বড় মানুষের মর্জি !

(শেষ অংশ)

আজ অপর এক শিল্পীর কথা যিনি যন্ত্রশিল্পী, ঐ একই দিনে শোনা।
শিল্পী বন্দু খান খুব বড় সারেঙ্গীবাদক ছিলেন। তিনি যখন বাজাতেন শ্রোতা একেবারে মোহিত হয়ে যেতেন। তা, এঁর একটা অভ্যাস ছিল বাজাতে বাজাতে মাঝপথে সুর মিলিয়ে এক কলি গুনগুনিয়ে গেয়ে উঠতেন। আসরে চললেও বেতারে এটা চলত না, বা চলার কথা নয়! তাই বেতার কর্তৃপক্ষ শত ইচ্ছা থাকলেও ওঁকে বাজাতে আমন্ত্রণ জানাতে পারতেন না! কেন বলুন দেখি ? তখন সব অনুষ্ঠান ‘লাইভ’ পরিবেশন করা হত, এখনকার মত আগে রেকর্ডিং করে, পরে সেটা বাজানো হত না। তাই কোন শিল্পী যদি বাজাতে বাজাতে গেয়ে ওঠেন, ত সেটা একটা গোলমেলে ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়! প্রয়োজনে এখনকার মত সম্পাদনা করার সুবিধা ত’ ছিল না! তাই সাহস করে ওঁকে আমন্ত্রণ জানানো যেত না।
একবার ওঁকে ব্যাপারটা অনেক করে বুঝিয়ে রাজী করানো গেল যে, উনি বাজাবার সময় কোন কথা একেবারেই বলবেন না।
যথারীতি অনুষ্ঠানের সময় উনি এসে ধৈর্য্য ধরে নির্ধারিত বাদন সময় ২০ মিনিট বাজিয়ে থামলেন ! সকলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন! এখন, খান সাহেব সফলভাবে বাজাবার পর এত আনন্দ পেয়েছেন যে বাজনা শেষ হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তিনি উৎফুল্ল হয়ে সহযোগী সঙ্গতকারিদের বলে উঠলেন, “দেখা আপনে, আজ কোন কিছু গেয়ে উঠি নি!” (বাংলা অংশটি উনি হিন্দিতেই বলেছিলেন, হিন্দী বলে নিজের পান্ডিত্য জাহির করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনছি না)!
ঘোষক অনুষ্ঠান শেষের ঘোষনার উদ্যম করছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে!
* * * * * * * *
যে দিনকার কথা লিখছি, সেদিনই রেডিওতে ঘোষক শোনালেন বড়ে গোলাম আলি খান আর শ্রেয়া ঘোষালের ডুয়েট। দারুন। মিঞা সাহেব যখন ইহলোক ত্যাগ করেন তখন শ্রেয়া পৃথিবিতে আসেন নি! তাহলে কি করে হল ?
আধুনিক ‘তকনিকি কামাল’।