মজারু ৬ – দিল বোলে হাড়িপ্পা

আগের মজারু


অনেকদিন মজারু লেখা হয় না, তাই ভাবলাম আজকে আবার লিখি।

এই নামে একটি সিনেমা আছে বটে, তবে এ গল্প সে গল্প নয়। সিনেমাটা শুনেছি যাচ্ছেতাই ছিল, এ গপ্পো তার চেয়ে ঢের ভালো। কয়েক বছর আগের কথা। আমাদের এক সহকর্মী একটি মেয়ের সাথে প্রেম করত। বিয়ে প্রায় ঠিক, তবু অফিসের অনেকটা সময় তার কাটত ফোনেই, দীর্ঘ আলাপে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুমধুর প্রেমালাপের বদলে শোনা যেত নানাবিধ তর্জন গর্জন – একপেশে নয়, এপিঠ ওপিঠ দু-তরফেই। যেমন তোমার বাবা আমার বাবাকে মিসড কল দিলেন কেন, তুমি হলুদ শাড়ি পরলে কেন ইত্যাদি। একদিন সন্ধ্যের দিকে টয়লেট থেকে লবি দিয়ে কিউবিকালের দিকে ফেরার সময় একজন তো প্রায় পড়েই যাচ্ছিল ফোনে ভেসে আসা হঠাৎ চিৎকারে।

এরপর তো আর থেমে থাকা যায় না। তাই সে ফোন সেরে ফিরতেই আমরা তো যথারীতি ঘিরে ধরলুম – কি হয়েছে? সে বললে, দিল বোলে হাড়িপ্পা কেস। আমরা তো অবাক। বললুম – সে আবার কি রে? তাতে যা উত্তর দিল তাতে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ। তার এক প্রাক্তন প্রেমিকা ছিল। সে চুপিচুপি তাকে অর্কুটের ফ্রেন্ডলিস্টে যোগ করে, কিন্তু তার হবু বউয়ের কাছে ধরা পড়ে যায়। এরপর সে অন্য একটি অর্কুট প্রোফাইল তৈরি করে (যেখানে তার হবু বউ নেই), কিন্তু আবার ধরা পড়ে যায়। তাতেও একটুও দমে না গিয়ে সে এক নতুন বুদ্ধি বের করে – একটি নতুন প্রোফাইল করে তার নাম দেয় দিল বোলে হাড়িপ্পা, কিন্তু এরকম প্রোফাইলকে তার প্রাক্তন প্রেমিকা চিনবে কি করে, তাই বাধ্য হয়ে নিজের ছবিটাই দেয়। ব্যস, আবার ধরা পড়ে যায় হবু বউয়ের হাতে।

তো এই হচ্ছে গল্প। আজকালকার সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর রমরমার যুগে, খুঁজলে এরকম আরও গল্প পাওয়া যাবে বিস্তর। কি বল তোমরা?