মজারু – ৪

আগের মজারু


খাবারের গুনাগুনের সঙ্গে জিভের রসনা একেবারে সমানুপাতিক নয়। যা পেটের পক্ষে ভালো, তা স্বাদের পক্ষে নয় – আবার উল্টোটাও বড় রকমের সত্যি। যেমন তেঁতো। ঐ জিনিসটা পাতে দেখলেই – মুখটা বাংলার পাঁচের মত হয়ে যায়। অথচ নিম বা উচ্ছে কোন না কোন একটা আগপাতে থাকবেই। আজকেও ছিল – বউকে আগেও কথাটা অনেকবার বলেছি, সে কানে নেয়নি। কিন্তু আজকে আমার মুখ দেখে অবাক হয়ে বললে, “হ্যাঁ গো, তেঁতো খাওয়ার সময় তোমার মুখটা সত্যিই কিরকম যেন বেঁকে যায়”
অনেক কষ্টে বললাম, “তাহলে এবার বিশ্বাস হল তো? আর আমাকে তেঁতো টেতো গিলিও না”
সে আরও খানিকক্ষন অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বললে, “তুমি যে কি কর এক এক সময় তা কিন্তু সত্যিই বোঝা যায় না বাপু – এই একদিকে বলো যে তেঁতো নাকি তোমার ভালো লাগে না, তাহলে ওরকম করে আঙুল চেটে পরিষ্কার করে খেলে কেন? যে জিনিস ভালো লাগে না তার জন্য ওরকম আবার কেউ করে নাকি?”
বললাম, “মেলা বক বক কর না তো, যাতে হাতে লাগা তেঁতো পরের খাবারগুলোর স্বাদ নষ্ট না করে দেয়, তাই জন্য এই ব্যবস্থা”
সে কপালে হাত দিয়ে বললে, “বোঝো! তোমার মত লোক আরেকটা দেখিনি।”


পুনশ্চঃ গল্পটা আমার গিন্নির জবানবন্দীতে লিখলে পাঠকরা বোধহয় একটু বেশি মজা পেতেন।