ব্লক বাস্টার – ২০১৩

এই পোস্টটা না লিখলেও হত। মানে কিচ্ছু এসে যে তো না। দুটো সিনেমার গপ্পো – যা কিনা অনেকদিন হল বেরিয়েছে। এদ্দিনে যাদের দেখার তারা দেখে ফেলেছে। যাদের টাকা-পয়সার প্রশ্ন ছিল তাদের কাজ মিটে গেছে। আমার ধারনা আজকাল কোন সিনেমা দিনের পর দিন চলার প্রয়োজন হয় না – প্রথম দু-তিন সপ্তাহেই কাজ মিটে যায়, আর এর জন্য দায়ী মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের দাম, যা মনে হয় না কোন নিয়মের তোয়াক্কা করে। তোমার পয়সা থাকলে তুমি দেখ, না হোলে দেখো না। হুজুগে সব্বাই সামিল। আর বাকিটা তো ইতিহাস।

দেশে থাকলে হয়তো আমিও এর ব্যতিক্রম ছিলাম না – কিন্তু দেশের বাইরে থাকায় এই দুটি সিনেমা অনলাইন দেখেছি অনেক দিন বাদে। ক্রিশ-৩, ধুম-৩। ধুমের সাথে আমার একটা আত্মিক যোগাযোগ আছে। আমি চাকরি পাওয়ার পর প্রথম নিজের টাকায় টিকিট কেটে যে সিনেমাটি দেখি তা হল ধুম। সেই থেকে দশ বছর কেটে গেল। এসিপি এখনও এসিপিই আছেন। সিনেমায় চুরি হয়ে যাওয়ার পরে ডাকসাইটে ডিটেকটিভ এসে বলেন আমার মনে হচ্ছে এর পেছনে আছে চোর। অনেকটা সেই সোনি টিভিতে সিআইডি সিরিয়ালে যেরকম এসিপি একটি মোবাইল হাতে তুলে নিয়ে বলেন – আরে দয়া, ইয়ে তো ফোন হ্যায়, অনেকটা সেই রকম। যাই হোক, দশতলা বাড়ির ছাত থেকে বার বার দেখা যায় টাকা উড়ছে। চুরি কি করে হল, তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই। তাও ঠিক ছিল – এক কালে ডনে যেরকম টাইট রোপ ওয়াক দেখা গেছিল, এখন সেরকম টাইট রোপ বাইকিং দেখা যায়। প্রথম সারির হিরোয়িনকে স্ট্রিপটিজ করতে দেখা যায় – এগুলোই তো ২০১৩ র পাওনা। নিন্দুকে নাকি বলে ঐ যে ক্রিস্টোফার নোলানের প্রেস্টিজ নামের কি একটা সিনেমা ছিল, যার থেকে আইডিয়াটা ঝাপা – আরে দুর মশাই, প্রেস্টিজ নকল করলে চলে? চৌখশ দর্শকদেরও প্রেস্টিজ পকেটে পুরে সিনেমাটা দুবার দেখতে হয়। না না – ধুম এক্কেবারে আদ্যোপান্ত ভারতীয়।

কৃশ – ৩ কি করে ৩ নম্বর হল সেটা আমরা অনেকেই বুঝিনি – আগের সিনেমাটির নামই তো কৃশ ছিল? যাই হোক, সব দেখে শুনে বুঝেছি, জটায়ুর মত মুখে আঙুল দিয়ে – না না কোন প্রশ্ন নয় বলাটাই শ্রেয়। কল্পবিজ্ঞানের হাত ধরে ভারতীয় সিনেমার শুরুটা ভালোই হয়েছিল। বিজ্ঞানের মধ্যে যাচ্ছি না – আমার প্রশ্নটা অন্য যায়গায় – কল্পবিজ্ঞান ভাবতে গেলে কি এক্স মেন সিরিজটার খুব দরকার ছিল? হিন্দি সিনেমা কোনদিনই মৌলিকতার দাবি রাখেনি। যে সিনেমার শুরু ইটির হাত ধরে, তার কাছে বেশি আশা করার দরকারটাই মনে হয় ছিল না। এই সিনেমার গল্প লিখতে নাকি পাঁচ বছর ধরে রাকেশ রোশন চিন্তা করেছেন। আমি বুঝেছি কেন – টাকে চুল নেই তো? ছিঁড়বেন কি? তাই গল্পটা লিখতে এত দেরী।