সত্যের অন্বেষন ও ঋতুপর্ণ

এই পোস্টটা না লিখলেও চলত – বিশেষ করে মানুষটি যখন আর নেই। তবে আমি কখনও অকারনে ঋতুপর্ণকে নিয়ে কিছু লিখিনি বা বলিনি, তাই এটুকু লিখতেই পারি। গতকাল দেখলাম সত্যান্বেষী। গল্পটি অনেক কাল আগে অনেকবার পড়া থাকলেও বিশেষ কৌতুহল ছিল স্রষ্টার শেষ সৃষ্টি নিয়ে। বলতে বাধ্য হচ্ছি প্রচন্ড হতাশ হলাম।

পরিচালক তো তাঁর স্বকীয়তা অবশ্যই রাখবেন – গল্পটা আমূল বদলে দিয়েছেন। তাও ঠিক ছিল। কিন্তু কতগুলো ব্যাপার মিলল না একেবারেই – সবার আগে যেটা বলব তা হল ব্যোমকেশের স্বভাবসিদ্ধ বুদ্ধির ঝলক যেন একেবারেই নেই। শরদিন্দু কেন – যে কোন গোয়েন্দা গল্পেই পাঠক যেটা সবচেয়ে উপভোগ করেন তা হল কাহিনীকার বা গোয়েন্দার সহকারীর সঙ্গে একটা দূরত্ত। এখানে ব্যোমকেশের চরিত্রে সেই ছোঁয়া যেন একেবারেই পেলাম না। কেন কে জানে? ব্যোমকেশকে ছাপিয়ে অজিতের কেমন একটা ওপরচালাক হওয়ার চেষ্টা। সেখানেই কেমন যেন হারিয়ে গেলাম গোয়েন্দা গল্পের মূল স্রোত থেকে। যে ব্যোমকেশের ছবি ভাসে শরদিন্দুর গল্প পড়লে, তার সাথে এর কোন মিলই নেই। সুজয় ও অনিন্দ দুজনেই প্রচন্ড বেমানান।

ঋতুপর্ণ কয়েকটি রদবদল করেছেন, যা একরকম তাঁর ট্রেডমার্ক ছিল। এর মধ্যে বলবন্তপুর নামকরন ও রাজবংশের যোগাযোগটা মন্দ লাগে না। যেটুকু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শুনতে পাই, তা মন্দ লাগে না। বাদবাকী চরিত্রেরা কেউই খারাপ অভিনয় করেন নি। লোকেশন দুর্দান্ত। সবই ঠিক ছিল – যদি প্লট মেলাতে গিয়ে অহেতুক যৌনতার প্রসঙ্গটুকু টেনে নিয়ে আসা না হত। কারন সেটুকু বাদে গল্পটি বরং বেশি উপভোগ্য ছিল। শরদিন্দুর ভক্ত মাত্রেই সেটা জানবেন।