রাস্তা ধোয়া।

আজকের কাগজে (১৫/২/১৪) দেখছিলাম কলকাতার কোন কোন রাস্তা নাকি আজকাল নানা ভাবে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা হচ্ছে, বিশেষ করে ধোয়া হচ্ছে। রাস্তা ধোয়ার এই ব্যাপারটা ছিল খুব কৌতুহলোদ্দীপক। যাঁদের ষাট-পঁয়ষট্টি বছর তাঁরা কেউ কেউ স্মৃতি ঘাঁটলে, সে দৃশ্য মনে করে উঠতেও পারেন। নেহাৎ না পারলে শিবরাম চক্রবর্তীর লেখা পড়ে নিতেও পারেন। সব মনে পড়ে যাবে।
আমার অবশ্য নিজের দেখা এসব। বড় রাস্তার দু’পাশে কিছু দুর অন্তর অন্তর জলের উৎস থাকত। ঘোলা জল, ভক ভক করে উঠত সে জল। ভোরে উঠে দেখা হত না বটে ( অত সকালে কে উঠছে), তবে বিকেলে দেখতাম প্রায়ই। বেলা তিনটে/সাড়ে তিনটে নাগাদ ঘাড়ে একটা পাইপ নিয়ে ( এখনকার মত পলিথিন নয়, ক্যানভাসের তৈরী ল্যাতপেতে পাইপ গুটিয়ে আনতে হত) কর্পোরেশনের লোক এসে হাজির হত রাস্তা ধুতে। পাইপের মোটা দিকটা রাস্তার উৎসের ( হাইড্রান্ট) সঙ্গে যুক্ত করে দিলে সরু দিক দিয়ে তীরবেগে জল বেরোত। সেই জল অনেক দুর পর্যন্ত যেতে পারত। লোকটি সেই জল ছড়িয়ে দিত অনেক দুর অবধি, যা রাস্তা ধুয়ে দিত। সামনে লোকজন বা গাড়ী এসে গেলে পাইপের মুখটা নামিয়ে নিত।
জলের উৎস এমন দুরত্বে থাকত যে কোন জায়গাই বিনা ধোয়া অবস্থায় থাকত না।
উৎসের জল নাকি গঙ্গার জল (এটা আমি হলফ করে বলতে পারি না, কারন আমি জানি না জলের প্রকৃত উৎস কি, তবে জলটা গঙ্গাজলের মত ঘোলা ছিল )। সব সময় জল উঠত ঐ সব উৎস থেকে। গরম কালে পাড়ার বাচ্চারা যথেচ্ছ জল ছেটাছেটি করে স্নান করত।
কবে যেন এই ব্যাপারটা, মানে রাস্তা ধোয়াটা, উঠে গেল! টেরও পেলাম না।
নিয়মটা আবার চালু হবে ভাবতে ভাল লাগছে।