শ্রীমতী সেনের প্রস্থান

সুচিত্রা সেন চলে গেলেন। সবাই শোকস্তব্ধ। শোক পাবারই কথা। গোটা বাঙ্গালী জাতটা টিভি চ্যানেলে চ্যানেলে সমস্ত দিন হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
সন্ধ্যার দিকে কাজ থাকায় আমি টিভির সামনে বসতে পারিনি। কিন্তু কিছুই দেখব না বা জানব না তা হতে পারে না। তাই পৌনে নটা নাগাদ গিয়ে বসলাম বোকা বাক্সের সামনে। প্রবীন অভিনেতা- অভিনেত্রীরা শ্রীমতি সেন প্রসঙ্গে তাঁদের বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু সে সব শুনব কি, তাঁদের ছবির পাশ দিয়ে অনবরত একই ভিডিওর আনাগোনা চলছে। চমকে উঠে দেখি এক বয়স্কা মহিলা, গায়ে হলুদ (বা গেরুয়া) চাদর, দিব্যি নড়াচড়া করছেন। মুখের গড়নটা দেখে আঁতকে উঠতেই হল! সুচিত্রা সেন নন ত ?
কিছুক্ষন দেখা এবং ভাবনা চিন্তার পর এটাই মনে হল যে হতেও পারে, কেননা কথা হচ্ছে শ্রীমতী সেনকে নিয়ে আর ছবি দেখানো হচ্ছে হরিদাস পালের আত্মীয়ার– এটাই বা কি করে হয়।
হতে পারে ছবিটা বেশ কিছু দিন আগের তোলা, কিন্তু বেশ বেশী বয়সের(এবং খুব বেশী দিন আগেকারও নয়) মনে হয়। কারও ছবি ছাপাতে আইনত কোন বাধা নেই হয়ত, তাহলেও কেউ আপত্তি করলে (মৌখিক আপত্তি করেন নি বলেই জানি, কিন্তু এড়িয়ে চলেছেন গত পঁয়ত্রিশ বছর) না ছাপানই উচিৎ বলে আমার মনে হয়, যদিও কেউ কখনও বলেন নি যে কবে থেকে বা কবেকার ছবি প্রকাশ করা যাবে না,তাহলেও! অন্যথায় শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করা হল বলে ধরে নেওয়াটা কোন অন্যায় নয়।
ভদ্র মহিলা স্বেচ্ছায় নির্বাসন নিয়ে আছেন ৩৫ বছর, তাঁর ইচ্ছেকে সম্মান দিয়ে তাঁর পরিবারও সেটা মেনে চলছেন, সুযোগ থাকা সত্বেও তাঁর ইচ্ছেকে সম্মান দিয়ে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সুচিত্রা দেবীর সাথে দেখা না করে ফিরে এলেন, আশপাশের সমস্ত মানুষও একই ভাবে চললেন কোন বেচাল না করেই, মৃতদেহ যাতে কেউ দেখতে না পায় তার জন্য কফিন বন্দী করে কালো কাচের গাড়িতে করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হল– এত কিছুর পরও কি করে একটা চ্যানেল বৃদ্ধা অভিনেত্রীর চলমান ছবি দেখাতে পারেন সেটা আমার মাথায় এল না এই ক’দিন ধরে ভেবেও।
বাহাদুরি দেখাবার স্থান-কাল-পাত্র নির্বাচন করার যোগ্যতা থাকা উচিৎ!