গত হপ্তা দুয়েক আগে লোকাল ট্রেনে চেপে এট্টু বেড়াতে গেছনু। বেশি দূরে নয়, কাছাকাছিই। হাওড়া থেকে ঘন্টাখানেকের দূরত্বে। এই ছোট্ট গপ্পোটুকু সেই বেড়ানো নিয়ে নয়। যাওয়া আসার পথে তিনখানি ব্যাপার লক্ষ করলাম, ভারতীয় ( নাকি পূর্ব ভারতীয় ) রেলের দুনিয়ায়।

লক্ষ্যনীয় ১) যে লোকাল ট্রেন ফিরলাম, সেটার রঙ আর সবুজ হলুদ নাই।( হলুদ আর খয়েরি মনে হয় ছিল, স্টেশনে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই হুশহুশ করে এসে গেছিল বলে ভাল করে লক্ষ্য করা হয়নি )। যাইহোক, দেখলাম কামরার ভেতরে দিব্বি সুন্দর সাদা-নীল বসার সিট হয়েছে , ভারতীয় পরম্পরার নিয়ম মেনে সেই সিটের ওপরের পরতগুলিকে খুঁচিয়ে -টুচিয়ে তুলেও ফেলা হয়েছে; দরজার পাশে যে বিচ্ছিরি জেলখানার মত জালি থাকত, তার বদলে সুন্দর অ্যালুমিনিয়াম/স্টীলের গ্রীল। আর দেখলাম মেট্রো রেলের কামরার মত পুরো রাস্তার ম্যাপ দেওয়া, স্টেশনের নাম সমেত। জংশন স্টেশন থেকে যে অন্যান্য দিকে লাইন গেছে সেগুলির ছবিও দেওয়া আছে। বেশ ভাল। বেশ অনেকদিন পর লোকাল ট্রেনে চাপলাম, তাই এটাও দেখলাম ট্রেনের দুই মাথায়, ইঞ্জিনের পরে পরেই দুটি মহিলা কামরা। আগে এরকম দেখিনি।

লক্ষ্যনীয় ৩) তিনে যেটা লেখার কথা সেটা আগে লিখি, কারণ দুই নম্বরটা বেশি ‘ধামাকাদার’। হাওড়া স্টেশনে নেমে দেখলাম, আমাদের প্ল্যাটফর্মের বেশ খানিকটা জায়গা ঘিরে দেওয়া হয়েছে। তার ভেতরে দাঁড়িয়ে জনা তিন চারেক লোক বিশাল লম্বা লম্বা ঝুলঝাড়ু দিয়ে প্ল্যাটফর্মের ছাদের ঝুল ঝাড়ছে। zeবনে এই পেত্থমবার এহেন দ্রেশ্য দেখলাম ! দেখে হাঁ হয়ে গেছি। আমার মুখেই যে চাট্টি পাখির বাসা থেকে খড়-টর খসে পড়েনি, তাই অনেক।

লক্ষ্যনীয় ২) এইবার দুই, যেটা আগে আসার কথা ছিল । এটা সবথেকে বেশি বিপজ্জনক, না লজ্জাজনক, না হাস্যকর , না দুঃখজনক , জানি না। আমার কাছে যে যথেষ্ট বিস্ময়-উৎপাদক ছিল, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই ! ‘লেডিস ‘ কামরা থেকে নেমে হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল করলাম যে, আমি যে ট্রেনে এলাম, সেই ট্রেনের বেশ কিছু সাধারণ /জেনার‍্যাল কামরার গায়ে লেখা আছে –

” মাতৃভূমি লোকালে এই কামরায় পুরুষ যাত্রী প্রবেশ করতে পারবেন! ”

আর কিছু বলব না, থুড়ি, লিখব না।