বছর পাঁচেক আগের কথা। কার্ডিফে থাকাকালীন একবার বাড়ি বদলাচ্ছিলাম। বিয়ের পরপর প্রথম আমাদের নিজেদের সংসার বলতে ছিল কার্ডিফের নেভিল স্ট্রিটের ঐ ফ্ল্যাটটাই – অনেক স্মৃতি জড়িয়েছে। ঘরদোর মোটামুটি পরিষ্কার করে টিনা ফিরে গেছে দেশে। আমি বাড়িটা ছাড়ার আগে শেষবারের মত দেখছি কোথাও কিছু পড়ে আছে কিনা।

এমন সময় টেবিলের তলায় দেখলাম একটা বেলুন। এতদিন পরেও মনে থাকার কথা নয়, কিন্তু থাকার কারন হল সেটাকে ফোলান হয়েছিল কিছু না হলেও মাস তিনেক আগে। শীতের দেশ বলে কি না জানি না – কোনও এক কারনে সেযাত্রা বেলুনটা টিকে ছিল। যাইহোক, গল্পটা বেলুন নিয়ে নয়, পুজো নিয়ে। টাইমলাইন ঘেঁটে পুজো অনেকবারই হয়েছে, কিন্তু দশমীর দিনে ঠাকুর ভাসান হয়নি এটা বোধহয় আমি আগে দেখিনি।

আজকে সেই বেলুনটার কথা মনে পড়ছে – যেন সারা বছর ধরে কত সাধ আহ্লাদ করে পুজোর কটা দিন আনন্দে কাটাব বলে বেলুনটা ফুলিয়েছিলাম। এখন পুজোর সময় শেষ, অথচ সেই জমান আনন্দটুকু আটকে পড়ে আছে বেলুনের মধ্যে। বিজয়া না বিসর্জন, বিসর্জন না বিজয়া এই টানাপোড়েনে মা আটকে থাকবেন আরও কয়েকটা দিন। আর আনন্দের বেলুনটা চুপসে আসবে একটু একটু করে।