বিশ্বকাপে

ছোটবেলা থেকে মারাদোনার ফ্যান। আমার দেখা প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ ইতালি ১৯৯০ – জার্মানির কাছে সেই হারের দুঃখ বোধহয় কোনদিনও ভুলব না। আর তার পর থেকে প্রত্যেকবারই আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে বসলে কোন না কোন রকম ভাবে স্বপ্নভঙ্গ হবে – এবারেও মেসি বাদে কোম্পানির যা দৌড় দেখলাম, তাতে দলটাকে নিয়ে খুব একটা ভরসা করা যাচ্ছে কি?

কি হবে এবারের বিশ্বকাপে? সব পছন্দের খেলা দেখে উঠতে পারছি টিভির অভাবে, তবে যেটুকু দেখেছি তাতে অনামী অনেক দেশের খেলাই দারুন লাগছে। যেদিন উরুগুয়ের সাথে কোস্টারিকার প্রথম ম্যাচটা দেখেছিলাম, সেদিনই মনে হচ্ছিল এই দলটা এগোবেই। তাদের কোয়ার্টারফাইনালে যেতে দেখে ভালো লাগছে। যে নেদারল্যান্ডস স্পেনকে ভরাডুবি করাল, মেক্সিকোর সামনে তো তাদের বেশ ফিকেই মনে হচ্ছিল। নেহাত কপালজোর না থাকলে ঐ ম্যাচ – ওভাবে? আর ব্রাজিল – যাই হোক।

আলজিরিয়াকে জার্মানির কাছে হারতে দেখে কষ্টই হল – রবিবার খেলার কমেন্ট্রিতে শুনলাম ১৯৮২ সালে যখন আলজিরিয়া প্রথম খেলতে আসে বিশ্বকাপে, তখন তারা জার্মানিকে হারিয়ে দেয় প্রথম ম্যাচে। জার্মানি খেলার আগে প্রচন্ড আত্মতুষ্টিতে ভুগছিল। নাকি এমন কথাও বলেছিল যে হারলে পরে তাদের কোচ পরের দিন সকালের ট্রেনে ফিরে যাবে (বিশ্বকাপ সেবার বসে ছিল স্পেনে) – তা তিনি জাননি বটে, কিন্তু গ্রুপ লিগের শেষ খেলা জার্মানি গড়াপেটা ম্যাচ খেলে অস্ট্রিয়ার সাথে – যাতে তারা দুজনেই সেকেন্ড রাউন্ডে যায়, আর আলজিরিয়াকে ফিরতে হয়। বিশ্বকাপের একটা কালো অধ্যায় বললেও কম। এই ঘটনার পর থেকে প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচগুলি আরম্ভ হয় এক সময়ে। আপনারা কেউ চাইলে সেই ইতিহাস পড়ে দেখতে পারেন এখানে

বত্রিশ বছর পর দুই দেশ খেলতে নামল। আর একটু হলে ইতিহাস বদলেই যাচ্ছিল। কিন্তু আমার কাছে এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকো, চিলি, আলজিরিয়া বা কোস্টারিকা – সবাই একটা আলাদা জায়গা করে নিল।