ব্রেকিং নিউজ সিনড্রোম

হ্যাঁ, ব্রেকিং নিউজ সিনড্রোম —- এইটা হল আজকের দিনের এক মারাত্মক অসুখ। আর এই অসুখ দেখা যাচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের মধ্যে। ভয়ানক ভাবে। এর একটা প্রকোপ দেখার সুযোগ হয়েছিল গত সপ্তাহে।
গত শনিবার শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে যেতে হয়েছিল। কাজের সূত্রে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করতেই হত। সেই অনুষ্ঠানে এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এসেছিলেন। বিরাট বড় সুসজ্জিত হলের এক দিনে জনা পঞ্চাশেক সাংবাদিক , ক্যামেরাম্যান,ফটোগ্রাফার দাঁড়িয়ে। প্রথম দিকে মোটামুটি চুপচাপ ছিল সব। তারপরে অনুষ্টান শুরু হল। প্রথমেই মন্ত্রীমশাইকে সংবর্ধনা দেওয়া হল। কিন্তু — উপহার দেওয়া হয়েছে কি হয়নি, সাংবাদিকেরা রীতিমরত হাঁক ডাক শুরু করে দিল- এদিকে এদিকে দেখুন স্যার, ম্যাডাম এদিকে, …ইত্যাদি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্টের বেশ কয়েকজন বিচারপতি, পুলিশ আধিকারিক, রাজনৈতিক নেতা, অন্যান্য গন্যমান্য ব্যক্তিরা। তাঁদের সবাইকে মোটামুটি নস্যাৎ করে দেখা গেল সাংবাদিকেরাই আসলে সর্বেসর্বা। গোটা পঞ্চাশেক ক্যামেরার ঝলকানিতে মাথা খারাপ অবস্থা। তারপরে অনুষ্ঠান চলাকালীন একটা বইয়ের উদবোধন হল। সেখানে ছোট ছোট মেয়েরা অতিথিদের বই এনে দিচ্ছিল । তাতে তাদের এক রাউন্ড ধমক দেওয়া হল- সামনে থেকে সরে যাও! – তাতে বেচারাদের পুরো ভ্যাবাচ্যাকা অবস্থা। তারপরে মন্ত্রীমশাই বক্তৃতা দিলেন। তখন সাংবাদিকেরা সবাই আবার জায়গা ছেড়ে সাম্নের দিকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করল ধাক্কা ধাক্কি করে। তারপরে তারা একে অপরকে ডেকে ধমকাধমকি শুরু করল- অ্যাই অমুক, সরে যা, – আরে তমুক, আর কত ছবি তুলবি। বাকি হলের সমস্ত দর্শক সভ্য ভব্য হয়ে বসে আছেন, কিন্তু এদের ছবি নেওয়া আর শেষ হয়না। ভাবখানা এমন, যেন একটা খবরের কাগজের পুরোটা এই সমস্ত ছবি দিয়ে ভরিয়ে ফেলবে। হল সুদ্ধ লোক চূড়ান্ত বিরক্ত।

যেটা মজার, বা হয়ত বিরক্তিকর, পরের দিন বেশিরভাগ খবরের কাগজে যত খবর বেরিয়েছে, তার মধ্যে আসল অনুষ্ঠানের খবর খুব কম, অথবা নেই বললেই চলে। সব জায়গাতেই খবরের মূল বিষয় হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজেদের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম নিয়ে কি বলেছেন, অথবা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কি বলছেন। সত্যি, এরাই জানে কি করে ‘নিউজ’ ব্রেক অথবা মেক করতে হয় !!