ঝর্ণা কলম

কিছুদিন আগে কলমের কথা লিখেছিলাম, যেটা কিনা ‘ঝর্নাকলম’, (ইংরাজিতে fountain pen) । কালি পেনের মধ্যে থাকত। পেনের খোলে কালি ভরতে ড্রপার নামে একটা জিনিষ পাওয়া যেত। সব বাড়িতেই থাকত, সবাই ব্যবহার করত, কিন্তু কাজের সময় সেটা খুঁজে পাওয়া যেত না। অথচ পেনে কালি না ভরলেই নয়। তখন বাধ্য হয়ে দোয়াত থেকে কলমের খোলে কালি ঢেলে নিতে হত! তখনই হত বিপত্তি! এসব ক্ষেত্রে হাত কাঁপবেই, কেননা এটা ত নিয়মের মধ্যেই পড়ে !! আর সেটা হলে—-?
এ ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে পেনের ভেতরেই রবারের টিউব রেখে ড্রপারের মত করে কালি তোলার ব্যবস্থা করা হত। অনেক রকম ভাবে, যতটা সম্ভব সরল করে, পেনটা বানানো হত। অনেক ধরনের কেরামতি করা হত সেক্ষেত্রে। লিখে শেষ করা যাবে না।
আমরা যখন পাঠশালায় পড়তাম (বা সপ্তম-অষ্টম শ্রেনীতেও ?) পরীক্ষার সময় দোয়াত-কলম নিয়ে যেতাম। ঠিক কবে থেকে যে ঝর্নাকলম নিয়ে পরীক্ষা দিতে গেছি সেটা অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারলাম না (একটা আন্দাজ করে পড়ে লিখেছি)। তবে এটা ঠিক যে ‘বাড়ির কাজ'(হোম ওয়ার্ক) দোয়াতের কালিতে কলমের সাহায্যেই করতে হত। অদ্ভুত এক রকমের দোয়াত পাওয়া যেত তখন, মুখের চার পাশটা ভেতর দিকে বাঁকানো থাকত, ছিপি বলে কিছুই থাকত না। ওল্টালেও কালি পড়ে যেত না। আমার খুব আশ্চর্য লাগত। এ সব কলম ( কাঠের কলম আগায় নিব আটকানো), নিব, কালি ( ট্যাবলেটের আকারে কালির বড়ি পাওয়া যেত, এক দোয়াত জলে একটা বড়ি দিলে সেটা আপনা থেকে গুলে গিয়ে কালি হয়ে যেত।) সরবরাহকারি ছিলেন আমার দাদু। সব সময় মজুদ থাকত এসব। চাইলেই হল আর কি ।
কোন কোন দিন আমরা খুব জব্দ হতাম দাদুর কাছে। সে সময়ে পয়সা খুব মুল্যবান ছিল, এখনকার ছোটদের মত হাতে পেতামই না! কোন কোন দিন আমরা কয়েক ভাই বোনে মিলে যুক্তি করে দাদুর কাছে গিয়ে কলমের নিব ভেঙ্গে গেছে বলে দু’টো পয়সা চাইতাম। মুচকি হেসে তিনি হাতবাক্স হাতড়ে একখানা নিব বার করে দিতেন। মুখ চুন করে চলে আসা ছাড়া আর কিছু করার থাকত না!
পরীক্ষা দেবার সময় দোয়াত কলম হাতে করে যাবার কথা বেশ মনে আছে। নবম শ্রেনীতে বোধ হয় প্রথম (আন্দাজ )ঝর্না কলম নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। আর ডট পেন ? সে’ত বলেইছি দশম শ্রেনীতে প্রথম দেখলাম, আর যার কাছে দেখেছি তার জামার পকেটটাই শুধু নয়, সর্বত্রই চ্যাটচেটে নীল রংএ ছোপানো!
একদম ছোটবেলায়, তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেনীতে পরীক্ষা দেবার সময়, দেখতাম বন্ধুরা সব কচুর ডাঁটায় খচাখচ কলম বেঁধাচ্ছে। এমন কেন করছে জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছিলাম, ওতে নাকি খুব তাড়াতাড়ি হাত চলে, মানে দ্রুত লেখা এগোয়! ওদের দেখাদেখি আমিও করেছি! তখন কি আর জানতাম যে পেটে কিছু না থাকলে যতই কচুর ডাঁটা খোঁচানো হোক কলম দিয়ে দ্রুত কিচ্ছু বেরোয় না!