চাপ সৃষ্টি করুন

মাঝে কদিন আসিনি। কিছু লিখতে ইচ্ছে করছিল না। মনের মধ্যে যেন অনেক অপরিচিত ক্ষোভ জমে ছিল। সেটা ঠিক ক্ষোভ, না অভিমান না লজ্জা তা জানি না। সে ভাষা নেই। তারপর দেখলাম কফিহাউজে তো সে সব নিয়ে কেউ কিছু লেখেন নি – তাই ভাবলাম আমার কথাগুলো না বললেও তো হত। কিন্তু তাও বলছি।

কাগজের পাতায় চোখ বুলোলেই একের পর এক ধর্ষণের খবর চোখে পড়ে। কসমোপলিটন শহরের আধুনিকা থেকে ছাত্রী থেকে গ্রাম-বাংলার গৃহবধূ, কেউ যেন রেহাই পায় নি। বলিহারি মিডিয়া – এই ধরনের খবর পরিবেষনার সময়েও একটা রগরগে ব্যাপার হিসেবে তুলে ধরার বিষয়টা যেন তারা ভুলতে পারেন না। যাই হোক, চোখ আটকে গেল একটি শিশুর ধর্ষনে। এও সম্ভব? ভয়াবহতা যে কতটা তা বুঝে উঠতে পারছি। প্রতিবাদ করব কি? কলমের ডগা কাঁপছে। আসলে আমি নিজে যতই বড় বড় কথা বলি না কেন, ভেতরে ভেতরে তো আমিও সেই মুখচোরা, সুখী, ঘরকুনো টাইপ। আমার কথায় কি যায় আসে?

সমস্ত ঘটনায় মনে হত আমাদের মধ্যে দুটো দুনিয়ার মানুষ বাস করেন। যত দিন যাচ্ছে – শুভবুদ্ধি আর অশুভশক্তির টানাপোড়েনটা যেন খুব কদর্যভাবে ফুটে উঠছে। কিন্তু একটু আগে একটা খবর দেখলাম যে এরকম নাকি অনলাইন গেম আছে যেখানে ধর্ষন করে পয়েন্ট জিততে হয়। এই গেম কে বানিয়েছে? নিশ্চয়ই দিল্লিতে পাঁচ বছরের শিশুর ধর্ষনে অভিযুক্ত অশিক্ষিত, বিকৃতমনষ্ক বিহারী নয় – নিশ্চয়ই কোন তথাকথিত শিক্ষিত মানুষেই? তাদের বিকৃতিটা ঠিক কোন পর্যায়ে, তারা ঠিক কতটা অসুস্থ?

তবে যত বিপ্লব, যত প্রতিবাদ সব নিছক কলমেই। ঐ পুকুরে একটা ঢিক ছোড়ার মতই। খানিক বাদে সব নিঝুম, নিস্তরঙ্গ। আরে দাদা একটু উঠে বসুন, চাপ সৃষ্টি করুন।