বড় মানুষের মর্জি !

(দু’ ভাগে শেষ করতে হবে, আজ প্রথমাংশ)
গত ২৫ শে আগষ্ট তারিখে, সময় কাটানোর জন্য বিকেলের দিকে এফ এম রেডিওতে বিকেলের আড্ডা শুনছিলাম। সঙ্গীতশিল্পীদের নিয়ে নানা রকম গল্প বলছিলেন ঘোষক। এর থেকে দু’একটা শোনাই। প্রথম গল্প সম্ভ্রম জাগানো দু’জন শিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞা বেগম আখতার আর সুগায়ক আমির খানকে নিয়ে। এঁরা নিজেদের মধ্যে বিশেষ কথাবার্তা না বললেও ঝগড়া বা মনোমালিন্য ছিল না, বরং একে অপরের প্রতি দারুন শ্রদ্ধাশিল ছিলেন। প্রয়োজনে কথা বললেও তৃতীয় একজনকে মধ্যস্থ করতেন। আমির সাহেবকে কিছু বলতে হলে বেগম আখতারজী মধ্যস্থ ব্যক্তিকে বলতেন। এর উত্তর দেওয়ার থাকলে আমির সাহেব ঠিক একইভাবে উত্তর দিতেন। এ সময় কিন্তু তিনজনই একত্রেই থাকতেন! এমন করা হয় সাধারনত নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা না থাকলে বা ঝগড়াঝাটি করার সময়। কিন্তু এঁদের মধ্যে তেমন কিছু ছিল না।
একদিন কোন সঙ্গীতানুষ্ঠানের আসরে মঞ্চে বেগম আখতারজী গান গাইছেন। খুব জমে গেছে। আমিরজী শুনে বাইরে না থাকতে পেরে একেবারে সামনের সারিতে বসে মগ্ন হয়ে গান শুনতে লাগলেন। এদিকে গানে মগ্ন শিল্পী হঠাৎ তাকিয়ে সামনের সারিতে খান সাহেবকে দেখেই গান বন্ধ করে চুপ করে বসে রইলেন! সঙ্গতকারিরা অবশ্য থামেননি, তাঁরা ত’ যথারীতি বাজিয়েই চলেছেন! শিল্পী আর গান ধরেন না! প্রথম দিকে না বুঝলেও একটু পরেই উদ্যক্তারা বুঝে ফেললেন ব্যাপারটা!ওঁদের ত মাথায় হাত! কি করা যায় ! শেষে অনেক ভেবে চিন্তে একজন খান সাহেবের কাছে গিয়ে কানে কানে ফিসফিসিয়ে ব্যাপারটা বলাতে তিনি উঠে গেলেন আর শিল্পীর গানও শুরু হল!
এরপর খান সাহেবের গান শুরু হলে আকখতারজী অবশ্য সামনের আসনে বসেন নি। একদম পেছনের সারিতে চাদর মুড়ি দিয়ে খান সাহেবের গান শুনে চুপি চুপি চলে যান!
বড় মানুষের মর্জি, “দেবা ন জানন্তি—“!