কফিহাউসের আড্ডা।

“চফি” হওয়ার কারণ বোধ হয় কিবোর্ডের দুষ্টুমি, আর কিছু নয়।
এবারে অন্য কথা।
প্রাচীন মানুষের প্রাচীন নাম হওয়াটাই ত স্বাভাবিক। তাতেই ত ভাঁড়ের চা! তাছাড়া এই নামটার প্রতি

একটা ‘ইয়ে’ও আছে।
ছোটবেলার একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি।
পাড়ার মোড়ে বড় রাস্তার ওপর চায়ের দোকান ছিল মুরারি-দা’র, আর ওই দোকান ছিল বড়দের আড্ডাঘর।

ছোটদের প্রবেশ নিষেধ! সেদিন ঐ দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময় শুনি পাড়ার দাদা অধীরদার গলা, ” মুরারি

দা, একটা চা, আর তিনটা ভাঁড়।” আরে! কি হল ব্যাপারটা ? দেখতে হচ্ছে ত!

তখন বুঝিনি, পরে বড় হয়ে আমরা যখন সেখানে বসতে শিখলাম, তখন বুঝলাম। আমরাও সেই

অর্ডারই দিতাম মুরারিদাকে, অর্থাৎ একটার খরচে তিনজন।
পরের দিকে অবশ্য গাঁই গুঁই করতেন, দিতে চাইতেন না। দাদাদের মাস্তানি রুখতে কত আর গুনাগার

দেওয়া যায়! সব দোকানিরই একই অবস্থা। ক্রমাগত প্রতিবাদের ফলে, আস্তে আস্তে সেই ব্যাপারটা বন্ধ হতে

হতে ভাঁড় জিনিষটাই উঠে গেল। ভাঁড় উঠে যাওয়ার আর একটা কারণ নতুন, সস্তা, পলিথিনের কাপ।
ভাঁড়ের ইতিহাস নিয়ে ত কথা নয়, কথাটা ওই ‘ইয়ে’ নিয়ে।
‘সোঁদা সোঁদা’ গন্ধ কথাটার কথা প্রথম জানতে পারি বিভুতিভুষন বন্দোপাধ্যায়ের লেখা থেকে, খুব মনে

লেগে গিয়েছিল কথাটা। মনে হয় সবারই লাগে।
বন্ধুরা, জানেন কি গন্ধটা কেমন ? রোদে পোড়া শুকনো খটখটে মাটিতে প্রথম বৃষ্টি পড়লে মাটি থেকে

একটা ভাপ ওঠে, সাথে দোসর একটা গন্ধ। সেটার নামই সোঁদা গন্ধ। কলকাতায় তেমন গন্ধ পাবেন কি ?

আশ-পাশে মাটি থাকলে পেতেও পারেন!
ভাঁড়ের চায়ে ঠিক তেমনই গন্ধ পেয়েছিলাম কিনা বলতে পারছি না, তবে প্রথম চুমুকেই কেতরে

গিয়েছিলাম। সেই গন্ধটাই কি পেলাম ? অবিকল তেমন না হলেও মনে হল কাছাকাছিই বটে! ব্যস, তারপর

থেকেই গাঢ় সম্পর্ক।
এক সময় ব্যান্ডেল ষ্টেশনের চায়ের নাম-ডাক ছিল খুব (এখন কি দিয়ে মিষ্টি স্বাদ করে, আর কত বার

ফোটানো হয় তা জানিনা, সে জিনিষ আর নেই)। আর যে সময় ভাঁড়ের চায়ের দাম ছিল ১০/১২ পয়সার মত,

সেই সময়ে শিল্পাঞ্চলে চাকুরি এবং বাড়ি আসার সুবাদে, ওই ষ্টেশনে নেমে লোকাল ট্রেন ধরতে হত, মাসে

অন্ততঃ একবার। রেলের ‘পানীয়জল’ মার্কা ট্যাঙ্কের ঠান্ডা জলে গরমে ঝলসে যাওয়া মুখটা ভাল করে ধুয়ে এক

ভাঁড় চা! অমৃত আর কাকে বলে ?

সেই থেকেই ত ‘ইয়েটা’।
আর বন্ধু-বান্ধবরা ভাঁড়ের চায়ের প্রতি ভালবাসা দেখে আমার নামটাই পাল্টে ফেলল, আর তখন থেকেই

ত —–!