একটু ব্যস্ততা থাকায় পোষ্ট করতে দেরী হল।
আজ সকালের ( তারিখটা ত আর মনে নেই) আলোচনার সুত্রে পুরোন কথা মনে পড়ল। বলি সে সব কিছু কিছু।
ঐ “বুফে” প্রসঙ্গে আর কি ।
পূর্ববঙ্গে আমাদের বাড়িতে তিনটে উঠোন ছিল ( এমন কথা অন্য কারও লেখাতেও পড়েছি, সুনীল গাঙ্গুলির লেখায় কি ? হতে পারে, আবার না-ও পারে)। ভেতর বাড়ির রান্নাঘর-সংলগ্ন উঠোন উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মনদের জন্য, মাঝের বড়টা কায়স্থদের আর বাইরেরটা ছিল নিম্ন জাতের জন্য! যদিও এ ব্যবস্থা এখন থাকলে কেউ কেউ হয়ত বিদ্রোহ করত!আমিও ব্যতিক্রম হতাম না বোধ হয়। কিন্তু তখন এমনই ছিল আর সবাই মেনেও নিতেন।
কলাপাতা পেতে খাওয়া ছিল প্রথমে, পরে কলকাতায় এসে ছাদে প্যান্ডেল খাটিয়ে কলাপাতাতেই ব্যবস্থা হত। ছাদের জায়গার টানাটানি, ফলে সেই তিন উঠোন আর জাত-বেজাতের গপ্পটা আর রইল না। ক্রমে কলাপাতাও অদৃশ্য হওয়াতে শুরু হল শালপাতার ব্যবস্থা বা কোথাও কোথাও পদ্ম পাতার চলন। পদ্মপাতা ত বেশী পাওয়া যেত না তাই শালপাতা বহুদিন চালু ছিল। শেষে শালপাতার আকার থালার মত হয়ে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল কোন মেশিনের কল্যানে! বেকার ছেলেদের সুবিধা হলেও ক্যাটারারদের ব্যবসায় মোটেই সুবিধার হয় নি। তারা নিয়ে এল মাটি বা থার্মোকলের থালা এবং তা-ও শেষ পর্য্যন্ত মেলামাইন বা সেরামিক ডিশে বদলে গেল! আমাদের বাড়িতে এই থালার বা ডিশের ব্যাপারটা বিশেষ মেনে নিতে পারিনি। ক্যাটারারদের থালা ধোয়াধুয়ির ব্যাপারটা বিশেষ সুবিধার লাগত না বলে! থালার মাপে তার ওপর গোল করে কাটা কলাপাতা পেতে দিতে বলতাম। তাতে খরচটা একটু লাগত বটে, তবে খেয়ে তৃপ্তি পেতেন নিমন্ত্রিতেরা।
কলকাতার বাইরে জায়গার খামতি খুব একটা ছিল না, খুশীমত প্যান্ডেল খাটানো যেত। তবে কলাপাতার ব্যাপারটায় বোধ হয় কম্প্রোমাইজ করতেই হত। শেষে আবাসনে এসে গালভরা নামের সেই কমিউনিটি হলে — যাতে চেয়ার টেবিল পেতে খাবার ব্যবস্থা করলে, ২০০ নিমন্ত্রিতকে আপ্যায়ন করতে হলে, বোধ হয় বেশ কয়েকদিন ধরে আয়োজনটা চালু রাখতে হত— সেখানে নিমন্ত্রণ রক্ষার অভিজ্ঞতা হল! এমন জায়গায় কেমন হয় সেটা বোঝা যাচ্ছে নিশ্চয়ই! তাই বুফেটাই এসব জায়গায় স্বাগত। অভিজ্ঞতা ? ক্যাফে লাতের যা, আমারও তাই! কি আর করা। যস্মিন দেশে যদাচার!