রবিদা- আমার কলকাতা দর্শন–

রবিদা’র কথা বলি। রবিদা, আমার পিশতুত দাদা, আমার খুব প্রিয় এবং কলকাতা চেনাবার গুরু। একদিন দুপুরে “দু’আনা পয়সা আছে ? চ’ তোকে গড়ের মাঠ দেখিয়ে আনি। দেখেছিস ? চ, চ।” বলে রওনা দিলেন।
রবিদা আর অনেক শোনা গড়ের মাঠ, চুম্বকের মত এমন প্রবল আকর্ষন যে উপায় নেই! সঙ্গী হলাম রবিদা’র। নারকেলডাঙ্গা(ফুলবাগানের কাছাকাছি) থেকে হেঁটে রাজাবাজারে এসে ট্রামে তিন পয়সার টিকিটে ধর্মতলা। “বাদাম কেন দু’পয়সার”। ইতস্ততঃ করতে গিয়ে ধমক খেলাম, “ফেরার জন্য তিন পয়সা থাকছে ত, অত ভাবার কি আছে ?” হাঁটতে হাঁটতে প্রথমে মনুমেন্ট দেখে হাঁ করে দাঁড়িয়ে দেখলাম, তারপর রবিদা’র আজ্ঞা মেনে সোজা ফুটবল মাঠ আর ক্লাব টেন্টগুলোর দিকে রওনা। সোজা ইষ্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁবুর দিকে (ঐ ক্লাবের পাঁড় সমর্থক, এদিকে এলে একবার না ঢুকলে ভাত হজম হয় না।)
এখনকার কথা বলতে পারব না, তখন ক্লাব তাঁবু সকলের জন্য অবারিত ছিল বলেই মনে হয়। রবিদাকে দেখেছিলাম নিম্নবর্গের কর্মিদের সাথে খুব দহরম-মহরম। তাদের কারও সাথে কথা বলতে বলতে তিনি ঢুকে গেলেন আমাকে সঙ্গে নিয়ে।
কর্মকর্তাদের কারও কারও সাথেও দেখলাম তাঁর বেশ আলাপ। ওঁদের সাথে কথা বলতে বলতে আমাকে এটা সেটা দেখাচ্ছলেন আর বোঝাচ্ছিলেন।
হঠাৎ বললেন, ‘চ, এবার যাই, খেলা দেখে আসি’। কোথায় , কার খেলা কে জানে। জানা গেল কোন ঘেরা মাঠে ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের খেলা আছে। প্রশ্ন করতে জানা গেল আমরা টিকিট কিনতে পারব না, তাই ‘র‌্যামপার্ট’-এ খেলা দেখব। র‌্যামপার্ট হল তাদের জন্য, যারা কোন কারনে টিকিট কিনতে পারে না, তাদের জন্য। খেলার মাঠের তিন দিক ঘিরে কাঠের গ্যালারিতে টিকিট কাটা দর্শকেরা বসে খেলা দেখত, আর এক দিক ঘেরা হত না, কাঁটা তারের বেড়া থাকত, মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে বিনা টিকিটের দর্শকেরা খেলা দেখত। এটা র‌্যামপার্ট।
এই খানে কাজ চালানোর মত ‘পেরিস্কোপ’ দেখেছিলাম। দর্শকদের ভাড়া দেওয়া হত খেলা দেখবার জন্য। ভীড়ের সময় বা বেঁটে হলে ভাল করে কিছুই দেখা যেত না। তখন দরকার হত পেরিস্কোপের।