কালবৈশাখী

হাবে ভাবে মনে হচ্ছে আজ মরসুমের প্রথম কালবৈশাখীর দেখা মিলবে। সকাল থেকে আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা, দূরে উত্তরে গুরগুর-দ্রিমিদ্রমি আওয়াজে মেঘ ডাকছে। এখন বৃষ্টি এলেই হয়। না যদি আসে, তাহলে আরো গরম বাড়বে।

কালবৈশাখী এলেই আমার একটা ছোটবেলায় পড়া কবিতার কথা মনে পড়ে যায়। পুরোটা মনে নেই, সেই কবিতার নাম ছিল ‘কালবৈশাখী, কবি মোহিতলাল মজুমদারঃ

মধ্য দিনের রক্ত নয়ন বদ্ধ করিল কে?
ধরনীর পরে বিরাট ছায়ার ছত্র ধরিল কে?
কানন-আনন পান্ডুর করি, জলস্থলের নিঃশ্বাস হরি,
আলয়ে কুলায়ে তন্দ্রা ভুলায়ে গগন ভরিল কে?

আজিকে যতেক বনস্পতির ভাগ্য দেখিযে মন্দ
নিমেষ গণিছে তাই কি তাহার আসারি সারি নিঃস্পন্দ
মরুৎ-পাথারে বারুদের ঘ্রাণ, এখনি ব্যাকুলি তুলিয়াছে প্রাণ,
পশিয়াছে কানে দূর গগনের ব্জ্র ঘোষণ ছন্দ

হেরি যে হোথায় আকাশ কটাহে ধুম্র মেঘের ঘটা
সে যেন কাহার বিরাট মুন্ডে ভীম কুন্ডল জটা
অথবা ও কি রে সচল অচল, ভেদিয়া কোন সে অসীম অতল,
ধাইছে উধাও, গ্রাসিতে মিহিরে ছিঁড়িয়া রশ্মিছটা


… এর পরে বোধ হয় আরো দুটো স্তবক ছিল, ভুলে গেছি, যারপরনাই লজ্জিত। তবে এইটুকুই এখনো মনে আছে দেখে নিজেই কিঞ্চিৎ বিস্মিতও বটে। পারবে আজকের ‘আধুনিক’ কবিরা এইরকম একখানা কবিতা লিখতে? যে কোনদিন কালবৈশাখী জন্মেও চোখে দেখেনি, সেও এই কবিতা পড়ে কল্পনায় কালবৈশাখী দেখতে পারবে।