মজারু ৫ – পাথরকুচি কেস

আগের মজারু


বাবার অফিসে ঘটনা আগেও বলেছি। এটা নতুন সংযোজন। বাবার অফিসে এক পিওন আছে – তার নাম তপন। আমরা তপনদাই বলি সাধারনতঃ। এ হেন তপন’দার খুব ইংরেজি বলার শখ। শুনেছি এক কালে তিনি একটি কুরিয়ার কোম্পানিতে কাজ করতেন আর কেবল ইংরেজিতেই কথাবার্তা বলতেন অর্থাৎ অফিসে পৌঁছে জিজ্ঞেস করতেন, “নাথিং থিং?”
ডেস্কে বসে থাকা কর্মচারীটিও সেই তালে তাল দিয়ে চলতেন। যাক গে, সে সব অনেক অনেক দিন আগের কথা। দিনকাল বদলেছে। আজকাল তো আর সেভাবে ইংরাজি বলতে হয়ই না। তাও বাবা একদিন দেখলেন যে তপন’দা একটা বই হাতে করে অফিসে এসেছে – ফুটপাত থেকে কেনা ইংরাজি শেখার বই।
বাবা অবাক হয়ে বললেন, “এই বই দিয়ে তোর কি হবে রে তপন?”
তপনদা – “কেন? ইঞ্জিরি শিখব। বয়েস হয়ে গেছে বলে কি ইঞ্জিরি শিখতে পারব না নাকি?”
বাবা তখন খুশি হয়ে বললেন – “আচ্ছা শেখ। বেশ মন দিয়ে পড়াশুনো কর। দিন দশেক বাদে একটা কথা ইংরেজিতে বলতে বলব। পারলে এক হাজার টাকা পুরষ্কার পাবি।”
এর পর কিছুদিন কেটে গেছে। তপনদা বই মুখে করে থাকে অনেক সময়।
তপন’দা একদিন এসে বললে যে ইঞ্জিরি শেখা হয়ে গেছে। বাবাও হাসিমুখে বললেন – বেশ, ইংরাজিতে বল তো দেখি – আমি আমার হারান কাকাকে খুঁজে পেলাম। তপন’দা আরও দিন দুই সময় নিয়ে বইটই নেড়েচেড়ে এসে বললে – আই প্রাউড মাই ফাদার। অফিসে আরও যারা সেই ইংরেজি শুনেছে, তাদের সবার তো মাথায় হাত।
সব শুনেটুনে জেঠু বললেন – “ও এ তো পাথরকুচি কেস!”
সব্বাই গল্পের গন্ধ পেয়ে জেঠুকে ঘিরে ধরলে – “সে আবার কি কেস?”
জেঠু আরাম করে চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন, “ও তেমন কিছু না। অর্শ্ব হয়েছিল আমাদের এক বন্ধু তরুনের। তা এখন একটা বইতে তখন টোটকা হিসেবে লেখা ছিল যে অর্শ্ব হলে পাথরকুচি পাতা বেটে লাগাতে হবে। ডিটেলস এ যাচ্ছি না, কিভাবে। কিন্তু হয়েছে কি ‘পাতা’ কথাটুকু উইপোকায় খেয়ে গেছে – ফলে সেই লেখা দাঁড়িয়েছে ভালো করে পাথর কুচি লাগাতে হবে। তা তরুন তো অতশত জানে না, সে বইয়ের লেখা মতই স্টোনচিপ এনে ঘষে দেখতে গেছে কি হয়। তারপরে বাবা রে, মারে করে প্রায় এক রক্তারক্তি কান্ড – আমাদের তো হসপিট্যালেই নিয়ে যেতে হয়েছিল। তাই বলছিলাম, তপনেরও ঐ একই কেস হয়েছে!”
তপন’দা গম্ভীরমুখে বললে,”থাক থাক আর বলতে হবে না। আমার বেনটা খারাপ – তবে এতটাও খারাপ নয়”