বাংলার রূপকার—

“শাঞ্জাবি” নামটা শোনা আছে ?
শার্ট আর পাঞ্জাবি– পাঞ্চ করে কথাটার উৎপত্তি। আমাদের দ্বিতীয় মুখ্য মন্ত্রী, বাংলার রূপকার ডঃ বিধান চন্দ্র রায় পরতেন, মানে জামা আর কি! কিন্তু, পোষাকের এমত বিচিত্র নাম হওয়ার কারণ কি ?
আমরা যে শার্ট পরতাম সেটা এখনকার মত বুককাটা হাওয়াই শার্টের মত হত না। প্রায় হাঁটু পর্যন্ত ঝুলের, বুক না কাটা জামা হত। তখন বলা হত ফুল শার্ট, এখন বলা হয় ‘লং শার্ট’ যা কেউ পড়ে না, কিন্তু নামটা জানে। প্রাক্তন মুখ্য মন্ত্রী ঐ রকম ঝুলের শার্ট আর ধুতি পরতেন, তবে জামার ঝুলের দু’প্রান্ত আমাদের জামার মত অর্ধগোলাকৃতি না হয়ে পাঞ্জাবির মত তেকোনা হত! মানে শার্ট আর পাঞ্জাবির মিশ্রণ! অর্থাৎ জামাটার ওপরের দিকটা দেখলে শার্ট মনে হবে আর নীচের দিকটা পাঞ্জাবি! প্রিয় মানুষের পরা উদ্ভট(?) পোষাককে আদুরে নাম দিয়ে ফেলেছিল মানুষ!
এই শাঞ্জাবি পড়া মানুষটি আমার ভীষন প্রিয় ছিলেন, কাছাকাছি যাবার ইচ্ছে ছিল একদিন। কিন্তু সুযোগ হয়নি কখনও। এখনকার মত অত নিরাপত্তার বেড়াজাল না থাকলেও কি অজুহাতে যাব, আর বলবই বা কি ? তবে ৫০/৬০ মিটার দুর থেকে দেখেছি! (পাড়ার পুজো মন্ডপে বা অন্যত্রও দেখে থাকতে পারি, অত পুরোন কথা মনে নেই। যেটা মনে আছে সেটা বলি।)
দেশের প্রথম বাঙ্গালী এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখার্জী জাপানে গিয়ে অপঘাতে ইহলোক ত্যাগ করলেন। তাঁর মরদেহ বিমানে দেশে পাঠানো হলে, কফিনবন্দী মরদেহ গ্রহন করতে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী ডঃ রায়ের। কলেজে একথা শুনে আমরা কয়েকজন সোজা দমদম বিমান বন্দরে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম। দীর্ঘদেহী, প্রায় ফুট ছয়েকের কাছাকাছি, সকলের মাথা ছাড়িয়ে দাঁড়ানো মানুষটাকে দেখে চমৎকৃত হয়েছিলাম! এটা ১৯৬০ এর নভেম্বরের কথা। বছর দেড়েক বাদে ১৯৬২-র ১ লা জুলাই তিনি পরলোকে প্রস্থান করেন (১ লা জুলাই তাঁর জন্মদিনও বটে!)।
কাছাকাছি যাওয়ার উপায় ছিল না, ঐ ৫০/৬০ দুর থেকেই চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন!
এরপর ১৯৬০এর গ্রীষ্মের ছুটির পর কলেজ খুলবার কথা ১লা তারিখ, প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম যাবার। কিন্তু বেতার কেন্দ্রের বিশেষ ঘোষনা শুনে, আর রাস্তাঘাটের তুমুল অবস্থা বিবেচনা করে আর বেরনোর সাহস হয় নি!
* * *
ফুটবলের তান্ডবে দিনটার কথা খেয়ালই হয় নি। কবে যে ১লা জুলাই হুস করে পেরিয়ে গেল !! খুব খারাপ লাগছে।