অসহায়তা, মনোবিকার নাকি নিছক প্রতিশোধ

অনেকদিন থেকেই এই ধরনের কথা শুনে আসছি। এইডস এর রুগিরা নাকি চায় যেনতেন প্রকারে তাদের অসুখ চারদিকে ছড়িয়ে দিতে। ভারতের অনেক উন্নত শহরেই দেখা গেছে যে সিনেমা হলে এইডস রোগাক্রান্ত মানুষ নাকি নিজের রক্ত সিরিঞ্জে মাখিয়ে রেখে আসতেন সিটের মধ্যে বিঁধিয়ে। আপনি বসতে ফিয়ে একটা ছোট্ট খোঁচা অনুভব করলেন – ব্যস। এইচ আই ভি চলে এল আপনার রক্তে। অবশ্য এই ব্যাপারটা যে শুধু সিনেমাহলে তা নয় – ভিড় রাস্তায়ও হয়েছে। এইমাত্র একটি খবর পড়লাম যে আসামে এইরকম একজন এইডস রোগক্রান্ত ব্যক্তি নাকি রক্তদান করেছেন এবং সেই রক্তের জেরে সাতজন এইডস এর কবলে পড়েছেন আরও সাতজন।
পড়ে প্রথমেই মনে এল যে কথাটা – যে এ কি অসহায়তা না মনোবিকার না কি নিছক প্রতিশোধ। তারপরেই মনে হল, এই গোটা ব্যাপারটার মধ্যে কতটা তির্যক বিদ্রুপ লুকিয়ে আছে – এমন এক ব্যধি, যাকে কেবল বশ মানানো যায় তাকে ছড়িয়ে পড়তে না দিয়ে, সেখানে সব জানা সত্তেও মানুষ নিজেই সেই রোগ ছড়াচ্ছে, জেনে, বুঝে, পরিকল্পনা করে। কেন? কার দায়িত্তজ্ঞানহীনতায় হাসপাতাল থেকে রোগটা ছড়িয়ে পড়ল তা জানি না, বা সেই দিকে ইঙ্গিত করতে চাইছি না, আমার ধারনা ছিল কারও রক্ত নেওয়ার আগে যথারীতি পরীক্ষা করেই নেয় ব্লাডব্যাঙ্ক। সেক্ষেত্রে বড় রকমের গাফিলতি হয়েছে – যা এক্ষেত্রে প্রায় অমার্জনীয়। তবু সে প্রসঙ্গে এই মুহুর্তে যাচ্ছি না।
অনেক প্রশ্ন মনের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। যদি আমি জানতে পারি পৃথিবী থেকে আমার চলে যাওয়া প্রায় নির্ধারিত, তাহলে জীবনের বাকি দিনগুলো কি দুনিয়াটাকে আরও সুন্দর করে তুলতে চাইব না? জানি না এই কথাটা বলা যতটা সহজ, কাজে কর্মে করে দেখানো বোধহয় ততটা নয়।