একটি আদর্শের জন্ম

আজকের দিনটা শেষ হতে আরও অল্পক্ষন বাকী আছে, কাজেই পোস্টটা এখনও দেওয়াই যায়।

কদিন আগে ফেসবুকে এদিক ওদিক করছি – দেখি একটি বাংলা পেজ। বিভিন্ন জোকস ও কার্টুন। ভাবলাম দেখি। দেখতে দেখতে অবাক হলাম সহজ সাধারন হাস্যরসাত্তক পোস্টের মধ্যে আছে একাধিক পোস্ট যেখানে ভারতীয়দের প্রতি ঘৃণা উগরে দেওয়ার জন্য রয়েছে বেশ কিছু ছবি, যেগুলো ভারতীয় হিসেবে মেনে নেওয়া অত্যন্ত অবমাননাজনক। যাই হোক, বিতর্ক উস্কে দেওয়ার জন্য সেকথা বলছি না। আমি বেশ কিছু ভারতীয় পেজও দেখেছি যেখানে পাকিস্থানকে নির্বিচারে গালি দেওয়া হয়। সেখানেও সঙ্গে থাকে ফটোশপ করা কিছু পোস্ট। পাকিস্থানেরও এরকম পেজ থাকা অস্বাভাবিক নয়। প্রশ্ন সেটা নয়। টেকনোলজির হাত ধরে দিনের পর দিন এগিয়ে চলেছি – অথচ অনর্থক কিছু অভিমান আঁকড়ে ধরে থাকব, এই মানসিকতার থেকে বেরোতে পারিনা আমরা কেউই। এমনকি ইন্টারনেরটের মত এই চমৎকার প্লাটফর্ম, যেখানে কিনা দেশের বেড়াজাল মুছে গেছে – সেখানেও বের করে আনছি নিজেদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা তীব্র সাম্প্রদায়িক গরল। এই উপমহাদেশ কি সেই সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে, মৌলবাদ ঝেড়ে ফেলে একটি সুস্থ সমাজ উপহার দিতে পারে না – যাতে উন্নতি হয় সাধারন মানুষেরই? এই ঘৃণার বীজ কার জন্য?

একটি জাতি – ধরে নিচ্ছি জিনগত ইতিহাস মেনে নিয়ে এই উপমহাদেশের মানুষ নিজেদের ভাই ভাবতে পারেন – কি বেঁচে থাকার জন্য ঘৃণাকে আশ্রয় করবে না যুক্তিনির্ভর বিজ্ঞানকে সেটা নির্ধারন করতে হবে তাদেরকেই। আজকে ২৫ শে মে – কবি কাজী নজরুলের জন্মদিন। তাঁর স্মৃতিতে হয়তো অনেক উৎসব হচ্ছে, পালিত হচ্ছে সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু তার আগে যে কবির দিয়ে যাওয়া আদর্শের পালন অনেক জরুরী – সেটা কি আমরা মনে করি না? সাহিত্যকীর্তির দিক থেকে অমরতা লাভ করার আগেও, যে সাম্যের বীজ বপন করে গেছে তাঁর আদর্শ, আমার তো মনে হয় সেই আদর্শের জন্মলগ্নই আমাদের পালন করা উচিত, শুধু নামে নয় – কাজেও।
কফিহাউজ একটি মুক্ত প্লাটফর্ম মনে করে সাহস নিয়ে এই পোস্ট দিলাম।