এবং ঋতুপর্ণ চলে গেলেন

কফিহাউজে ওনাকে নিয়ে দুটো পোস্ট ইতিমধ্যে পড়ে গেছে। আর একটা দেওয়ার কারন এটাই যে একটা ছোট্ট ঘটনা বলতেই হয়। কদিন ধরে দেখছি ফেসবুক শোক সংবাদে ভেসে যাচ্ছে।

এর মধ্যে এরকম অনেকেই আছেন – যাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয়ও রয়েছে – যাঁরা একসময় ঋতুপর্ণকে সামনাসামনি একটা উপহাসের পাত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন গল্প, আড্ডা ও লেখায়। অথচ সেইরকম অনেকেই এখন যেন দুঃখে ভেসে যাচ্ছেন, মেনে নিতে পারছেন না বাংলা সিনেমার এত বড় ক্ষতির কথা। মনে পড়তে খারাপ লাগছে মীরের তুলে ধরা সস্তা নাটুকে মুহুর্তগুলোই তাঁরা খুব রসিয়ে রসিয়ে বলেছেন, তুলে ধরেছেন একাধিকবার। একজন সামান্য ভাঁড় হয়েছেন আমাদের রসদ, অথচ যিনি প্রকৃত মুক্তমণা পরিচালক, যিনি যৌনতার রাখঢাক ব্যাপারটা মুছে সত্যিটুকু সিনেমার পর্দায় এনে প্রশ্ন করেছেন আমাদের, তাঁকে করেছি ব্রাত্য।

কেন জানি না এটা বড় বেশি ভড়ং বলে মনে হচ্ছে। আর কিছু হোক না হোক, এই একটা জায়গায় তো বাঙালি কম যায় না। আফশোস এটাই যে এরকম একজন প্রতিভার প্রকৃত মূল্যায়ন করার মত মানসিকতা আর যাই হোক আম আদমীর নেই। বিশ বছর ধরে সিনেমা বানিয়ে যে উপহার উনি আমাদের দিয়ে গেছেন, তা বুঝতে দর্শক হিসেবে আমরা অনেক অনেক পিছিয়ে।

সেলাম ঋতুপর্ণ।