আমার কলকাতা চেনা–

আমার কলকাতা চেনানোর গুরু হলেন রবিদা। আমার চেয়ে কয়েক বছরের বড়, আমার পিশতুতো দাদা। আমাদের বাড়িতেই থাকতেন। পড়াশোনায় খুব একটা উৎসাহ ছিল না। ক্লাসে ওঠার পরীক্ষায় কদাচিৎ পাশ করতেন! এর জন্য কম গঞ্জনা সইতে হত না তাকে। তবে কলকাতার গড়ের মাঠের ফুটবল নিয়ে সমস্ত কিছু মুখস্থ, ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের পাঁড় সমর্থক।
গত শতাব্দীর শেষ অর্দ্ধের প্রথম দিকের কথা। একদিন বিকেলের দিকে রবিদা আমাকে নারকেলডাঙ্গা থেকে শর্টকাটে কি করে শেয়ালদা’য় পৌঁছান যায় তা দেখাতে নিয়ে চললেন।
এর অর্থ হল নারকেলডাঙ্গা মেন রোড থেকে রেললাইন ধরে শিয়ালদা’র দিকে হাঁটতে শুরু করলে প্ল্যাটফর্মে গিয়ে ওঠা হবে, যারা গাড়ি থেকে নেমে ষ্টেশন থেকে বাইরে বেরোতে চায় তাদের সাথে! অর্থাৎ টিকিট পরীক্ষক বিনা টিকিটের যাত্রি হিসেবে হাজতে পুরলে কিছু করার নেই। রবিদাকে সে কথা বলতে হেসে উড়িয়ে দিলেন।
“ধুস, রোজ যাচ্ছি এদিক দিয়ে, চ চ।”। তারপর “ঐ ত’ রয়েছে, তাড়াতাড়ি চ, চলে গেলে আর দেখতে পাবি না। মেওয়ালালকে দেখেছিস ? ঐ দ্যাখ। দ্যাখত চিনতে পারিস কিনা।”
মানুষ বেরোবার গেটের সামনে দুজন ভদ্রলোক কথা বলছেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।
আরে, একজনের মাথার চুল আঁচড়ানোটা চেনা লাগছে যেন, এমন চুলওয়ালা এই মানুষটার ছবি দেখেছি খবরের কাগজে। প্রায়ই দেখতে পাই। হ্যাঁ, এই-ই ত সেই মেওয়ালাল, মাঠ কাঁপানো ইষ্টার্ন রেলের (তখন বোধ হয় নাম ছিল ‘ই আই আর’) খেলোয়াড়!
সেই আমার প্রথম কলকাতা ময়দানের এক হিরো দর্শন।
কতকাল আগের কথা সব! মাঝে মাঝে মনে হয় এ সব ঘটেছিল ত!
আমার কলকাতা এবং ময়দান চেনা রবিদা মারফৎ। পরে সময়মত আরও বলব।