মান্না দে, মেরি হপকিন্স, চায় টি ল্যাতে…আরো কত কি…

এই পোস্টের নাম হতে পারত-কত কি জানার আছে বাকি !! কিন্তু তার বদলে যে নাম দিলাম, সেটা দিয়ে পোস্টের বিষয় সম্পর্কে একটা আন্দাজ দেওয়ার মাত্র চেষ্টা করছি। বরেণ্য শিল্পী শ্রী মান্না দে পরলোকগমন করলেন দুই দিন আগে। সকলের দেখাদেখি ফেসবুকে অবশ্য সাহেবি কেতায় RIP লিখিনি, কিন্তু একজনের স্ট্যাটাস মেসেজ পড়ে ভাবলাম আমিও একটু ওনার গান শুনি। ইউটিউবে শুনতে গিয়ে নিজেই হাঁ – এই সমস্ত গান, এই হিন্দি গানটা…আরে ওই বাংলা গানটা…এটাও ওনার গাওয়া? – শুনতে শুনতে কেটে গেল বেশ অনেকটা সময়। তয়ারি মাঝে মনে পড়ল, এই কথাটা অনেকদিন ধরেই আড্ডাতে বলব ভাবছি, কিন্তু বলা হয়ে ওঠেনি। মান্না দে মহাশয়ের সবথেকে জনপ্রিয় গান বোধ হয় “কফিহাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই… ” – শিক্ষিত শহুরে বাঙালির পরতে পরতে এমনভাবে জড়িয়ে আছে এই গান, সে এক আকর্ষণ এড়ানো বেশ মুশকিল। তার খোদ প্রমাণ আমাদের এই ব্লগ।

যে কারণে এই ভিডিওটা দেওয়া এবং এর প্রসঙ্গ তোলা, মেরি হপকিন্স নামের এক গায়িকার (তাঁর জীবনী এখানে দেওয়ার মানে নেই, উইকিপিডিয়াতে দেখে নিন) একটা গান আছে – once upon a time there was a tavern…” সেই গানের ভাবনার সাথে আমাদের কফিহাউসের আড্ডা গানের বড়ই মিল। দেশ-কাল-ধর্ম-বর্ণব্যতিরেকে মানুষের প্রাথমিক ভাবনা-ভাললাগা-প্রয়োজনীয়তাগুলি যে আদতে একই, সেটা প্রমাণ করে এই গান। মেরি হপকিন্সের সেই গানের লিঙ্ক দিলাম এখানেঃ

এই প্রসঙ্গে একটা অন্য তথ্য দিয়ে শেষ করি। গতকাল একটা দারুণ ওয়েবসাইট খুঁজে পেয়েছি – এক তরুণ এবং তরুণী ভারতের চা-ওয়ালাদের নিয়ে গবেষণামূলক কাজ করছেন- ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের চা-ওয়ালা, তাদের রেসিপি, চায়ের রকম ফের এবং প্রতিটি চা-ওয়ালার কাছ থেকে পাওয়া জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তাঁরা ধরে রাখছেন। তাঁদের এই বিষয়ে ওয়েবসাইট এবং ব্লগ আছে। সেখানে জানতে পারলাম বিদেশের কফি শপ গুলিতে নাকি “চায় টি ল্যাতে” বলে একটি পানীয় বিক্রি হয়, সেটি খুব জনপ্রিয়। সেটি আমাদের ভারতীয় “চায়” অর্থাৎ প্রচুর দুধ-চিনি-মশলা দেওয়া চায়ের একটা সংস্করণ, এবং সেটি তৈরি হয়ে প্যাকেটের গুঁড়ো দিয়ে। মানে ওই চাপা-দুধ গুঁড়ো হাবিজাবি সব একসাথে প্যাকেট কেটে গরম জলে মিশিয়ে দাও আর কি !! নামটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে , যদিও আমিও ওই এলাচ, দুধ এবং প্রচুর চিনি দেওয়া বস্তুটিকে চা বলে গন্যই করি না এবং পছন্দই করিনা। আগে জানতাম বিদেশীরা হোটেলে গিয়ে ইন্ডিয়ান কারি বলে এক ভজঘট বস্তু খেতে খুব পছন্দ করে। এই রাস্তা/ফুটপাথ/রেলস্টেশনের চা শীততাপনিয়িন্ত্রিত রেস্তোঁরাতে বসে খেতে কেমন লাগবে জানতে পারলে মন্দ হয় না !!