বিশ্বরূপম

আজকাল হলিউডি সিনেমা দেখে ভারতীয়দের একটা লাভ হয়েছে। হঠাত হঠাত করে সিনেমায় দুনিয়ার অন্যান্য দেশ ও তার কূটনীতি চলে আসছে। একটা নতুন সিনেমা দেখলাম – বিশ্বরূপম, সেই প্রসঙ্গে বলছি। এখানে নায়ক একজন র'(রিসার্চ ও অ্যানালিসিস উইং) এজেন্ট, যিনি কিনা আফগানিস্তানে বিরাট ভূমিকা নেন আমেরিকান আক্রমনের সময়, তারপর আমেরিকায় একটি পরমানু আক্রমনকে বিফল করেন।

কমল হাসানের এই ছবিটা বলতে গেলে আমার ভালোই লেগেছে – বিশেষ করে ফ্ল্যাশব্যাকে আফগানিস্তানের দৃশ্য, চরিত্রায়ন বেশ জমাট। আর সবচেয়ে বড় কথা বিশ্বাসযোগ্যও। পরে আমেরিকার অংশে কিছু ভুলচুক আছে (নায়িকা কাকে বিয়ে করলেন গ্রিনকার্ডের জন্য, যাকে কিনা ঠিক করে চেনেনই না, বসের সাথে তাঁর পরকীয়া রোম্যান্স, ছদ্মবেশে র’ এজেন্ট কমল হাসানের মেয়েলি স্বভাবের পুরুষ হওয়া – এসব ঠিক জমেনি)। তবে হ্যাঁ গল্পের কয়েকটি জায়গা – যেমন কি করে একটি উন্নত দেশে পরমানু বোমা তৈরি হল, কি করে সবার নজর এড়ান গেল – আর সেখানে গাইগার কাউন্টারকে বোকা বানাতে পায়রার পায়ে রেডিও অ্যাকটিভ পদার্থ বেঁধে শহরের চারপাশে উড়িয়া দেওয়া – এই বিষয়গুলো বেশ অভিনব। ভিলেনের চরিত্রে রাহুল বোসের অভিনয় নজর কাড়ার মতই।

কদিন আগে অনেকটা একই রকম সিনেমা দেখেছিলাম – এজেন্ট বিনোদ। সে যত না সিনেমা – সার্কাস তার চেয়ে বেশি। তবে ভারতীয় সিনেমায় এই সবে সবে নায়কেরা সর্বশক্তিমান আন্তর্জাতিক এজেন্ট হচ্ছেন কিনা, তা প্রথম প্রথম একটু ভুলচুক তো হবেই। কি বলেন আপনারা? কদিন বাদে আবার না দেব, জিৎ কে না দেখি। সেটা অবশ্য হজম করা মুশকিল হবে।