আগে জানতাম জগদ্ধাত্রী পুজো মানে চন্দননগর। এবছর থেকে জানলাম জগদ্ধাত্রী পুজো মানে পাড়া-বে্পাড়া-অলি-গলি-চলি-রাম-ফুটপাথে ধূমধাম…

গতকাল রাতের দিকে বাড়ি ফেরার সময়ে কুড়ি মিনিটের পথে গোটা দশেক ‘বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা’ সহকারে জগদ্ধাত্রীকে ভাসানে যেতে দেখলাম। তাঁরা সবাই সাইজে স্ট্যান্ডার্ড সরস্বতী বা কালীর মত, একমাত্র মুখের তুলনায় বড় পটলচেরা চোখেই বোঝা যাবে ইনি জগদ্ধাত্রী। আন্দাজ করছি, যারা দুর্গাপুজো বা কালীপুজো করার মত ফান্ড যোগাড় করে উঠতে পারেনি, কিন্তু ব্যান্ডপার্টি সহযোগে ভাসান ড্যান্স আর লাল পাড় সাদা শাড়ি পড়ে সিঁদুর খেলাটা জরুরী— তারা এবার থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো করতে শুরু করল।

বাঙালির নাকি হাতে কাজ নেই, রাতে ঘুম নেই, পকেটে পয়সা নেই, বছর বছর ডি এ বৃদ্ধি নেই, রাজ্যে শিল্প নেই, নভেম্বরে ঠাণ্ডা নেই…চারিদিকে শুধু নেই-নেই-গেল-গেল রব…কিন্তু সেই সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিশ্বকর্মা পুজো থেকে ধরলে এই নভেম্বরের মাঝামাঝি পেরিয়ে গাদাগুচ্ছ টাকা খরচা করে সাতদিন অন্তর সাতদিন ধরে উৎসবের ও দেখছি শেষ নেই ! – বিশ্বকর্মা, গণেশ, দুর্গা, লক্ষ্মী, কালী, কার্তিক, জগদ্ধাত্রী…( মাঝে ছট্‌, ঈদ, মহরম্‌ ইত্যাদি তথাকথিত ‘মাইনরিটি’ পালা-পার্বণ উপলক্ষ্যে ছুটি পাওয়া এবং সেই কারণে মহানন্দে মাল খাওয়া আর ধরলামই না )

টানা দুই মাস ধরে ছোট-বড়-মেজ-সেজ বিবিধ মোচ্ছব চালিয়ে, ভাসান ড্যান্স দিয়ে , কাজে -অকাজে ছুটি বাগিয়ে চলতে থাকব, আর দিনের শেষে বলব- সব ব্যাটা শিল্পপতিগুলো ‘সংস্কৃতিমনস্ক’ বাঙালির বিরোধীপক্ষ, তাই এখানে কাজ নেই…এইভাবে আর কতদিন চলবে বাপু?