গতকাল একটা নতুন জাপানি শব্দ শিখেছি। সেটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। শব্দটা হল ‘হাফু’। জাপানে মিশ্র জাতির ( bi-racial)ছেলেপুলেদের ‘হাফু’ বলে অভিহিত করা হয়, আর শব্দটা এসেছে ইংরেজি ‘হাফ’ (half) থেকে। Half Japanese হলেই ‘হাফু’। ভেবে দেখলাম, আমাদের এখানে যে সব দোকানে এখনো হাফ প্লেট চাওমিন, বা হাফ বিরিয়ানি বিক্রি করে, তারা ‘হাফু’ শব্দটা অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারে। এই প্রসঙ্গে আরেকটা শব্দের কথাও বলি- ‘পিঙ্কু’ ; একদা জাপানে যে সব সিনেমায় যথেষ্ট পরিমাণে নগ্নতা দেখান হত, সেগুলিকে বলা হত ‘পিঙ্কু’ , যে শব্দটা এসেছে ইংরেজি pink flesh (অনাবৃত নরম চামড়া বোঝাতে ) থেকে; শব্দটা প্রায় বছর ১৭-১৮ আগে থেকেই জানি, সেই জাপানি সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছিল কোন এক সময়ে, সেই সময় থেকে। তারপর থেকে বেশ কিছুদিন কারোর ডাকনাম পিঙ্কু শুনলেই বেশ মজা লাগত। বন্ধুবান্ধব দের মধ্যে কারোর ডাকনাম পিঙ্কু হয়ে থাকলে আবার রেগে যেও না বাপু। সত্যি বলছি না মিথ্যে, উইকিপিডিয়া খুলে মিলিয়ে নাও।

এই প্রসঙ্গে আরো একটা শব্দ মনে পড়ল -‘হাহামোনো’ , যেটার মানে মোটামুটি সর্বংসহা দুঃখিনি মাতা; বাংলা সিনেমায় সন্ধ্যারানী আর হিন্দিতে নিরূপা রায়কে মনে করলে হাহামোনো শব্দটাকে খানিক আন্দাজ করা যাবে। ১৯৫০ এর দশকে হাহামোনো ধরণের প্রচুর সিনেমা জাপানে তৈরি করা হত।

এখন যদি প্রশ্ন কর, আমি হঠাৎ ‘হাফু’ তে গিয়ে পৌঁছলাম কি করে, সেটা বলা খুব মুশকিল। নেটে এটা-সেটা কিসব যেন খুঁজতে খুঁজতে জানতে পারলাম গতবছর নাকি বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় জাপানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে গেছিলেন আরিয়ানা মিয়ামোতো নামের এক তরুণী, যাঁর মা জাপানি এবং বাবা কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান হওয়ার দরুণ মেয়েটি চোখে মুখে যথেষ্ট জাপানিভাব থাকলেও গায়ের রঙ বিশুদ্ধ জাপানিদের মত যথেষ্ট সাদা/ ফর্সা/হলদেটে ইত্যাদি নয়, বরং একটু কালোর দিকে। তাই জাপানি জনসাধারণের নাকি ব্যাপারটা মেনে নিতে খুব অসুবিধা হয়েছিল। ‘মিস জাপান’ খেতাবটা কেন একজন ‘হাফু’ জিতে নিয়ে বিশ্বের দরবারে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চললেন, সেইটা সুশি-সাশিমির সাথে হজম হয়নি…খুব নাকি বাদ প্রতিবাদ হয়েছিল…

‘মেরানিন’ আর ‘মেরাতোনিন’ -এর এই রংবাজির হাত থেকে কারোরই নিস্তার নেই দেখছি। #musingsMR