মজারু – ২

আগের মজারু


আমার জেঠুর মুখে শোনা গল্প। অনেক বছর আগের কথা। তখন জেঠু কাকারা কলকাতায় চাকরি করতেন – কাজেই লোকাল ট্রেনে ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করতে হত। এরকম যেতে আসতে প্রায়ই একটা দল তৈরি হয়ে যায়। সেখানে পাড়ার বা এক বয়সের লোকজন সাধারনতঃ একসাথে বসে, জায়গা রাখে – মুড়ি, বাদাম ইত্যাদি খায় আর গল্প আড্ডা দিতে দিতে ফিরে আসে। এদের মধ্যে একটু মুরুব্বি গোছেরও কেউ কেউ থাকে, ফলে আলোচনার সিংহভাগ তারাই দখল করে থাকে। এরকম একজনের ঘটনা।

তিনি ট্রেনে উঠে রোজ কোন না কোন বিষয় নিয়ে গল্প ফাঁদেন। গল্পের বিষয়বস্তু প্রায়ই বদলায়। এমন অবস্থায় একদিন ফিজিক্সে পোস্টগ্রাজুয়েট এর এক ছাত্রকে পেয়ে শুরু করলেন বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা। ব্যাখ্যা করতে লাগলেন আলট্রাভায়োলেট রে এবং ইনফ্রারেড রে কি, কখন দেখা যায়। ছেলেটিও লাজুক বলে মাথা নেড়ে সব শুনতে লাগল – প্রতিবাদ করল না। জেঠু আর থাকতে না পেরে বললেন, ‘হ্যাঁ রে, তুই স্যাটাজিট রের নাম শুনেছিস?”
পাছে এতক্ষন ধরে দেওয়া জ্ঞান যাতে হালকা না হয়ে যায়, তাই তিনি একটুও না দমে গিয়ে বললেন, “বাহ ঐটা শুনব না – ঐ তো সূর্য ডোবার সময় তো ঐ রে টা পৃথিবীতে এসে পৌঁছয়” – এদিকে যে ফাঁদে পা দিয়েছেন তা একেবারেই বুঝতে পারেন নি।
ব্যস আর যায় কোথায় – প্রথমে চুপচাপ থাকলেও পরে সবাই ফ্যাক ফ্যাক করে হাসতে শুরু করে।

শুনেছি তারপর ঐ ভদ্রলোকের জ্ঞান দেওয়ার অভ্যেসটা অনেকটা কমে যায়। এখনও পুরনো বন্ধুদের আড্ডায় অনেকেই স্যাটাজিট রে’র প্রসঙ্গ তুলে নিয়ে আসে।