আমার মায়ের শপথ :)

না, আমার মায়ের কোন শপথ নিয়ে লিখছি না। এইনামের একটা বাংলা ফিল্ম আছে। কয়েকদিন আগে দুপুরবেলা টিভিটে কোন চ্যানেলে চলছিল। আমি ঘুম তাড়ানোর জন্য দেখছিলাম। তা সেখানে দেখলাম, জিৎ হলেন নায়ক, আর রেশমি ঘোষ হলেন নায়িকা। জুন মালিয়াও আছেন। তিনি জিতের ডাবল রোলে স্ত্রী এবং মা। তা গল্প এইরকমঃ জিৎ এবং জুন সাপুড়ে দম্পতি। তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসে ঘুরতে ঘুরতে, এবং ঘটনা চক্রে বড়লোক জমিদারের কুটিল চক্রান্তে সাপুড়ে মারা যায়। জুন প্রতিজ্ঞা করে এই মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবে। তারপরে যা হয় আর কি …তার ছেলে বড় হয়, সেই জমিদারেরই মেয়ের প্রেমে পড়ে ইত্যাদি… কিন্তু এইখানে একটা ছোট্ট টুইস্ট আছে। মায়ের শপথ সে ফিল্মের শেষ পনেরো মিনিটে পূরণ করে, না হলে আর হিরো কিসের? কিন্তু তার আগে, আরো সারি সারি ভিলেন কে খতম করে আরেকজন। সে হল সাপুড়ে দম্পতির পোষা সাপ চন্দ্রা, যাকে তারা নিজের সন্তানের মত ভালবাসত, যত্ন আত্তি করত। কিন্তু বর মরে যাওয়ার পরে দুঃখিনী জুন তাকে ছেড়ে দিয়ে বলে নিজের ব্যবস্থা নিজে করে নাও। এখন সেই সাপ, সে কিন্তু তার মায়ের ‘দুধ কা কর্জ’ দিয়েই ছাড়বে। তাই সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভুলেন কে ছোবল মেরে মেরে শেষ করে। কিন্তু তার আগে সে আরো দুটো অত্যাশ্চর্য কাজ করে। এক , এক দৃশ্যে ছেলে জিৎ (মানে হিসেবমত তার ছোট ভাই) ভিলেনের দলের লোকেদের হাতে এন্তার মার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে। তখন এই সাপ পাশের পুকুর থেকে মুখে করে জল নিয়ে এসে তার মাথায় ছিটিয়ে তার জ্ঞান ফেরায় !!
হে তরলমতী পাঠক!! এইটুকু শুনিয়াই অবাক হইও না!!
এর পরে আরো অভাবনীয় ঘটনা ঘটে। নায়িকাকে তার বাবা রাস্তার ছেলের সাথে প্রেম করার অপরাধে ঘরে বন্ধ করে রাখে। জিৎ মনে দুঃখে নদীর ধারে বসে বীন বাজায়। সেই শব্দ শুনে সেই চন্দ্রা গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে আসে, এবং ভাইয়ের দুঃখ সহ্য করতে না পেরে, সেই জমিদারের বাড়ি গিয়ে হুড়কোর গায়ে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে হুড়কো খুলে নায়িকাকে মুক্তি দেয়!! এই কাজ ফিল্মে কুকুরদের করতে দেখেছি, হাতিদের করতে দেখেছি…কিন্তু সাপ!!
যাইহোক, এই ফিল্মেই আরো দেখলাম, যে বিজ্ঞানের তোয়াক্কা না করেই, বীন বাজালেই সাপ গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে চলে আসছে বীনের আওয়াজে মাতোয়ারা হয়ে। এবং সেটা একবার না, অনেকবার…

যাই, এক কাপ চা খাই…আর লেখার কিছু নাই। বাকিটা বুঝে নাও