মহালয়ার সকাল(২)

(পরবর্তী অংশ)
তাহলেও মা আসছেন।
তবে কিনা মায়ের আগমন বার্তা আমাকে একটু সন্ত্রস্ত করে তোলে! হয়ত আড্ডাধারিরা একটু অবাক হতে পারেন এটা শুনে, কিন্তু আমি নাচার! প্রথম গোলমালটা হল ঐ মহালয়া নিয়েই! আগে সব বাড়ীতেই একসাথে বেতার প্রচার শুরু হত,পাড়ার সবাই এক সাথেই শুনতেন। কিন্তু এখন সিডি/ক্যাসেট বাজানো হয় মাইক/বক্স সহযোগে (রেডিও কোন বাড়িতে নেই বোধ হয়)! তাই বিভিন্ন মন্ডপে বিভিন্ন সময়ে শুরু হতে বাধ্য। আমার বাড়ির চতুর্দিকে আস্তে-জোরে মিলিয়ে গোটা পাঁচ-ছয় আওয়াজ শুনতে পেলাম, সবই আলাদা আলাদা সময়ে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে কেমন ঘেঁটে গেছিল ব্যাপারটা! যাতে পুজোর আয়োজন ঘোষনা করা হয় সেই ফেষ্টুনে লেখা ‘সর্বজনীন’ আর ‘সার্বজনীন’ নিয়ে কি যেন একটা গোলমাল আছে। পরের কথাটিতে নাকি কিছু অশুদ্ধি আছে, এটা নাকি লেখা যায় না! তবে ছেলে বুড়ো সবাই আবহমান কাল থেকে লিখে চলেছেন! বাড়িতে ভাল অভিধান না থাকায় জোর গলায় কিছু প্রতিষ্ঠা করতে পারছি না, অথচ একান্তভাবে নিতেও পারছি না। সন্দেহ থাকলে নিশ্চিন্তে নেওয়া যায় নাকি ?
পুজোতে পুজোই হওয়ার কথা। অথচ পুজোর ‘থিম’ নিয়ে সকলে এত ব্যস্ত যে, পুজো হল কি গোল্লায় গেল তাতে কারও ভ্রুক্ষেপ আছে বলে মনে হয় না। এ নিয়ে আগে একটা পোষ্ট দিয়েছি, সভ্যেরা দেখে থাকবেন। ‘থিমোৎসব’ চলছে দীর্ঘদিন। ক্রমে উন্মাদনা বেড়েই চলেছে, কোথায় যে এর সীমারেখা বলা মুশকিল!সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যের লেখা (শ্রীকান্ত’-এর ‘নতুনদা’ অংশে কিনা মনে করতে পারছি না) অনুসরন করে বলা যায় উপলক্ষ্য আসলকে বোধ হয় অতিক্রম করতে চলেছে!
আর একটা কথা। এটা ভাবতে গেলে একটু ভীতির উদ্রেক করে। শহরের দিকে সব রকমের সাবধানতা নেওয়া হলেও মফঃস্বল অঞ্চলে কোন কোন জায়গায় তা হয় না। যে মন্ডপে থিম পুজো করা হয় তার প্রবেশপথ এবং প্রস্থান পথ সর্বদা আলাদা থাকে না। একটাই পথে প্রবেশ-প্রস্থান এক সাথে চলে আর সে পথটা খুব একটা প্রশস্থ নয়। সেখানে বিপদ আপদ ঘটলে মুশকিল। একবার একথা প্রকাশ করে বেশ সমালোচিত হয়েছিলাম।
এছাড়া ধুনোর ধোঁয়া, ঘাম ও গরমের জন্য শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না ।
এর মধ্যে গমগমে মাইকের কথা আর না-ই বা বললাম, ওটা ক্লিশে হয়ে গেছে!
মাইকের কথায় আর একটা কথা মনে পড়ল। পুজোর মন্ত্র তারস্বরে মাইকে প্রচারের কি দরকার বুঝিনা। সব পুজোতেই এটা হয়। মা-এর কর্ণে কি এমনিতে পৌঁছায় না নাকি!
সব দেশেই পুজোর মন্ত্র নিজেদের ভাষাতেই হয়, আমাদের হয় সংস্কৃত ভাষায়। দীর্ঘ দিন এই ভাষাটার আর চল নেই, আমাদের পাঠ্য থেকে বিদায় নিয়েছে। তাই অল্পসংখ্যক কিছু বয়স্ক মানুষ বাদ দিলে, সংস্কৃত ভাষার জ্ঞান আমাদের সীমিত হতে বাধ্য। কি দরকার মাইকে প্রচার করে! বিদ্যা ধরা পড়ে যাবার সম্ভাবনা!
কাশ-শাপলা-স্থলপদ্ম-পদ্ম বাদ দিলে শহরাঞ্চলেও শিউলি আশা করা যেতেই পারে। কিন্তু সে আশাই সার, কার্যকর করার কেউ নেই,অথচ একটা শিউলি গাছ পুজোর আবহে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। পাটুলির এক জায়গায় অবশ্য দেখেছি, ঐ গাছের জন্য পুজো ব্যাপারটাই একটা অন্য মাত্রা পেয়ে গেছে। যতবার ওর পাশ দিয়ে গেছি, প্রতিবারই ধন্যবাদ জানিয়েছি যাঁরা ঐ গাছএর যত্ন-আত্তি করে থাকেন তাঁদের।