গাজা

10378922_706050232765383_7013965835207716282_nনিচের লেখাটি কবীর সুমনের ফেসবুক থেকে নেয়া। আমি লিখলেও হয়তো তার মূলভাব এই লেখার মূলভাবের থেকে আলাদা কিছু হতো না। তবে এর থেকে ভালো আর সহজ করে বুঝানোটা কঠিন হতো, তাই কবীর সুমনের লেখাটাই তুলে দিলাম –

শুনুন, আমি সোজা একটা কথা বলি – আজকে যদি আমি বা আপনি গাজা উপত্যকায় জন্মাতাম। আমরা যদি আমাদের বাল্যকাল এবং কৈশোর ঐরকম প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে কাটাতাম তাহলে আমি আপনাকে বলছি, আমি বসে বসে দুধ ভাত খেতাম না; আমি শান্তির বাণী বা ভালো ভালো কথা আওড়াতাম না।

আমি আততায়ী যে আক্রমণকারী তাকে বধ করার কথা ভাবতাম। ধরুন আমার দেশে আমি যদি একটা লোককে আত্রুমণ করি বা কেউ যদি আমাকে আক্রমণ করে তাহলে আমরা আত্মরক্ষার জন্যে তো আমরা পরস্পর কে হত্যা করতে পারি। আর সেই হত্যার বিষয়টি ম্যানসস্লটার হবে তবে তার জন্যে শাস্তি হবে লঘু। বড় কোনো শাস্তি হবে না।

কাজেই যারা গাজা স্ট্রিপের মানুষ, যে শিশুরা সেখানে জন্মনিয়েছে তাদের কে কিন্তু জিজ্ঞাসা করা হয়নি ওহে শিশু তোমরা গাজা উপত্যকায় জন্মাতে চাও নাকি তেলআবিবে জন্মাতে চাও? সেই সব শিশুতো গাজায় জন্মেছে তাদের বাল্যকাল কাটছে সেখানে। তারা দিনের পর দিন দেখেছে কি নিষ্ঠুর ভাবে তার চোখের সামনে মা, ভাই, বোন, বাবা বা আত্মীয় স্বজন বন্ধু বা প্রতিবেশীরা মারা যাচ্ছে।

এবার সেই শিশুটি যখন যুবক হবে সে তখনকি করবে? সেই যুবকটি কি তখন গীত গাইবে! না, সে চুপকরে বসে থাকবে না বা গান গাইবে না; সে অস্ত্র হাতে তুলে নেবে। আর এই টুকু মানবতা এখনও আছে, আর মানবতা আছে বলেই গাজা উপত্যকার স্বজনহারা প্রতিটি মানুষ লড়াই করছে। মানবতা আছে বলেই ইসরাঈল ও মার্কিনীদের মোকাবেলায় গাজার স্থানীয় মানুষ লড়াই করছে বীরের মতো।

আর আমার এই কথাগুলোকে কেউ যদি মনে করেন আবেগ তাড়িত, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। হ্যাঁ আমি আমার আবেগ ব্যক্ত করছি সত্যের পক্ষে। আমি একটা ষাট বছর বয়সী আধবুড়ো নই, আমি বৃদ্ধ; আমি দেখেশুনে ক্ষেপে গেছি আর তাই যা মুখে আসে তাইব লছি একথা সত্য নয়; যা ঐতিহাসিক সত্য আমি তাই স্বাধীনভাবে ব্যক্ত করছি।

গাজার সাধারণ মানুষ ঘাসে মুখ দিয়ে চলেনা। আর সেটা ইসরাঈল খুব ভালো করে জানে। আর তাই তারা গাজায় আত্রুমণ করছে। তবে আমি প্রান্তিকে এসে স্পষ্ট করে বলবো, ইসরাঈল কোনোদিন পারবে না; পারবে না !