হনুমান ডট কমঃ রিভিউ আ লা ক্যাফে লাতে :)

হনুমান ডট কম দেখলাম। এইমাত্র। টিভিতে হল। গল্পটা পরিচালক মন্দ ফাঁদের নি, কিন্তু স্ক্রিন প্লে এবং চরিত্রায়ণ অত্যন্ত দুর্বল। মানে, গ্রামের স্কুল, সেখানে ফিজিক্স পড়ান যে শিক্ষক, তিনি আইনস্টাইনের ছবি গুগলে দেখে হাত তুলে নম নম করেন, ব্যাপারটা বেশ হাস্যকর। তাছাড়া, কৌশিক সেন, প্রসেঞ্জিন চ্যাটার্জি বা তাঁর স্ত্রীর ভূমিকার অভিনয় করা অভিনেত্রী- মৌসুমী, কাউকে গ্রাম্য মোটেও মনে হচ্ছিল না। যদিও মৌসুমী কে এক অত্যন্ত সাধারন গৃহবধূর চরিত্রে ভাল মানিয়েছে। আর ছবিটা ভয়ানক লম্বা- অকারণে। শেষের দিকে তো ধৈর্য্য রাখাই মুশকিল হচ্ছিল।
নায়কের সম্পর্কে আর কি বলব!! ভদ্রলোক ডিরেক্টরদের ধরে ধরে নিজের জন্য অফবিট ফিল্ম বানানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু একটা কথা যে ওনাকে কেউ কখনো কেন বলেনা- যে উনি , প্রথম কথা, অভিনয়টা মোটেও সেরকম সাঙ্ঘাতিক কিছু পারেন না,আর দুই, ওনাকে ওই বখে যাওয়া হিরো “পোসেনজিত” হিসাবেই যাও বা চালানো যায়, অন্য কোন রোলেই মানায় না, যে লালন ফকিরই সাজুন বা অঞ্জনিপুত্র…যে অভিনেতা চরিত্র অনুযায়ী নিজের কথাবার্তার অ্যাক্সেন্ট পাল্টাতে পারেন না, গলার মডিউলেশন নেই, সে আর অভিনেতা কিসের মশাই?
এইবার আসল কথায় আসিঃ
১। ছবির নাম হনুমান ডট কম কেন? -বুঝি নাই
২। হিরোর নাম অঞ্জনিপুত্র কেন? বাঙালিরা শিবের নামে, বিষ্ণুর নামে নিজের ছেলের নাম রাখে, হনুমানের নামে রাখে এরকম প্রায় দেখা বা শোনাই যায় না। যাইহোক, ধরে নিলাম নায়কের বাবা বা মা কেউ না কেউ হনুমান ভক্ত ছিলেন। বা নায়ক ও হনুমান ভক্ত, কারণফিল্মের শুরু, শেষ এবং মাঝে মধ্যেও হনুমান চালিসার অংশ শোনা গেছে। কিন্তু সারা ফিল্ম জুড়ে আর কোথাও কোন রেফারেন্স হনুমানের- এমন কি নায়কের ঘরে হনুমানের একটা ছবি পর্য্যন্ত নেই। পুরোটাই ওই হনুমানের মত “বুকের মধ্যেই” আর কি…
৩। যদিও কোথাও বলা হয়নি অঞ্জনিপুত্রের বউ শহুরে মেয়ে নয় (সে মেচেদার মেয়ে) , তাহলেও, তার বই তাকে “মন ” “মন” বলে ডাকলেই আমার প্রবল হাসি পাচ্ছিল। ব্যাপারটা একদমই মানাচ্ছিল না আর কি।
৩। স্ক্রিপ্ট বোধ হয় পরিচালক গৌরব পান্ডে নিজেই লিখেছেন, আর উনি মনে হয় বাংলাটা ঠিকঠাক জানেন না। প্রচন্ড হাসি পেল এবং বিরক্ত লাগল, প্রসেনজিত যখন ডাস্টবিন এর বাংলা বললেন “কুঁড়াদান” , আর নিজের বাংলাদেশ আশ্রয়দাতা বন্ধুকে বললেন “আমি হাত বাটিয়ে দেব” (মানে বলতে চেয়েছিলেন আমি হাতে হাতে কাজ করে সামলে দেব)। আইসল্যান্ডে গিয়ে বসিরহাটের বাঙালি ভাষার যা খিচুড়ি পাকাল, তা অসাধারণ।
৪। এই সূত্রেই বলতে হয়, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই নায়ক এক বাঙালি বন্ধু পেলেন, এবং তাঁকে সেই সূদুর বিদেশে বাংলা বলতে শুনে এক ফোঁটাও অবাক হলেন না – এটা দেখে আমিই বেশ অবাক হয়ে গেছি। মনে হল যেন আইসল্যান্ড নয়, আছিপুর গেছে!!
ছবি রিলিজ করার পরে যে ফিডব্যাকটা সব থেকে বেশি পেয়েছিলাম, সেটা হল যে প্রসেঞ্জিত আইসল্যান্ড গিয়ে শেষ -মেশ ভূত মেমসাহেবকে চুমু খেল। ! ছবি দেখে বুঝলাম, এটা বেশিরভাগ দর্শকেরই পোষায় নি আর কি! বাংলা ফিল্মে, প্রসেনজিত, একটা জলজ্যান্ত সাদাচামড়ার মহিলাকে হাতের কাছে পেয়ে শুধুমাত্র তাকে একটা চুমু খেয়েই ছেড়ে দিল, মাখোমাখো শয্যাদৃশ্য একটা অন্তত হলনা, সেটা একেবারেই বোধ হয় পোষায়নি কারোরই। তাই সব কিছু ছেড়ে ওই ফিডব্যাকটাই এসেছে সব থেকে বেশি। আমার কাছে, ওই একটা ছোট্ট প্রায় সাদা কালো চুম্বন মূহুর্তই, বোধ হয় এক ছবির এক মাত্র সুক্ষ্ম (subtle) দৃশ্য হওয়ার দাবী রাখে।