ডিজিটাল আর্কাইভ হোক।