এক মাসের বিয়ে

এই খবরটা কারও নজরে এসেছে কিনা জানি না। আমির খানের ‘সত্যমেব জয়তে’র প্রথম পর্বটা যদি কেউ দেখে থাকেন তাহলে হয়তো মনে আছে সেখানে বলা হয়েছিল বেশ কিছু রাজস্থান বা হরিয়ানার গ্রাম্য পরিবারে বিয়ে কেনা হচ্ছে – অর্থাৎ দেশের একেবারে অন্য প্রান্তের গরীব ঘরের মেয়েকে টাকা দিয়ে একরকম কিনা আনা হচ্ছে স্থানীয় সমাজে পাত্রীর অভাবে, যেখানে শুধু একজন নয় পরিবারের অন্যান্য পুরুষও সেই বধূটির কাছে তাদের লালসা চরিতার্থ করছে।
নতুন ঘটনাটি ঘটছে হায়দ্রাবাদে – কিছু মুসলিম পরিবারে। সেখানে মেয়েদের এক মাসের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রবাসী বা বিদেশি পুরুষদের সাথে। কাজীর সঙ্গে যোগসাজসে প্রথমেই তৈরী করে নেওয়া হচ্ছে এক মাস পরের তালাকনামা। এরকম একটি ঘটনায় একজন কিশোরী পালিয়ে আসায় ঘটনা পুলিশের নজরে আসে এবং জানা যায় যে এই ঘটনা শুধু একবার নয় – অনেক ক্ষেত্রেই ঘটছে। এই মেয়েটির সাথে এক মাসের বিয়ে করতে চায় সুদানের এক তেল কোম্পানির লোক – যার জন্য সে দালালকে দেয় প্রায় ১২০০ পাউন্ড অর্থাৎ প্রায় লাখখানেক টাকা। তা কম কি – সব খুইয়ে যখন পুরুষ জাত মেয়ের সম্মানের সব রকম দরদাম ঠিক করে ফেলেছে, তখন এটাই বা কম কি?
এই পোস্টে অল্প কটা লাইন লিখতে আমার লজ্জা হচ্ছে, কিন্তু যারা এই কান্ড ভরদুপুরে করে যাচ্ছে, তাদের কিছুই হচ্ছে না। মনে হচ্ছে ভারতীয়দের মধ্যে বোধহয় একটা বড়সড় জিনগত পরিবর্তন আসছে – কানটা কাটা গেছে কোন কালে, সেরকমই থেকে যাচ্ছে, আর জুড়ছে না। বিবেক শব্দটা তো অনেককাল আগেই ডিকশনারি থেকে উঠে গেছে বোধহয়।


খবরটি যে আমার বানান নয় – তার প্রমাণ স্বরূপ দুটো লিঙ্ক নিচে দিলাম।
টেলিগ্রাফ (UK)
ফক্স নিউজ