উৎসবের স্মৃতি

আজ দোল। বারান্দা থেকে দেখছি কচি কাঁচারা নানা ধরনের পিচকিরি নিয়ে পাড়া দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নতুন ধরনের বললাম এই কারনে যে আগেকার সাবেকি পেতলের পিচকিরি আজকাল খুব কম দেখি – এখন রঙ বয়ে বেড়ানোর জন্য পিঠে একটা ব্যাগের মত কিছু জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এবারে আর রঙ খেলছি না অনেক কারনে। শুধু দেখছি। দেখতে দেখতে বছর দশ বার আগেকার সেই দোল খেলার স্মৃতি মনে পড়ে গেল। সে এক অদ্ভূত অভিজ্ঞতা বটে।
কলেজের সেই দিনগুলোতে দোল খেলায় নানা ধরনের নিয়ম কানুন ছিল। কে বানিয়েছিল জানি না – তবে বছরের পর বছর নিষ্ঠা ভরে তা পালন করা হত। প্রথম নিয়মটা হচ্ছে এক হোস্টেল থেকে আরেক হোস্টেল আক্রমন করা এবং কোন রকম রঙ মাখানর আগে জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফর্দাফাঁই করে দেওয়া। যার গায়ে একটুও জামাকাপড় থাকবে, তাকেই আক্রমন করা হবে। মনে আছে এক বন্ধু যে বছরে ৩৬৪ দিন আন্ডারওয়্যার পরত না, সেও শুধু দোলের দিনটার জন্য একসেট কিনে আনত দোকান থেকে। পরনে শুধু ঐটুকু আর তার ওপর ফালি ফালি কাপড়। একবার আমাদের ঐ হুলিয়া দেখে রাস্তার পুলিশেও প্রশ্ন করেছিল – তুম লোগকা রেপ হো গ্যায়া ক্যা?
তারপর রঙ, বাঁদুরে রঙ, বালতি ভরা রঙ এইসব তো ছিলই। কিন্তু ছেলেদের কাছে যেটা মস্ত বড় আকর্ষণ ছিল তা হচ্ছে গার্লস হোস্টেলের অবারিত দ্বার। ঐ একটা দিন কোন নিয়ম নেই, বাছ বিচার নেই। আগে কখনও কোন মেয়ের সাথে কথা হোক বা না হোক, সেই দিনটায় তাকে জড়িয়ে ধরতেও কোন বাধা নেই। আমাকে এক বন্ধু নিয়ে গিয়েছিল একবার – আমি একটু তফাতে দাঁড়িয়ে থেকে দেখতে অবাক হয়ে গেছিলাম। এখন বুঝতে পারি – ছেলেদের হাতে রঙ মাখার জন্য মেয়েদের উৎসাহও কিছু কম ছিল না।
সেখান থেকে প্রোফেসরদের বাড়ি গিয়ে মিষ্টি খাওয়া। রাস্তায় ঘোরা, ভাঙ – অবশেষে রঙ শেষ হয়ে গেলে কাদা ও বালি বালতি-তে গুলে মাখান আর সব শেষে বাগানে গিয়ে হোস পাইপ দিয়ে চান করা।
ওফ! স্মৃতির আর শেষ নেই, তবু অনেক দিন পর কথাগুলো বলে ভালো লাগছে।