বিশ্বকাপ!

মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনা এবার খোলস ছাড়ছে, অন্ততঃ কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা দেখে বলা যায় । “সর্বদাই মেসি-নির্ভর”– এই অপবাদটা এখন কিছুটা কাটাতে শুরু করেছে যেন! তবে না আঁচালে বিশ্বাস নেই!
এটা না করলে, বিপদের দিনে দেখবে কে ? সে ক্ষেত্রে ত নিজেকে নিজেই দেখতে হয় কিনা! এসবের মধ্যে আবার একটা কিন্তু এসে গেছে ইতিমধ্যেই। দি মারিয়া নামক একমাত্র উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়টি জখম হয়েছেন, আর বোধ হয় খেলতে পারবেন না।
অন্যদের কথা বলতে না পারলেও, যে খবরের কাগজ আমি পড়ি, তা পড়ে ভাল লাগছে না। ঠারে ঠোরে মারাদোনার সাথে তুলনা করে মেসিকে বড় দেখানোর চেষ্টা চলছে সেখানে। এমন তুলনা চলে নাকি ? আগে ছিল পেলে আর মারাদোনার মধ্যেকার তুলনা, এখন চলছে মেসি আর মারাদোনার মধ্যে! একটা উদাহরন দিয়ে দেখানো হচ্ছে যে মেসি এমন তুখোর খেলেছেন যে লাল-জার্সির ছ’জনকে আক্রমন সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয়েছে! কিন্তু মারাদোনার সময়েও যে একই দলের সাথে একই ঘটনা ঘটেছিল সেটা কেউ বলছেন না! এবারে গোল হয়নি, কিন্তু সেবারে মারাদোনা ঐ ছ’জনকে কাটিয়ে গোলও করেছিলেন! ভিডিওতে বেলজিয়ামের সাথে ১৯৮৬-র সেই খেলা দেখা যেতে পারে। সেদিন তিনি আরও একখানা গোল করেছিলেন, সেটাও দেখতে শুনতে খুব খারাপ ছিল না।
আরও বলা হচ্ছে, মারাদোনার পাশে নাকি ভাল ভাল খেলোয়াড় ছিল, যা এখন নেই। বিশ্বকাপ খেলছেন, অথচ ভাল নন, ‘সোনার পাথরবাটি’ মার্কা হয়ে যাচ্ছে না!
আর পেলে, মারাদোনা, মেসি বা নেইমার—প্রত্যেকে নিজেরা নিজেদের মতই ভাল খেলতেন বা ভাল খেলেন, কারও সাথে অন্য কারও তুলনা করা যায়না এভাবে!
বেচারা নেইমারের কথা শুনে আর টিভিতে দেখে খুব খারাপ লাগছে। এমন চমৎকার খেলোয়াড়ের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া খুব একটা ভাল বিজ্ঞাপন নয় ফুটবলের পক্ষে!এ ত প্রকারান্তরে সবাই বলছে! এতদুর থেকে আর না দেখে কিছু বলা ঠিক নয়, তাহলেও ফাউলের ছবি দেখে ব্যাপারটা ‘ফিশি’ বলেই মনে হচ্ছে! ফিফা ত তদন্ত করবে বলেছে। দেখা যাক কি প্রকাশ পায়।