মিশর রহস্য রিভিউ

কাকাবাবু দেখলাম। দেখে একটা কথাই বার বার মনে হচ্ছে – সৃজিত, আপনি ধন্য। কাকাবাবুর গল্পগুলো বোধহয় কোনদিনই ঠিক করে পড়েন নি। সিনেমার খাতিরে গল্প এদিক ওদিক করলেন, সে কথা আলাদা। কিন্তু তাই বলে লোকটাকে আমূল বদলে দিলেন? চুলে হেয়ার ডাই, হাতে আইফোন, টুইট করা অবধি তাও ঠিক ছিল। কিন্তু পা খোঁড়া বলে আক্ষেপ? যতদুর জানি – সেটা কোনদিনই কাকাবাবুর ছিল না। আর সেই নিয়ে লোককে খোঁচা দিয়েও তিনি কোনদিন বলেন নি। মেক-আপ নেওয়া মানুষটাকে যতটা প্রসেনজিত মনে হয়, কাকাবাবু একেবারেও মনে হয় না – আর এটা প্রথম আবির্ভাবে কাকাবাবুকে দিয়ে বাসের সিট ছেড়ে দেওয়া অল্পবয়সী যুবক কে প্রতিবন্ধী বলান’র পরেই কেমন যেন হারিয়ে যায়। গোটা সিনেমা দেখতে দেখতেও সেই আক্ষেপ যায় না।

কাকাবাবু কৈশোরের একটা বড় জায়গা জুড়ে ছিলেন। সৃজিত আরেকটা বাজে সিনেমা বানান তাতে কিছু যায় আসে না – কিন্তু ঐ জায়গাটায় যেন হাত পড়ল। কাকাবাবু একদিনের জন্যেও অহঙ্কারী ছিলেন না। সবাইকে স্নেহ করতেন। কোনদিন ঠিক করে অপরাধীদের শাস্তিও দিলেন না ঐ মমতার কারনেই। সেটা যদি পরিচালক না বুঝে থাকেন – তাহলে কিছু করার নেই।

সিনেমার সবটুকু ঝকঝকে। সন্তু ফটফটে স্মার্ট – সে বাইক চালায়, এক ডাকসাইটে সুন্দরীর সাথে প্রেম করে। ব্লুটুথে তাকে কথা বলতে দেখা যায়। সার্কোফেগাস কথাটা নাকি হিস্ট্রি চ্যানেল না দেখলে শেখা যায় না। বাংলা সিনেমা মিশরে দৌড়য় -উটের পিঠে চড়ে। কিন্তু এত করেও শেষরক্ষা হল না কেন? সিনেমাটা দেখার পরেও একটা বড় শূন্যতা থেকে যায়। তবে সিনেমা হিট – তাই বেশি ইট – পাটকেল খাওয়ার ভয়ে আর লিখলাম না। সোনার কেল্লা চলতে থাকলে এখনও যেন টিভি ছেড়ে ওঠা যায় না। তবে কিনা যুগোপযোগী হয়ে হাততালি দেওয়াই ভালো।