আড্ডা-১৪

পোষ্টেজ ষ্ট্যাম্পের গপ্পো বলি এবার। আসলে সেদিন শুনবার পর থেকে বলার জন্য মুখিয়ে আছি

কিন্তু সময় হচ্ছে না।
১৬৫৩ বা কাছাকাছি সময়ে প্রথম চালু হয়েছিল চিঠি চালাচালি ব্যাপারটা। কে যেন ভেবেছিলেন

সংবাদ আদান প্রদানের প্রয়োজনীয়তা। প্রথমেই ত আর ষ্ট্যাম্প তৈরী হয় নি। যাদের সংবাদ পাঠাবার দরকার

তারা একটা কাগজে লিখে সেটা ভাঁজ করে একটা জায়গায় জমা দিত। যারা তা বহন করবে তারা সেটা

পড়ে নিয়ে যদি পাঠাবার মত হয়েছে বলে ভাবত’ তবে সেসব নিয়ে ঠিকানায় লেখা জায়গায় প্রাপকের কাছে

পৌঁছে দিত। তখন ত’ ষ্ট্যাম্প ছিলনা, প্রাপক উপযুক্ত মাশুল দিয়ে ছাড়িয়ে নিত। এমনটাই রীতি ছিল কিনা!

এই ব্যবস্থা প্রায় শ’দুয়েক বছর চালু ছিল।

তবে এতে অনেকের আপত্তি ছিল। কেননা নিজের লেখা অন্যে পড়ুক এটা কে আর চায় !

এর ওপর একদিন হল কি, একজন দরিদ্র লোক চিঠি হাতে পেয়ে সেটা পড়ে দেখে বাহকের হাতে ফেরত

দিয়ে দিল, চিঠিও নিল না পয়সাও দিল না। বাহক প্রশ্ন করে জানল, তার ছাড়ানোর মত পয়সা নেই!

তাছাড়া,প্রেরক-প্রাপকের ব্যবস্থামত সাংকেতিক ভাষায় লেখা চিঠি ইতিমধ্যে পড়াও হয়ে গিয়েছে! কি জন্য

পয়সা দেবে সে ?
কতৃপক্ষ প্রমাদ গনলেন। এতে ব্যবস্থা ভেস্তে যাবার সমুহ সম্ভাবনা! তখন ঠিক হল, প্রেরকই ডেলিভারি

ইত্যাদির খরচ দেবে, প্রমাণস্বরূপ চিঠির ওপর একটুকরো কাগজ সেঁটে দেওয়া হতে লাগল। এতেও নানা

ধরনের অসুবিধা ( জালিয়াতির মত ব্যাপার আর কি ) দেখা দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত নানা পর্যায় পেরিয়ে আধুনিক

ব্যবস্থায় আসা গিয়েছিল! এটা ১৮৫৩/৫৪ নাগাদ।
খুব কৌতুহলোদ্দীপক গপ্পো, কি বলেন ?